জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

আগামী অর্থবছরে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকের

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

বিশ্বব্যাংকের লোগো।

চলতি অর্থবছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমালেও বিশ্বব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে, আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার গতি পাবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ গ্লোবাল ইকোনমিক প্রসপেক্টস শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী অর্থবছরে (জুলাই ২০২৬-জুন ২০২৭) বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে আসা এবং প্রত্যাশিত কাঠামোগত সংস্কার বাস্তবায়ন এই প্রবৃদ্ধির প্রধান সহায়ক হবে।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বর্তমান অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দাঁড়াতে পারে ৪ দশমিক ৬ শতাংশে। এর আগে গত অক্টোবরের পূর্বাভাসে এই হার ছিল ৪ দশমিক ৮ শতাংশ। তা থেকে এবার কিছুটা কমানো হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক জানায়, ২০২৬ সালের শুরুতে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে শিল্প খাতে কার্যক্রম জোরদার হবে। সরকারি ব্যয় ও বিনিয়োগও বাড়বে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে। বেসরকারি ভোগব্যয় বাড়বে। মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমবে। এসব বিষয় সামগ্রিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নীতিনির্ধারণে পূর্বানুমেয়তা বাড়লে প্রবৃদ্ধিবান্ধব সংস্কার বাস্তবায়ন সহজ হবে। এতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও শক্তিশালী হবে।

বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংকের এই পূর্বাভাস জাতিসংঘ, এডিবি, বিশ্বব্যাংক এবং আইএমএফ-এর পূর্বাভাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

জাতিসংঘ চলতি অর্থবছর শেষে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ হবে পূর্ভাভাস দিয়েছে। এডিবি ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের পূর্বাভাসে ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছিল। বিশ্বব্যাংক ২০২৪ সালের অক্টোবরের পূর্বাভাসে ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৮ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৬ দশমিক ৩ শতাংশ হওয়ার কথা উল্লেখ করে। একই সময়ে আইএমএফ ২০২৬ সালে প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং পরের অর্থবছরে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ হওয়ার পূর্বাভাস দেয়।

এদিকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি কমার আশঙ্কা করা হয়েছে। ২০২৫ সালে ৭ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পর ২০২৬ সালে তা নেমে আসতে পারে ৬ দশমিক ২ শতাংশে। ভারতের রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি শুল্ক বৃদ্ধির প্রভাব এর অন্যতম কারণ।

তবে ২০২৭ সালে দক্ষিণ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি আবার বাড়তে পারে। এ সময় প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কমে এলে এই উন্নতি ঘটতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতিতে অনিশ্চয়তা, আর্থিক খাতে চাপ, সামাজিক অস্থিরতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঞ্চলিক অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তবে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আলোচনা, প্রযুক্তিনির্ভর বিনিয়োগ এবং নির্বাচনের পর স্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিবেশ ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশ্বব্যাংক আরও জানায়, আগামী দুই বছরে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকবে। ২০২৬ সালে তা কমে ২ দশমিক ৬ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে আবার তা বেড়ে ২ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

সম্পর্কিত