মাহবুবুল আলম তারেক

বাংলাদেশের কোরবানির বাজারে একসময় যেখানে গরু ও ছাগলই ছিল প্রধান আকর্ষণ, সেখানে উট, দুম্বার মতো ‘বিদেশি’ পশুর বাজার তৈরি হয়েছে। যদিও এবার উট আমদানির অনুমতি মেলেনি। দেশের খামারে লালল-পালন করা বা আগে আমদানি করা উট যাচ্ছে বাজারে।
কয়েক বছর আগেও দেশে দুম্বা ছিল মূলত আমদানিনির্ভর। কিন্তু উটের তুলনায় দুম্বা বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। দেশে বেশ কয়েকটি বড় ও সফল বাণিজ্যিক দুম্বার খামার গড়ে উঠেছে। এখন চট্টগ্রাম, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, নোয়াখালী, কেরানিগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালন হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ‘ইউনিক গোট ফার্ম’ গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা আদনান চৌধুরী। তার খামারে তুর্কি, পার্সিয়ান ও আওয়াসি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে।
তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘দুম্বার বাজার দ্রুত বাড়ছে। এখন অনেক ক্রেতা গরুর পাশাপাশি দুম্বাও চান। এবার আমি ২২টি দুম্বা বিক্রি করেছি। এক ব্যবসায়ী ১৫টি দুম্বা নিয়ে গেছেন ঢাকার গাবতলী বাজারে বিক্রির জন্য।’
নাটোরের গুরুদাসপুরে ৩২ বিঘার খামারে দুম্বা পালন করেন হান্নান সরকার। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই ৬৫টির বেশি দুম্বা বিক্রি করেছি। খামারে আরও ৬০টি দুম্বা রয়েছে। এর মধ্যে আরও ৪০টি বিক্রি যাবে। সাধারণ ভেড়ার তুলনায় দুম্বায় মাংসের পরিমাণ বেশি। এ কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, দুম্বা পালন লাভজনক ব্যবসা। বড় আকারের একটি দুম্বার দাম ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে। স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে এটি ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম।
সংখ্যায় কম হলেও উট কোরবানির বাজারে মনোযোগ আকর্ষণ করে। যদিও এবার কোনও উট আমদানি হয়নি বলে জানিয়েছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মানব সম্পদ উন্নয়ন শাখার উপপরিচালক ডা. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা এবার উট আমদানির কোনও অনুমতি দিইনি। ঢাকার বাবে মদিনা খামারে আগে থেকেই কিছু উট আছে, যারা প্রজননের চেষ্টা করছে। আর কেউ কেউ হয়তো দুই-এক বছর আগে কিছু উট আমদানি করেছে, সেগুলোই বাজারে দেখা যাচ্ছে।’
ঢাকার বাবে মদিনা ক্যামেল ফার্ম দেশের অন্যতম পরিচিত উটের খামার। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের প্রথম উট খামার হিসেবে ধরা হয়। খামারটির ব্যবস্থাপক পারভেজ সোহেল স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের খামারে এক সময় ৬০-৬৫টি উট ছিল। কিন্তু এখন মাত্র ৫টি উট আছে।’
অন্যদিকে সাভারের আমিন মোহাম্মদ অ্যাগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক মারুফুর রহমান মুন্না স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের ফার্মে ৪টি উট আছে। ২০২৪ সাল থেকে আমরা উটের প্রজনন ঘটিয়ে বংশবৃদ্ধির চেষ্টা করছি। কিন্তু এখনো সফল হতে পারিনি।’
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগরের রাফি এগ্রো ফার্মের বিশালাকৃতির উট ‘সুলতান’ এখন ঈদ বাজারের অন্যতম আলোচিত উট। ভারতের রাজস্থান থেকে আনা ছয় বছর বয়সী এই উটের দাম হাঁকা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। প্রতিদিন শত শত মানুষ শুধু উটটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন।
খামারের মালিক জুয়েল আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, এখন মানুষ কোরবানির বাজারে নতুনত্ব চায়। গরুর পাশাপাশি উটের মতো ব্যতিক্রমী পশুর চাহিদা বাড়ছে। সেই ভাবনা থেকেই এটি আনা। ৩২ লাখ টাকা দাম চেয়েছি। ক্রেতারা অনেকে দেখে গেছেন। এছাড়া প্রতিদিন লাইন ধরে দর্শনার্থীরা আসছেন।
