ফারুক হোসাইন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় বাইরে তো বটেই, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দলের অভ্যন্তরেও তীব্র সমালোচনা সামাল দিতে হয়েছে। পদত্যাগও করেছেন বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। তবে নির্বাচনের পরেও ‘আপাতত’ জামায়াতের সঙ্গেই থাকছে এনসিপি। সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় দেখা যেতে পারে দলটিকে। এনসিপির অন্তত তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা স্ট্রিমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ৩০০ সংসদীয় আসনের ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন হয়নি। এ নির্বাচনে এককভাবে ২০৯ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বে ১১টি দলের একটি নির্বাচনী জোট হয়। ওই জোটে এনসিপিও ছিল। ৩০০ আসনের মধ্যে জোটের হয়ে ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এনসিপি। দলটির শীর্ষ দুই নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাঁরা ইতোমধ্যে (গত ১৭ ফেব্রুয়ারি) অন্যদের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথও নিয়েছেন।
‘মধ্যপন্থী রাজনীতির’ কথা বলে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা শুরু হলে গত বছরের অক্টোবর থেকে তারা প্রথমে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু করে। তখন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিকবার আলোচনা হয়।
তবে চাওয়া–পাওয়া নিয়ে শেষ পর্যন্ত বোঝাপড়া হয়নি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার চেষ্টাও করে দলটি। তবে সেটা আর হয়ে ওঠেনি।
এরই মাঝে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে আলাদা জোট গঠনের চিন্তা থেকে মধ্যপন্থী আলাদা জোট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনসিপি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে তখন জোট হয়। ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে ৭ ডিসেম্বর এই ত্রিদলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
ভোটের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ মেলাতে গিয়ে এনসিপি বড় দুই দল, অর্থাৎ বিএনপি অথবা জামায়াতে ইসলাম —কোনো একটির সঙ্গে আসন সমঝোতাকে গুরুত্ব দেয়। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা কমে আসার পর এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে এই জোটের আগে এনসিপির নেতৃত্বে গঠিত তিনদলীয় জোট ভাঙনের মুখে পড়ে। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির পাশাপাশি আসন সমঝোতায় আসে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিও। কিন্তু তিনদলীয় জোটের আরেক শরিক রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন জামায়াতের সঙ্গে যায়নি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমীন বলেন, একেবারে নতুন দল হিসেবে জাতীয় নির্বাচন এনসিপির জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। অন্যদিকে, জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান ছিল। নানা বিষয় বিবেচনা করে কৌশলগত কারণে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যাওয়া।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, সেই আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে ছিলেন এনসিপির নেতারা। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি।
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। ২৮ ডিসেম্বর ১১ দলীয় জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার খবরে ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ‘জোট বিষয়ে নীতিগত আপত্তি’ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেন দলের ৩০ জন নেতা। তাঁদের মধ্যে এক ডজনের বেশি নেতা পদত্যাগ করেন। কেউ কেউ পদত্যাগ না করলেও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন। পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে দলটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনও করেছেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার প্রতিবাদে এনসিপির কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একাত্তরে বিতর্কিত ভূমিকা ও নারীদের নিয়ে জামায়াতের অবস্থান, সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমরা জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পক্ষে ছিলাম না। নির্বাচনের পর অন্তত এনসিপি জামায়াতের জোট ছাড়বে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু তারা সেটি করছে না। তাই দলের এখনই ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছি না।’
এই সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে। এনসিপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদে ও রাজপথে বিরোধীদলের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে দুই দল এখন পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের অন্য দলগুলোও থাকবে। এছাড়া সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট হবে। এসব নির্বাচনেও ১১ দলীয় জোটের হয়েই অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা এনসিপির।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সংস্কার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে জামায়াতের সঙ্গে আপাতত ঐক্যবদ্ধ থাকব আমরা। বাকিটা দলীয়ভাবে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
দল থেকে পদত্যাগ করা নেতাদের ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা আসবেন তাদের স্বাগত। আমাদের দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব যোগাযোগ করে তাদের ফেরানোর চেষ্টা করছেন।’
