leadT1ad

সাতক্ষীরার সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে: ডা. শফিকুর রহমান

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
সাতক্ষীরা

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪: ৩২
সাতক্ষীরায় জামায়াত আমির। স্ট্রিম ছবি

দেশের উন্নয়নে সাতক্ষীরা সবচেয়ে বেশি উপেক্ষার শিকার হয়েছে দাবি করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সাতক্ষীরায় দেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে উল্লেখ করেন তিনি। ২০১৫ সালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় সফরের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সেসময় স্থানীয় মানুষের কাছে তিনি বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগ শুনেছেন। অনেকেই তাঁকে বলেছিলেন, তৎকালীন সরকার সাতক্ষীরাকে দেশের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেয়নি। এই জেলার সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই বিচার দুনিয়াতে পাব কি না জানি না, তবে ইনশাআল্লাহ আখিরাতে বিচার পাওয়া যাবে।’ তিনি দাবি করেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

‘তারা ভেবেছিল এই অবস্থা চিরকাল থাকবে। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন, আর যাকে ইচ্ছা সম্মান কেড়ে নেন’, বলেন জামায়াত আমির।

জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল দাবি করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সাতক্ষীরার মানুষের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। আমরা বিশ্বাস করি, ইনসাফের পক্ষে যারা থাকে, আল্লাহ শেষ পর্যন্ত তাদের সম্মান দেন।’

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘৫ তারিখে (২০২৪ সালের ৫ আগস্ট) আল্লাহ যখন আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। জননিরাপত্তা রক্ষায় নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের কথা বলেছি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। দলের নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—কোনো ব্যক্তির বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না।

জামায়াতের আমির বলেন, ‘সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে আমাদের নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজি শুরু করেনি। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলা দেওয়া হয়নি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক সময় জুলুমের শিকার মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি।’

সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনের লক্ষ্যে সমর্থন চান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য।

সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াত আমির
সমাবেশে বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াত আমির

ডা. শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে এবং যারা দেশের জন্য অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হবে।

এসময় গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ভোট মানে দুটি পথ—হ্যাঁ এবং না। হ্যাঁ মানে স্বাধীনতা, না মানে পরাধীনতা।’ তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা ক্রমেই বাড়ছে।

এর আগে ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় সফরের স্মৃতিচারণ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি শহীদ পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এসেছিলেন। ‘যে মায়েরা সন্তান হারিয়েছেন, যে শিশুরা বাবাকে হারিয়ে কষ্টে আছে—তাঁদের চোখের পানি আমি দেখেছি’, বলেন তিনি।

সমাবেশে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম।

এছাড়া ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতারাও সমাবেশে বক্তব্য দেন। সমাবেশ সঞ্চালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত