তথ্যসূত্র:

ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের তৃতীয় দিনে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দুবাই থেকে সাইপ্রাস পর্যন্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।
শনিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন পরমাণু আলোচনা চলছিল, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) ও ড্রোন ছুড়ে জবাব দেয়। ইসরায়েলের পাশাপাশি বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের হামলায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। রাজধানী ও উত্তরাঞ্চলে আলাদা হামলায় আরও তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানে একজন চীনা নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, তেহরানের নিলুফার স্কোয়ারে এক হামলায় ২০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে। মধ্য ইরানের সানন্দাজ শহরে শত্রু হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফারস নিউজ এজেন্সি।
মেহর নিউজ আরও জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের মেহরান শহরে একটি সীমান্ত রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় ৪৩ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন।
ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত চারজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আজ মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিবৃতির বরাতে চতুর্থ প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। এর আগে গতকাল সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, অভিযানে তিনজন সৈন্য নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলে মাগেন দাভিদ আদোমের তথ্য অনুযায়ী, বেইত শেমেস শহরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নয়জনসহ এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ইসরায়েলি নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানোর পর ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে আঘাত হানে। সেখানে ২০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের পাল্টা হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতরা পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের নাগরিক।
অন্যদিকে কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, গতকাল ইরানি হামলায় দেশটিতে একজন নিহত হয়েছেন। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, সোমবার ভোরে তারা বেশ কিছু শত্রু আকাশযান প্রতিহত করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন দূতাবাসের কাছে ধোঁয়া দেখা গেছে। মিনা আল-আহমাদি রিফাইনারিতে ধ্বংসাবশেষ পড়ায় দুজন কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, আল-জাহরা শহরে একটি জেট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ধোঁয়া উড়ছে।
বাহরাইনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর পর তার ধ্বংসাবশেষ সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে পড়ে। এতে একটি বিদেশি জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং একজন বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে সোমবার সকালে আবুধাবি ও কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার প্রথমে প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করলেও পরে যুদ্ধবিমান নামিয়েছে। তারা উপসাগরের ওপর আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। কাতার জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির দুটি জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, মাস্কাট উপকূল থেকে ৫২ নটিক্যাল মাইল দূরে এমকেডি ভিওয়াইওএম নামে একটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ইঞ্জিন রুমে বিস্ফোরণ ঘটে এবং অন্তত একজন ক্রু নিহত হন।
অন্যদিকে ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফ-এর সদর দপ্তরে ইসরায়েলি হামলায় চার সদস্য নিহত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফক্স নিউজকে বলেছেন, যৌথ অভিযানে ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন আরও হতাহত হতে পারে। ট্রাম্প বলেছেন, সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত হামলা চলবে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ বা তার কম সময় চলতে পারে। তিনি বলেন, শক্তিশালী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরানে এই অভিযান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানান ট্রাম্প।

এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, দিনশেষে এই যুদ্ধ বিশ্বের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তিনি দাবি করেন, খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার অপারেশন নির্ধারিত সময়ের আগেই সফল হয়েছে। বর্তমানে ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা চলছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানে ভেনেজুয়েলা স্টাইলের সরকার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি মনে করেন ভেনেজুয়েলায় যা করা হয়েছে তা নিখুঁত ছিল। কিন্তু উপদেষ্টারা সতর্ক করেছেন যে ইরানের জনসংখ্যা ভেনেজুয়েলার তিন গুণ। তাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস ভিন্ন। ইরানের সক্রিয় পরমাণু কর্মসূচি আছে। তাই এখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের গিডিয়ন রাচম্যান বলেছেন, খামেনির মৃত্যু সরকারকে টলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপর কী হবে তা কেউ জানে না। ট্রাম্প স্থলসেনা পাঠাতে চান না। তিনি কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে সরকার বদলাতে চান। কিন্তু ইতিহাসে এর কোনো সফল নজির নেই। আশা করা হচ্ছে খামেনিকে সরালে ইরানে আপনাআপনি রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু তা কাজ করবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।
দ্য আটলান্টিক লিখেছে, ইরানের প্রতিক্রিয়া কেবল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালীতে তাদের নৌবাহিনীর মহড়া বিশ্ববাজারে ধাক্কা দিতে পারে। তাদের ড্রোন মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ক্ষতি করতে পারে। যুদ্ধ কতদিন চলবে তা শুধু ট্রাম্প বা ইসরায়েলের হাতে নেই; তা ইরানের সরকার ও জনগণের হাতেও আছে।
দ্য টেলিগ্রাফের জো বার্নস বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও এই যুদ্ধে কেবল তারাই সীমাবদ্ধ নয়। তেহরানের পাল্টা আঘাত মার্কিন ও মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা ফাঁস করে দিয়েছে। স্থলসেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্তও যুদ্ধের ফলাফল অর্জনে বাধা হতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলো এক অসম্ভব পরিস্থিতির মুখোমুখি। আল-জাজিরার উরুবা জামাল বলেছেন, তাদের সামনে দুটি পথ। হয় তারা ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত করে ইসরায়েলের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হবে, অথবা নিষ্ক্রিয় থেকে নিজেদের শহর পুড়তে দেখবে।
আটলান্টিক কাউন্সিল সতর্ক করেছে যে ইরানে যা ঘটবে তা কেবল ইরানের ভেতরে থাকবে না; এই যুদ্ধের ফলাফল পুরো অঞ্চল ও বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাবে আমেরিকা এক দীর্ঘ ও অন্তহীন সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্প হয়তো আলোচনার কথা বলছেন, কিন্তু এখন আর তা সহজ হবে না।
ট্রাম্পের মূল বাধা হতে পারে আমেরিকার ঘরোয়া রাজনীতি। তাঁর ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ সমর্থকরা বিদেশের যুদ্ধে জড়ানো পছন্দ করে না। কিন্তু ট্রাম্পের অহংবোধ তাঁকে এমন এক মুহূর্ত তৈরি করতে বাধ্য করছে যা তিনি বিজয় হিসেবে প্রচার করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য উইক এবং বিবিসি।

ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের তৃতীয় দিনে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। দুবাই থেকে সাইপ্রাস পর্যন্ত পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের আগুন ছড়িয়ে পড়ছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হয়েছে।
শনিবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যখন পরমাণু আলোচনা চলছিল, তখনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলা শুরু করে। ইরান তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষেপণাস্ত্র (মিসাইল) ও ড্রোন ছুড়ে জবাব দেয়। ইসরায়েলের পাশাপাশি বাহরাইন, সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতে আঘাত হানা হয়।
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন নিহত হয়েছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ে ইসরায়েলের হামলায় ১৮০ জন শিক্ষার্থী প্রাণ হারিয়েছে। রাজধানী ও উত্তরাঞ্চলে আলাদা হামলায় আরও তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানে একজন চীনা নাগরিকও নিহত হয়েছেন।

ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর জানিয়েছে, তেহরানের নিলুফার স্কোয়ারে এক হামলায় ২০ জনের বেশি মানুষ মারা গেছে। মধ্য ইরানের সানন্দাজ শহরে শত্রু হামলায় অন্তত দুজন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে ফারস নিউজ এজেন্সি।
