স্ট্রিম ডেস্ক

চীনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করেছে কানাডা। বেইজিং সফরে গিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই চুক্তি করেন। চুক্তির পর থেকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ পক্ষে বলছেন, কেউ বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তবে কার্নি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের ওপর বেশি আস্থা রাখা যায়। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুটহাট ও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণাক্মক হয়ে উঠাকে নেতিবাচকভাবেই দেখছে বিশ্বের অনেক দেশ। সেই দিক থেকে চীনের অনেকটা ধীর চলো নীতি এবং অংশীদারত্বের প্রতি সম্মান আর ব্যবসায়ী মনোভাব পার্থক্য তৈরি করে দিচ্ছে।
এছাড়া দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হয়, তাহলে দেশটিকে কোনো বাণিজ্য শুল্ক দিতে হবে না, করের পরিমাণও কমবে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্র নীতির বাস্তবায়ন, উত্তর আমেরিকায় তাঁর কার্যক্রমেও প্রতিবেশী অনেক দেশ ভীতসন্ত্রস্ত।
তাই কি মাত্র এক বছর আগেও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা চীনের সঙ্গে চুক্তি করল কানাডা। পাল্টাপাল্টি শুল্কের পথ ছেড়ে অংশীদারত্বের আস্থা রাখতে চাইছে। মোদ্দকথা, নতুন এ বাণিজ্য চুক্তিকে কানাডার যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর বাণিজ্য থেকে নিজেদের মুক্ত করার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সবমিলিয়ে এখন কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কানাডা কি তবে যুক্তরাষ্ট্রকে রেখে চীনের দিকে ঝুঁকছে?
চুক্তির পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, কানাডার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নতুন দৃষ্টিভঙ্গিকে সারসংক্ষেপ করলে যা দাঁড়ায় তা হলো—আমরা যেমন আশা করি তেমন নয়, পৃথিবী যেমন আমরা তাকে সেভাবেই গ্রহণ করি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে চীনের সঙ্গে চুক্তিটি সই করে কানাডা। এরপর কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ করলে এমনটাই দাঁড়ায়। অথচ এক বছর আগেও চীনের মানবাধিকার পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ আর দেশটিকে কানাডার জন্য ‘সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি।
কার্নি শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘বিশ্ব বদলে গেছে’। চীনের সঙ্গে এই সম্পর্ক উন্নয়ন কানাডাকে ‘নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার’ জন্য প্রস্তুত করবে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের তুলনায় চীনের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ‘বেশি নির্ভরযোগ্য’ হয়ে উঠেছে।
পরে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, চীনের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ‘কৌশলগতভাবে, বাস্তবসম্মতভাবে এবং দৃঢ়ভাবে বোঝাপড়ার’ মাধ্যমে হচ্ছে।
নতুন চুক্তির আওতায় চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে দেবে কানাডা। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই শুল্ক আরোপ করেছিল দেশটি। এর বিনিময়ে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কও কমিয়ে আনবে চীন।
চুক্তির ফলে প্রতি বছর প্রথম আমদানিকৃত ৪৯ হাজার চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ করা হবে। কার্নি বলেন, এই কোটা বাড়তে পারে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ৭০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
বিনিময়ে চীন ১ মার্চের মধ্যে কানাডিয়ান ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক কমিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ করবে। বর্তমানে এটি ৮৪ শতাংশ আছে। কার্নি বলেন, বছরের শেষ পর্যন্ত কানাডিয়ান ক্যানোলা মিল, লবস্টার, কাঁকড়া এবং মটরশুঁটির ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। এছাড়া কানাডিয়ান পর্যটকদের জন্য ভিসার শর্ত তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে চীন।

বেইজিং আলাদা এক বিবৃতিতে বলেছে, উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সমস্যা সমাধানের বিষয়ে একটি প্রাথমিক যৌথ চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে বিবৃতিতে বিস্তারিত আরও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল। তখন দেশ দুটির যুক্তি ছিল—চীন অতিরিক্ত গাড়ি উৎপাদন করছে এবং অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে নষ্ট করছে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭০ শতাংশ গাড়ি উৎপাদন করে।
