জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

ইফতার মাহফিলে দাওয়াত না পেয়ে কাদের মোল্লার পরিবারের ক্ষোভ, জামায়াতের দাবি ভুল বোঝাবুঝি

স্ট্রিম প্রতিবেদক
স্ট্রিম প্রতিবেদক
ঢাকা

আবদুল কাদের মোল্লার মেয়ে আমাতুল্লাহ শারমীন। সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর মহিলা বিভাগের ইফতার মাহফিলে দলটির সাবেক অন্যতম শীর্ষ নেতা আবদুল কাদের মোল্লার পরিবারের কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি জানিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে তাঁর পরিবার। তবে জামায়াতের মহিলা বিভাগ স্ট্রিমকে জানিয়েছে, এটি একটি ভুল বোঝাবুঝি। তারা পরিবারের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মীমাংসা করবেন।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ) রাজধানীর লেডিস ক্লাবে রাজনৈতিক দল ও পেশাজীবীদের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করে জামায়াতের মহিলা বিভাগ। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাহফিলে আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নিয়েছেন বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেত্রী, বুদ্ধীজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক, উদ্যোক্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

ইফতার মাহফিলে দাওয়াত না পেয়ে ওই দিনই সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আবদুল কাদের মোল্লার মেয়ে আমাতুল্লাহ শারমীন। তিনি লিখেছেন, ‘জামায়াতের মহিলা বিভাগের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সম্মানার্থে ইফতার মাহফিলে সম্মানিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, বুদ্ধীজীবী, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, কবি-সাহিত্যিক, উদ্যোক্তা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মাঝে শহীদ নেতৃবৃন্দের পরিবারগুলো পড়ে না... তাহলে কোন ক্যটাগরিতে পড়বো আমরা!’

ফেসবুকে দেওয়া তাঁর এই পোস্টের পরে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। জামায়াতের অনেকে প্রয়াত আবদুল কাদের মোল্লার পরিবারকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বলে পোস্ট দেন। এর প্রেক্ষিতে আমাতুল্লাহ শারমীন তাঁর পূর্বের পোস্টে নতুন করে তথ্য যুক্ত করেন। সেখানে তিনি লিখেন, ‘অনেকেই ভুল পোস্ট করছেন যে আম্মুকে দাওয়াত দিয়ে কল দেয়া হয়েছে। এটা ভুল ইনফরমেশন। আম্মুকে কেউ কল দেয় নাই বা ডিরেক্ট কার্ডও দেয় নাই। যেখানে আমাদের বাসা অফিসের ওপরতলায়। একে তো ভুল হয়েছে, আবার মিথ্যাচারও হচ্ছে।’

আমাতুল্লাহ শারমীন তাঁর দেওয়া পোস্টটি সরিয়ে দিয়েছিলেন (অনলি মি করে রেখেছিলেন)। কিন্তু তাঁর পরিবারকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে বলে খবর প্রচার করায় তিনি আবারও পোস্টটি সামনে নিয়ে আসেন। এ ব্যাপারে তিনি লিখেছেন, ‘আমার এই পোস্টটা হাইড করেছিলাম। আমাকে ভুল দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে দেখে আবার পাব্লিক করলাম।’

আবদুল কাদের মোল্লার মেয়ে আমাতুল্লাহ শারমীন জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি মেডিকেল থানারও কর্মপরিষদ সদস্য। যোগাযোগ করা হলে স্ট্রিমকে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই সংগঠনের শৃঙ্খলা আর আগের মতো মেইনটেইন করা হচ্ছে না। অনেকে এ নিয়ে অভিযোগও করছেন। আমার কাছে এটাকে সম্পূর্ণ শৃঙ্খলার ভায়োলেট করা হয়েছে বলে মনে হয়।’

একইভাবে জামায়াতের প্রয়াত সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুজাহিদের পরিবারকেও দাওয়াত দেওয়া হয়নি বলে ফেসবুকে আলোচনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তাঁর ছেলে আলী আহমাদ মাবরুর ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, তাঁর মাকে মোবাইল ফোনে কার্ড পাঠিয়ে এবং ফোন করে ইফতার মাহফিলে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। যদিও তাঁর মা মাহফিলে যাননি।

