মাস্টার ফিল্মমেকার বেলা তার মারা গেছেন। হাঙ্গেরিয়ান এই নির্মাতা বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছে ছিলেন সমাদৃত। তিনি দার্শনিক ভাবনা থেকে সিনেমা বানাতেন এবং নিজের আলাদা নির্মাণভঙ্গির জন্য পরিচিত ছিলেন।
তুফায়েল আহমদ

বৃষ্টির একটানা শব্দ, কাদামাখা পথ, জীর্ণ বাড়ি আর তার ভেতর নিভু নিভু আলোয় বসে থাকা কিছু বিষণ্ণ মুখ। এই দৃশ্যগুলো ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বেলা তার-এর সাদা-কালো ছবি। হাঙ্গেরিয়ান এই নির্মাতা সময়ের গতিকে সিনেমার পর্দায় বদলে দিয়েছিলেন। আমাদের এই তাড়াহুড়োর যুগে বেলা তার শিখিয়েছিলেন কীভাবে থামতে হয়। কীভাবে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হয়। সেই মানুষটি আর নেই। ৭০ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটালেন বেলা তার। দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন।
বেলা তার ছিলেন তথাকথিত ‘স্লো সিনেমা’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর সিনেমা মানেই ধীরগতি। আর ছিল সাদা-কালো চিত্রগ্রহণ, দীর্ঘ শট, সীমিত সংলাপ, সঙ্গে প্রচলিত কাহিনিনির্ভর গল্প বলার কাঠামো প্রত্যাখ্যান।
আজকের এই ফাস্ট ফরোয়ার্ড বা রিলের যুগে বেলার কাজ দেখা অনেকের কাছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জটাই তিনি ছুড়ে দিতেন। তাঁর সিনেমায় ক্যামেরার কাজ ছিল অনন্য। তিনি কাট বা দৃশ্য কাটায় বিশ্বাসী ছিলেন না। একটা দৃশ্য তিনি হয়তো দশ মিনিট ধরে একটানা দেখাতেন। দর্শককে বাধ্য করতেন সেই দৃশ্যের গভীরে ঢুকতে। চরিত্রগুলো যখন হাঁটত ক্যামেরা তাদের সাথে সাথে চলত। এই হাঁটার শব্দ আর বাতাসের আওয়াজ মিলেমিশে এক অদ্ভুত ঘোর তৈরি করত।
বেলা তারের জন্ম ১৯৫৫ সালে। বেড়ে উঠেছেন বুদাপেস্টে। শুরুতে তিনি ‘আর্ট হাউস’ সিনেমার নির্মাতা ছিলেন না। ক্যামেরা হাতে নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়। মানুষের গল্প বলতে চাইতেন। তাঁর প্রথম সিনেমা ‘ফ্যামিলি নেস্ট’ মাত্র ছয় দিনে অপেশাদার অভিনেতাদের নিয়ে বানানো। সেই সিনেমা ছিল আবাসন সমস্যা আর সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্প।

আশির দশকের মাঝামাঝি বেলা তার ‘আলমানাক অফ ফল’ ও ‘ড্যামনেশন’ সিনেমার মাধ্যমে নতুন রাস্তায় পা বাড়ান। তখন থেকে গল্প বা প্লট তাঁর কাছে গৌণ হয়ে যায়। মুখ্য হয়ে ওঠে পরিবেশ আর সময়। মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার চেয়ে গুরুত্ব দিতেন স্পেস বা জায়গার ওপর। মানুষের মনের ভেতরের অবস্থার চেয়ে বেলা তার দেখাতেন মানুষটি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর চারপাশের বাতাস কেমন। আলো কেমন। বৃষ্টির তোড় কতটুকু। এসব দিয়েই মানুষের ভেতরের খবর বের করে আনতেন। এই দর্শন তাঁকে বিশ্ব দরবারে এক আলাদা আসনে বসিয়েছিল।
যেমন বেলা তারের অন্যতম বিখ্যাত সিনেমা ‘স্যাতানতাঙ্গো’র দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা। ভাবা যায়? আজকের দিনে কেউ সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে সিনেমা দেখার কথা ভাবতেই পারে না। কিন্তু বেলা তার সেটাই বানিয়েছিলেন। চলতি বছরের নোবেল জয়ী লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের উপন্যাস অবলম্বনে বানানো এই সিনেমায় তিনি যৌথ খামারের গল্প বলেছেন। সেখানে মানুষ শুধু হাঁটে। অপেক্ষা করে। মদ পান করে। তিনি মনে করতেন সিনেমার সময়কে সংকুচিত করা মানেই সত্যকে অস্বীকার করা। জীবনের ব্যাপ্তি যতটুকু পর্দায়ও তার কিছুটা অন্তত থাকা উচিত।
বেলা তারের শেষ ফিচার ফিল্ম ছিল ‘দ্য তুরিন হর্স’। সিনেমাটা দেখার পর মনে হয় পৃথিবী ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। সিনেমায় পিতা ও কন্যার প্রতিদিনের একঘেয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সীমিত সংলাপ আর একই কাজের পুনরাবৃত্তির ভেতর দিয়ে অনিবার্য সমাপ্তির সুর বাজিয়েছেন। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে এই সিনেমা জুরি গ্র্যান্ড প্রাইজ জিতেছিল। ২০১১ সালে সিনেমাটি মুক্তির পরপরই বেলা তার ঘোষণা দেন, তিনি আর সিনেমা বানাবেন না।
বেলা তার বলেছিলেন নিজেকে পুনরাবৃত্তি করার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। একই কথা বা একই শৈলী বারবার দেখানো তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, সব গল্পই আসলে সেই একই গল্প। আমাদের কাছে নতুন কোন গল্পই নেই। আমরা পুরোনো গল্পগুলিই পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছি। আবার সিনেমা যদি নতুন কোনো সত্যে পৌঁছাতে না পারে, তবে সেই সিনেমা বানানোর দায়ও তিনি নিতে চান না। তাই তিনি থামলেন।

তবে থামা মানেই হারিয়ে যাওয়া নয়। ক্যামেরা নামিয়ে রাখলেও সিনেমার দুনিয়া থেকে বেলা তার সরে যাননি। বরং অন্য এক পথে হাঁটলেন। তিনি শিক্ষকতায় মন দেন। বসনিয়ার সারাজেভোতে ‘ফিল্ম ফ্যাক্টরি’ নামে সিনে স্কুল খোলেন। সেখানে প্রথাগত সিলেবাস বা কারিকুলাম ছিল না। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন, সিনেমা আসলে শেখানোর বিষয় নয়; এটা শেখানো যায় না ক্লাসরুমের নিয়মে। তাঁর মতে, সিনেমা হলো জীবনবোধের ফল। আপনি কীভাবে পৃথিবীকে দেখেন, সময়কে অনুভব করেন, মানুষকে বোঝেন, সেখান থেকেই সিনেমার জন্ম।
বেলা তার কখনো নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বাঁধেননি। তিনি নিজেকে নৈরাজ্যবাদী হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতাদের সমালোচনা করতে তিনি পিছপা হননি। একবার হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে জাতীয় কলঙ্ক বলেছিলেন। ফ্রান্সের মারিন লো পেন বা আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও বেলা তার ছিলেন সোচ্চার। তাঁর নিজের দেশ হাঙ্গেরি যখন স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের দিকে ঝুঁকছিল তিনি চুপ করে থাকেননি।
