খেলাপি ঋণ বেশি ইসলামী ব্যাংকে, কম ব্র্যাক ব্যাংকে
স্ট্রিম প্রতিবেদক

দেশে খেলাপি ঋণ সবচেয়ে বেশি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশে। আর সবচেয়ে কম ঋণ খেলাপি হয়েছে ব্র্যাক ব্যাংকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের জুন পর্যন্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, দেশে বর্তমানে বিতরণকৃত মোট ঋণের পরিমাণ ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৫৯৪ কোটি টাকা। এর ৩২ দশমিক ৭৮ শতাংশই (৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা) খেলাপি। এর মাধ্যমে বিশ্বের শীর্ষ খেলাপি ঋণের দেশে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। তবে এর মধ্যেও ভালো করছে ১৩টি ব্যাংক। তাদের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে।
মোট খেলাপি ঋণের ৭২ শতাংশ বা ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৫২৬ কোটি টাকা রয়েছে শীর্ষ ১০টি ব্যাংকের দখলে। খাতভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে একীভূত ইসলামী ব্যাংকগুলো ও কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি ব্যাংক।
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৯৮ হাজার ৯১৪ কোটি টাকা, যা তাদের মোট বিতরণকৃত ঋণের ৫২ দশমিক ১৫ শতাংশ। এর বড় অংশই এস আলম গ্রুপের। জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৭৫ হাজার ৭২৮ কোটি টাকা। তাদের মোট ঋণের ৭৫ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ খেলাপি হয়েছে।
২০২৫ সালের নভেম্বরে একীভূত হওয়া শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংকের মধ্যে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংকের ঋণ খেলাপি হয়েছে ৯৭ শতাংশের বেশি। এছাড়া ইউনিয়ন ব্যাংকের ৯৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকের ৭৮ দশমিক ১৫ শতাংশ ও এক্সিম ব্যাংকের ৭০ দশমিক ৮১ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছে।
অন্যান্য বেসরকারি ব্যাংকের মধ্যে ন্যাশনাল ব্যাংকের ৬৫ দশমিক ৭৪, আইএফআইসি ব্যাংকের ৬৩ দশমিক ৩৮ ও এবি ব্যাংকের ৫৬ দশমিক ৪ শতাংশ ঋণ খেলাপি হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ।
এসব ব্যাংকের বড় ঋণ খেলাপিদের মধ্যে রয়েছে বেক্সিমকো, এস আলম, উত্তরা গ্রুপ, নাসা গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপ, মাইশা গ্রুপ, বিল্ডট্রেড গ্রুপ, সিকদার গ্রুপ, আশিয়ান সিটি, মাহিন গ্রুপ, আমান গ্রুপ, এরশাদ ব্রাদার্স ও মোতাজ্জেরুল ইসলাম মিঠুর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এছাড়া জজ ভূঁইয়া গ্রুপ, জাকিয়া গ্রুপ, মুহিব স্টিল অ্যান্ড শিপ রিসাইক্লিং, মুন গ্রুপসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠান।
সামগ্রিক খাতের এই মন্দা দশাতেও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে রাখতে পেরেছে ১৩টি ব্যাংক। তাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। তাদের খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা (২ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ)।
পূবালী ব্যাংকও ভালো করেছে। তাদের খেলাপি ঋণ ১ হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা (২ দশমিক ৪৬ শতাংশ)। ভালো পারফরম্যান্স দেখানো অন্য ব্যাংকগুলো হলো প্রাইম ব্যাংক (২ দশমিক ৭৪ শতাংশ), সিটি ব্যাংক (২ দশমিক ৭৯ শতাংশ), ইস্টার্ন ব্যাংক (৩ দশমিক ২৮ শতাংশ), যমুনা ব্যাংক (৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ), এনসিসি ব্যাংক (৪ দশমিক ১৯ শতাংশ), উত্তরা ব্যাংক (৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ), শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক (৪ দশমিক ৮২ শতাংশ), কমিউনিটি ব্যাংক (শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ), সিটিজেনস ব্যাংক (২ দশমিক ৬৫ শতাংশ), বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংক (৪ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ) ও সীমান্ত ব্যাংক (৪ দশমিক ৮৮ শতাংশ)।
বিদেশী ৯টি ব্যাংকের মধ্যে পাকিস্তান ন্যাশনাল ব্যাংক ও এইচএসবিসি ছাড়া বাকি সাতটির অবস্থাই ভালো।
যা বলছেন খাত সংশ্লিষ্টরা
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের (এবিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি আনিস এ খান বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন উপায়ে খেলাপি ঋণ কমানো হয়। এখন নীতিমালা শিথিল করে খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা বাস্তবে কাজে আসে না। সরকারকে দ্রুত একটি ঝুঁকিগ্রস্ত সম্পদ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি গঠন করতে হবে। যেসব ঋণখেলাপি ব্যাংকের ঋণ পরিশোধে উদ্যোগী হবে না, তাদের ঋণ ওই কোম্পানির কাছে হস্তান্তর করে সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে কিছু অর্থ উদ্ধার সম্ভব হবে। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমও পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হবে।’
.png)






