স্ট্রিম প্রতিবেদক

সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ নিয়ে তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর উপস্থাপিত তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্পিনিং খাত ও সুতা আমদানি বিষয়ে সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর আগে এদিন সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমই) আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকার সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ‘মারাত্মক বিপর্যয়কর’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
পরে বিবৃতিতে শওকত আজিজ জানান, বিটিএমএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা করেই বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেবল ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার সুপারিশ করে। এই সুতাগুলোর এইচএস কোড হলো ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এতে নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সেফগার্ড ডিউটি আরোপেরও কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুতা আমদানির মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না বলেও দাবি করেন শওকত আজিজ। বরং এই সুবিধার বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো মূল উপকারভোগী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেও টিকে থাকতে পারছে না। এর প্রধান কারণ হলো প্রতিবেশী দেশের সরকারের দেওয়া প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০ সেন্ট ভর্তুকি। এই ভর্তুকির কারণে দেশীয় মিলগুলো তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কিছু সুতাকে বন্ড সুবিধার আওতামুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই সুতাগুলোর শতভাগ সরবরাহ সক্ষমতা দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর রয়েছে। এই প্রস্তাব দেওয়ার আগে সরকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন।
এর আগে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা একমত হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন বিটিএমএ সভাপতি। তিনি বলেন, তাঁরা সবাই স্বীকার করেছিলেন যে, যেসব সুতা শতভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব, সেগুলো বন্ড সুবিধার বাইরে আনা যেতে পারে। অথচ সেই সমঝোতাকে উপেক্ষা করে এখন বিষয়টিকে একতরফা সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি মোটেও কাম্য নয়।
বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্তত ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ করতে হবে বলেও মনে করেন শওকত আজিজ। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের শর্ত প্রযোজ্য হবে। এই বাস্তবতায় দেশীয় স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সরকার দেশের শিল্প খাতকে অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদের হুমকি থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পকে উৎসাহিত করতে আশির দশক থেকে সরকার সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে। এই সুবিধার ফলে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা তুলনামূলক কম খরচে আমদানি করা সম্ভব হয়। তবে গত বছর প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে দাবি করছেন বস্ত্রকল মালিকেরা।
এই প্রেক্ষাপটে বিটিএমএ গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। তাদের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন গত ৬ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১২ জানুয়ারি এনবিআরকে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। তবে এনবিআর এখনো কোনও আদেশ জারি করেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাতের কাঁচামালের বড় একটি অংশ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। অন্যদিকে বিটিএমএ জানিয়েছে, দেশে এক কেজি সুতা উৎপাদনে যেখানে খরচ পড়ে প্রায় ৩ ডলার, সেখানে ভারত একই মানের সুতা ৩ ডলারের কম দামে বাংলাদেশে রপ্তানি করছে।
ভারতে একই সুতা উৎপাদন করা হচ্ছে ২ ডলার ৮৫ সেন্ট থেকে ২ ডলার ৯০ সেন্ট ব্যয়ে। বর্তমানে সেই সুতা বাংলাদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে মাত্র ২ দশমিক ৫ ডলারে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে একদিকে বস্ত্রশিল্পের প্রধান কাঁচামাল তুলা আমদানিতে শুল্ক বসিয়েছে, অন্যদিকে করপোরেট কর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করেছে। এ ছাড়া নগদ প্রণোদনা সহায়তা ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে করেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ ভারত নানাভাবে এ খাতকে প্রণোদনা দিয়ে উজ্জীবিত রেখেছে।
