leadT1ad

সক্রিয় হয়েছে এল নিনো, বাংলাদেশে আসবে কবে

হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমাদের বাংলাদেশে আসতে ১ থেকে ৩ মাস সময় নিতে পারে এল নিনো। দেশে বর্ষাকালে এলে বৃষ্টি কম হতে পারে। শীতকালে এলে শীত আসতে দেরি হতে পারে। আবার অকাল বন্যা বা অসময়ে ঝড়-বৃষ্টির ঘটতে পারে। প্রচন্ড গরম হতে পারে। কারণ এল নিনো আবহাওয়াকে পুরোপুরি ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বা অনিশ্চিত করে দেয়।

এল নিনোর কারণে কেবল বৃষ্টি কম হয় তা নয়, বরং অকাল বন্যা বা অসময়ে ঝড়-বৃষ্টির মতো ঘটনাও মাঝেমধ্যে ঘটতে পারে। স্ট্রিম গ্রাফিক

প্রশান্ত মহাসাগরে দানা বেঁধেছে এক শক্তিশালী এল নিনো। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর এল নিনো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। পৃথিবী এমনিই তপ্ত হয়ে আছে, তার ওপর এই এল নিনো যেন আগুনে ঘি ঢালছে। এটি রেকর্ড-ভাঙা দুর্যোগ হয়ে উঠতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা জানাচ্ছেন আবহাওয়াবিদেরা।

গত শুক্রবার (১২ জুন) মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের পরিস্থিতি ১৯৯৭ সালের সেই প্রলয়ংকরী এল নিনোর সমান বা তার চেয়েও বেশি শক্তিশালী হতে পারে। ওই বছর তাপপ্রবাহ, বন্যা, খরা আর সাইক্লোনের মতো দুর্যোগে সারা বিশ্বে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছিল।

আমেরিকার আবহাওয়া দপ্তর (এনওএএ) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছে, নিরক্ষরেখার কাছে প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। বিজ্ঞানের ভাষায় এটাই ‘এল নিনো’। এই বাড়তি উত্তাপ বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঘটনাগুলোকে আরও উসকে দিয়ে তাপমাত্রা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।

এখন প্রশ্ন হলো— এল নিনো কী? কীভাবে এটি সংঘটিত হয়?

এল নিনো কী

এল নিনো বুঝতে হলে তিনটি বিষয় বুঝতে হবে। এক. নিরক্ষরেখা, দুই. প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল, এবং তিন. অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বা ‘ট্রেড উইন্ড’।

আমাদের গোল পৃথিবীটাকে পূর্ব–পশ্চিমে সমান দুইভাগে ভাগ করলে যে রেখা টানা হয়, সেটি নিরক্ষরেখা। দুইভাগে ভাগ করার পর উত্তরের অংশটিকে পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধ এবং দক্ষিণের অংশটিকে দক্ষিণ গোলার্ধ বলা হয়।

নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ২৩.৫ ডিগ্রি অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রশান্ত মহাসাগরসহ সব সাগর, মহাসাগর ও স্থলভাগকে একত্রে বলা হয় গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল। সংগৃহীত গ্রাফিক
নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ২৩.৫ ডিগ্রি অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রশান্ত মহাসাগরসহ সব সাগর, মহাসাগর ও স্থলভাগকে একত্রে বলা হয় গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল। সংগৃহীত গ্রাফিক

তো নিরক্ষরেখা থেকে উত্তর ও দক্ষিণে ২৩.৫ ডিগ্রি অক্ষাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলকে বলা হয় ক্রান্তীয় অঞ্চল (ইংরেজিতে ট্রপিকস)। আর এই সীমানার মধ্যে থাকা পৃথিবীর পুরো অংশটিকে অর্থাৎ প্রশান্ত মহাসাগরসহ সব সাগর, মহাসাগর ও স্থলভাগকে একত্রে বলা হয় গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল।

এই বিশাল এলাকার মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগরের যে অংশটুকু পড়েছে, সেটাই ‘প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল’ (ইংরেজিতে ট্রপিক্যাল প্যাসিফিক)। এই অঞ্চলের পূর্বদিকে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকা (যেমন: পেরু, ইকুয়েডর) এবং পশ্চিমে অস্ট্রেলিয়া ও ইন্দোনেশিয়া।

তো প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের উপর দিয়ে সাধারণত পূর্ব থেকে পশ্চিম দিকে (অর্থাৎ আমেরিকা থেকে অস্ট্রেলিয়ার দিকে) নিয়মিত শক্তিশালী বাতাস প্রবাহিত হতে থাকে। এই বায়ু প্রবাহকে বলে অয়ন বায়ু (ট্রেড উইন্ডস)।

অয়ন বায়ু যখন প্রবাহিত হয় তখন প্রশান্ত মহাসাগরের আমেরিকার উপকূলের ওপরের স্তরের গরম পানি বায়ুর ধাক্কায় অস্ট্রেলিয়ার দিকে চলে যায়। ফলে আমেরিকার উপকূলের গরম পানি সরে যাওয়ায় সমুদ্রের তলদেশ থেকে ঠান্ডা পানি উপরে উঠে আসে (ইংরেজিতে আপওয়েলিং)। পানি এবং বায়ুর এই ভারসাম্য গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুকে স্বাভাবিক রাখে।

অয়ন বায়ু যখন প্রবাহিত হয় তখন প্রশান্ত মহাসাগরের আমেরিকার উপকূলের ওপরের স্তরের গরম পানি বায়ুর ধাক্কায় অস্ট্রেলিয়ার দিকে চলে যায়। এআই ছবি
অয়ন বায়ু যখন প্রবাহিত হয় তখন প্রশান্ত মহাসাগরের আমেরিকার উপকূলের ওপরের স্তরের গরম পানি বায়ুর ধাক্কায় অস্ট্রেলিয়ার দিকে চলে যায়। এআই ছবি

কিন্তু সবসময় এমনটা ঘটে না। প্রকৃতি মাঝেমধ্যে এর ব্যতিক্রম ঘটায়। ফলে ২ থেকে ৭ বছর পর পর শক্তিশালী অয়ন বায়ু দুর্বল হয়ে পড়ে। বায়ু দুর্বল হয়ে পড়লে গরম পানি আর পশ্চিম দিকে (অস্ট্রেলিয়ার দিকে) যেতে পারে না, বরং তা পূর্ব ও মধ্য প্রশান্ত মহাসাগরেই জমে থাকে। ফলে গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের সমুদ্রের পানির তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেড়ে যায়। এটাকেই এল নিনো বলা হয়।

এই বাড়তি তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে এবং আবহাওয়ায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

সারা বিশ্বে ছড়ায় কিভাবে

এই যে সমুদ্রের বিশাল এলাকার পানি স্বাভাবিকের চেয়ে গরম হয়ে যায়, এর ফল হয় মারাত্মক। আমরা জানি, পানি গরম হলে তা বাষ্প হয়ে উপরে উঠে যায়। প্রশান্ত মহাসাগরের এই বাড়তি তাপমাত্রার কারণে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প আকাশে জমা হয় এবং সেখানে বিশাল বিশাল মেঘের সৃষ্টি করে।

বায়ুমন্ডলের উপরের স্তরের বাতাসের নিয়মিত চলাচলের একটা পথ আছে, যেটাকে বলা হয় ‘জেট স্ট্রিম’। অতিরিক্ত গরম বাতাস আর যে জলীয় বাষ্প আকাশে জমা হওয়ার কথা একটু আগে বললাম, সেটা মিলে জেট স্ট্রিমকে ধাক্কা দিয়ে পথ বদলে দেয়।

আকাশপথে বাতাসের এই বিশাল প্রবাহগুলো অনেকটা হাইওয়ের মতো, যা সারা পৃথিবীতে মেঘ ও তাপমাত্রা বয়ে নিয়ে যায়। যখন প্রশান্ত মহাসাগরের এই অংশে জেট স্ট্রিমের গতিপথ বদলে যায়, তখন তার প্রভাব একটির পর একটি ডমিনো কার্ডের মতো পুরো পৃথিবীর ওপর গিয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত গরম বাতাস আকাশে জমে থাকা জলীয় বাষ্প মিলে জেট স্ট্রিমকে ধাক্কা দিয়ে পথ বদলে দেয়। এআই ছবি
অতিরিক্ত গরম বাতাস আকাশে জমে থাকা জলীয় বাষ্প মিলে জেট স্ট্রিমকে ধাক্কা দিয়ে পথ বদলে দেয়। এআই ছবি

এভাবে প্রশান্ত মহাসাগর থেকে তৈরি হওয়া উত্তাপ আর আর্দ্রতা আকাশপথে বাতাসের মহাসড়ক ধরে হাজার হাজার মাইল দূরে ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে দেখা যায়, যেখানে সাধারণত প্রচুর বৃষ্টি হয়, সেখানে হয়তো দেখা দিচ্ছে ভয়াবহ খরা। আবার যে এলাকা শুষ্ক থাকার কথা, সেখানে হচ্ছে অস্বাভাবিক বন্যা।

এভাবেই প্রশান্ত মহাসাগরের সেই নির্দিষ্ট অঞ্চলের বাড়তি গরম পুরো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের ভারসাম্য নষ্ট করে দেয় এবং বিশ্বজুড়ে শুরু হয় আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনা।

বাংলাদেশে কীভাবে আসে

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ায় বৃষ্টির প্রধান চাবিকাঠি হলো মৌসুমী বায়ু। এই বায়ু বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প নিয়ে বাংলাদেশে ঢোকে এবং বর্ষাকালে বৃষ্টি ঘটায়।

কিন্তু জেট স্ট্রিমের মাধ্যমে এল নিনোর বাড়তি তাপ আর মেঘ বঙ্গোপসারের মৌসুমী বায়ুকে টেনে অন্যদিকে নিয়ে যায় অথবা মাঝপথে দূর্বল করে দেয়। ফলে বাংলাদেশে দেখা দেয় বৃষ্টির অভাব। আর আকাশ পরিষ্কার থাকার কারণে সূর্যের তাপ সরাসরি মাটিতে পড়ে, যার ফলে তৈরি হয় তাপপ্রবাহ।

অয়ন বায়ু যখন প্রবাহিত হয় তখন প্রশান্ত মহাসাগরের আমেরিকার উপকূলের ওপরের স্তরের গরম পানি বায়ুর ধাক্কায় অস্ট্রেলিয়ার দিকে চলে যায়। ফলে আমেরিকার উপকূলের গরম পানি সরে যাওয়ায় সমুদ্রের তলদেশ থেকে ঠান্ডা পানি উপরে উঠে আসে। পানি এবং বায়ুর এই ভারসাম্য গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুকে স্বাভাবিক রাখে।

কবে আসবে দেশে

আগেই বলেছি, প্রশান্ত মহাসাগরের সেই বাড়তি উত্তাপ ‘চেইন রিঅ্যাকশনের’ মতো কাজ করে। প্রথমে সাগরের পানি গরম হয়, তারপর সেই গরম পানি বাষ্প হয়ে আকাশের ওপরের স্তরে পৌঁছায় এবং ধীরে ধীরে জেট স্ট্রিম বদলে দিতে শুরু করে। এই বিশাল পরিবর্তনটি হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমাদের বাংলাদেশে এসে পৌঁছাতে ১ থেকে ৩ মাস সময় নিতে পারে।

এখন যদি দুয়েক মাসের মধ্যে তথা বর্ষাকালেই বাংলাদেশে এল নিনোর আসে তাহলে আমাদের নিয়মিত বৃষ্টি বা মৌসুমী বায়ুর প্রবাহ যেটি কয়েকদিন আগে শুরু হয়েছে সেটিতে বিঘ্ন ঘটবে। ফলে আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে যে ঝমঝমে বৃষ্টি হওয়ার কথা, তা আর হবে না।

