স্ট্রিম প্রতিবেদক

আজ ইংরেজ কবি এমিলি ডিকিনসনের মৃত্যুদিন। তিনি ছিলেন একান্ত নির্জন একজন মানুষ। যিনি নিজের ভেতরের জগতে ডুবে লিখেছেন কবিতা। বাইরের দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখে তিনি খুঁজেছেন মৃত্যুর মানে, ভালোবাসা আর ঈশ্বরের কথা। নিরবতাকেই তিনি করেছেন নিজের সবচেয়ে বড় ভাষা। তাঁর স্মরণে লিখছেন শতাব্দীকা ঊর্মি
‘আই এম নোবাডি! হু আর ইউ?
আর ইউ- নোবাডি- টু?’
একটা কবিতা। দুইটিমাত্র লাইন। অথচ যেন পুরো একটা জীবন ধরা আছে এর মধ্যে। নিজেকে চেনার চেষ্টা মানুষ আজও করে—আয়নায়, শব্দে, নির্জনতায়। আর এমিলি ডিকিনসনের এই লাইন আজও কাঁপিয়ে দেয় মানুষের ভাবনাকে।
১৫ মে, এক ক্লান্ত বিকেলে, এমিলি ডিকিনসন চুপচাপ পৃথিবী থেকে চলে গিয়েছিলেন। বছরটা ছিল ১৮৮৬। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছোট্ট শহর অ্যামহার্স্টে নিজের বাড়িতে নিঃশব্দে তাঁর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর সময় রেখে গিয়েছিলেন ১,৮০০–এর বেশি কবিতা—সবই অপ্রকাশিত। যেন শব্দগুলো তাঁর ডায়েরির পাতায় শুয়ে ছিল, অপেক্ষায়।
ডিকিনসনের জীবন ছিল নির্জন, নিস্তব্ধ। ঈশ্বর ও মৃত্যুর ভাবনায় ঘেরা। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৮৩০ সালের ডিসেম্বরে। পড়াশোনা করেছেন অ্যামহার্স্ট একাডেমিতে।
তবে একাডেমির বন্ধুরা না, এমিলির কবি হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল তাঁর নিজের ভেতরে ডুব দেয়ার প্রবণতা।
নিঃসঙ্গতা যাঁদের বন্ধু, তাঁদের লেখা হয় ভিন্ন রকম। ডিকিনসনের কবিতাও ঠিক সেরকম। বাংলা সাহিত্যে এর একটা ছায়া পাওয়া যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায়। তিনিও একা হেঁটেছেন, একা দেখেছেন—তাঁর নামের পাশে লেখা হয় ‘নির্জনতার কবি’।
ডিকিনসনের কবিতায় মৃত্যু ছিল খুব স্বাভাবিক। যেন মৃত্যু পাশের বাড়ির কেউ। এক তিনি জায়গায় লিখেছেন— ‘বিকজ আই কুড নট স্টপ ফর ডেথ- হিম কাইন্ডলি স্টপড ফর মি’
এই লাইন পড়লে মনে হয়, মৃত্যু যেন একজন ভদ্রলোক, যিনি কবির জন্য অপেক্ষা করছেন।
এমিলির মৃত্যু ভাবনায় ভয় নয়, বরং ছিল আত্মানুসন্ধান। উনিশ শতকে ধর্ম ও দর্শনের টানাপোড়নের সময়েও, ডিকিনসন নিজের পথেই হেঁটেছেন। গির্জায় যাননি, তবুও ঈশ্বর ছিলেন তাঁর কবিতায়। তবে সেটা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ধর্মের নয়, তা ছিল ব্যক্তিগত অনুভূতি হিসেবে ।
ডিকিনসন লিখেছিলেন—
‘সাম কিপ দ্য সাবাথ গোয়িং টু চার্চ
আই কিপ ইট, স্টেয়িং এট হোম’
সবচেয়ে বিখ্যাত লাইন ‘আই এম নোবডি! হু আর ইউ?’
এই কবিতা যেন আধুনিক সমাজের চেহারায় একটা চপেটাঘাত। চারপাশে সবাই ‘সামবডি’ হতে চায়, আর সেখানে একজন কবি বলছেন—তিনি ‘নোবাডি’।
তাঁর কবিতার ভাষা সরল, তবে ধাঁধার মতো। ছোট ছোট বাক্য, বিরতির জন্য ড্যাশ, আর অদ্ভুত সব উপমা। শব্দের প্রচলিত অর্থকে ভেঙে নতুন মানে তৈরি করেছেন তিনি।
জীবিত অবস্থায় তাঁর মাত্র ১০টি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল, তাও প্রচুর সম্পাদনার পরে। মৃত্যুর পর বোন ল্যাভিনিয়া তাঁর লেখা বের করে আনেন। এরপর ধীরে ধীরে বোঝা যায়—ওই সব কবিতা আসলে সময়ের অনেক আগে লেখা।
একটা কবিতায় তিনি লিখেছেন—
‘ দ্য ব্রেইন- ইজ ওয়াইডার দ্যান দ্য স্কাই’
এই লাইন যেন বলে দেয়, মনের ভেতরে যে জগৎ, তা বাইরের জগৎ থেকেও বড়।
ডিকিনসনের মতে, সব সত্য একেবারে সোজা করে বলা যায় না। এ নিয়ে তিনি লিখেছেন— ‘টেল অল দ্য ট্রুথ বাট টেল ইট স্ল্যান্ট’
কিছু সত্য শুধু আভাসে ধরা দেয়—ইশারায়, ছায়ায়, সঙ্গতির বাইরে এক অসমাপ্ত ভঙ্গিতে।
১৫ মে তাঁর মৃত্যুর দিন হলেও পাঠকদের কাছে দিনটা যেন তাঁর জন্মদিন। যেখানে একসময় তিনি ছিলেন ‘নোবাডি’, সেখান থেকেই হয়ে উঠেছেন সবার একজন।
নিঃশব্দে, নিরবে, ডিকিনসন রেখে গেছেন এমন সব কবিতা, যেগুলো আজও একজন মানুষকে নিজের সঙ্গে একা বসতে শেখায়।

আজ ইংরেজ কবি এমিলি ডিকিনসনের মৃত্যুদিন। তিনি ছিলেন একান্ত নির্জন একজন মানুষ। যিনি নিজের ভেতরের জগতে ডুবে লিখেছেন কবিতা। বাইরের দুনিয়া থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখে তিনি খুঁজেছেন মৃত্যুর মানে, ভালোবাসা আর ঈশ্বরের কথা। নিরবতাকেই তিনি করেছেন নিজের সবচেয়ে বড় ভাষা। তাঁর স্মরণে লিখছেন শতাব্দীকা ঊর্মি
‘আই এম নোবাডি! হু আর ইউ?
আর ইউ- নোবাডি- টু?’
একটা কবিতা। দুইটিমাত্র লাইন। অথচ যেন পুরো একটা জীবন ধরা আছে এর মধ্যে। নিজেকে চেনার চেষ্টা মানুষ আজও করে—আয়নায়, শব্দে, নির্জনতায়। আর এমিলি ডিকিনসনের এই লাইন আজও কাঁপিয়ে দেয় মানুষের ভাবনাকে।
১৫ মে, এক ক্লান্ত বিকেলে, এমিলি ডিকিনসন চুপচাপ পৃথিবী থেকে চলে গিয়েছিলেন। বছরটা ছিল ১৮৮৬। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ছোট্ট শহর অ্যামহার্স্টে নিজের বাড়িতে নিঃশব্দে তাঁর মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর সময় রেখে গিয়েছিলেন ১,৮০০–এর বেশি কবিতা—সবই অপ্রকাশিত। যেন শব্দগুলো তাঁর ডায়েরির পাতায় শুয়ে ছিল, অপেক্ষায়।
ডিকিনসনের জীবন ছিল নির্জন, নিস্তব্ধ। ঈশ্বর ও মৃত্যুর ভাবনায় ঘেরা। তাঁর জন্ম হয়েছিল ১৮৩০ সালের ডিসেম্বরে। পড়াশোনা করেছেন অ্যামহার্স্ট একাডেমিতে।
তবে একাডেমির বন্ধুরা না, এমিলির কবি হয়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল তাঁর নিজের ভেতরে ডুব দেয়ার প্রবণতা।
নিঃসঙ্গতা যাঁদের বন্ধু, তাঁদের লেখা হয় ভিন্ন রকম। ডিকিনসনের কবিতাও ঠিক সেরকম। বাংলা সাহিত্যে এর একটা ছায়া পাওয়া যায় জীবনানন্দ দাশের কবিতায়। তিনিও একা হেঁটেছেন, একা দেখেছেন—তাঁর নামের পাশে লেখা হয় ‘নির্জনতার কবি’।
ডিকিনসনের কবিতায় মৃত্যু ছিল খুব স্বাভাবিক। যেন মৃত্যু পাশের বাড়ির কেউ। এক তিনি জায়গায় লিখেছেন— ‘বিকজ আই কুড নট স্টপ ফর ডেথ- হিম কাইন্ডলি স্টপড ফর মি’
এই লাইন পড়লে মনে হয়, মৃত্যু যেন একজন ভদ্রলোক, যিনি কবির জন্য অপেক্ষা করছেন।
এমিলির মৃত্যু ভাবনায় ভয় নয়, বরং ছিল আত্মানুসন্ধান। উনিশ শতকে ধর্ম ও দর্শনের টানাপোড়নের সময়েও, ডিকিনসন নিজের পথেই হেঁটেছেন। গির্জায় যাননি, তবুও ঈশ্বর ছিলেন তাঁর কবিতায়। তবে সেটা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো ধর্মের নয়, তা ছিল ব্যক্তিগত অনুভূতি হিসেবে ।
ডিকিনসন লিখেছিলেন—
‘সাম কিপ দ্য সাবাথ গোয়িং টু চার্চ
আই কিপ ইট, স্টেয়িং এট হোম’
সবচেয়ে বিখ্যাত লাইন ‘আই এম নোবডি! হু আর ইউ?’
