ওলিউর রহমান

রমজান শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাস নয়। এটি আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য প্রশিক্ষণকাল। বাহ্যিকভাবে রোজা মানে দিনের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য চাহিদা থেকে বিরত থাকা। কিন্তু ইসলামের আধ্যাত্মিক ধারায় রোজার তাৎপর্য এর চেয়েও অনেক গভীর।
প্রখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী মানুষের অবস্থা ও আধ্যাত্মিক অবস্থান অনুসারে রোজাকে তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন। তাঁর এই বিশ্লেষণ রোজার প্রকৃত লক্ষ্যকে বুঝতে আমাদের গভীরভাবে সহায়তা করে।
ইমাম গাজ্জালীর মতে, মানুষের অবস্থা ভেদে রোজা তিন প্রকার— ১. সাধারণ মানুষের রোজা। ২. বিশেষ বান্দাদের রোজা। ৩. আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের রোজা।
প্রথম স্তর: সাধারণ মানুষের রোজা
সাধারণ মানুষের রোজা হলো খানাপিনা ও যৌনচাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকা। অর্থাৎ শরিয়তের বিধান অনুযায়ী দিনের নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ না করা এবং দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা। অধিকাংশ মানুষের রোজা সাধারণত এই স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকে।
দ্বিতীয় স্তর: বিশেষ বান্দাদের রোজা
আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের রোজা কেবল খাবার ও পানাহার থেকে বিরত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা নিজেদের চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও গুনাহ থেকে সংযত রাখেন।
অশালীন কিছু দেখা, মিথ্যা বলা, গুজব ছড়ানো, পরনিন্দা করা কিংবা নিষিদ্ধ বিষয় শোনা—এসব থেকেও তারা নিজেদের দূরে রাখেন। তাদের কাছে রোজা শুধু শরীরের নয়, বরং সমগ্র সত্তার এক সংযমের অনুশীলন।
তৃতীয় স্তর: নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের রোজা
সবচেয়ে উচ্চ স্তরের রোজা হলো আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের রোজা। এ অবস্থায় মানুষ দুনিয়ার সব চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে একাগ্রচিত্তে মহান রবের স্মরণে নিমগ্ন থাকে।
তাদের হৃদয় এমনভাবে আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট থাকে যে, অন্তরে দুনিয়াবী কোনো চিন্তা উদয় হলেও তারা মনে করেন যেন তাদের রোজার পূর্ণতা ক্ষুণ্ণ হয়ে গেছে।
নিশ্চয়ই আল্লাহর অতি নৈকট্যের এই স্তরে পৌঁছা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। যদিও এ পর্যায়ে পৌঁছা সবার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে দ্বিতীয় স্তর—অর্থাৎ আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের পর্যায়ে পৌঁছার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানেরই কর্তব্য।
ইমাম গাজ্জালী বলেন, আল্লাহর বিশেষ বান্দাগণ রোজার ক্ষেত্রে ছয়টি বিষয়ে বিশেষ যত্নবান থাকেন।
প্রথম: দৃষ্টির হেফাজত
অশালীন সবকিছু থেকে চোখ সংযত রাখা এবং এমন বস্তু থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন করে।
দ্বিতীয়: জবানের হেফাজত
অনর্থক গল্প, মিথ্যা, গুজব, পরনিন্দা ও ঝগড়াপূর্ণ কথাবার্তা থেকে জিহ্বাকে সংযত রাখা। বরং জবানকে আল্লাহর জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত রাখা।
তৃতীয়: কানের হেফাজত
অপ্রয়োজনীয় গল্প-গুজব কিংবা নিষিদ্ধ বিষয় শোনা থেকেও বিরত থাকা। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে যা বলা হারাম, তা শোনাও হারাম।
চতুর্থ: অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হেফাজত
হাত-পা বা অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা কোনো গুনাহের কাজে লিপ্ত না হওয়া। বিশেষ করে ইফতারের খাবারে কোনো হারামের মিশ্রণ না রাখা।
পঞ্চম: খাদ্যে সংযম
হালাল খাবার গ্রহণ করা এবং ইফতার বা রাতে অতিরিক্ত ভোজন থেকে বিরত থাকা। যেন খাদ্য প্রস্তুতি ও ভোজনের চিন্তায় রমজানের মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়।
ষষ্ঠ: ভয় ও আশার মধ্যে থাকা
প্রতিটি রোজা শেষ করার পর বান্দা যেন ভীত ও আশাবাদী থাকে—তার রোজা আল্লাহ কবুল করেছেন কি না, সেই ভাবনায়।
রমজান আমাদের কাছে শুধু একটি মাস নয়; এটি এক মহাসুযোগ—নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার। সাধারণ রোজাদার থেকে অন্তত ‘বিশেষ বান্দা’ হওয়ার চেষ্টা করার। সবার পক্ষে আল্লাহর অতি নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের পর্যায়ে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে; তবে চোঁখ, কান, জবানের হেফাজত করে আল্লাহর বিশেষ বান্দার স্তরে উত্তীর্ণ হওয়ার চেষ্টা তো আমরা করতে পারি।
রমজানের বিদায়ের আগেই আমাদের নিজেদেরকেই প্রশ্ন করা দরকার—আমার রোজা কি কেবল ক্ষুধা-পিপাসা সহ্য করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইল? নাকি ইমাম গাজ্জালীর বর্ণিত উচ্চতর স্তরের দিকে অন্তত এক ধাপ হলেও আমি এগোতে পেরেছি?