বেলা তারের কাছে সিনেমা ছিল নৈতিক দায়িত্বের আরেক নাম। ২০১১ সালে ইরানি পরিচালক জাফর পানাহি ও মোহাম্মদ রাসুলফের আটকের তীব্র প্রতিবাদ জানান বেলা তার। এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, শিল্পীর ওপর রাষ্ট্রের এই নিপীড়ন আসলে মানবতার ওপর আক্রমণ। পানাহির অপরাধ ছিল তিনি সত্যিটা দেখাতে চেয়েছিলেন। বেলা তারের মতে এই সততা রক্ষা করা প্রত্যেক চলচ্চিত্রকারের দায়িত্ব।
বেলা তার বিশ্বাস করতেন ক্যামেরা যখন চালু হয় তখন মিথ্যার কোনো জায়গা থাকে না। শেষ বয়সেও তিনি বিভিন্ন মানবিক ইস্যুতে সরব ছিলেন। গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বেসামরিক মানুষ হত্যার প্রতিবাদে লেখা খোলা চিঠিতে তিনিও স্বাক্ষর করেছিলেন।
সেই বেলা তার চলে গেলেন, কিন্তু রেখে গেলেন এক বিশাল শূন্যতা। তিনি আর কোনো নতুন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করবেন না। ছাত্র পড়াবেন না। কথা বলবেন না। কিন্তু তাঁর সৃষ্টি করা সাদা-কালো জগত অনন্ত বৃষ্টি হয়ে ঝরতে থাকবে সিনেমার পর্দায়। সেই বৃষ্টির শব্দে কান পাতলেই আমরা শুনতে পাব বেলা তার বলছেন, থামো…তাকাও…জীবনকে দেখো।

বৃষ্টির একটানা শব্দ, কাদামাখা পথ, জীর্ণ বাড়ি আর তার ভেতর নিভু নিভু আলোয় বসে থাকা কিছু বিষণ্ণ মুখ। এই দৃশ্যগুলো ভাবলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বেলা তার-এর সাদা-কালো ছবি। হাঙ্গেরিয়ান এই নির্মাতা সময়ের গতিকে সিনেমার পর্দায় বদলে দিয়েছিলেন। আমাদের এই তাড়াহুড়োর যুগে বেলা তার শিখিয়েছিলেন কীভাবে থামতে হয়। কীভাবে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকতে হয়। সেই মানুষটি আর নেই। ৭০ বছর বয়সে পৃথিবীর মায়া কাটালেন বেলা তার। দীর্ঘদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন।
বেলা তার ছিলেন তথাকথিত ‘স্লো সিনেমা’ আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ। তাঁর সিনেমা মানেই ধীরগতি। আর ছিল সাদা-কালো চিত্রগ্রহণ, দীর্ঘ শট, সীমিত সংলাপ, সঙ্গে প্রচলিত কাহিনিনির্ভর গল্প বলার কাঠামো প্রত্যাখ্যান।
আজকের এই ফাস্ট ফরোয়ার্ড বা রিলের যুগে বেলার কাজ দেখা অনেকের কাছে এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। কিন্তু এই চ্যালেঞ্জটাই তিনি ছুড়ে দিতেন। তাঁর সিনেমায় ক্যামেরার কাজ ছিল অনন্য। তিনি কাট বা দৃশ্য কাটায় বিশ্বাসী ছিলেন না। একটা দৃশ্য তিনি হয়তো দশ মিনিট ধরে একটানা দেখাতেন। দর্শককে বাধ্য করতেন সেই দৃশ্যের গভীরে ঢুকতে। চরিত্রগুলো যখন হাঁটত ক্যামেরা তাদের সাথে সাথে চলত। এই হাঁটার শব্দ আর বাতাসের আওয়াজ মিলেমিশে এক অদ্ভুত ঘোর তৈরি করত।
বেলা তারের জন্ম ১৯৫৫ সালে। বেড়ে উঠেছেন বুদাপেস্টে। শুরুতে তিনি ‘আর্ট হাউস’ সিনেমার নির্মাতা ছিলেন না। ক্যামেরা হাতে নেমে পড়েছিলেন রাস্তায়। মানুষের গল্প বলতে চাইতেন। তাঁর প্রথম সিনেমা ‘ফ্যামিলি নেস্ট’ মাত্র ছয় দিনে অপেশাদার অভিনেতাদের নিয়ে বানানো। সেই সিনেমা ছিল আবাসন সমস্যা আর সাধারণ মানুষের টিকে থাকার লড়াইয়ের গল্প।

