দ্য এক্সফাইলস–১
আবদুল্লাহ কাফি

সামাজিক মাধ্যমে সিক্রেট গ্রুপ খুলে চলছে পর্ন কারবার। ‘এক্সপোজ’– এর নামে এসব গ্রুপে নারী-শিশুর হাজারো খোলামেলা ছবি-ভিডিও দেওয়া হচ্ছে। টাকা দিয়ে সদস্য হলেই নিয়মিত মিলছে দেখার সুযোগ। আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে কারবার চললেও নির্বিকার প্রশাসন।
ফেসবুক পোস্ট কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে যারা গ্রুপের সদস্য হচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই তরুণ। শুরুতে বাড়তি আনন্দের জন্য যুক্ত হলেও, একপর্যায়ে তাতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন বলে একাধিক ‘গ্রাহক’ জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কৌতূহল মেটাতে বিশেষ করে তরুণরা এসব ছবি-ভিডিও দেখা শুরু করেন। এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে তাদের অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়েন। নিয়মিত পর্ন দেখলে স্বাভাবিক উত্তেজনা লোপ পায়। আসক্ত ব্যক্তি তখন আরও ভিন্নধর্মী উদ্দীপনা পেতে চান এবং ছবি-ভিডিওর মানুষকে ভিকটিমের পরিবর্তে বিনোদনের উপকরণ বিবেচনা করে। যুবসমাজকে বাঁচাতে বিদ্যমান আইনকে সময়োপযোগী করে অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিসের ওপর নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।
বাংলাদেশের আইনে পর্নগ্রাফি, এই ধরনের কিছু বহন, বিনিময় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। পর্নগ্রাফির উদ্দেশ্যে নারী-পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর জ্ঞাত-অজ্ঞাতে ছবি-ভিডিও ধারণ অপরাধ। এই আইন ভঙ্গে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা দণ্ডের বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে পর্নগ্রাফির মাধ্যমে সম্মানহানি, ব্ল্যাকমেইল কিংবা ইন্টারনেটে ছড়ানোর সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
শিশুদের ব্যবহার করে পর্নগ্রাফি উৎপাদন, বিতরণ এবং বিজ্ঞাপনও আইনে অপরাধ। এতে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এই আইনে সংঘটিত অপরাধে জড়িত কিংবা সহায়তাকারীকে একই সাজা ভোগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন ও শাস্তির তোয়াক্কা না করে সামাজিক মাধ্যমে অন্যের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও প্রকাশসহ রমরমা পর্নগ্রাফি চলছে। সম্প্রতি পর্নগ্রাফি ও অন্যের তথ্য প্রকাশের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ভোলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে র্যাব এবং রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর থানার পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ এবং সেগুলো বিক্রি, ভাড়া, বিতরণ ও সরবরাহে জড়িত। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইসে এমন অনেক কিছু পাওয়া গেছে।
ছড়াচ্ছে ধর্ষণ ও শিশু নিপীড়নের ভিডিও
গত কয়েকদিনে স্ট্রিম অন্তত ১৫টি ফেসবুক পেজ-গ্রুপ ও টেলিগ্রাম চ্যানেল পেয়েছে, যাদের কার্যক্রম প্রায় একই। এসব সামাজিক মাধ্যম যারা পরিচালনা করছেন, তাঁরা ব্যক্তির উদ্দেশে নাম গোপন রেখে অন্যকে (প্রাক্তন) এক্সপোজ করার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। অনেকের নামবিহীন এক্সপোজ পোস্ট পাবলিক করা হয়েছে।