আর যদি তিন মাস পর আসে তাহলে সেপ্টেম্বর–অক্টোবর নাগাদ বাংলাদেশে প্রভাব ফেলবে। ওই সময়টাতে দেশে শীত আসি আসি করে। ফলে শীত আসতে দেরী হবে। ওই সময়ে গরমটা গ্রীষ্মকালের মতোও হতে পারে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম বা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহও হতে পারে। এমনকি এর প্রভাবে শীতকালও কিছুটা কম ঠান্ডা হতে পারে।

আবার এল নিনোর কারণে কেবল বৃষ্টি কম হয় তা নয়, বরং অকাল বন্যা বা অসময়ে ঝড়-বৃষ্টির মতো ঘটনাও মাঝেমধ্যে ঘটতে পারে, কারণ আবহাওয়া পুরোপুরি ‘আনপ্রেডিক্টেবল’ বা অনিশ্চিত হয়ে যায়।

তিন মাস পর আসে তাহলে সেপ্টেম্বর–অক্টোবর নাগাদ বাংলাদেশে প্রভাব ফেলবে। ওই সময়টাতে দেশে শীত আসি আসি করে। ফলে শীত আসতে দেরী হবে। ওই সময়ে গরমটা গ্রীষ্মকালের মতোও হতে পারে। স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গরম বা দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহও হতে পারে।

*জানেন কী?

অয়ন বায়ুকে কেন ‘বাণিজ্য বায়ু’ বলা হয়?

কয়েকশ বছর আগে যখন আজকের মতো বড় বড় জাহাজে ইঞ্জিন ছিল না, তখন জাহাজ চলত পালের সাহায্যে। অর্থাৎ বাতাসের ওপর নির্ভর করে।

এই অয়ন বায়ু সারা বছর খুব নিয়মিতভাবে এবং নির্দিষ্ট দিকে (পূর্ব থেকে পশ্চিমে) প্রবাহিত হয়। আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরে চলাচলকারী ইউরোপের বণিকরা এই বায়ুর নিয়মিত গতিকে কাজে লাগিয়ে খুব সহজে এবং দ্রুত এক দেশ থেকে অন্য দেশে মালামাল আনা-নেওয়া বা বাণিজ্য করতেন। বাণিজ্যের জন্য এই বাতাস ছিল নাবিকদের সবচেয়ে বড় বন্ধু। তাই এই ‘বাণিজ্য’ বা ‘ট্রেড’ এ সাহায্য করার কারণে এর নাম হয় ‘বাণিজ্য বায়ু’।

‘এল নিনো’র অর্থ কী এবং এই নাম এলো কীভাবে?

‘এল নিনো’ (El Niño) শব্দটি স্প্যানিশ ভাষা থেকে এসেছে। এর সহজ অর্থ হলো— ‘ছোট্ট বালক’ বা ‘শিশু পুত্র’। শিশু যিশুকে বোঝানো হয়।

দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু ও ইকুয়েডরের জেলেরা সমুদ্রের এই অস্বাভাবিক পরিবর্তনের বিষয়টি শত শত বছর আগে প্রথম লক্ষ্য করেন। তারা খেয়াল করেন, কয়েক বছর পর পর বছরের শেষ দিকে অর্থাৎ ডিসেম্বর মাসের দিকে (বড়দিনের আশেপাশে) সমুদ্রের পানি হঠাৎ অস্বাভাবিক গরম হয়ে ওঠে।

যেহেতু এই ঘটনাটি যিশু খ্রিস্টের জন্মদিন বা বড়দিনের কাছাকাছি সময়ে ঘটত, তাই জেলেরা ভালোবেসে এই গরম পানির স্রোতটির নাম দিয়েছিলেন ‘এল নিনো’ বা ‘শিশু যিশু’।

এল নিনো বুঝতে হলে তিনটি বিষয় বুঝতে হবে। এক. নিরক্ষরেখা, দুই. প্রশান্ত মহাসাগরের গ্রীষ্মমন্ডলীয় অঞ্চল, এবং তিন. অয়ন বায়ু বা বাণিজ্য বায়ু বা ‘ট্রেড উইন্ড’।

Ad 300x250

সম্পর্কিত