leadT1ad

পুলিশের পিটুনির শিকার ক্রিকেটার নাঈম, থানায়ও হেনস্তা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
চট্টগ্রাম

প্রকাশ : ১৩ জুন ২০২৬, ১১: ৫৩
জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসান। ছবি: সংগৃহীত

জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড় নাঈম হাসান মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (১২ জুন) রাতে চট্টগ্রামে শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে বাড়ি ফেরার পথে তাকে আটকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। খুলশী থানায় নেওয়ার পরও হেনস্তার শিকার হন তিনি।

এ ঘটনায় পুলিশের এক উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন নগর পুলিশের উত্তরের উপ-কমিশনার আমিরুল ইসলাম।

নাঈম হাসান জানান, ঢাকা থেকে তিনি রাতের ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান। বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় নগরের লালখানবাজার মোড়ে নামার পরপরই কয়েকজন এসে তল্লাশি করার কথা বলে। তিনি তাদের সহযোগিতা করেন। তবে তারা কোনো কথা না শুনে তাকে ধাক্কা দেয় এবং সিএনজিটি আটকে রাখে।

জাতীয় দলের ক্রিকেটার বলে পরিচয় দিলেও কাজ হয়নি। উল্টো বলা হয়, ‘তুই আসামি, তুই চুপ থাক’। এরপর তাকে মারধর করে গাড়িতে তুলে থানায় নেওয়া হয়। খুলশী থানায়ও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বরং থানার ভেতরে তাঁকে হেনস্তা করা হয়।

জাতীয় দলের এই স্পিনার বলেন, ‘ওসির সামনেও আমাকে নাজেহাল করা হয়েছে। কিল, ঘুসি ও লাথি মারা হয়েছে। আমি তখন নিজে জাতীয় দলের ক্রিকেটার হিসেবে পরিচয় দিই। এরপরও তারা গুরুত্ব দেয়নি।’

একপর্যায়ে পরিচিতজন ও বিভিন্ন মহল থেকে থানার ওসির কাছে ফোন গেলে পরিস্থিতি পরিবর্তন হয় বলে জানান নাঈম। তিনি বলেন, ‘যখন ওসির মোবাইলে বিভিন্নজন ফোন দেওয়া শুরু করে, তখন তিনি বলেন যে ভুল হয়ে গেছে। পরে আমাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

ঘটনার সময় নাঈম হাসানের সঙ্গে থাকা দুজনও জানান, পরিচয় দেওয়ার পরও পুলিশ সদস্যরা তা আমলে নেননি। শুরু থেকেই নাঈমকে সন্দেহভাজন অপরাধী হিসেবে ধরে নিয়ে খারাপ আচরণ করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, চোরাচালানের তথ্য পেয়ে অভিযান

নগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, চোরাচালান নিয়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে লালখানবাজার মোড়ে অভিযান চালানো হয়েছিল। তবে তথ্য যাচাইয়ে ভুল এবং দায়িত্ব পালনে গাফিলতির কারণে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে।

খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুল ইসলাম দাবি করেন, একটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছ থেকে থানার সেকেন্ড অফিসার জানতে পারেন, সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চোরাচালানের মালপত্র নেওয়া হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই এসআই শফিক অভিযান পরিচালনা করেন। তবে তার ভুলে এই ঘটনা ঘটেছে।

ওসি বলেন, ‘তথ্য ছিল, একটি সিএনজির মাধ্যমে চোরাচালান হচ্ছে। যেহেতু তথ্যটি একটি সংস্থার কাছ থেকে এসেছিল, তাই এসআই শফিক গুরুত্ব দিয়ে অভিযান চালান। কিন্তু তিনি কাউকে কিছু না জানিয়ে এবং যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই নাঈম হাসানকে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে আসেন।’

তিনি দাবি করেন, ‘থানায় আনার পর আমি তাঁকে দেখে চিনতে পারি। তখনই বুঝতে পারি ভুল হয়েছে। এরপর সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।’

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উত্তর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, একজন নিরপরাধ মানুষ, বিশেষ করে জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটার এ ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন, সেটি কোনোভাবেই কাম্য নয়। খবর পাওয়ার পর আমি থানায় গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করেছি। দায়িত্ব পালনে ভুলের প্রমাণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এসআইকে ক্লোজ করা হয়েছে।

ডিসি আরও বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হবে। যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতা বরদাস্ত করা হবে না।

‘আমি ক্রিকেটার বলে বেঁচে গেলাম, সাধারণ মানুষ হলে কী হতো’

ঘটনার পর নাঈম হাসান প্রশ্ন তুলেছেন, এ ঘটনা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে হলে কী হতো?

তিনিবলেন, ‘আমি ক্রিকেটার বলে বেঁচে গেলাম। আমার পরিচিত মানুষ ছিল, ফোন গেছে, অনেকে খোঁজ নিয়েছে। কিন্তু এই ঘটনা যদি কোনো সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঘটত, তাহলে তার কী হতো?’

নাঈম আরও বলেন, ‘আমি তো শেষ পর্যন্ত নিজের পরিচয় প্রমাণ করতে পেরেছি। কিন্তু, একজন সাধারণ মানুষ যদি এমন পরিস্থিতিতে পড়েন, যার জন্য ফোন করার কেউ নেই, পরিচয় দেওয়ার মতো পরিচিতি নেই, তাহলে তিনি কীভাবে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবেন?’

বিসিবির নিন্দা, তদন্তের দাবি

নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। শনিবার (১৩ জুন) এক বিবৃতিতে বিসিবি তীব্র নিন্দা প্রকাশ করে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, জাতীয় দলের একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন অশোভন আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বোর্ড বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

এতে আরও বলা হয়, ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত আশা করছে বিসিবি। এই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানানো হয়।

নাঈম ও তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে বলেও বিসিবি জানিয়েছে।

জাতীয় দলের জার্সিতে ১৪টি টেস্টে খেলেছেন ডানহাতি এই অফ স্পিনার।

Ad 300x250

সম্পর্কিত