শুক্রবারের দিন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই চুক্তিটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় কানাডায়। দেশটির সাসকাচুয়ান প্রদেশের প্রিমিয়ার স্কট মোই এই চুক্তিকে ‘খুব ভালো খবর’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। কানাডিয়ান ক্যানোলা তেলের ওপর চীনের পাল্টা শুল্কের কারণে তাঁর প্রদেশের কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই চুক্তি তাদের জন্য দারুণ স্বস্তি বয়ে আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, ওন্টারিও প্রদেশ হলো কানাডার অটোমোবাইল খাতের প্রাণকেন্দ্র। প্রদেশটির প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে ‘তা আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করবে এবং কর্মসংস্থান কমাবে’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ফোর্ড বলেন, কার্নি সরকার কানাডার অর্থনীতিতে সমান বা তাৎক্ষণিক বিনিয়োগের কোনো প্রকৃত নিশ্চয়তা ছাড়াই ‘সস্তায় তৈরি চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির প্লাবন ডেকে আনছে’।
কেন চীনকে কানাডা তার অটোমোবাইল বাজারে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে কার্নি অবশ্য বলেছেন, চীন বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী কিছু যানবাহন তৈরি করে। এই চুক্তি কানাডার অটো শিল্পে চীনা বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যদিও তিনি এর বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাণিজ্য চুক্তির ইলেকট্রিক গাড়ি সংক্রান্ত বিধানগুলো চীনকে কানাডার অটোমোবাইল বাজারে প্রবেশে সাহায্য করবে।
মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির ব্যবসা অধ্যয়নের অধ্যাপক বিবেক আস্তভানশ বলেন, শুল্ক কমানোর ফলে কানাডার ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশ এখন চীনা কোম্পানিগুলোর দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনা ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি বাড়লে তা টেসলার মতো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব কোম্পানিও কানাডায় তাদের বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।
আস্তভানশ আরও বলেন, কার্নি চীনের সঙ্গে কানাডা সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বার্তা দিয়েছেন।
ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির সহযোগী অধ্যাপক গাল রাজ বলেন, কানাডার বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির প্রবেশ মানে কানাডিয়ান ভোক্তারা সস্তায় তা কিনতে পারবেন।
তবে রাজ এও স্বীকার করেছেন, কার্নি সরকার দেশীয় খাতকে সাহায্য করার জন্য বাড়তি পদক্ষেপ না নিলে, এই চুক্তি কানাডার গাড়ি নির্মাতাদের ক্ষতি করতে পারে।
তিনি বলেন, এটি কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের ‘দুর্ভাগ্যজনক’ অবনতির ফল। ওই সম্পর্ক কানাডার অটোমোবাইল শিল্পকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।
চুক্তিটির ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্টর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ চীন নীতিতে কানাডার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এটি আসলে তাদের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং রিডো পোটোম্যাক স্ট্র্যাটেজি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এরিক মিলার বলেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী আসলে বলতে চাইছেন কানাডারও নিজস্ব সক্ষমতা আছে। তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বসে থাকবে না।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই চুক্তিকে ‘সমস্যাজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির জন্য কানাডা হয়তো পরে অনুশোচনা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এই চুক্তিকে ‘ভালো বিষয়’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আপনি যদি চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে পারেন, তবে তা করা উচিত।
গত বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ট্রাম্প কানাডার ধাতব তৈরি পণ্য এবং অটোমোবাইল খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোতে শুল্ক আরোপ করেছেন। এটি কানাডায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, তিনি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ অভিহিত করে তা বাতিলের হুমকিও দিয়েছেন।
ইউএসএমসিএ নামের সেই বাণিজ্য চুক্তিটি বর্তমানে বাধ্যতামূলক পর্যালোচনা চলছে। কানাডা এবং মেক্সিকো উভয়ই স্পষ্ট করে বলেছে, তারা এটি বহাল রাখতে চায়। কিন্তু চীনের সঙ্গে কার্নির বড় এই চুক্তির সিদ্ধান্তে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ এখন অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন এরিক মিলার।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কার্যকর বাণিজ্য চুক্তি ছাড়াই এটি শেষের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আর কানাডাকে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
এদিকে, চীনের প্রতি কঠোর অবস্থান থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প নিজেই যুক্তরাষ্ট্রে চীনাদের কারখানা তৈরির ব্যাপারে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সেসব কারখানায় আমেরিকানদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে বলে ট্রাম্পের শর্ত।
মঙ্গলবার ডেট্রয়েট ইকোনমিক ক্লাবে ট্রাম্প বলেন, যদি তারা এসে কারখানা তৈরি করতে চায় এবং আপনাকে ও আপনার বন্ধুদের এবং প্রতিবেশীদের নিয়োগ দেয়, তবে সেটি দারুণ। আমি তা পছন্দ করব। চীনকে আসতে দিন, জাপানকে আসতে দিন।
শুধু তাই নয়; আগামী এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে বেইজিং যাবেন ট্রাম্প। এছাড়া শি-কেও ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
কার্নির জন্য অবশ্য এই চুক্তিটি চীনের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন ‘বোঝাপড়া’ তৈরির প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।

চীনের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি করেছে কানাডা। বেইজিং সফরে গিয়ে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এই চুক্তি করেন। চুক্তির পর থেকে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। কেউ পক্ষে বলছেন, কেউ বিপক্ষে। যুক্তরাষ্ট্র অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। তবে কার্নি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, বর্তমান বিশ্ব ব্যবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে চীনের ওপর বেশি আস্থা রাখা যায়। বিশেষত, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হুটহাট ও একতরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া, কিছু কিছু ক্ষেত্রে আক্রমণাক্মক হয়ে উঠাকে নেতিবাচকভাবেই দেখছে বিশ্বের অনেক দেশ। সেই দিক থেকে চীনের অনেকটা ধীর চলো নীতি এবং অংশীদারত্বের প্রতি সম্মান আর ব্যবসায়ী মনোভাব পার্থক্য তৈরি করে দিচ্ছে।
এছাড়া দ্বিতীয়বার নির্বাচিত হয়েই কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, কানাডা যদি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একীভূত হয়, তাহলে দেশটিকে কোনো বাণিজ্য শুল্ক দিতে হবে না, করের পরিমাণও কমবে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বব্যাপী ট্রাম্পের আগ্রাসী পররাষ্ট্র নীতির বাস্তবায়ন, উত্তর আমেরিকায় তাঁর কার্যক্রমেও প্রতিবেশী অনেক দেশ ভীতসন্ত্রস্ত।
তাই কি মাত্র এক বছর আগেও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা চীনের সঙ্গে চুক্তি করল কানাডা। পাল্টাপাল্টি শুল্কের পথ ছেড়ে অংশীদারত্বের আস্থা রাখতে চাইছে। মোদ্দকথা, নতুন এ বাণিজ্য চুক্তিকে কানাডার যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর বাণিজ্য থেকে নিজেদের মুক্ত করার প্রয়াস হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। সবমিলিয়ে এখন কৌতূহল তৈরি হয়েছে—কানাডা কি তবে যুক্তরাষ্ট্রকে রেখে চীনের দিকে ঝুঁকছে?
চুক্তির পর ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক খবরে বলা হয়েছে, কানাডার পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নতুন দৃষ্টিভঙ্গিকে সারসংক্ষেপ করলে যা দাঁড়ায় তা হলো—আমরা যেমন আশা করি তেমন নয়, পৃথিবী যেমন আমরা তাকে সেভাবেই গ্রহণ করি।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেইজিংয়ে চীনের সঙ্গে চুক্তিটি সই করে কানাডা। এরপর কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে এই বিষয়ে করা প্রশ্নের উত্তরে যা বলেছেন তার সারসংক্ষেপ করলে এমনটাই দাঁড়ায়। অথচ এক বছর আগেও চীনের মানবাধিকার পরিসংখ্যান নিয়ে উদ্বেগ আর দেশটিকে কানাডার জন্য ‘সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা হুমকি’ বলে অভিহিত করেছিলেন তিনি।
কার্নি শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ‘বিশ্ব বদলে গেছে’। চীনের সঙ্গে এই সম্পর্ক উন্নয়ন কানাডাকে ‘নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার’ জন্য প্রস্তুত করবে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের তুলনায় চীনের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ‘বেশি নির্ভরযোগ্য’ হয়ে উঠেছে।
পরে এক সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে তিনি লেখেন, চীনের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক ‘কৌশলগতভাবে, বাস্তবসম্মতভাবে এবং দৃঢ়ভাবে বোঝাপড়ার’ মাধ্যমে হচ্ছে।
নতুন চুক্তির আওতায় চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির (ইভি) ওপর আরোপিত শুল্ক কমিয়ে দেবে কানাডা। ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এই শুল্ক আরোপ করেছিল দেশটি। এর বিনিময়ে কানাডার গুরুত্বপূর্ণ কৃষি পণ্যের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্কও কমিয়ে আনবে চীন।
চুক্তির ফলে প্রতি বছর প্রথম আমদানিকৃত ৪৯ হাজার চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর শুল্ক ১০০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৬ দশমিক ১ শতাংশ করা হবে। কার্নি বলেন, এই কোটা বাড়তে পারে এবং আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে তা ৭০ হাজারে পৌঁছাতে পারে।
বিনিময়ে চীন ১ মার্চের মধ্যে কানাডিয়ান ক্যানোলা বীজের ওপর শুল্ক কমিয়ে প্রায় ১৫ শতাংশ করবে। বর্তমানে এটি ৮৪ শতাংশ আছে। কার্নি বলেন, বছরের শেষ পর্যন্ত কানাডিয়ান ক্যানোলা মিল, লবস্টার, কাঁকড়া এবং মটরশুঁটির ওপর থেকেও শুল্ক প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। এছাড়া কানাডিয়ান পর্যটকদের জন্য ভিসার শর্ত তুলে নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে চীন।

বেইজিং আলাদা এক বিবৃতিতে বলেছে, উভয় পক্ষ দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সমস্যা সমাধানের বিষয়ে একটি প্রাথমিক যৌথ চুক্তিতে পৌঁছেছে। তবে বিবৃতিতে বিস্তারিত আরও কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি।
প্রসঙ্গত, কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্র ২০২৪ সালে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর শুল্ক আরোপ করেছিল। তখন দেশ দুটির যুক্তি ছিল—চীন অতিরিক্ত গাড়ি উৎপাদন করছে এবং অন্যান্য দেশের প্রতিযোগিতার সক্ষমতাকে নষ্ট করছে। চীন বিশ্বের বৃহত্তম ইলেকট্রিক গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ। দেশটি বৈশ্বিক উৎপাদনের ৭০ শতাংশ গাড়ি উৎপাদন করে।
শুক্রবারের দিন শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই চুক্তিটি নিয়ে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় কানাডায়। দেশটির সাসকাচুয়ান প্রদেশের প্রিমিয়ার স্কট মোই এই চুক্তিকে ‘খুব ভালো খবর’ বলে অভিহিত করেছেন এবং এটিকে স্বাগত জানিয়েছেন। কানাডিয়ান ক্যানোলা তেলের ওপর চীনের পাল্টা শুল্কের কারণে তাঁর প্রদেশের কৃষকরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এই চুক্তি তাদের জন্য দারুণ স্বস্তি বয়ে আনবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এদিকে, ওন্টারিও প্রদেশ হলো কানাডার অটোমোবাইল খাতের প্রাণকেন্দ্র। প্রদেশটির প্রিমিয়ার ডাগ ফোর্ড এই চুক্তির তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার করা হলে ‘তা আমাদের অর্থনীতির ক্ষতি করবে এবং কর্মসংস্থান কমাবে’।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে ফোর্ড বলেন, কার্নি সরকার কানাডার অর্থনীতিতে সমান বা তাৎক্ষণিক বিনিয়োগের কোনো প্রকৃত নিশ্চয়তা ছাড়াই ‘সস্তায় তৈরি চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির প্লাবন ডেকে আনছে’।
কেন চীনকে কানাডা তার অটোমোবাইল বাজারে প্রবেশাধিকার দিচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে কার্নি অবশ্য বলেছেন, চীন বিশ্বের সবচেয়ে সস্তা এবং জ্বালানি-সাশ্রয়ী কিছু যানবাহন তৈরি করে। এই চুক্তি কানাডার অটো শিল্পে চীনা বিনিয়োগকে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। যদিও তিনি এর বিস্তারিত কিছু জানাননি।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাণিজ্য চুক্তির ইলেকট্রিক গাড়ি সংক্রান্ত বিধানগুলো চীনকে কানাডার অটোমোবাইল বাজারে প্রবেশে সাহায্য করবে।
মন্ট্রিয়লের ম্যাকগিল ইউনিভার্সিটির ব্যবসা অধ্যয়নের অধ্যাপক বিবেক আস্তভানশ বলেন, শুল্ক কমানোর ফলে কানাডার ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রির প্রায় ১০ শতাংশ এখন চীনা কোম্পানিগুলোর দখলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, চীনা ইলেকট্রিক গাড়ি বিক্রি বাড়লে তা টেসলার মতো যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এসব কোম্পানিও কানাডায় তাদের বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।
আস্তভানশ আরও বলেন, কার্নি চীনের সঙ্গে কানাডা সুসম্পর্ক গড়ে তুলছে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বার্তা দিয়েছেন।
ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির অপারেশনস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটির সহযোগী অধ্যাপক গাল রাজ বলেন, কানাডার বাজারে চীনা ইলেকট্রিক গাড়ির প্রবেশ মানে কানাডিয়ান ভোক্তারা সস্তায় তা কিনতে পারবেন।
তবে রাজ এও স্বীকার করেছেন, কার্নি সরকার দেশীয় খাতকে সাহায্য করার জন্য বাড়তি পদক্ষেপ না নিলে, এই চুক্তি কানাডার গাড়ি নির্মাতাদের ক্ষতি করতে পারে।
তিনি বলেন, এটি কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য সম্পর্কের ‘দুর্ভাগ্যজনক’ অবনতির ফল। ওই সম্পর্ক কানাডার অটোমোবাইল শিল্পকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। যুক্তরাষ্ট্র কানাডাকে কোণঠাসা করে ফেলেছে।
