জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

উত্তরাঞ্চলের একমাত্র নারী এমপি নাটোরের পুতুল

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
নাটোর

প্রকাশ : ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২: ৪৫
ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। সংগৃহীত ছবি

দেশের উত্তরাঞ্চলের দুই বিভাগ রাজশাহী ও রংপুরের ১৬ জেলার ৭২টি সংসদীয় আসনে একমাত্র নারী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে জয়ী হয়েছেন। একইসঙ্গে ৪১ বছর বয়সী এই আইনজীবী দেশের সর্বকনিষ্ঠ নারী সংসদ সদস্য।

ব্যারিস্টার পুতুল প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটলের মেয়ে। তিনি দীর্ঘ ১৮ বছর পর দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচিত হয়ে বাবার হারানো আসন পুনরুদ্ধার করেছেন। ফজলুর রহমান পটল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে এই আসন থেকে টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ তালহার কাছে পরাজিত হওয়ার পর আসনটি বিএনপির হাতছাড়া হয়। পরে ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগের আবুল কালাম আজাদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ২০১৫ সালে ফজলুর রহমান পটলের মৃত্যু হয়। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তার স্ত্রী দলীয় মনোনয়ন পেলেও আওয়ামী লীগের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বকুলের কাছে পরাজিত হন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি অংশ না নেওয়ায় পটল পরিবারের কেউ প্রার্থী হননি। দীর্ঘ ১৮ বছর পর এবার সেই আসনটি পুনরুদ্ধার করলেন তার মেয়ে ব্যারিস্টার পুতুল।

পেশায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বর্তমানে বিএনপি চেয়ারম্যানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির বিশেষ সহকারী, মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির সদস্য এবং দলের মিডিয়া সেলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নির্বাচনের বেসরকারি ফলাফলে দেখা যায়, তিনি ১ লাখ ২ হাজার ৭২৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৫৬৮ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু ‘কলস’ প্রতীকে ৭৩ হাজার ১৭৩ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

তবে পুতুলের এই জয় সহজ ছিল না। নির্বাচনে অংশ নিতে গিয়ে তাকে নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। দলীয় মনোনয়ন ঘিরে পারিবারিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও তৈরি হয়; তার বড় ভাই ডা. ইয়াসির আরশাদ রাজনও মনোনয়ন চেয়ে সরব ছিলেন। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাইফুল ইসলাম টিপু, যিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-দফতর সম্পাদক ছিলেন। দলীয় নির্দেশ অমান্য করে ধানের শীষের বিরুদ্ধে নির্বাচন করায় তাকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ব্যারিস্টার পুতুল সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছেন বলেও জানা যায়। এমনকি দলের ভেতরের কিছু নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছেন। বাগাতিপাড়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন, পৌর মেয়র শরিফুল ইসলাম লেলিন, লালপুরের গোপালপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সাবেক বিএনপি নেতা মুঞ্জুরুল ইসলাম বিমলসহ কয়েকজন নেতা বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেন। এসব প্রতিকূলতা মোকাবিলা করেই নির্বাচনী বৈতরণী পার হন তিনি।

নির্বাচনে বিজয়ের পর ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান আমাকে মনোনয়ন দিয়ে এ আসনের মানুষকে সম্মানিত করেছিলেন। প্রতিদানে এ আসনের মানুষ আমাকে বিজয়ী করে তাঁকে সম্মানিত করেছেন। কে ভোট দিয়েছে আর কে দেয়নি তা নিয়ে আমি কাউকে বিচার করব না। আমি সবাইকে নিয়ে কাজ করতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘শুধু এই আসন বা নাটোর জেলা নয়, সুযোগ পেলে দেশের জন্য কাজ করতে প্রস্তুত আছি।’

বিষয়:

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত