জেনে অবাক হবেন যে শত বছর আগেও বৃহত্তর নোয়াখালী অঞ্চলে বাঘ ও চিতাবাঘের দেখা পাওয়া যেত। নোয়াখালীর কালেক্টর থাকাকালে মি. পোরচ কয়েকটি প্রজাতির লিজার্ডের কথা উল্লেখ করেছিলেন। তাঁর নথি অনুযায়ী, এসব লিজার্ডের মধ্যে একটি প্রজাতির দৈর্ঘ্য নাকি ১২ ফুট পর্যন্ত হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছিল। এসব তথ্য জানা যায় ১৯১১ সালে প্রকাশিত জে ই ওয়েবস্টার-এর নোয়াখালী ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ারে। পূর্ববঙ্গ ও আসাম ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার থেকে অনুবাদ করেছেন ভূ-পর্যটক তারেক অণু।
তারেক অণু

১৯১১ সালে এসে নোয়াখালী অঞ্চলে বড় আকারের শিকারি প্রাণীরা খুবই বিরল। কিন্তু মাঝে মাঝে ত্রিপুরার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বাঘ এবং চিতাবাঘেরা নেমে আসে। নোয়াখালী জেলার পূর্ব সীমান্তের গ্রামগুলোতে আক্রমন করে তারা গরু ও ছাগল ধরে নিয়ে যায়। একই এলাকায় চিত্রা হরিণ আর নাত্রিণী হরিণ (হগ ডিয়ার) প্রায়ই ফসলের ক্ষতি করে।
এখন (১৯১১ সালের কথা) এই জেলায় টিকে থাকা সত্যিকারের বড় বন্যপ্রাণী হচ্ছে বুনো মহিষ আর বুনো শুয়োর। বুনো মহিষ শুধু হাতিয়া দ্বীপের সর্বদক্ষিণের চর মীর মোহাম্মদ আলী এলাকায় দেখা যায়। সেখানে বুনো মহিষের সংখ্যা এতই বেশি যে নতুন বসতি স্থাপনকারীদের জন্য তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদের ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন হওয়ায় খুব বেশি মহিষ ধরা যায়নি। বয়সী পুরুষ মহিষগুলো সাধারণত খুবই হিংস্র হয়। তবে স্ত্রী এবং বাচ্চা মহিষ ধরার পর যদি প্রথম কয়েক দিনে মারা না যায়, তবে তা সাধারনত পোষ মানানো যায়। এরা গৃহপালিত মহিষের সঙ্গে সংকরজাত হয়ে থাকে।
চর এলাকায় প্রচুর বন্য শুয়োরের দেখা পাওয়া যায় (১৯১১ সালের কথা)। লক্ষীপুর থানার মেঘনার চর ও জেলার অন্যান্য স্থানেও বুনো শুয়োরদের বড় এবং ছোট ছোট দলে দেখা যায়। মাঝে মাঝে মেঘনা নদীতে দাগি-রাজহাঁসের ঝাঁককে দেখা যায়। বুনোহাঁস বেশ বিরল, তবে শীতকালে ফেনীতে বেশ কাদাখোঁচা পাখি দেখা যায়। গুলিন্দাদের বিশাল ঝাঁক দেখা যায় আর পানচিল, সারস, নানা প্রজাতির মেছো-ঈগল, বাজপাখি, বক এবং অন্যান্য জলচর পাখিদেরও দেখা মেলে।
নোয়াখালী জেলায় যেসব পাখি পাওয়া যায় তার একটি তালিকা তৎকালীন কালেক্টর মি. পোরচ প্রস্তুত করেছিলেন, যা স্যার ডব্লিউ. হান্টার-এর জেলার পরিসংখ্যানভিত্তিক বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত অনেক প্রজাতিই এখন খুব বিরল, আর তালিকাটি এত দীর্ঘ যে এখানে এখানে ফের দেওয়া মুশকিল।
মেঘনা নদীতে প্রচুর কুমির পাওয়া যায় (১৯১১ সালের কথা), বিশেষ করে হাতিয়ার পশ্চিম দিকের বালুচরে। মাঝে মাঝে তারা গবাদিপশু ধরে নিয়ে যায়। তবে এই জেলার মানুষেরা ‘বড়’নদীতে গোসল করে না বললেই চলে। তাই কুমিরের আক্রমণে মানুষের মারা যাওয়ার ঘটনা সহজে ঘটে না।
সন্দ্বীপের প্রায় সর্বত্রই সাপের দেখা মেলে। অন্তত পাঁচ ধরনের গোখরা সাপ এই নোয়াখালী জেলাতে আছে। অন্যান্য বিষধর সাপের মধ্যে শঙ্খিনী আর জংলা বোড়া অন্যতম। ১৯০৮ সালে জানা যায়, সাপের কামড়ে ৫০ জন মানুষ ও ৮৫টি গবাদিপশু মারা গিয়েছিল। উত্তরবঙ্গ বা ঢাকা বিভাগের তুলনায় এই সংখ্যা কম। গুইসাপ আর রক্তচোষাদের (লিজার্ড-জাতীয় সরীসৃপ) সবখানে দেখা যায়। কালেক্টর থাকাকালে মি. পোরচ আরও তিন প্রজাতির লিজার্ডের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার একটি প্রজাতির দৈর্ঘ্য নাকি ১২ ফুট পর্যন্ত হতে পারে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯১১ সালে এসে নোয়াখালী অঞ্চলে বড় আকারের শিকারি প্রাণীরা খুবই বিরল। কিন্তু মাঝে মাঝে ত্রিপুরার পাহাড়ি অঞ্চল থেকে বাঘ এবং চিতাবাঘেরা নেমে আসে। নোয়াখালী জেলার পূর্ব সীমান্তের গ্রামগুলোতে আক্রমন করে তারা গরু ও ছাগল ধরে নিয়ে যায়। একই এলাকায় চিত্রা হরিণ আর নাত্রিণী হরিণ (হগ ডিয়ার) প্রায়ই ফসলের ক্ষতি করে।
এখন (১৯১১ সালের কথা) এই জেলায় টিকে থাকা সত্যিকারের বড় বন্যপ্রাণী হচ্ছে বুনো মহিষ আর বুনো শুয়োর। বুনো মহিষ শুধু হাতিয়া দ্বীপের সর্বদক্ষিণের চর মীর মোহাম্মদ আলী এলাকায় দেখা যায়। সেখানে বুনো মহিষের সংখ্যা এতই বেশি যে নতুন বসতি স্থাপনকারীদের জন্য তা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদের ধরার চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু কাজটি ঝুঁকিপূর্ণ ও কঠিন হওয়ায় খুব বেশি মহিষ ধরা যায়নি। বয়সী পুরুষ মহিষগুলো সাধারণত খুবই হিংস্র হয়। তবে স্ত্রী এবং বাচ্চা মহিষ ধরার পর যদি প্রথম কয়েক দিনে মারা না যায়, তবে তা সাধারনত পোষ মানানো যায়। এরা গৃহপালিত মহিষের সঙ্গে সংকরজাত হয়ে থাকে।
চর এলাকায় প্রচুর বন্য শুয়োরের দেখা পাওয়া যায় (১৯১১ সালের কথা)। লক্ষীপুর থানার মেঘনার চর ও জেলার অন্যান্য স্থানেও বুনো শুয়োরদের বড় এবং ছোট ছোট দলে দেখা যায়। মাঝে মাঝে মেঘনা নদীতে দাগি-রাজহাঁসের ঝাঁককে দেখা যায়। বুনোহাঁস বেশ বিরল, তবে শীতকালে ফেনীতে বেশ কাদাখোঁচা পাখি দেখা যায়। গুলিন্দাদের বিশাল ঝাঁক দেখা যায় আর পানচিল, সারস, নানা প্রজাতির মেছো-ঈগল, বাজপাখি, বক এবং অন্যান্য জলচর পাখিদেরও দেখা মেলে।
নোয়াখালী জেলায় যেসব পাখি পাওয়া যায় তার একটি তালিকা তৎকালীন কালেক্টর মি. পোরচ প্রস্তুত করেছিলেন, যা স্যার ডব্লিউ. হান্টার-এর জেলার পরিসংখ্যানভিত্তিক বিবরণীতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে তালিকাভুক্ত অনেক প্রজাতিই এখন খুব বিরল, আর তালিকাটি এত দীর্ঘ যে এখানে এখানে ফের দেওয়া মুশকিল।
মেঘনা নদীতে প্রচুর কুমির পাওয়া যায় (১৯১১ সালের কথা), বিশেষ করে হাতিয়ার পশ্চিম দিকের বালুচরে। মাঝে মাঝে তারা গবাদিপশু ধরে নিয়ে যায়। তবে এই জেলার মানুষেরা ‘বড়’নদীতে গোসল করে না বললেই চলে। তাই কুমিরের আক্রমণে মানুষের মারা যাওয়ার ঘটনা সহজে ঘটে না।
সন্দ্বীপের প্রায় সর্বত্রই সাপের দেখা মেলে। অন্তত পাঁচ ধরনের গোখরা সাপ এই নোয়াখালী জেলাতে আছে। অন্যান্য বিষধর সাপের মধ্যে শঙ্খিনী আর জংলা বোড়া অন্যতম। ১৯০৮ সালে জানা যায়, সাপের কামড়ে ৫০ জন মানুষ ও ৮৫টি গবাদিপশু মারা গিয়েছিল। উত্তরবঙ্গ বা ঢাকা বিভাগের তুলনায় এই সংখ্যা কম। গুইসাপ আর রক্তচোষাদের (লিজার্ড-জাতীয় সরীসৃপ) সবখানে দেখা যায়। কালেক্টর থাকাকালে মি. পোরচ আরও তিন প্রজাতির লিজার্ডের কথা উল্লেখ করেছিলেন, যার একটি প্রজাতির দৈর্ঘ্য নাকি ১২ ফুট পর্যন্ত হতে পারে বলে সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই উপমহাদেশের ইতিহাস জটিল। সেই ইতিহাসে রাজনৈতিক সহিংসতা কম ঘটেনি। এই ইতিহাসের বাঁকবদলগুলো সাধারণত বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেই আন্দাজ হয়। কিন্তু ইতিহাস তো কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনার সমাহার নয়। এটি বরং দীর্ঘ ধারাবাহিকতা। সেখানে অন্তর্নিহিত থাকে জনগোষ্ঠীর অবদমিত আকাঙ্ক্ষা ও মুক্তির স্পৃহা।
৮ ঘণ্টা আগে
ভূ-পর্যটক তারেক অণুর ধারাবাহিক ভ্রমণ-কাহিনি ‘আমেরিকায় প্রবেশ নিষেধ’-এর সপ্তম পর্ব প্রকাশিত হলো আজ। প্রতি বুধবার চোখ রাখুন বাংলা স্ট্রিমের ফিচার পাতায়।
১১ ঘণ্টা আগে
এআই প্রোগ্রাম কখনোই চিকিৎসকের বিকল্প নয়। এগুলো দিয়ে কোনো রোগ নির্ণয় করা উচিত নয়। বরং এসব চ্যাটবট জটিল পরীক্ষার ফলাফল সহজভাবে ব্যাখ্যা করা, ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে সম্ভাব্য প্রশ্ন তৈরি করা বা মেডিকেল ডেটায় থাকা স্বাস্থ্য প্রবণতা বিশ্লেষণের মতো কাজে সহায়তা করতে পারে।
১৮ ঘণ্টা আগে
কর্মজীবী নারীদের জন্য ঘর আর বাহির সামলে নেওয়ার ব্যস্ততা সারাবছরই থাকে, তবে রোজার মাসে এই ব্যস্ততা যেন দ্বিগুণ হয়ে যায়। একদিকে অফিস আর যানজট, অন্যদিকে রান্নাঘর আর ইফতারের আয়োজন—এই দুইয়ের মাঝে সমন্বয় করতে করতেই একটা মাস চোখের পলকে কেটে যায় তাঁদের।
১ দিন আগে