ফেসবুকে এমন একটি পাবলিক গ্রুপ রয়েছে, যেখানে ৪২ হাজারের বেশি সদস্য। এক বছর আগে এটি খোলা হয় এবং বর্তমানে গড়ে দিনে ১০০টি পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। মার্চে দেওয়া তিন হাজারের বেশি পোস্টের প্রধান উপাদানই নারী। বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয় বিবস্ত্র ছবি। তাতে চটুল ক্যাপশনে কমেন্টে জানানো হয় টেলিগ্রাম চ্যানেলের লিংকের তথ্য। তবে এসব চ্যানেলের লিংকে পুরো ভিডিও নেই। আকর্ষণ বাড়াতে খণ্ডিত অংশ দেওয়া। সেখানেই বার্তা– পুরো ভিডিও মিলবে প্রিমিয়াম চ্যানেলে, যেটির সদস্য হতে টাকা লাগে।
অন্তত ১০টি টেলিগ্রাম চ্যানেল ঘুরে দেখা গেছে, টাকার বিনিময়ে শিশু নিপীড়ন ও ধর্ষণের ভিডিও বিক্রির অফার দিয়েছেন এসব চ্যানেল পরিচালনাকারীরা। প্রায় চার হাজার সদস্যের এমন একটি চ্যানেলে অসংখ্য ছবি-ভিডিওর মাঝে নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের বিষয়ে চটুল ক্যাপশনে লেখা, কার কার মাথা ঠিক থাকবে? একদিনেই চ্যানেলের প্রায় সবাই এটি দেখেছেন এবং সেখানে হার্ট এবং ওয়াও রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন।
টেলিগ্রামের কয়েকটি গ্রুপ মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় প্রিমিয়াম পর্নগ্রাফি দেখতে চ্যানেলে যুক্ত হওয়ার অফার দিয়েছে। এক্সপোজের নামে তৈরি করা প্রায় ৪০ হাজার সদস্যের আরেকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে দুই হাজারের বেশি ছবি-ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এখানে অফার মূল্যে একসঙ্গে আটটি প্রিমিয়াম চ্যানেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া, যার মধ্যে রেইপ, শিশু ধর্ষণসহ বিভিন্ন চ্যানেল যুক্ত।
এসব চ্যানেলের কয়েক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে স্ট্রিম। তাদের ভাষ্য, ফেসবুক পোস্ট ও বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে তাঁরা এখানে যুক্ত হয়েছেন। দেশে ধারণ করা এসব ভিডিও তাদের বাড়তি আনন্দ দেয় এবং বন্ধুদের মধ্যকার আড্ডার রসদ জোগায়।
যদিও এমন কয়েকটি পেজ বা গ্রুপের ডিসক্লেইমারে লেখা– এসব এক্সপোজ পোস্টের মাধ্যমে কাউকে হেনস্তা বা হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং হারাম কাজে অসমর্থন ও মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এ ব্যাপারে সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন) মোহাম্মদ এনামুল হক স্ট্রিমকে বলেছেন, এমন ঘটনা অনেক সময় রাগ, ব্ল্যাকমেইল বা ইমোশনের কারণে ঘটে। আগে যে কারও মাথায় বাড়ি দিত, এখন সে ঘরে বসে এসব করছে। আবার অনেকে পর্ন তৈরি করে তার মাধ্যমে আয় করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা গেলে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আমরা সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি রাখছি। নিয়মিত অভিযানে অনেকেই গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
তরুণরা কেন এসব দেখছে, সমাজে প্রভাব কী
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের সংগঠন ‘সাইকোচ বাংলাদেশ’– এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সায়মা আক্তারের মতে, সাধারণ কৌতূহল থেকে মানুষ এমন ছবি-ভিডিও দেখা শুরু করে। এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে একপর্যায়ে অনেকে আসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, পর্নগ্রাফি মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। ধীরে ধীরে এটি নেশায় পরিণত হয় এবং আসক্ত ব্যক্তি বাস্তব জীবনের সমস্ত অর্জনের চেয়ে পর্নগ্রাফিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য পান।