রমজান শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার মাস নয়। এটি আত্মসংযম, আত্মশুদ্ধি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের এক অনন্য প্রশিক্ষণকাল। বাহ্যিকভাবে রোজা মানে দিনের নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানাহার ও দাম্পত্য চাহিদা থেকে বিরত থাকা। কিন্তু ইসলামের আধ্যাত্মিক ধারায় রোজার তাৎপর্য এর চেয়েও অনেক গভীর।
প্রখ্যাত মুসলিম চিন্তাবিদ ও দার্শনিক ইমাম গাজ্জালী মানুষের অবস্থা ও আধ্যাত্মিক অবস্থান অনুসারে রোজাকে তিনটি স্তরে ভাগ করেছেন। তাঁর এই বিশ্লেষণ রোজার প্রকৃত লক্ষ্যকে বুঝতে আমাদের গভীরভাবে সহায়তা করে।
ইমাম গাজ্জালীর মতে, মানুষের অবস্থা ভেদে রোজা তিন প্রকার— ১. সাধারণ মানুষের রোজা। ২. বিশেষ বান্দাদের রোজা। ৩. আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের রোজা।
প্রথম স্তর: সাধারণ মানুষের রোজা
সাধারণ মানুষের রোজা হলো খানাপিনা ও যৌনচাহিদা পূরণ থেকে বিরত থাকা। অর্থাৎ শরিয়তের বিধান অনুযায়ী দিনের নির্দিষ্ট সময়ে খাদ্য ও পানীয় গ্রহণ না করা এবং দাম্পত্য সম্পর্ক থেকে দূরে থাকা। অধিকাংশ মানুষের রোজা সাধারণত এই স্তরেই সীমাবদ্ধ থাকে।
দ্বিতীয় স্তর: বিশেষ বান্দাদের রোজা
আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের রোজা কেবল খাবার ও পানাহার থেকে বিরত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা নিজেদের চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকেও গুনাহ থেকে সংযত রাখেন।
অশালীন কিছু দেখা, মিথ্যা বলা, গুজব ছড়ানো, পরনিন্দা করা কিংবা নিষিদ্ধ বিষয় শোনা—এসব থেকেও তারা নিজেদের দূরে রাখেন। তাদের কাছে রোজা শুধু শরীরের নয়, বরং সমগ্র সত্তার এক সংযমের অনুশীলন।
তৃতীয় স্তর: নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের রোজা
সবচেয়ে উচ্চ স্তরের রোজা হলো আল্লাহর নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের রোজা। এ অবস্থায় মানুষ দুনিয়ার সব চিন্তা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে একাগ্রচিত্তে মহান রবের স্মরণে নিমগ্ন থাকে।
তাদের হৃদয় এমনভাবে আল্লাহর দিকে নিবিষ্ট থাকে যে, অন্তরে দুনিয়াবী কোনো চিন্তা উদয় হলেও তারা মনে করেন যেন তাদের রোজার পূর্ণতা ক্ষুণ্ণ হয়ে গেছে।
নিশ্চয়ই আল্লাহর অতি নৈকট্যের এই স্তরে পৌঁছা বিরাট সৌভাগ্যের বিষয়। যদিও এ পর্যায়ে পৌঁছা সবার পক্ষে সম্ভব নয়, তবে দ্বিতীয় স্তর—অর্থাৎ আল্লাহর বিশেষ বান্দাদের পর্যায়ে পৌঁছার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানেরই কর্তব্য।
ইমাম গাজ্জালী বলেন, আল্লাহর বিশেষ বান্দাগণ রোজার ক্ষেত্রে ছয়টি বিষয়ে বিশেষ যত্নবান থাকেন।
প্রথম: দৃষ্টির হেফাজত
অশালীন সবকিছু থেকে চোখ সংযত রাখা এবং এমন বস্তু থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নেওয়া যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ থেকে উদাসীন করে।
দ্বিতীয়: জবানের হেফাজত
