স্ট্রিম প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সানেম’। তারা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাংলাদেশের অতি-নির্ভরশীলতা দেশের অর্থনীতির জন্য বহুমাত্রিক সংকট তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানিয়েছে সানেম। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, এ নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ করেছে সংস্থাটি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উৎপাদন, জাহাজ চলাচল এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিপর্যস্ত। বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালি’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৭২ শতাংশই আসে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এছাড়া কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখায় সংকট আরও বেড়েছে।
সানেমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি প্রধান চ্যানেলে আঘাত হানছে—জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয়, রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতি এবং বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া। ‘গ্লোবাল ট্রেড অ্যানালাইসিস প্রজেক্ট’-এর সিজিই মডেল ব্যবহার করে সানেম দেখিয়েছে, যদি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি ২ শতাংশ এবং আমদানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে।
এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং মানুষের প্রকৃত মজুরি ১ শতাংশ কমে যেতে পারে। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ১ দশমিক ৫ শতাংশ, কৃষি খাতে ১ শতাংশ এবং জ্বালানি-নির্ভর শিল্পকারখানায় উৎপাদন প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
সরকারের জ্বালানি রেশনিং ও কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপগুলোর জন্য সাধুবাদ জানালেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে সরকারি বক্তব্যের অসামঞ্জস্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সানেম। সংস্থাটি মনে করে, জ্বালানি প্রাপ্যতা নিয়ে সরকারের দাবির সঙ্গে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার পার্থক্য প্রকট হয়ে উঠেছে।
সংকট মোকাবিলায় সানেম বেশ কিছু স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত ত্বরান্বিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ আনা। একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং কৌশলগত জাতীয় জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলা। শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ‘অফ-পিক’ সময়ে স্থানান্তর করা। মধ্যমেয়াদে দেশের স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে জ্বালানি খাতের এই কাঠামোগত সংস্কারে আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের প্রভাবে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে সতর্ক করেছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ‘সানেম’। তারা বলছে, মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর বাংলাদেশের অতি-নির্ভরশীলতা দেশের অর্থনীতির জন্য বহুমাত্রিক সংকট তৈরি করেছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানিয়েছে সানেম। মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলতে পারে, এ নিয়ে বিশেষ বিশ্লেষণ করেছে সংস্থাটি। বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের উৎপাদন, জাহাজ চলাচল এবং সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিপর্যস্ত। বিশেষ করে ‘হরমুজ প্রণালি’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকায় বিশ্বজুড়ে তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশের মোট এলএনজি আমদানির প্রায় ৭২ শতাংশই আসে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে। এছাড়া কাতার তাদের এলএনজি উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখায় সংকট আরও বেড়েছে।
সানেমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তিনটি প্রধান চ্যানেলে আঘাত হানছে—জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয়, রেমিট্যান্স প্রবাহে ধীরগতি এবং বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়া। ‘গ্লোবাল ট্রেড অ্যানালাইসিস প্রজেক্ট’-এর সিজিই মডেল ব্যবহার করে সানেম দেখিয়েছে, যদি বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ৪০ শতাংশ এবং এলএনজির দাম ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তবে বাংলাদেশের প্রকৃত জিডিপি প্রায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে রপ্তানি ২ শতাংশ এবং আমদানি ১ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাসের আশঙ্কা রয়েছে।
এর ফলে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্যস্ফীতি ৪ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে এবং মানুষের প্রকৃত মজুরি ১ শতাংশ কমে যেতে পারে। এছাড়া তৈরি পোশাক শিল্পে উৎপাদন ১ দশমিক ৫ শতাংশ, কৃষি খাতে ১ শতাংশ এবং জ্বালানি-নির্ভর শিল্পকারখানায় উৎপাদন প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাসের পূর্বাভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
সরকারের জ্বালানি রেশনিং ও কৃচ্ছ্রসাধনের পদক্ষেপগুলোর জন্য সাধুবাদ জানালেও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সঙ্গে সরকারি বক্তব্যের অসামঞ্জস্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সানেম। সংস্থাটি মনে করে, জ্বালানি প্রাপ্যতা নিয়ে সরকারের দাবির সঙ্গে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতার পার্থক্য প্রকট হয়ে উঠেছে।
সংকট মোকাবিলায় সানেম বেশ কিছু স্বল্প ও মধ্যমেয়াদি সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প দ্রুত ত্বরান্বিত করা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বড় বিনিয়োগ আনা। একক উৎসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমদানির উৎস বৈচিত্র্যময় করা এবং কৌশলগত জাতীয় জ্বালানি মজুদ গড়ে তোলা। শিল্পকারখানার উৎপাদন কার্যক্রম ‘অফ-পিক’ সময়ে স্থানান্তর করা। মধ্যমেয়াদে দেশের স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম জোরদার করা।
বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা যেদিকে মোড় নিচ্ছে, তাতে জ্বালানি খাতের এই কাঠামোগত সংস্কারে আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান বিপর্যয়ের সম্মুখীন হবে।
.png)

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে মোট ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন এবং সেবা রপ্তানি থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
১৬ মিনিট আগে
১০ বছরের বেশি সময় আটকে থাকার পর চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শুরু হচ্ছে চাইনিজ ইকোনমিক জোনের নির্মাণ কাজ। সোমবার (২৭ জুলাই) প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মাধ্যমে মূল কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে হবে।
৩ ঘণ্টা আগে
পণ্য উৎপাদনে ‘জোরপূর্বক শ্রম’ বন্ধে ব্যর্থতায় নতুন করে বাংলাদেশসহ ৬০টি দেশের ওপর শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্র। এতে সর্বনিম্ন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক নির্ধারণে তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে বাংলাদেশ।
১৯ ঘণ্টা আগে
এন্টারপ্রাইজ বেইজড ট্রেনিং (ইবিটি) কর্মসূচির অধীনে প্রশিক্ষণ নেওয়া ২ হাজার ৩২৮ জনকে সনদ দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এক অনুষ্ঠানে তাদের এই সনদ দেওয়া হয়। বিজিএমইএ ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত অ্যাসেট যৌথভাবে এই অনুষ্ঠান আয়োজন করে।
২০ ঘণ্টা আগে