leadT1ad

দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, ভরিতে কমল ৭৬৪০ টাকা

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪: ২৮
স্বর্ণালঙ্কার। ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

টানা দুই দফা বাড়ার পর দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের দরপতনের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) ভরিতে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন দাম শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী, দেশে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫০ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪২ হাজার ৯০৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৮ হাজার ২০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ৪১১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এর আগে ৩ ফেব্রুয়ারি ভরিতে ১০ হাজার ৯০৬ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ২ লাখ ৬২ হাজার ৯০ টাকা করা হয়েছিল। সে সময় ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৫০ হাজার ১৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম ছিল ১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৮৫ টাকা।

এ নিয়ে চলতি বছর দেশের বাজারে ২৫ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হলো। এর মধ্যে ১৬ দফা বেড়েছে এবং ৯ দফা কমেছে। এর আগে ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল।

স্বর্ণের পাশাপাশি কমেছে রুপার দামও। ভরিতে ১৭৫ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের দাম ৬ হাজার ৩৫৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেট ৬ হাজার ৬৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ৫ হাজার ১৯০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ৩ হাজার ৯০৭ টাকা। চলতি বছর এ পর্যন্ত ১৭ দফা রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারেও স্বর্ণ ও রুপার বড় দরপতন হয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৭৩৫ দশমিক ৯৯ ডলারে নেমেছে। মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার দাম ২ দশমিক ৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৭৫২ দশমিক ৪০ ডলার।

রুপার বাজারে পতন আরও বেশি। দাম ৩ দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৮ দশমিক ৯৭ ডলারে নেমেছে। আগের সেশনেই রুপার দাম প্রায় ১৯ শতাংশ পড়ে গিয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, শক্তিশালী মার্কিন ডলার, প্রযুক্তিনির্ভর শেয়ারবাজারে অস্থিরতা এবং বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগে মূল্যবান ধাতুর দামে এই নিম্নমুখী প্রবণতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বড় বিনিয়োগের শঙ্কায় বৈশ্বিক ইকুইটি সূচকেও পতন দেখা গেছে।

ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রার বিপরীতে স্বর্ণ কেনা ব্যয়বহুল হয়ে ওঠে, ফলে চাহিদা কমে। এ ছাড়া মার্কিন ট্রেজারির চাহিদা বৃদ্ধি ও পণ্যের বাজারে অস্থিরতা রুপার দাম কমার অন্যতম কারণ।

মার্কিন শ্রমবাজারের দুর্বল তথ্যও এ পরিস্থিতিতে প্রভাব ফেলেছে। ডিসেম্বরে চাকরির সুযোগ প্রায় ৩ লাখ ৮৬ হাজার কমেছে, যা ২০২০ সালের পর সর্বনিম্ন। এ পরিস্থিতিতে ২০২৬ সালে ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত দুই দফায় সুদের হার কমাতে পারে বলে আশা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

Ad 300x250

সম্পর্কিত