এক প্রশ্নের উত্তরে সায়মা আক্তার বলেন, এলোমেলো জীবন, একাকিত্ব, সেক্স লাইফ নিয়ে যাদের সংশয়, তাঁরা পর্নগ্রাফির ওপর বেশি নির্ভরশীল। কাল্পনিক এই জগতে নিজেকে প্রতাপশালী ভাবতে শুরু করেন এবং এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি পান। নিয়মিত পর্নগ্রাফি দেখলে স্বাভাবিক উত্তেজনা কাজ করে না। তখন আসক্ত ব্যক্তি আরও ভিন্নধর্মী উদ্দীপনা খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে ছবি-ভিডিওর ব্যক্তিকে ভিকটিমের পরিবর্তে বিনোদনের উপকরণ বিবেচনা করেন তিনি।
মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার ফারান মোহাম্মদ আরাফ স্ট্রিমকে বলেছেন, পর্নগ্রাফি এদেশে একটি রেগুলেটেড ক্রাইম। টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং সার্ভিসে সরকারি সংস্থা সেভাবে নজরদারি করতে পারে না। আবার আইনে উৎপাদন, বিনিময়, ব্যবহার ও ব্ল্যাকমেইল অপরাধ। টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ বা সামাজিক মাধ্যমের মেসেজিং নিয়ে সেভাবে বলা নেই।
তিনি বলেন, ২০১২ সালের আইন বাস্তবিক অর্থে এই সময় কাভার করবে না। ফলে এসব বিষয়ে আমাদের নতুন করে ভাবা দরকার রয়েছে। যুবসমাজকে পর্নগ্রাফি থেকে বাঁচাতে আইনকে সময়োপযোগী করার পাশাপাশি টেলিগ্রাম, বিগো বা অন্যান্য যেসব অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিস রয়েছে, সেগুলো নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

সামাজিক মাধ্যমে সিক্রেট গ্রুপ খুলে চলছে পর্ন কারবার। ‘এক্সপোজ’– এর নামে এসব গ্রুপে নারী-শিশুর হাজারো খোলামেলা ছবি-ভিডিও দেওয়া হচ্ছে। টাকা দিয়ে সদস্য হলেই নিয়মিত মিলছে দেখার সুযোগ। আইনকে বৃদ্ধাগুলি দেখিয়ে কারবার চললেও নির্বিকার প্রশাসন।
ফেসবুক পোস্ট কিংবা বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে যারা গ্রুপের সদস্য হচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই তরুণ। শুরুতে বাড়তি আনন্দের জন্য যুক্ত হলেও, একপর্যায়ে তাতে আসক্ত হয়ে পড়েছেন বলে একাধিক ‘গ্রাহক’ জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, কৌতূহল মেটাতে বিশেষ করে তরুণরা এসব ছবি-ভিডিও দেখা শুরু করেন। এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে তাদের অনেকেই আসক্ত হয়ে পড়েন। নিয়মিত পর্ন দেখলে স্বাভাবিক উত্তেজনা লোপ পায়। আসক্ত ব্যক্তি তখন আরও ভিন্নধর্মী উদ্দীপনা পেতে চান এবং ছবি-ভিডিওর মানুষকে ভিকটিমের পরিবর্তে বিনোদনের উপকরণ বিবেচনা করে। যুবসমাজকে বাঁচাতে বিদ্যমান আইনকে সময়োপযোগী করে অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিসের ওপর নজরদারি বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন তাঁরা।
বাংলাদেশের আইনে পর্নগ্রাফি, এই ধরনের কিছু বহন, বিনিময় ও ব্যবহার নিষিদ্ধ। পর্নগ্রাফির উদ্দেশ্যে নারী-পুরুষ বা শিশুকে প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর জ্ঞাত-অজ্ঞাতে ছবি-ভিডিও ধারণ অপরাধ। এই আইন ভঙ্গে সাত বছরের কারাদণ্ড ও ২ লাখ টাকা দণ্ডের বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে পর্নগ্রাফির মাধ্যমে সম্মানহানি, ব্ল্যাকমেইল কিংবা ইন্টারনেটে ছড়ানোর সর্বোচ্চ শাস্তি ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড।
শিশুদের ব্যবহার করে পর্নগ্রাফি উৎপাদন, বিতরণ এবং বিজ্ঞাপনও আইনে অপরাধ। এতে সর্বোচ্চ শাস্তি ১০ বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রয়েছে। এই আইনে সংঘটিত অপরাধে জড়িত কিংবা সহায়তাকারীকে একই সাজা ভোগ করতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আইন ও শাস্তির তোয়াক্কা না করে সামাজিক মাধ্যমে অন্যের ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও প্রকাশসহ রমরমা পর্নগ্রাফি চলছে। সম্প্রতি পর্নগ্রাফি ও অন্যের তথ্য প্রকাশের অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এর মধ্যে ভোলার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে র্যাব এবং রাজধানীর শেওড়াপাড়া থেকে একজনকে গ্রেপ্তার করে মিরপুর থানার পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, গ্রেপ্তাররা স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া মেয়েদের ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও অনলাইনে প্রকাশ এবং সেগুলো বিক্রি, ভাড়া, বিতরণ ও সরবরাহে জড়িত। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা ডিভাইসে এমন অনেক কিছু পাওয়া গেছে।
ছড়াচ্ছে ধর্ষণ ও শিশু নিপীড়নের ভিডিও
গত কয়েকদিনে স্ট্রিম অন্তত ১৫টি ফেসবুক পেজ-গ্রুপ ও টেলিগ্রাম চ্যানেল পেয়েছে, যাদের কার্যক্রম প্রায় একই। এসব সামাজিক মাধ্যম যারা পরিচালনা করছেন, তাঁরা ব্যক্তির উদ্দেশে নাম গোপন রেখে অন্যকে (প্রাক্তন) এক্সপোজ করার আহ্বান জানিয়ে পোস্ট দিয়েছেন। অনেকের নামবিহীন এক্সপোজ পোস্ট পাবলিক করা হয়েছে।
ফেসবুকে এমন একটি পাবলিক গ্রুপ রয়েছে, যেখানে ৪২ হাজারের বেশি সদস্য। এক বছর আগে এটি খোলা হয় এবং বর্তমানে গড়ে দিনে ১০০টি পোস্ট দেওয়া হচ্ছে। মার্চে দেওয়া তিন হাজারের বেশি পোস্টের প্রধান উপাদানই নারী। বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা হয় বিবস্ত্র ছবি। তাতে চটুল ক্যাপশনে কমেন্টে জানানো হয় টেলিগ্রাম চ্যানেলের লিংকের তথ্য। তবে এসব চ্যানেলের লিংকে পুরো ভিডিও নেই। আকর্ষণ বাড়াতে খণ্ডিত অংশ দেওয়া। সেখানেই বার্তা– পুরো ভিডিও মিলবে প্রিমিয়াম চ্যানেলে, যেটির সদস্য হতে টাকা লাগে।
অন্তত ১০টি টেলিগ্রাম চ্যানেল ঘুরে দেখা গেছে, টাকার বিনিময়ে শিশু নিপীড়ন ও ধর্ষণের ভিডিও বিক্রির অফার দিয়েছেন এসব চ্যানেল পরিচালনাকারীরা। প্রায় চার হাজার সদস্যের এমন একটি চ্যানেলে অসংখ্য ছবি-ভিডিওর মাঝে নবম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ের বিষয়ে চটুল ক্যাপশনে লেখা, কার কার মাথা ঠিক থাকবে? একদিনেই চ্যানেলের প্রায় সবাই এটি দেখেছেন এবং সেখানে হার্ট এবং ওয়াও রিঅ্যাক্ট দিয়েছেন।
টেলিগ্রামের কয়েকটি গ্রুপ মাত্র ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় প্রিমিয়াম পর্নগ্রাফি দেখতে চ্যানেলে যুক্ত হওয়ার অফার দিয়েছে। এক্সপোজের নামে তৈরি করা প্রায় ৪০ হাজার সদস্যের আরেকটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে দুই হাজারের বেশি ছবি-ভিডিও আপলোড করা হয়েছে। এখানে অফার মূল্যে একসঙ্গে আটটি প্রিমিয়াম চ্যানেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া, যার মধ্যে রেইপ, শিশু ধর্ষণসহ বিভিন্ন চ্যানেল যুক্ত।
এসব চ্যানেলের কয়েক সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছে স্ট্রিম। তাদের ভাষ্য, ফেসবুক পোস্ট ও বন্ধুদের কাছ থেকে জেনে তাঁরা এখানে যুক্ত হয়েছেন। দেশে ধারণ করা এসব ভিডিও তাদের বাড়তি আনন্দ দেয় এবং বন্ধুদের মধ্যকার আড্ডার রসদ জোগায়।
যদিও এমন কয়েকটি পেজ বা গ্রুপের ডিসক্লেইমারে লেখা– এসব এক্সপোজ পোস্টের মাধ্যমে কাউকে হেনস্তা বা হয়রানি করা তাদের উদ্দেশ্য নয়। বরং হারাম কাজে অসমর্থন ও মেয়েদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
এ ব্যাপারে সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সাইবার ইনভেস্টিগেশন) মোহাম্মদ এনামুল হক স্ট্রিমকে বলেছেন, এমন ঘটনা অনেক সময় রাগ, ব্ল্যাকমেইল বা ইমোশনের কারণে ঘটে। আগে যে কারও মাথায় বাড়ি দিত, এখন সে ঘরে বসে এসব করছে। আবার অনেকে পর্ন তৈরি করে তার মাধ্যমে আয় করতে আগ্রহী।