যশোরের বেনাপোলের পুটখালী গ্রামেও কয়েকটি উটকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। খামারের পরিচালক শহিদুল্লাহ স্ট্রিমকে জানান, খামারের মালিক নাসিরুদ্দিন প্রায় দেড় বছর আগে বাণিজ্যিকভাবে পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে উট আমদানি করেন। এরপর নিয়মিত পরিচর্যা, চিকিৎসা ও দেশীয় খাদ্যের মাধ্যমে উটগুলোকে স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে।
১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার প্রতিটি উটের দাম ধরা হচ্ছে ২২ থেকে ৩০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে একটি উট প্রায় ২৬ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাকি উটগুলোকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় কোরবানির হাটে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
অপ্রচলিত পশু কোরবানি নিয়ে সিপিডির সম্মানিত ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোরবানির বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন এক ‘প্রেস্টিজ ইকোনমি’—যেখানে পশুর ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি তার সামাজিক প্রতীকী মূল্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের কোরবানির বাজারে একসময় যেখানে গরু ও ছাগলই ছিল প্রধান আকর্ষণ, সেখানে উট, দুম্বার মতো ‘বিদেশি’ পশুর বাজার তৈরি হয়েছে। যদিও এবার উট আমদানির অনুমতি মেলেনি। দেশের খামারে লালল-পালন করা বা আগে আমদানি করা উট যাচ্ছে বাজারে।
কয়েক বছর আগেও দেশে দুম্বা ছিল মূলত আমদানিনির্ভর। কিন্তু উটের তুলনায় দুম্বা বাংলাদেশের আবহাওয়ার সঙ্গে বেশ ভালোভাবেই মানিয়ে নিয়েছে। দেশে বেশ কয়েকটি বড় ও সফল বাণিজ্যিক দুম্বার খামার গড়ে উঠেছে। এখন চট্টগ্রাম, নাটোর, চুয়াডাঙ্গা, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, সিলেট, নোয়াখালী, কেরানিগঞ্জসহ ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন এলাকাতেও বাণিজ্যিকভাবে দুম্বা পালন হচ্ছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ‘ইউনিক গোট ফার্ম’ গড়ে তুলেছেন উদ্যোক্তা আদনান চৌধুরী। তার খামারে তুর্কি, পার্সিয়ান ও আওয়াসি জাতের দুম্বা পালন করা হচ্ছে।
তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘দুম্বার বাজার দ্রুত বাড়ছে। এখন অনেক ক্রেতা গরুর পাশাপাশি দুম্বাও চান। এবার আমি ২২টি দুম্বা বিক্রি করেছি। এক ব্যবসায়ী ১৫টি দুম্বা নিয়ে গেছেন ঢাকার গাবতলী বাজারে বিক্রির জন্য।’
নাটোরের গুরুদাসপুরে ৩২ বিঘার খামারে দুম্বা পালন করেন হান্নান সরকার। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমি ইতিমধ্যেই ৬৫টির বেশি দুম্বা বিক্রি করেছি। খামারে আরও ৬০টি দুম্বা রয়েছে। এর মধ্যে আরও ৪০টি বিক্রি যাবে। সাধারণ ভেড়ার তুলনায় দুম্বায় মাংসের পরিমাণ বেশি। এ কারণে ক্রেতাদের আগ্রহও বাড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, দুম্বা পালন লাভজনক ব্যবসা। বড় আকারের একটি দুম্বার দাম ১ থেকে ৩ লাখ টাকার মধ্যে। স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে এটি ভালোভাবে মানিয়ে নিচ্ছে এবং রোগবালাইও তুলনামূলক কম।
সংখ্যায় কম হলেও উট কোরবানির বাজারে মনোযোগ আকর্ষণ করে। যদিও এবার কোনও উট আমদানি হয়নি বলে জানিয়েছে প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তর।
প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের মানব সম্পদ উন্নয়ন শাখার উপপরিচালক ডা. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আমরা এবার উট আমদানির কোনও অনুমতি দিইনি। ঢাকার বাবে মদিনা খামারে আগে থেকেই কিছু উট আছে, যারা প্রজননের চেষ্টা করছে। আর কেউ কেউ হয়তো দুই-এক বছর আগে কিছু উট আমদানি করেছে, সেগুলোই বাজারে দেখা যাচ্ছে।’