জামায়াত ও এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ১১ দলীয় জোট বহাল থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেই বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা এবং চিফ হুইপ হওয়ার কথা। তবে চিফ হুইপের পদটি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ছেড়ে দিচ্ছে জামায়াত।
এছাড়া নির্বাচনের পর একসঙ্গে কর্মসূচিও করেছে এনসিপি-জামায়াত। সারা দেশে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করা হয়।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, শপথগ্রহণের দিন জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেননি। গণভোটেও জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু বিএনপির একেবারে শুরুতেই উল্টোপথে যাত্রা শুরু করেছে। বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি অন্য দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করবে।
তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য ছিল একটি নির্বাচনী সমঝোতা। এই জোটের ভবিষ্যত কী সেটি দলীয়ভাবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি মনে হয় যে ঐক্যের প্রয়োজন আছে, তাহলে তো সেটি কন্টিনিউ করতে হবে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফেলো ড. মোবাশ্বার হাসান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরেও আপাতত এনসিপি ও জামায়াতের জোটবদ্ধতা বহাল থাকবে। কারণ, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের মাধ্যমে এনসিপি চেষ্টা করবে দেশব্যাপী দলকে শক্তিশালী করার।
তবে অদূর ভবিষ্যতে এই জোট নাও থাকতে পারে বলে মনে করেন মোবাশ্বার হাসান। তিনি বলেন, অবাক হবো না পাঁচ বছর পর যদি এনসিপির আর জামায়াতের সঙ্গে জোটে না থাকে। তারা আপাতত একসঙ্গে থাকবে। তবে পরবর্তীতে না থাকাটাও অস্বাভাবিক হবে না।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ায় বাইরে তো বটেই, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দলের অভ্যন্তরেও তীব্র সমালোচনা সামাল দিতে হয়েছে। পদত্যাগও করেছেন বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী। তবে নির্বাচনের পরেও ‘আপাতত’ জামায়াতের সঙ্গেই থাকছে এনসিপি। সামনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতায় দেখা যেতে পারে দলটিকে। এনসিপির অন্তত তিনজন কেন্দ্রীয় নেতা স্ট্রিমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে ৩০০ সংসদীয় আসনের ২৯৯টিতে ভোটগ্রহণ হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন হয়নি। এ নির্বাচনে এককভাবে ২০৯ আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। আর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
নির্বাচনে জামায়াত ইসলামীর নেতৃত্বে ১১টি দলের একটি নির্বাচনী জোট হয়। ওই জোটে এনসিপিও ছিল। ৩০০ আসনের মধ্যে জোটের হয়ে ৩০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল এনসিপি। দলটির শীর্ষ দুই নেতা আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ ছয়জন প্রার্থী নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। তাঁরা ইতোমধ্যে (গত ১৭ ফেব্রুয়ারি) অন্যদের মতো সংসদ সদস্য হিসেবে শপথও নিয়েছেন।
‘মধ্যপন্থী রাজনীতির’ কথা বলে ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকেন্দ্রিক আলোচনা শুরু হলে গত বছরের অক্টোবর থেকে তারা প্রথমে বিএনপির সঙ্গে আসন সমঝোতার আলোচনা শুরু করে। তখন বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিকবার আলোচনা হয়।
তবে চাওয়া–পাওয়া নিয়ে শেষ পর্যন্ত বোঝাপড়া হয়নি। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে ফেরার পর তাঁর সঙ্গে সরাসরি আলোচনার চেষ্টাও করে দলটি। তবে সেটা আর হয়ে ওঠেনি।
এরই মাঝে বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে আলাদা জোট গঠনের চিন্তা থেকে মধ্যপন্থী আলাদা জোট করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এনসিপি, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি ও বাংলাদেশ রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ে তখন জোট হয়। ‘গণতান্ত্রিক সংস্কার জোট’ নামে ৭ ডিসেম্বর এই ত্রিদলীয় জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটে।
ভোটের রাজনীতির হিসাব-নিকাশ মেলাতে গিয়ে এনসিপি বড় দুই দল, অর্থাৎ বিএনপি অথবা জামায়াতে ইসলাম —কোনো একটির সঙ্গে আসন সমঝোতাকে গুরুত্ব দেয়। বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার সম্ভাবনা কমে আসার পর এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আলোচনায় যুক্ত হয়।
এমন পরিস্থিতিতে এই জোটের আগে এনসিপির নেতৃত্বে গঠিত তিনদলীয় জোট ভাঙনের মুখে পড়ে। জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির পাশাপাশি আসন সমঝোতায় আসে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টিও। কিন্তু তিনদলীয় জোটের আরেক শরিক রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন জামায়াতের সঙ্গে যায়নি।
এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মনিরা শারমীন বলেন, একেবারে নতুন দল হিসেবে জাতীয় নির্বাচন এনসিপির জন্য চ্যালেঞ্জিং ছিল। অন্যদিকে, জামায়াতের তৃণমূল পর্যায়ে শক্ত অবস্থান ছিল। নানা বিষয় বিবেচনা করে কৌশলগত কারণে জামায়াতের সঙ্গে নির্বাচনী জোটে যাওয়া।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যে গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছিলেন, সেই আন্দোলনের সম্মুখ সারিতে ছিলেন এনসিপির নেতারা। ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি আত্মপ্রকাশ করে এনসিপি।