আশির দশকের মাঝামাঝি বেলা তার ‘আলমানাক অফ ফল’ ও ‘ড্যামনেশন’ সিনেমার মাধ্যমে নতুন রাস্তায় পা বাড়ান। তখন থেকে গল্প বা প্লট তাঁর কাছে গৌণ হয়ে যায়। মুখ্য হয়ে ওঠে পরিবেশ আর সময়। মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার চেয়ে গুরুত্ব দিতেন স্পেস বা জায়গার ওপর। মানুষের মনের ভেতরের অবস্থার চেয়ে বেলা তার দেখাতেন মানুষটি কোথায় দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর চারপাশের বাতাস কেমন। আলো কেমন। বৃষ্টির তোড় কতটুকু। এসব দিয়েই মানুষের ভেতরের খবর বের করে আনতেন। এই দর্শন তাঁকে বিশ্ব দরবারে এক আলাদা আসনে বসিয়েছিল।
যেমন বেলা তারের অন্যতম বিখ্যাত সিনেমা ‘স্যাতানতাঙ্গো’র দৈর্ঘ্য প্রায় সাড়ে সাত ঘণ্টা। ভাবা যায়? আজকের দিনে কেউ সাড়ে সাত ঘণ্টা ধরে সিনেমা দেখার কথা ভাবতেই পারে না। কিন্তু বেলা তার সেটাই বানিয়েছিলেন। চলতি বছরের নোবেল জয়ী লাসলো ক্রাসনাহোরকাইয়ের উপন্যাস অবলম্বনে বানানো এই সিনেমায় তিনি যৌথ খামারের গল্প বলেছেন। সেখানে মানুষ শুধু হাঁটে। অপেক্ষা করে। মদ পান করে। তিনি মনে করতেন সিনেমার সময়কে সংকুচিত করা মানেই সত্যকে অস্বীকার করা। জীবনের ব্যাপ্তি যতটুকু পর্দায়ও তার কিছুটা অন্তত থাকা উচিত।
বেলা তারের শেষ ফিচার ফিল্ম ছিল ‘দ্য তুরিন হর্স’। সিনেমাটা দেখার পর মনে হয় পৃথিবী ধীরে ধীরে নিঃশ্বাস নেওয়া বন্ধ করে দিচ্ছে। সিনেমায় পিতা ও কন্যার প্রতিদিনের একঘেয়ে বেঁচে থাকার সংগ্রাম ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সীমিত সংলাপ আর একই কাজের পুনরাবৃত্তির ভেতর দিয়ে অনিবার্য সমাপ্তির সুর বাজিয়েছেন। বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে এই সিনেমা জুরি গ্র্যান্ড প্রাইজ জিতেছিল। ২০১১ সালে সিনেমাটি মুক্তির পরপরই বেলা তার ঘোষণা দেন, তিনি আর সিনেমা বানাবেন না।
বেলা তার বলেছিলেন নিজেকে পুনরাবৃত্তি করার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই। একই কথা বা একই শৈলী বারবার দেখানো তাঁর কাছে অর্থহীন মনে হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, সব গল্পই আসলে সেই একই গল্প। আমাদের কাছে নতুন কোন গল্পই নেই। আমরা পুরোনো গল্পগুলিই পুনরাবৃত্তি করে যাচ্ছি। আবার সিনেমা যদি নতুন কোনো সত্যে পৌঁছাতে না পারে, তবে সেই সিনেমা বানানোর দায়ও তিনি নিতে চান না। তাই তিনি থামলেন।

তবে থামা মানেই হারিয়ে যাওয়া নয়। ক্যামেরা নামিয়ে রাখলেও সিনেমার দুনিয়া থেকে বেলা তার সরে যাননি। বরং অন্য এক পথে হাঁটলেন। তিনি শিক্ষকতায় মন দেন। বসনিয়ার সারাজেভোতে ‘ফিল্ম ফ্যাক্টরি’ নামে সিনে স্কুল খোলেন। সেখানে প্রথাগত সিলেবাস বা কারিকুলাম ছিল না। কারণ, তিনি বিশ্বাস করতেন, সিনেমা আসলে শেখানোর বিষয় নয়; এটা শেখানো যায় না ক্লাসরুমের নিয়মে। তাঁর মতে, সিনেমা হলো জীবনবোধের ফল। আপনি কীভাবে পৃথিবীকে দেখেন, সময়কে অনুভব করেন, মানুষকে বোঝেন, সেখান থেকেই সিনেমার জন্ম।
