জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

তোফাজ্জল হত্যা

বিচার বিলম্বিত করতে বারবার ‘নারাজি’ দিচ্ছে ঢাবি প্রশাসন, অভিযোগ বাদিপক্ষের আইনজীবীর

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ১৬: ৪৪
মারধরের বিরতিতে তোফাজ্জলকে খাওয়ানো হয় খাবার

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে আলোচিত তোফাজ্জল হোসেন হত্যা মামলার বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিরুদ্ধে বারবার ‘নারাজি’ (আপত্তি) দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন নিহতের পক্ষের আইনজীবী। তার দাবি, একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে বাঁচাতে এবং বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এমন ‘নগ্ন হস্তক্ষেপ’ করছে।

বুধবার (১১ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে এই অভিযোগ করেন তোফাজ্জলের পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান।

এর আগে মঙ্গলবার (১০ মার্চ) এই মামলায় ২৮ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) দেওয়া সম্পূরক অভিযোগপত্র গ্রহণ করে পলাতক ২২ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

আদালতের আদেশের পরদিন মামলার বাদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান। বিচার প্রক্রিয়া বিলম্বিত করার অভিযোগের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তোফাজ্জল হত্যাকাণ্ডের মতো ন্যাক্কারজনক একটি ঘটনার বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন একের পর এক নারাজি পিটিশন দিয়ে যাচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন ও তাদের বাঁচানোর জন্যই এই চেষ্টা করা হচ্ছে।’

তিনি অভিযোগ করেন, শাহবাগ থানা পুলিশ এবং পরবর্তী সময়ে পিবিআইয়ের মতো বিশেষজ্ঞ সংস্থার তদন্ত প্রতিবেদনের ওপরও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অনাস্থা জানিয়েছে। বিচার যাতে না হয়, সেজন্য আসামিদের বাঁচাতে রাষ্ট্রযন্ত্রের একাংশ ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এক হয়ে কাজ করছে বলে দাবি করেন তিনি।

গতকাল মঙ্গলবারও (১০ মার্চ) তারা অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে আইনজীবী উল্লেখ করেন।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আদালত ২২ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেও তাদের গ্রেপ্তারে প্রশাসনের কোনো উদ্যোগ নেই। আসামিরা দেশেই আছে এবং তারাই তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করতে প্রভাব বিস্তার করে যাচ্ছে।’ অবিলম্বে পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

আইনজীবী জানান, পিবিআইয়ের অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত ২৮ জনের মধ্যে চারজন বর্তমানে কারাগারে এবং দুজন জামিনে রয়েছেন। বাকি ২২ জন পলাতক।

২০২৪ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখে তোফাজ্জল হোসেনকে (৩২) আটকে রাখেন শিক্ষার্থীরা। মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে তাকে প্রথমে মারধর করা হয়। পরে তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বুঝতে পেরে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে ভাত খাওয়ানো হয়। ভাত খাওয়ার পর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। অচেতন অবস্থায় রাত ১০টা ৫২ মিনিটে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নে। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে হিসাববিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করলেও মানসিক সমস্যার কারণে কর্মহীন ছিলেন।

এই হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৯ সেপ্টেম্বর শাহবাগ থানায় মামলা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ। তদন্ত শেষে শাহবাগ থানা পুলিশ ২১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে প্রথম অভিযোগপত্র দেয়। তবে অন্য আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে নাম আসা কয়েকজনকে অব্যাহতি দেওয়ায় ওই অভিযোগপত্রের ওপর নারাজি দাখিল করা হয়।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পিবিআই নতুন করে আরও সাতজনসহ মোট ২৮ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে সম্পূরক অভিযোগপত্র জমা দেয়, যা মঙ্গলবার (১০ মার্চ) গ্রহণ করে বিচার শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সম্পর্কিত