অনর্থক গল্প, মিথ্যা, গুজব, পরনিন্দা ও ঝগড়াপূর্ণ কথাবার্তা থেকে জিহ্বাকে সংযত রাখা। বরং জবানকে আল্লাহর জিকির ও কোরআন তেলাওয়াতে ব্যস্ত রাখা।
তৃতীয়: কানের হেফাজত
অপ্রয়োজনীয় গল্প-গুজব কিংবা নিষিদ্ধ বিষয় শোনা থেকেও বিরত থাকা। কারণ ইসলামের দৃষ্টিতে যা বলা হারাম, তা শোনাও হারাম।
চতুর্থ: অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের হেফাজত
হাত-পা বা অন্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দ্বারা কোনো গুনাহের কাজে লিপ্ত না হওয়া। বিশেষ করে ইফতারের খাবারে কোনো হারামের মিশ্রণ না রাখা।
পঞ্চম: খাদ্যে সংযম
হালাল খাবার গ্রহণ করা এবং ইফতার বা রাতে অতিরিক্ত ভোজন থেকে বিরত থাকা। যেন খাদ্য প্রস্তুতি ও ভোজনের চিন্তায় রমজানের মূল্যবান সময় নষ্ট না হয়।
ষষ্ঠ: ভয় ও আশার মধ্যে থাকা
প্রতিটি রোজা শেষ করার পর বান্দা যেন ভীত ও আশাবাদী থাকে—তার রোজা আল্লাহ কবুল করেছেন কি না, সেই ভাবনায়।
রমজান আমাদের কাছে শুধু একটি মাস নয়; এটি এক মহাসুযোগ—নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার। সাধারণ রোজাদার থেকে অন্তত ‘বিশেষ বান্দা’ হওয়ার চেষ্টা করার। সবার পক্ষে আল্লাহর অতি নৈকট্যপ্রাপ্ত বান্দাদের পর্যায়ে পৌঁছানো কঠিন হতে পারে; তবে চোঁখ, কান, জবানের হেফাজত করে আল্লাহর বিশেষ বান্দার স্তরে উত্তীর্ণ হওয়ার চেষ্টা তো আমরা করতে পারি।
রমজানের বিদায়ের আগেই আমাদের নিজেদেরকেই প্রশ্ন করা দরকার—আমার রোজা কি কেবল ক্ষুধা-পিপাসা সহ্য করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রইল? নাকি ইমাম গাজ্জালীর বর্ণিত উচ্চতর স্তরের দিকে অন্তত এক ধাপ হলেও আমি এগোতে পেরেছি?

রমজান এলে পৃথিবীর নানা প্রান্তের মুসলমানরা যেন এক অদৃশ্য সুতোয় গাঁথা হয়ে যায়। রোজা, তারাবি, কোরআন তেলাওয়াত—এসব ইবাদতের মধ্য দিয়েই তারা এই পবিত্র মাসকে স্বাগত জানায়। কিন্তু রমজান শুধু ইবাদতের মাসই নয়; এটি মুসলিম বিশ্বের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনেরও এক অনন্য সময়।
১ দিন আগে
রমজানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতেকাফ। আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার ক্ষেত্রে ইতেকাফ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইতেকাফ করার মাধ্যমে বান্দা নিবিষ্টতার সাথে আল্লাহর ইবাদত করার সুযোগ লাভ করে।
২ দিন আগে
রমজান কোরআন নাযিলের মাস। রমজানে রাসূল (সা.) অধিক পরিমাণে কোরআন তেলাওয়াত করতেন। বিশিষ্ট সাহাবী উসমানের (রা.) ব্যাপারে উল্লেখ আছে, তিনি রমজানে কখনো কখনো এক রাতেই পুরো কোরআন তেলাওয়াত করতেন৷
৩ দিন আগে
ইসলাম আবির্ভাবের আগের যুগে আরব সমাজে নারীর অবস্থা অত্যন্ত সীমিত ও বৈষম্যমূলক ছিল। পরিবারে মেয়ের জন্মকে অপমানজনক মনে করা হতো। কন্যা সন্তানকে জীবিত পুতে ফেলা হতো। পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর কোনো ভূমিকা ছিল না। সম্পত্তিতে তাদের কোনো অধিকার ছিল না। নারীকে প্রায়শই কেবল যৌন সম্ভোগের সঙ্গী হিসেবে দে
৪ দিন আগে