তিনি বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও যথোপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিতের পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করা গেলে এই অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। আমরা সামাজিক মাধ্যমে নজরদারি রাখছি। নিয়মিত অভিযানে অনেকেই গ্রেপ্তার হচ্ছেন।
তরুণরা কেন এসব দেখছে, সমাজে প্রভাব কী
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্টদের সংগঠন ‘সাইকোচ বাংলাদেশ’– এর সহপ্রতিষ্ঠাতা সায়মা আক্তারের মতে, সাধারণ কৌতূহল থেকে মানুষ এমন ছবি-ভিডিও দেখা শুরু করে। এক্সপেরিমেন্ট করতে গিয়ে একপর্যায়ে অনেকে আসক্ত হয়ে পড়েন। তিনি স্ট্রিমকে বলেন, পর্নগ্রাফি মস্তিষ্কে ডোপামিন নামক রাসায়নিক নিঃসরণ করে, যা তাৎক্ষণিক আনন্দ দেয়। ধীরে ধীরে এটি নেশায় পরিণত হয় এবং আসক্ত ব্যক্তি বাস্তব জীবনের সমস্ত অর্জনের চেয়ে পর্নগ্রাফিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য পান।
এক প্রশ্নের উত্তরে সায়মা আক্তার বলেন, এলোমেলো জীবন, একাকিত্ব, সেক্স লাইফ নিয়ে যাদের সংশয়, তাঁরা পর্নগ্রাফির ওপর বেশি নির্ভরশীল। কাল্পনিক এই জগতে নিজেকে প্রতাপশালী ভাবতে শুরু করেন এবং এক ধরনের মানসিক তৃপ্তি পান। নিয়মিত পর্নগ্রাফি দেখলে স্বাভাবিক উত্তেজনা কাজ করে না। তখন আসক্ত ব্যক্তি আরও ভিন্নধর্মী উদ্দীপনা খুঁজতে থাকেন। একপর্যায়ে ছবি-ভিডিওর ব্যক্তিকে ভিকটিমের পরিবর্তে বিনোদনের উপকরণ বিবেচনা করেন তিনি।
মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার ফারান মোহাম্মদ আরাফ স্ট্রিমকে বলেছেন, পর্নগ্রাফি এদেশে একটি রেগুলেটেড ক্রাইম। টেলিগ্রামের মতো মেসেজিং সার্ভিসে সরকারি সংস্থা সেভাবে নজরদারি করতে পারে না। আবার আইনে উৎপাদন, বিনিময়, ব্যবহার ও ব্ল্যাকমেইল অপরাধ। টেলিগ্রাম, হোয়াটসঅ্যাপ বা সামাজিক মাধ্যমের মেসেজিং নিয়ে সেভাবে বলা নেই।
তিনি বলেন, ২০১২ সালের আইন বাস্তবিক অর্থে এই সময় কাভার করবে না। ফলে এসব বিষয়ে আমাদের নতুন করে ভাবা দরকার রয়েছে। যুবসমাজকে পর্নগ্রাফি থেকে বাঁচাতে আইনকে সময়োপযোগী করার পাশাপাশি টেলিগ্রাম, বিগো বা অন্যান্য যেসব অনলাইন স্ট্রিমিং সার্ভিস রয়েছে, সেগুলো নজরদারির আওতায় আনতে হবে।

দেশে মানুষের নির্মমতা ও অবহেলায় হাতির এমন অপমৃত্যু কেবল বাড়ছেই। দেশে বন্য হাতির অপমৃত্যু যেন নৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিশোধমূলক হত্যা, বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, চোরাশিকার ও ট্রেনের ধাক্কায় একের পর এক হাতির করুণ মৃত্যু হচ্ছে।
১ দিন আগে
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে তৎপরতা চালাচ্ছে। প্রথমে স্থানীয় শুভাকাঙ্ক্ষীদের মাধ্যমে এবং পরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে ঢাকায় পাঠিয়ে তারা এই চেষ্টা করেছে।
৫ দিন আগে
আফগানিস্তানে সরকার গঠনের পর তালেবান দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নেটওয়ার্ক বৃদ্ধি করছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক তৈরির উদ্যোগ নেয় তারা। নিজস্ব বলয়ের রাজনীতিক থেকে বিভিন্ন সংগঠনের প্রভাবশালী নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরে তালেবানের আমন্ত্রণে অনেকে আফগানিস্তান ঘুরে এসেছেন।
৭ দিন আগে
কক্সবাজারের মহেশখালীর নৈসর্গিক দ্বীপ সোনাদিয়া। সামুদ্রিক কাছিম ও লাল কাঁকড়ার নিরাপদ প্রজননস্থল ৯ বর্গকিলোমিটারের দ্বীপটি অনেক আগে থেকেই সরকারি নথিতে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ)। তবে এখানেই বালিয়াড়ি ও প্যারাবন ধ্বংস করে গড়ে তোলা হয়েছে অন্তত ৪০টি রিসোর্ট ও কটেজ।
১৯ দিন আগে