২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়। ২৮ ডিসেম্বর ১১ দলীয় জোট গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসে। জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার খবরে ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ‘জোট বিষয়ে নীতিগত আপত্তি’ বিষয়ে একটি স্মারকলিপি দেন দলের ৩০ জন নেতা। তাঁদের মধ্যে এক ডজনের বেশি নেতা পদত্যাগ করেন। কেউ কেউ পদত্যাগ না করলেও রাজনৈতিক কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় থেকেছেন। পদত্যাগ করা নেতাদের মধ্যে দলটির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনও করেছেন।
জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার প্রতিবাদে এনসিপির কার্যক্রম থেকে নিষ্ক্রিয় রয়েছেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘একাত্তরে বিতর্কিত ভূমিকা ও নারীদের নিয়ে জামায়াতের অবস্থান, সার্বিক দিক বিবেচনা করে আমরা জামায়াতের সঙ্গে জোটে যাওয়ার পক্ষে ছিলাম না। নির্বাচনের পর অন্তত এনসিপি জামায়াতের জোট ছাড়বে বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু তারা সেটি করছে না। তাই দলের এখনই ফিরে যাওয়ার কথা ভাবছি না।’
এই সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে। এনসিপির নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদে ও রাজপথে বিরোধীদলের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে দুই দল এখন পর্যন্ত একসঙ্গে কাজ করবে। পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের অন্য দলগুলোও থাকবে। এছাড়া সামনে সিটি করপোরেশন নির্বাচনসহ বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের ভোট হবে। এসব নির্বাচনেও ১১ দলীয় জোটের হয়েই অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা এনসিপির।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সংস্কার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে বিএনপি সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখতে জামায়াতের সঙ্গে আপাতত ঐক্যবদ্ধ থাকব আমরা। বাকিটা দলীয়ভাবে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
দল থেকে পদত্যাগ করা নেতাদের ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা আসবেন তাদের স্বাগত। আমাদের দলের আহ্বায়ক ও সদস্যসচিব যোগাযোগ করে তাদের ফেরানোর চেষ্টা করছেন।’
জামায়াত ও এনসিপির সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডে ১১ দলীয় জোট বহাল থাকার ইঙ্গিত মিলেছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়া জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকেই বিরোধীদলীয় নেতা, উপনেতা এবং চিফ হুইপ হওয়ার কথা। তবে চিফ হুইপের পদটি এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে ছেড়ে দিচ্ছে জামায়াত।
এছাড়া নির্বাচনের পর একসঙ্গে কর্মসূচিও করেছে এনসিপি-জামায়াত। সারা দেশে নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতা, নির্যাতন, নিপীড়ন, হত্যা ও ধর্ষণের প্রতিবাদে গত ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকায় ১১ দলীয় ঐক্যজোটের পক্ষ থেকে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করা হয়।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, শপথগ্রহণের দিন জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির সংসদ সদস্যরা শপথ নেননি। গণভোটেও জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। কিন্তু বিএনপির একেবারে শুরুতেই উল্টোপথে যাত্রা শুরু করেছে। বিরোধী দল হিসেবে এনসিপি অন্য দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সংস্কার বাস্তবায়নে কাজ করবে।
তিনি বলেন, জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য ছিল একটি নির্বাচনী সমঝোতা। এই জোটের ভবিষ্যত কী সেটি দলীয়ভাবে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যদি মনে হয় যে ঐক্যের প্রয়োজন আছে, তাহলে তো সেটি কন্টিনিউ করতে হবে।
এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও অসলো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ফেলো ড. মোবাশ্বার হাসান বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পরেও আপাতত এনসিপি ও জামায়াতের জোটবদ্ধতা বহাল থাকবে। কারণ, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের মাধ্যমে এনসিপি চেষ্টা করবে দেশব্যাপী দলকে শক্তিশালী করার।
তবে অদূর ভবিষ্যতে এই জোট নাও থাকতে পারে বলে মনে করেন মোবাশ্বার হাসান। তিনি বলেন, অবাক হবো না পাঁচ বছর পর যদি এনসিপির আর জামায়াতের সঙ্গে জোটে না থাকে। তারা আপাতত একসঙ্গে থাকবে। তবে পরবর্তীতে না থাকাটাও অস্বাভাবিক হবে না।

দেশের ছয় সিটি করপোরেশনে নতুন প্রশাসক নিয়োগে রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৩ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ দেশে ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়ে এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
২১ নারীসহ ৮৮ জন শীর্ষ নেতাকে নিয়ে নতুন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দলটির পক্ষ থেকে নতুন কমিটির সদস্যদের নাম প্রকাশ করা হয়েছে।
১৮ ঘণ্টা আগে
মাওলানা মামুনুল হকের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলার হুমকির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে তাঁর দল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।
১৮ ঘণ্টা আগে
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে এক চালককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী নতুন আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
১৯ ঘণ্টা আগে