মেহর নিউজ আরও জানিয়েছে, পশ্চিম ইরানের মেহরান শহরে একটি সীমান্ত রেজিমেন্টের সদর দপ্তরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বোমা হামলায় ৪৩ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন।
ইরানে সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত চারজন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন। আজ মার্কিন সামরিক বাহিনীর বিবৃতির বরাতে চতুর্থ প্রাণহানির খবর নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা। এর আগে গতকাল সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছিল, অভিযানে তিনজন সৈন্য নিহত এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলে মাগেন দাভিদ আদোমের তথ্য অনুযায়ী, বেইত শেমেস শহরে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে নয়জনসহ এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জন ইসরায়েলি নিহত ও ২০০ জনের বেশি আহত হয়েছে।
লেবাননের জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েলি বিমান হামলায় দক্ষিণ লেবানন ও বৈরুতে অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে পাল্টা হামলা চালানোর পর ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলিতে আঘাত হানে। সেখানে ২০ জন নিহত ও ৯১ জন আহত হয়।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে ইরানের পাল্টা হামলায় তিনজন নিহত হয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতরা পাকিস্তান, নেপাল ও বাংলাদেশের নাগরিক।
অন্যদিকে কুয়েতের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, গতকাল ইরানি হামলায় দেশটিতে একজন নিহত হয়েছেন। কুয়েত সরকার জানিয়েছে, সোমবার ভোরে তারা বেশ কিছু শত্রু আকাশযান প্রতিহত করেছে। রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন দূতাবাসের কাছে ধোঁয়া দেখা গেছে। মিনা আল-আহমাদি রিফাইনারিতে ধ্বংসাবশেষ পড়ায় দুজন কর্মী সামান্য আহত হয়েছেন। আল-জাজিরার যাচাই করা ভিডিওতে দেখা গেছে, আল-জাহরা শহরে একটি জেট বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর ধোঁয়া উড়ছে।
বাহরাইনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানোর পর তার ধ্বংসাবশেষ সালমান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে পড়ে। এতে একটি বিদেশি জাহাজে আগুন ধরে যায় এবং একজন বাংলাদেশি নিহত ও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে সোমবার সকালে আবুধাবি ও কাতারের রাজধানী দোহায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। কাতার প্রথমে প্যাট্রিয়ট ডিফেন্স সিস্টেম ব্যবহার করলেও পরে যুদ্ধবিমান নামিয়েছে। তারা উপসাগরের ওপর আকাশেই ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। কাতার জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র দেশটির দুটি জ্বালানি স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। তবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
ওমানের মেরিটাইম সিকিউরিটি সেন্টার জানিয়েছে, মাস্কাট উপকূল থেকে ৫২ নটিক্যাল মাইল দূরে এমকেডি ভিওয়াইওএম নামে একটি তেলের ট্যাংকারে বিস্ফোরকবোঝাই নৌকা দিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে ইঞ্জিন রুমে বিস্ফোরণ ঘটে এবং অন্তত একজন ক্রু নিহত হন।
অন্যদিকে ইরাকে ইরান-সমর্থিত পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস বা পিএমএফ-এর সদর দপ্তরে ইসরায়েলি হামলায় চার সদস্য নিহত হয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রোববার ফক্স নিউজকে বলেছেন, যৌথ অভিযানে ইরানের ৪৮ জন নেতা নিহত হয়েছেন। তিনি তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া ভিডিও বার্তায় তিন মার্কিন সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন। তিনি সতর্ক করেছেন আরও হতাহত হতে পারে। ট্রাম্প বলেছেন, সব লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত হামলা চলবে।
ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি মেইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ সর্বোচ্চ চার সপ্তাহ বা তার কম সময় চলতে পারে। তিনি বলেন, শক্তিশালী দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরানে এই অভিযান নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ হবে বলে জানান ট্রাম্প।

এনবিসি নিউজকে তিনি বলেন, দিনশেষে এই যুদ্ধ বিশ্বের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। তিনি দাবি করেন, খামেনি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের হত্যার অপারেশন নির্ধারিত সময়ের আগেই সফল হয়েছে। বর্তমানে ইরানি ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক কথাবার্তা চলছে।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প ইরানে ভেনেজুয়েলা স্টাইলের সরকার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি মনে করেন ভেনেজুয়েলায় যা করা হয়েছে তা নিখুঁত ছিল। কিন্তু উপদেষ্টারা সতর্ক করেছেন যে ইরানের জনসংখ্যা ভেনেজুয়েলার তিন গুণ। তাদের সংস্কৃতি ও ইতিহাস ভিন্ন। ইরানের সক্রিয় পরমাণু কর্মসূচি আছে। তাই এখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের গিডিয়ন রাচম্যান বলেছেন, খামেনির মৃত্যু সরকারকে টলিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এরপর কী হবে তা কেউ জানে না। ট্রাম্প স্থলসেনা পাঠাতে চান না। তিনি কেবল আকাশপথে হামলা চালিয়ে সরকার বদলাতে চান। কিন্তু ইতিহাসে এর কোনো সফল নজির নেই। আশা করা হচ্ছে খামেনিকে সরালে ইরানে আপনাআপনি রাজনৈতিক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু তা কাজ করবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই।
দ্য আটলান্টিক লিখেছে, ইরানের প্রতিক্রিয়া কেবল ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরমুজ প্রণালীতে তাদের নৌবাহিনীর মহড়া বিশ্ববাজারে ধাক্কা দিতে পারে। তাদের ড্রোন মার্কিন যুদ্ধজাহাজের ক্ষতি করতে পারে। যুদ্ধ কতদিন চলবে তা শুধু ট্রাম্প বা ইসরায়েলের হাতে নেই; তা ইরানের সরকার ও জনগণের হাতেও আছে।
দ্য টেলিগ্রাফের জো বার্নস বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ থাকলেও এই যুদ্ধে কেবল তারাই সীমাবদ্ধ নয়। তেহরানের পাল্টা আঘাত মার্কিন ও মিত্রদের আকাশ প্রতিরক্ষার দুর্বলতা ফাঁস করে দিয়েছে। স্থলসেনা না পাঠানোর সিদ্ধান্তও যুদ্ধের ফলাফল অর্জনে বাধা হতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলো এক অসম্ভব পরিস্থিতির মুখোমুখি। আল-জাজিরার উরুবা জামাল বলেছেন, তাদের সামনে দুটি পথ। হয় তারা ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা আঘাত করে ইসরায়েলের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত হবে, অথবা নিষ্ক্রিয় থেকে নিজেদের শহর পুড়তে দেখবে।
আটলান্টিক কাউন্সিল সতর্ক করেছে যে ইরানে যা ঘটবে তা কেবল ইরানের ভেতরে থাকবে না; এই যুদ্ধের ফলাফল পুরো অঞ্চল ও বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। কূটনৈতিক ব্যর্থতা ও স্পষ্ট পরিকল্পনার অভাবে আমেরিকা এক দীর্ঘ ও অন্তহীন সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে। ট্রাম্প হয়তো আলোচনার কথা বলছেন, কিন্তু এখন আর তা সহজ হবে না।
ট্রাম্পের মূল বাধা হতে পারে আমেরিকার ঘরোয়া রাজনীতি। তাঁর ‘মেইক আমেরিকা গ্রেট এগেইন’ সমর্থকরা বিদেশের যুদ্ধে জড়ানো পছন্দ করে না। কিন্তু ট্রাম্পের অহংবোধ তাঁকে এমন এক মুহূর্ত তৈরি করতে বাধ্য করছে যা তিনি বিজয় হিসেবে প্রচার করতে পারবেন।
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য উইক এবং বিবিসি।

বিশ্ব বাণিজ্যের প্রধান ধমনি ‘হরমুজ প্রণালী’ ঘিরে নতুন করে ঘনীভূত হচ্ছে যুদ্ধের কালো মেঘ। ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার জবাবে এই সরু জলপথটি অচল করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেলের প্রবাহ থমকে গেলে শুধু জ্বালানি নয়, বরং সামগ্রিক বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থাই ভেঙে পড়বে।
১ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। দীর্ঘ ৩৬ বছর দেশটির সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ণ ও প্রভাবশালী নেতার আসনে অধিষ্ঠিত ছিলেন তিনি। আধুনিক ইরানের ইতিহাসে তিনি সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় ছিলেন।
১ দিন আগে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবশেষে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন। কয়েক সপ্তাহের হুমকি ও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্যের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু শনিবার ভোরে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বদের লক্ষ্য করে বড় ধরনের বিমান হামলার অনুমোদন দেন।
২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালিয়েছে। এতে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চলা আলোচনা আবারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) ইরানের রাজধানী তেহরানে যেসব স্থানে হামলা হয়েছে, তাঁর মধ্যে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিও টার্গেট ছিল।
২ দিন আগে