আলী আহমাদ মাবরুরের ওই পোস্টে জামায়াতের মহিলা বিভাগের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য খোন্দকার আয়েশা খানম মন্তব্য করে জানিয়েছেন, প্রয়াত আলী আহসান মুজাহিদের স্ত্রীকে তিনি নিজেই কার্ড পাঠিয়ে দাওয়াত দিয়েছেন। আয়েশা খানম লিখেছেন, ‘একইভাবে মোল্লাভাবীকেও (আবদুল কাদের মোল্লার স্ত্রীকেও) দাওয়াত দিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ, তাতে উল্লেখ ছিল যে, উনি অন্যদেরও দাওয়াত দিতে পারবেন।’

আবদুল কাদের মোল্লার মেয়ে আমাতুল্লাহ শারমীন স্ট্রিমকে জানিয়েছেন, ফেসবুকে ওই মন্তব্যের জবাব তিনি দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর মন্তব্যটি আলী আহমাদ মাবরুর হাইড (আড়াল) করে দিয়েছেন। স্ট্রিমকে ওই মন্তব্যটি পাঠিয়েছেন আমাতুল্লাহ শারমীন।

ওই মন্তব্যে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর মাকে সরাসরি দাওয়াত দিয়ে পাঠানো কোনো বার্তা মোবাইল ঘেঁটে তিনি পাননি। এমনকি দাওয়াত দেওয়ার জন্য কেউ তাঁকে ফোনও করেননি। তাঁর মায়ের বয়স হয়েছে, ভার্চ্যুয়াল কোনো যোগাযোগমাধ্যমের গ্রুপে পাঠানো বার্তার খবর তাঁর জানার কথা নয়। তা ছাড়া তাদের বাসাটি জামায়াতের অফিসের ওপরতলায়। চাইলেই সরাসরি সহজে দাওয়াত দেওয়া যেতো। পলিসি সামিটের পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে সাংগঠনিক নিয়ম লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

আমাতুল্লাহ শারমীন স্ট্রিমকে জানান, তাঁর বাবার প্রিয় সংগঠনটি যেন শৃঙ্খলা মেনে ভালো করে চলতে পারে সেজন্য তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে এনেছেন।

অন্যদিকে বুধবার বিকেলে জামায়াতের মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা স্ট্রিমকে বলেন, ‘এটা একটা ভুল বোঝাবুঝি। এটা ঠিক হয়ে যাবে। ফেসবুক যেহেতু একটা খোলা জায়গা, এ জন্য আমি সেখানে মন্তব্য করি নাই। তবে দরকার হলে আমি তাঁর সঙ্গে সরাসরি কথা বলব।’

মহিলা বিভাগের এই শীর্ষ নেত্রী বলেন, ‘দ্বিতীয় হলো, ইফতার মাহফিলটা ছিল সুধী সমাজের জন্য। আমাদের যারা শুভাকাঙ্ক্ষী তাদের জন্য ছিল আয়োজন। কথা ছিল, বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে আমাদের নেতাকর্মীরা মাহফিলে আসবেন। শুধু আলাদা করে নিজেরা কেউ আসবেন না। তাই শহীদ পরিবার এখানে দাওয়াত পেলো কি পেলো না, এটা আসলে হিসাবের বিষয় না।’

আরও একটি কারণ তুলে ধরে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, ‘তৃতীয় আরেকটি বিষয় হলো, আমাদের শহীদ পরিবারের সদস্যদের কেউ কেউ সংগঠনে বেশ অ্যাকটিভ ভূমিকায় আছে, কেউ কেউ এতটা অ্যাকটিভ নেই। যারা সক্রিয় না সংগঠনের সঙ্গে তাদের দূরত্ব থাকায় মান-অভিমানটা বেশি থাকে। আমি এটাকে ইতিবাচক মনে করি। যাদের বাবা শহীদ হয়েছেন, তাদের হৃদয়ে একটা নরম জায়গা রয়েছে। এ জন্য তারা কষ্টটা বেশি পান। আমরাও তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। এসব নিয়ে আমরা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করব।’

স্বাধীনতাপূর্ব সময়ে ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে রাজনীতি শুরু করেন আবদুল কাদের মোল্লা। বামপন্থি নেতা হিসেবে আইয়ুববিরোধী আন্দোলনের কারণে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তীতে ইসলামী ছাত্রসংঘ হয়ে জামায়াতে যুক্ত হয়ে সর্বশেষ দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও দৈনিক সংগ্রামের নির্বাহী সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য দোষী সাব্যস্ত হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হন তিনি।

সম্পর্কিত