ঢাকার বাবে মদিনা ক্যামেল ফার্ম দেশের অন্যতম পরিচিত উটের খামার। ২০০৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের প্রথম উট খামার হিসেবে ধরা হয়। খামারটির ব্যবস্থাপক পারভেজ সোহেল স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের খামারে এক সময় ৬০-৬৫টি উট ছিল। কিন্তু এখন মাত্র ৫টি উট আছে।’
অন্যদিকে সাভারের আমিন মোহাম্মদ অ্যাগ্রো ফার্মের ব্যবস্থাপক মারুফুর রহমান মুন্না স্ট্রিমকে বলেন, ‘আমাদের ফার্মে ৪টি উট আছে। ২০২৪ সাল থেকে আমরা উটের প্রজনন ঘটিয়ে বংশবৃদ্ধির চেষ্টা করছি। কিন্তু এখনো সফল হতে পারিনি।’
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলার লক্ষ্মীনগরের রাফি এগ্রো ফার্মের বিশালাকৃতির উট ‘সুলতান’ এখন ঈদ বাজারের অন্যতম আলোচিত উট। ভারতের রাজস্থান থেকে আনা ছয় বছর বয়সী এই উটের দাম হাঁকা হয়েছে ৩২ লাখ টাকা। প্রতিদিন শত শত মানুষ শুধু উটটি দেখতে খামারে ভিড় করছেন।
খামারের মালিক জুয়েল আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, এখন মানুষ কোরবানির বাজারে নতুনত্ব চায়। গরুর পাশাপাশি উটের মতো ব্যতিক্রমী পশুর চাহিদা বাড়ছে। সেই ভাবনা থেকেই এটি আনা। ৩২ লাখ টাকা দাম চেয়েছি। ক্রেতারা অনেকে দেখে গেছেন। এছাড়া প্রতিদিন লাইন ধরে দর্শনার্থীরা আসছেন।
যশোরের বেনাপোলের পুটখালী গ্রামেও কয়েকটি উটকে ঘিরে আলোচনা তৈরি হয়েছে। খামারের পরিচালক শহিদুল্লাহ স্ট্রিমকে জানান, খামারের মালিক নাসিরুদ্দিন প্রায় দেড় বছর আগে বাণিজ্যিকভাবে পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব থেকে উট আমদানি করেন। এরপর নিয়মিত পরিচর্যা, চিকিৎসা ও দেশীয় খাদ্যের মাধ্যমে উটগুলোকে স্থানীয় আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া হয়েছে।
১২ থেকে ১৫ ফুট উচ্চতার প্রতিটি উটের দাম ধরা হচ্ছে ২২ থেকে ৩০ লাখ টাকা। এরই মধ্যে একটি উট প্রায় ২৬ লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। বাকি উটগুলোকে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বড় কোরবানির হাটে নেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে।
অপ্রচলিত পশু কোরবানি নিয়ে সিপিডির সম্মানিত ফেলো অর্থনীতিবিদ ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কোরবানির বাজারে তৈরি হয়েছে নতুন এক ‘প্রেস্টিজ ইকোনমি’—যেখানে পশুর ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি তার সামাজিক প্রতীকী মূল্যও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
.png)

পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বন্ধে ব্যর্থতায় নতুন করে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ।
১০ ঘণ্টা আগে
এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কর্মসূচির অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া ২ হাজার ৩২৮ জনকে সনদ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানে তাদের এই সনদ দেওয়া হয়। বিজিএমইএ ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসেট যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
১১ ঘণ্টা আগে
দেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও ওষুধশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি কার্যকর জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
১৬ ঘণ্টা আগে
গ্যাস সংকটে গৃহিণীরা চুলা জ্বালতে পারছেন না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাত জেগে রান্না সারছেন। এদিকে, নিত্যপণ্যের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। টানা বর্ষণ ও বন্যার প্রভাবে সরবরাহ সংকটে ক্রেতার নাভিশ্বাস। ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি।
১৬ ঘণ্টা আগে