সাংগঠনিক শক্তি, ভোটারদের মনোভাব এবং প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা সিলেটে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়ের নেপথ্যে তিন ফ্যাক্টর বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে রাত ৩টা পর্যন্ত ভোটের আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেন সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারওয়ার আলম। নির্বাচনে সিলেটের ছয়টি আসনের পাঁচটিতেই জয়ী হয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা।
বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি, ভোটারদের বিশেষ মনোভাব এবং প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা এই জয়ের মূল ভিত্তি। জুলাই আন্দোলনের পর বিএনপি তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পেয়েছে। বিশেষ করে ভোটের আগে তারেক রহমানের প্রতিটি অঞ্চলে গণসংযোগ ও সমাবেশ কর্মীদের মধ্যে নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে। পাশাপাশি ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকায় এবং দমন-নিপীড়নের শিকার হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে দলটির প্রতি এক ধরনের সহানুভূতি তৈরি হয়েছে। বিএনপির দীর্ঘদিনের রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতাও ভোটারদের আস্থায় নিতে সাহায্য করেছে।
এদিকে, প্রার্থীদের ব্যক্তিগত যোগ্যতা নির্বাচনী মাঠের হিসাব আরও সহজ করে তুলেছে। সিলেটের যেসব প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তাঁদের স্থানীয় রাজনীতিতে আগে থেকেই বড় প্রভাব রয়েছে। এ প্রসঙ্গে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. দিলারা রহমান বলেন, ‘আসলে ঢালাওভাবে বলা খুবই মুশকিল। তবে জয়ের জন্য সব সময় দেখা যায় সেখানে যথার্থ প্রতিনিধি রয়েছেন কিনা। জনসাধারণের সঙ্গে তিনি মিশে যেতে পারছেন কিনা—এটাই তো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া।’
দিলারা রহমান আরও বলেন, ‘জনগণের চাহিদাকে বুঝে প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচার কার্যক্রম একটি ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। দীর্ঘ সময় পর মানুষ উৎসবের সঙ্গে ভোট দিয়েছে। জনগণের কাছে যেসব আশ্বাস দিলে জয় পাওয়া যায় সেটিও কাজ করেছে। রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি হিসেবে ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা অনেক বড় বিষয় এবং সেটার ওপর জয়-পরাজয় অনেকটাই নির্ভর করে।’
সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সিলেট-১ আসনে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের হাবিবুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৯৮৩ ভোট। সিলেট-২ আসনে তাহসিনা রুশদীর ১ লাখ ১৭ হাজার ৯৫৬ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। সিলেট-৩ আসনে মোহাম্মদ আব্দুল মালিক ১ লাখ ১৫ হাজার ৪৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। সিলেট-৪ আসনে আরিফুল হক চৌধুরী ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। সিলেট-৫ আসনে জয়ী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের মুফতি আবুল হাসান, তিনি পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৩৫৫ ভোট। সিলেট-৬ আসনে এমরান আহমেদ চৌধুরী ১ লাখ ৯ হাজার ৯১৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন।