খুলনার কয়রা ও পাইকগাছা উপজেলা নিয়ে গঠিত খুলনা-৬ আসন। আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জনপদে এক সময়ের রাজনৈতিক মিত্র বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এখন পরস্পরের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
দীর্ঘদিনের জোট-রাজনীতির সমীকরণ ভেঙে যাওয়ায় এবার দল দুটি আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ নির্বাচনী মাঠের বাইরে থাকায় আসনটি নিজেদের দখলে নিতে জামায়াত যেমন মরিয়া, তেমনি বিএনপিও চাইছে ‘ধানের শীষের’ গণজোয়ারে জয় ছিনিয়ে নিতে।
আসনটিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৫ জন প্রার্থী। তাঁরা হলেন—বিএনপির এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি, জামায়াতে ইসলামীর আবুল কালাম, জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. আসাদুল্লাহ ফকির এবং বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির প্রশান্ত কুমার মণ্ডল।
পরিসংখ্যান বলছে, এই আসনে বিএনপি সর্বশেষ জয় পেয়েছিল ১৯৭৯ সালে। ১৯৯১ ও ২০০১ সালে জয়ী হয়েছিল জামায়াত। অন্য প্রায় সব নির্বাচনে জয়ী হয়েছে আওয়ামী লীগ।
কয়রা উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব এম এ হাসান বলেন, ‘আগে জোটের স্বার্থে আমরা এই আসনটি ছেড়ে দিতাম। এবার আমাদের নিজস্ব প্রার্থী থাকায় দীর্ঘদিন পর আসনটি পুনরুদ্ধারের ব্যাপারে আমরা অত্যন্ত আশাবাদী।’
অন্যদিকে কয়রা উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সুজা উদ্দিনের দাবি, ‘খুলনা-৬ জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি। মানুষের যে সাড়া পাচ্ছি, তাতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের জয় নিশ্চিত।’
পাইকগাছার বাসিন্দা সংবাদকর্মী স্নেহেন্দু বিকাশ জানান, এই আসনে ৯৪ হাজার ৬১৩ জন সনাতন ধর্মাবলম্বী ভোটার আছেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগ সমর্থিত একটি বড় ভোটব্যাংক এখন প্রার্থী না থাকায় ‘নিশ্চুপ’। এই সংখ্যালঘু ও আওয়ামীপন্থী ভোটারদের রায় যেদিকে যাবে, শেষ পর্যন্ত জয়-পরাজয় সেদিকে নির্ধারিত হতে পারে। প্রার্থীরা এখন এই নীরব ভোটারদের মন জয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন।
বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি বলেন, তিনি নির্বাচিত হলে নদীভাঙন রোধে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, ঘরে ঘরে সুপেয় পানি সরবরাহ, কয়রায় ২৫০ শয্যার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা এবং দুই উপজেলাতেই বিচারিক আদালত স্থাপন করবেন।
জামায়াত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে বলেন, ‘বিগত দিনে সরকারি বাজেট লুটপাট হয়েছে। আমি জয়ী হলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের আমূল পরিবর্তন আনব।’
সুন্দরবন-নির্ভর শ্রমজীবী মানুষের এই জনপদে ভোটারদের মূল দাবি—দস্যুমুক্ত সুন্দরবন, আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা, নদীভাঙন রোধ এবং স্থায়ীভাবে সুপেয় পানির সমাধান।