এর ফলে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো তাদের উৎপাদনক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০টি স্পিনিং কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। দেশি বস্ত্রকলগুলোর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতাও অবিক্রীত রয়ে গেছে। বিদ্যমান ধারা অব্যাহত থাকলে চালু কারখানাগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে বলে উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশঙ্কা করছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশীয় সুতা উৎপাদন আরও সংকুচিত হবে। এতে লিড টাইম বাড়বে। মূল্য সংযোজন কমে যাবে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা ধরে রাখতে যেখানে ৪০ শতাংশের বেশি মূল্য সংযোজন প্রয়োজন হবে, সেখানে আমদানিনির্ভরতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা বলছেন, ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করার পরও পোশাক শিল্পে পরোক্ষ প্রণোদনা দিয়ে আসছে। এই প্রণোদনার কারণে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে। বাংলাদেশকেও একইভাবে পোশাক শিল্পে প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে বলে মত দেন তারা।

সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপ নিয়ে তৈরি পোশাক খাতের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর উপস্থাপিত তথ্য সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, স্পিনিং খাত ও সুতা আমদানি বিষয়ে সাম্প্রতিক সংবাদ সম্মেলনে যে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
এর আগে এদিন সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমই) আয়োজিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকার সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক শিল্প চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ‘মারাত্মক বিপর্যয়কর’ বলেও উল্লেখ করা হয়।
পরে বিবৃতিতে শওকত আজিজ জানান, বিটিএমএ’র আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়। বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর সঙ্গে আলোচনা করেই বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন দাখিল করে। ওই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেবল ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা বন্ড সুবিধার বাইরে রাখার সুপারিশ করে। এই সুতাগুলোর এইচএস কোড হলো ৫২০৫, ৫২০৬ ও ৫২০৭। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এতে নতুন করে কোনো শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়নি। বর্তমানে সেফগার্ড ডিউটি আরোপেরও কোনো সিদ্ধান্ত নেই।
বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুতা আমদানির মাধ্যমে তৈরি পোশাক খাতের দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো বাস্তবে কোনো সুবিধা পাচ্ছে না বলেও দাবি করেন শওকত আজিজ। বরং এই সুবিধার বিদেশি ক্রেতা প্রতিষ্ঠানগুলো মূল উপকারভোগী বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
অন্যদিকে, দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেও টিকে থাকতে পারছে না। এর প্রধান কারণ হলো প্রতিবেশী দেশের সরকারের দেওয়া প্রতি কেজিতে প্রায় ৫০ সেন্ট ভর্তুকি। এই ভর্তুকির কারণে দেশীয় মিলগুলো তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।
তিনি আরও বলেন, এসব বাস্তবতা বিবেচনায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) কিছু সুতাকে বন্ড সুবিধার আওতামুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে। এই সুতাগুলোর শতভাগ সরবরাহ সক্ষমতা দেশীয় স্পিনিং মিলগুলোর রয়েছে। এই প্রস্তাব দেওয়ার আগে সরকার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর ও কর্মকর্তারা তৈরি পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিকবার আনুষ্ঠানিক বৈঠক করেছেন।
এর আগে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিটিএমএ, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা একমত হয়েছিলেন বলেও দাবি করেন বিটিএমএ সভাপতি। তিনি বলেন, তাঁরা সবাই স্বীকার করেছিলেন যে, যেসব সুতা শতভাগ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন সম্ভব, সেগুলো বন্ড সুবিধার বাইরে আনা যেতে পারে। অথচ সেই সমঝোতাকে উপেক্ষা করে এখন বিষয়টিকে একতরফা সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। তিনি বলেন, এটি মোটেও কাম্য নয়।
বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণের পর রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্তত ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পূরণ করতে হবে বলেও মনে করেন শওকত আজিজ। তাঁর মতে, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানির ক্ষেত্রেও একই ধরনের শর্ত প্রযোজ্য হবে। এই বাস্তবতায় দেশীয় স্পিনিং ও টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
সরকার দেশের শিল্প খাতকে অর্থনৈতিক আধিপত্যবাদের হুমকি থেকে রক্ষা করতে দ্রুত ও যথাযথ পদক্ষেপ নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
