স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও ওষুধশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি কার্যকর জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘রাসায়নিক নির্ভর রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব মতামত তুলে ধরেন অংশীজনরা। রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সদস্য আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও ওষুধশিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা অনেকাংশে প্রতিযোগিতামূলক রাসায়নিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শিল্পে ব্যবহৃত রং, রাসায়নিক ও বিশেষায়িত কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা, শুল্ক জটিলতা, পরিবেশগত অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা এবং লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা দেশের শিল্প প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এস আর ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রাব্বানী। তিনি জানান, দেশের রাসায়নিক পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার বর্তমানে ৬ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এটি প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের রাসায়নিক আমদানি করেছে, যার বড় অংশ তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াশিল্পে ব্যবহৃত হয়েছে।
নীতিগত সংস্কার ও দক্ষ জনবল গঠনে জোর
বিআইএম মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, সরকার শিল্পনীতি সংস্কারের কাজ করছে। রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন, নাকি বিদ্যমান শিল্পনীতিতে নতুন অধ্যায় সংযোজনই যথেষ্ট হবে—এ বিষয়ে উদ্যোক্তারা মতামত দিলে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তিনি দক্ষ জনবল গঠনে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিসিএসআইআরের সদস্য আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বলেন, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। বিসিএসআইআরের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পণ্য শিল্পে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার হালকা প্রকৌশল শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নীরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ এবং সহায়ক নীতিমালা অপরিহার্য।
আলোচনায় বিকেএমইএর পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে নীতিগত সহায়তার ফলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। রাসায়নিক শিল্পেও একই ধরনের সহায়তা দেওয়া হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে।
বিজিএমইএর পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাসায়নিক উৎপাদন এবং বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আক্তার হোসেন বলেন, এপিআই শিল্পপার্কের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ধীরগতির কারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বাংলাদেশ এগ্রো-কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্কের কারণে অ্যাগ্রো-কেমিক্যাল শিল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, চামড়াশিল্পে ব্যবহৃত অধিকাংশ রাসায়নিক আমদানিনির্ভর হওয়ায় আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমানো প্রয়োজন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (শুল্ক, রপ্তানি ও বন্ড) সুরাইয়া সুলতানা জানান, স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে রাসায়নিক খাতে শুল্কহার ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে আনা হয়েছে, যার সুফল উদ্যোক্তারা শিগগিরই পাবেন।

দেশের তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও ওষুধশিল্পের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি কার্যকর জাতীয় রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও শিল্পসংশ্লিষ্টরা।
শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘রাসায়নিক নির্ভর রপ্তানিমুখী শিল্পে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতের উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনারে এসব মতামত তুলে ধরেন অংশীজনরা। রাজধানীর ডিসিসিআই অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ম্যানেজমেন্টের (বিআইএম) মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) সদস্য আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, তৈরি পোশাক, বস্ত্র, চামড়া ও ওষুধশিল্পের রপ্তানি সক্ষমতা অনেকাংশে প্রতিযোগিতামূলক রাসায়নিক সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু শিল্পে ব্যবহৃত রং, রাসায়নিক ও বিশেষায়িত কাঁচামালের আমদানিনির্ভরতা, শুল্ক জটিলতা, পরিবেশগত অনুমোদনের দীর্ঘসূত্রতা এবং লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা দেশের শিল্প প্রবৃদ্ধিকে বাধাগ্রস্ত করছে।