চুক্তিটির ব্যাপারে হোয়াইট হাউসের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্টর বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ চীন নীতিতে কানাডার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত। এটি আসলে তাদের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান অনিশ্চয়তার কারণে তৈরি হয়েছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক বাণিজ্য উপদেষ্টা এবং রিডো পোটোম্যাক স্ট্র্যাটেজি গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এরিক মিলার বলেন, কানাডার প্রধানমন্ত্রী আসলে বলতে চাইছেন কানাডারও নিজস্ব সক্ষমতা আছে। তারা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় বসে থাকবে না।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে সিএনবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার এই চুক্তিকে ‘সমস্যাজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এই চুক্তির জন্য কানাডা হয়তো পরে অনুশোচনা করবে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশ্য এই চুক্তিকে ‘ভালো বিষয়’ বলে স্বাগত জানিয়েছেন।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আপনি যদি চীনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে পারেন, তবে তা করা উচিত।
গত বছর জানুয়ারিতে দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ট্রাম্প কানাডার ধাতব তৈরি পণ্য এবং অটোমোবাইল খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোতে শুল্ক আরোপ করেছেন। এটি কানাডায় অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে। শুধু তাই নয়, তিনি কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র এবং মেক্সিকোর মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তর আমেরিকান মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিকে ‘অপ্রাসঙ্গিক’ অভিহিত করে তা বাতিলের হুমকিও দিয়েছেন।
ইউএসএমসিএ নামের সেই বাণিজ্য চুক্তিটি বর্তমানে বাধ্যতামূলক পর্যালোচনা চলছে। কানাডা এবং মেক্সিকো উভয়ই স্পষ্ট করে বলেছে, তারা এটি বহাল রাখতে চায়। কিন্তু চীনের সঙ্গে কার্নির বড় এই চুক্তির সিদ্ধান্তে উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ এখন অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছেন এরিক মিলার।
তিনি বলেন, ২০২৬ সালের মধ্যে আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কার্যকর বাণিজ্য চুক্তি ছাড়াই এটি শেষের বড় সম্ভাবনা রয়েছে। আর কানাডাকে তার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
এদিকে, চীনের প্রতি কঠোর অবস্থান থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প নিজেই যুক্তরাষ্ট্রে চীনাদের কারখানা তৈরির ব্যাপারে নমনীয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে সেসব কারখানায় আমেরিকানদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে বলে ট্রাম্পের শর্ত।
মঙ্গলবার ডেট্রয়েট ইকোনমিক ক্লাবে ট্রাম্প বলেন, যদি তারা এসে কারখানা তৈরি করতে চায় এবং আপনাকে ও আপনার বন্ধুদের এবং প্রতিবেশীদের নিয়োগ দেয়, তবে সেটি দারুণ। আমি তা পছন্দ করব। চীনকে আসতে দিন, জাপানকে আসতে দিন।
শুধু তাই নয়; আগামী এপ্রিলে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করতে বেইজিং যাবেন ট্রাম্প। এছাড়া শি-কেও ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তিনি।
কার্নির জন্য অবশ্য এই চুক্তিটি চীনের সঙ্গে কানাডার বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন ‘বোঝাপড়া’ তৈরির প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির সর্বশেষ কঠোর পদক্ষেপ বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখা দিয়েছে। গত বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ঘোষণা করা হয়েছে, বাংলাদেশসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী বা ‘ইমিগ্র্যান্ট’ ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে স্থগিত করা
১ দিন আগে
আগামী ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে পরিবর্তিত রাজনৈতিক দৃশ্যপটে এবারের ভোটের হিসাবনিকাশ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।
২ দিন আগে
ইরানের রাজপথ এখন বারুদের স্তূপ। তেহরান থেকে ইসফাহান পর্যন্ত বিক্ষোভের আগুন। এর উত্তাপ পৌঁছেছে হাজার মাইল দূরের আমেরিকায়। সেখান থেকেই একের পর এক বার্তা পাঠাচ্ছেন রেজা পাহলভি। ইরানের বর্তমান শাসকের পতনের ডাক দিচ্ছেন তিনি।
৩ দিন আগে
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে রেজিম চেঞ্জ ও তেলের সম্পর্ক বহুদিনের। রেজিম চেঞ্জ বলতে কোনো সরকারকে উৎখাত বা অপসারণ করা বোঝায়। এ কাজে প্রায়ই বাইরের শক্তি জড়িত থাকে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে এই প্রবণতা বেশি দেখা যায়।
৪ দিন আগে