বেলা তার কখনো নিজেকে কোনো নির্দিষ্ট গণ্ডিতে বাঁধেননি। তিনি নিজেকে নৈরাজ্যবাদী হিসেবে পরিচয় দিতেন। বিশ্বের ক্ষমতাধর নেতাদের সমালোচনা করতে তিনি পিছপা হননি। একবার হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানকে জাতীয় কলঙ্ক বলেছিলেন। ফ্রান্সের মারিন লো পেন বা আমেরিকার ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধেও বেলা তার ছিলেন সোচ্চার। তাঁর নিজের দেশ হাঙ্গেরি যখন স্বৈরতান্ত্রিক আচরণের দিকে ঝুঁকছিল তিনি চুপ করে থাকেননি।
বেলা তারের কাছে সিনেমা ছিল নৈতিক দায়িত্বের আরেক নাম। ২০১১ সালে ইরানি পরিচালক জাফর পানাহি ও মোহাম্মদ রাসুলফের আটকের তীব্র প্রতিবাদ জানান বেলা তার। এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, শিল্পীর ওপর রাষ্ট্রের এই নিপীড়ন আসলে মানবতার ওপর আক্রমণ। পানাহির অপরাধ ছিল তিনি সত্যিটা দেখাতে চেয়েছিলেন। বেলা তারের মতে এই সততা রক্ষা করা প্রত্যেক চলচ্চিত্রকারের দায়িত্ব।
বেলা তার বিশ্বাস করতেন ক্যামেরা যখন চালু হয় তখন মিথ্যার কোনো জায়গা থাকে না। শেষ বয়সেও তিনি বিভিন্ন মানবিক ইস্যুতে সরব ছিলেন। গাজায় যুদ্ধবিরতি ও বেসামরিক মানুষ হত্যার প্রতিবাদে লেখা খোলা চিঠিতে তিনিও স্বাক্ষর করেছিলেন।
সেই বেলা তার চলে গেলেন, কিন্তু রেখে গেলেন এক বিশাল শূন্যতা। তিনি আর কোনো নতুন দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করবেন না। ছাত্র পড়াবেন না। কথা বলবেন না। কিন্তু তাঁর সৃষ্টি করা সাদা-কালো জগত অনন্ত বৃষ্টি হয়ে ঝরতে থাকবে সিনেমার পর্দায়। সেই বৃষ্টির শব্দে কান পাতলেই আমরা শুনতে পাব বেলা তার বলছেন, থামো…তাকাও…জীবনকে দেখো।

নতুন অ্যালবাম প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ‘সোনার বাংলা সার্কাস’। এটি একটি ডাবল অ্যালবাম। ‘মহাশ্মশান’ নামের এই কনসেপ্টচ্যুয়াল অ্যালবামে গান আছে ১৭টি।
২ ঘণ্টা আগে
আজ ৮ জানুয়ারি স্টিফেন হকিংয়ের জন্মদিন। তাঁকে বলা হয় আইনস্টাইনের পরে দুনিয়ার সবচেয়ে মেধাবী বিজ্ঞানী। বিজ্ঞানের কঠিন জগতের বাইরেও স্টিফেন হকিং ছিলেন বেশ পরিচিত মুখ। সূক্ষ্ম রসবোধ আর বৈজ্ঞানিক কৌতূহলের এক অদ্ভুত মিশেল ছিল ২০০৯ সালে আয়োজিত এক পার্টি। কী ঘটেছিল সেদিন?
৬ ঘণ্টা আগে
পৃথিবীর দক্ষিণের শেষ শহর আর্জেন্টিনার উসুয়াইয়া থেকে জাহাজে অ্যান্টার্কটিকা ভ্রমণে বের হয়েছিলেন তানভীর অপু, তারেক অণুসহ একদল পর্যটক। সেই যাত্রাপথে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে নেমে তাঁদের ভ্রমণের শুরু হয় ওয়েস্ট পয়েন্ট আইল্যান্ডে। নীল সমুদ্র, হলুদ ফুল, আকাশে অ্যালব্যাট্রস আর মাটিতে পেঙ্গুইনের সহাবস্থান—প্
১ দিন আগে
২০০৯ সালে ভোডাফোন রোমানিয়া ফোন ইন্স্যুরেন্স প্রচারে এক অভিনব মার্কেটিং ক্যাম্পেইন চালায়। তারা পেশাদার পকেটমারদের দিয়ে লোকজনের পকেটে কাগজের নকল ফোন প্রবেশ করিয়ে দেয়, যাতে লেখা ছিল, ‘পকেটে প্রবেশ এত সহজ! ফোন ইন্স্যুরেন্স করুন ভোডাফোনের সঙ্গে।’
১ দিন আগে