এই কবিতা যেন আধুনিক সমাজের চেহারায় একটা চপেটাঘাত। চারপাশে সবাই ‘সামবডি’ হতে চায়, আর সেখানে একজন কবি বলছেন—তিনি ‘নোবাডি’।
তাঁর কবিতার ভাষা সরল, তবে ধাঁধার মতো। ছোট ছোট বাক্য, বিরতির জন্য ড্যাশ, আর অদ্ভুত সব উপমা। শব্দের প্রচলিত অর্থকে ভেঙে নতুন মানে তৈরি করেছেন তিনি।
জীবিত অবস্থায় তাঁর মাত্র ১০টি কবিতা প্রকাশিত হয়েছিল, তাও প্রচুর সম্পাদনার পরে। মৃত্যুর পর বোন ল্যাভিনিয়া তাঁর লেখা বের করে আনেন। এরপর ধীরে ধীরে বোঝা যায়—ওই সব কবিতা আসলে সময়ের অনেক আগে লেখা।
একটা কবিতায় তিনি লিখেছেন—
‘ দ্য ব্রেইন- ইজ ওয়াইডার দ্যান দ্য স্কাই’
এই লাইন যেন বলে দেয়, মনের ভেতরে যে জগৎ, তা বাইরের জগৎ থেকেও বড়।
ডিকিনসনের মতে, সব সত্য একেবারে সোজা করে বলা যায় না। এ নিয়ে তিনি লিখেছেন— ‘টেল অল দ্য ট্রুথ বাট টেল ইট স্ল্যান্ট’
কিছু সত্য শুধু আভাসে ধরা দেয়—ইশারায়, ছায়ায়, সঙ্গতির বাইরে এক অসমাপ্ত ভঙ্গিতে।
১৫ মে তাঁর মৃত্যুর দিন হলেও পাঠকদের কাছে দিনটা যেন তাঁর জন্মদিন। যেখানে একসময় তিনি ছিলেন ‘নোবাডি’, সেখান থেকেই হয়ে উঠেছেন সবার একজন।
নিঃশব্দে, নিরবে, ডিকিনসন রেখে গেছেন এমন সব কবিতা, যেগুলো আজও একজন মানুষকে নিজের সঙ্গে একা বসতে শেখায়।
.png)

রেলে ‘হরতাল’ ‘হরতাল’ একটা রব উঠেছে! সে খবর ইঞ্জিন, লাইন, ঘণ্টা, সিগন্যাল এদের কাছেও পৌঁছে গেছে। তাই এরা একটা সভা ডাকল। মস্ত সভা। পূর্ণিমার দিন রাত দুটোয় অস্পষ্ট মেঘে ঢাকা চাঁদের আলোর নীচে সবাই জড়ো হল। হাঁপাতে হাঁপাতে বিশালবপু সভাপতি ইঞ্জিন মশাই এলেন। তাঁর লেট হয়ে গেছে।
১০ ঘণ্টা আগে
বন্ধুমহলে নাম শুনেছিলুম আগেই; চোখে দেখলুম লেক-লগ্ন একটি ক্লাবের বাইশে শ্রাবণের অনুষ্ঠানে। উজ্জ্বল আলোয়, সুবেশ, চিক্কণ এবং সাধারণত কাব্য সম্বন্ধে উদাসীন মেয়ে পুরুষের ভিড়ের মধ্যে কালো একটি ছেলে উঠে দাঁড়িয়ে, বেশ চেঁচিয়ে, বেশ স্পষ্ট ক’রে রবীন্দ্রনাথের উদ্দেশে নিজের লেখা একটি কবিতা পড়লো।
১১ ঘণ্টা আগে
কম করে হলেও এক হাজার বছর ধরে কবিতা লিখছে বাংলাভাষী মানুষ; এ অঞ্চলে জন্মেছেন অগণিত ভাবমূর্তিসম্পন্ন কবি। উপাধিপ্রবণ বাঙালি কবিসমাজ তৈরি করে নিয়েছে নানা ধরনের উপাধি—‘কবিকঙ্কন’, ‘বিশ্বকবি’, ‘বিদ্রোহী কবি’, ‘পল্লীকবি’, ‘রূপসী বাংলার কবি’। তবে ‘কিশোর-কবি’ অভিধা পেয়েছেন মূলত একজনই—সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৬
১১ ঘণ্টা আগে
কাব্য-সাহিত্যের অনুর্বরতাও এই জন্য যে কবিতা লেখার মজুরীতে কবি বাঁচে না। নতুন যুগের অলঙ্ঘ নির্দেশে তাকে আজ দেহমনে চব্বিশ ঘণ্টার সাহচার্য বরণ করে নিতে হয় তার যে উলঙ্গ ছেলেরা আজ বুলেট খেয়ে মরছে তাদের, কাব্যচর্চা আর জীবিকাচর্চার শোষণে সে ক্ষয় হয়ে যায়।
১২ ঘণ্টা আগে