তিনি বলেন, রপ্তানি খাতের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে একটি কার্যকর রোডম্যাপ প্রণয়ন এখন আর ঐচ্ছিক নয়, বরং এটি একটি কৌশলগত প্রয়োজন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এস আর ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আসিফ রাব্বানী। তিনি জানান, দেশের রাসায়নিক পণ্যের অভ্যন্তরীণ বাজারের আকার বর্তমানে ৬ থেকে ৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং এটি প্রতিবছর ১০ থেকে ১৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ প্রায় ৬ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলারের রাসায়নিক আমদানি করেছে, যার বড় অংশ তৈরি পোশাক, ওষুধ ও চামড়াশিল্পে ব্যবহৃত হয়েছে।
নীতিগত সংস্কার ও দক্ষ জনবল গঠনে জোর
বিআইএম মহাপরিচালক মো. সলিম উল্লাহ বলেন, সরকার শিল্পনীতি সংস্কারের কাজ করছে। রাসায়নিক ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের জন্য আলাদা নীতিমালা প্রয়োজন, নাকি বিদ্যমান শিল্পনীতিতে নতুন অধ্যায় সংযোজনই যথেষ্ট হবে—এ বিষয়ে উদ্যোক্তারা মতামত দিলে সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারবে। তিনি দক্ষ জনবল গঠনে সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিসিএসআইআরের সদস্য আবুল ফাতাহ মো. বালিগুর রহমান বলেন, শিল্প ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা প্রয়োজন। বিসিএসআইআরের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও পণ্য শিল্পে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার হালকা প্রকৌশল শিল্পের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে নীরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহ এবং সহায়ক নীতিমালা অপরিহার্য।
আলোচনায় বিকেএমইএর পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে নীতিগত সহায়তার ফলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। রাসায়নিক শিল্পেও একই ধরনের সহায়তা দেওয়া হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়বে।
বিজিএমইএর পরিচালক শেখ এইচ এম মোস্তাফিজ বলেন, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন রাসায়নিক উৎপাদন এবং বিশেষায়িত শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার বিকল্প নেই।
ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মো. আক্তার হোসেন বলেন, এপিআই শিল্পপার্কের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নে ধীরগতির কারণে উদ্যোক্তারা আগ্রহ হারাচ্ছেন।
বাংলাদেশ এগ্রো-কেমিক্যাল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বামা) সভাপতি কেএসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কাঁচামাল আমদানিতে উচ্চ শুল্কের কারণে অ্যাগ্রো-কেমিক্যাল শিল্পের সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মো. শাহীন আহমেদ বলেন, চামড়াশিল্পে ব্যবহৃত অধিকাংশ রাসায়নিক আমদানিনির্ভর হওয়ায় আমদানি পর্যায়ে শুল্ক কমানো প্রয়োজন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দ্বিতীয় সচিব (শুল্ক, রপ্তানি ও বন্ড) সুরাইয়া সুলতানা জানান, স্থানীয় উৎপাদন উৎসাহিত করতে রাসায়নিক খাতে শুল্কহার ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছে। পাশাপাশি বন্ডেড ওয়্যারহাউস লাইসেন্স প্রদানের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে আনা হয়েছে, যার সুফল উদ্যোক্তারা শিগগিরই পাবেন।
.png)

গ্যাস সংকটে গৃহিণীরা চুলা জ্বালতে পারছেন না। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে রাত জেগে রান্না সারছেন। এদিকে, নিত্যপণ্যের বাজারে যেন আগুন লেগেছে। টানা বর্ষণ ও বন্যার প্রভাবে সরবরাহ সংকটে ক্রেতার নাভিশ্বাস। ৮০ টাকার নিচে মিলছে না কোনো সবজি।
১ ঘণ্টা আগে
বাংলা কিউআরসহ সব ধরনের ডিজিটাল লেনদেনে মার্চেন্টের ওপর আরোপিত বিদ্যমান মাশুল (এমডিআর) তুলে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর।
২৩ জুলাই ২০২৬
বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প ও উৎপাদন খাতে আরও বেশি চীনা বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য ভারসাম্য উন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ থেকে চীনের পণ্য আমদানি বাড়ানোরও আহ্বান জানান।
২৩ জুলাই ২০২৬
বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নেওয়া কৌশল ইতিমধ্যে ফল দিতে শুরু করেছে।
২৩ জুলাই ২০২৬