উল্লেখ্য, রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পকে উৎসাহিত করতে আশির দশক থেকে সরকার সুতা আমদানিতে বন্ড সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়ে আসছে। এই সুবিধার ফলে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতা তুলনামূলক কম খরচে আমদানি করা সম্ভব হয়। তবে গত বছর প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে কম দামে সুতা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর ফলে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে দাবি করছেন বস্ত্রকল মালিকেরা।
এই প্রেক্ষাপটে বিটিএমএ গত বছরের সেপ্টেম্বর ও ডিসেম্বরে বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের আবেদন জানায়। তাদের দাবির সঙ্গে একমত হয়ে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন গত ৬ জানুয়ারি একটি প্রতিবেদন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ১২ জানুয়ারি এনবিআরকে ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের কটন সুতায় বন্ড সুবিধা প্রত্যাহারের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। তবে এনবিআর এখনো কোনও আদেশ জারি করেনি।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাত থেকে। এই খাতের কাঁচামালের বড় একটি অংশ আমদানি করা হয় ভারত থেকে। অন্যদিকে বিটিএমএ জানিয়েছে, দেশে এক কেজি সুতা উৎপাদনে যেখানে খরচ পড়ে প্রায় ৩ ডলার, সেখানে ভারত একই মানের সুতা ৩ ডলারের কম দামে বাংলাদেশে রপ্তানি করছে।
ভারতে একই সুতা উৎপাদন করা হচ্ছে ২ ডলার ৮৫ সেন্ট থেকে ২ ডলার ৯০ সেন্ট ব্যয়ে। বর্তমানে সেই সুতা বাংলাদেশে রপ্তানি করা হচ্ছে মাত্র ২ দশমিক ৫ ডলারে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সরকার চলতি অর্থবছরের বাজেটে একদিকে বস্ত্রশিল্পের প্রধান কাঁচামাল তুলা আমদানিতে শুল্ক বসিয়েছে, অন্যদিকে করপোরেট কর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৭ শতাংশ করেছে। এ ছাড়া নগদ প্রণোদনা সহায়তা ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে করেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। অথচ ভারত নানাভাবে এ খাতকে প্রণোদনা দিয়ে উজ্জীবিত রেখেছে।
এর ফলে দেশীয় স্পিনিং মিলগুলো তাদের উৎপাদনক্ষমতার মাত্র ৬০ শতাংশ ব্যবহার করতে পারছে। ইতিমধ্যে প্রায় ৫০টি স্পিনিং কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। দেশি বস্ত্রকলগুলোর প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতাও অবিক্রীত রয়ে গেছে। বিদ্যমান ধারা অব্যাহত থাকলে চালু কারখানাগুলোও বন্ধ হয়ে যাবে বলে উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আশঙ্কা করছে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশীয় সুতা উৎপাদন আরও সংকুচিত হবে। এতে লিড টাইম বাড়বে। মূল্য সংযোজন কমে যাবে। বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বিশেষ করে এলডিসি থেকে উত্তরণের পর শুল্ক সুবিধা ধরে রাখতে যেখানে ৪০ শতাংশের বেশি মূল্য সংযোজন প্রয়োজন হবে, সেখানে আমদানিনির্ভরতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
তবে এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতারা বলছেন, ভারত, চীন ও ভিয়েতনামের মতো দেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করার পরও পোশাক শিল্পে পরোক্ষ প্রণোদনা দিয়ে আসছে। এই প্রণোদনার কারণে তারা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছে। বাংলাদেশকেও একইভাবে পোশাক শিল্পে প্রণোদনা অব্যাহত রাখতে হবে বলে মত দেন তারা।

সুতা আমদানিতে শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্তকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প ও সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ‘মারাত্মক বিপর্যয়কর’ আখ্যা দিয়েছেন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ নেতারা। তাঁরা বলেছেন, এ সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে।
১৭ ঘণ্টা আগে
মালিবাগ রেলগেটে বাজার করতে আসা রিজওয়ান আহমেদ স্ট্রিমকে বলেন, ‘এখন তো সবজির সিজন। সবজিই খাওয়া হচ্ছে। ফলে ডিম বেশি একটা কেনা হয় না। আজ দেখলাম দাম কমেছে। তবে খুব যে কমেছে, তাও কিন্তু না। ডজনে ১০ টাকা মাত্র।
৪ দিন আগে
পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে নবগঠিত রাষ্ট্রায়ত্ত শরিয়াভিত্তিক বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক (সিবিআইবি)’ সরকারের বিশেষ সুকুক প্রকল্প ‘বাংলাদেশ সরকার স্পেশাল সুকুক-১’-এ ১০ হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে।
৫ দিন আগে
চলতি অর্থবছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমালেও বিশ্বব্যাংক আশা প্রকাশ করেছে, আগামী অর্থবছরে বাংলাদেশের অর্থনীতি আবার গতি পাবে। এতে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৬ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
৬ দিন আগে