
টেলিভিশনের পর্দায় সবুজের মধ্যে একটি লাল সূর্য উঠছে—বাংলাদেশে কয়েক প্রজন্মের দর্শকের কাছে দৃশ্যটি এতটাই পরিচিত যে, আলাদা করে ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন’ নামটি পড়ারও প্রয়োজন হতো না। বিটিভির পর্দায় লোগোটি দেখা মানেই রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) লোগো এখন আবার আলোচনায় এসেছে। কারণ, সম্প্রতি বিটিভি নতুন লোগোর নকশা ও ধারণা আহ্বান করেছে। এরপরই আলোচনা শুরু হয়েছে পুরোনো লোগোটির ইতিহাস নিয়েও।
বাংলাদেশ টেলিভিশনের ইতিহাস শুরু হয়েছিল স্বাধীনতার আগেই। ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার ডিআইটি ভবনের নিচতলায় পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশনের ঢাকা কেন্দ্র হিসেবে টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু হয়। স্বাধীনতার পর সেটিই নতুন দেশের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে রূপ নেয়।
স্বাধীনতার বিজয়ের পরপরই প্রয়োজন পড়ে নতুন পরিচয়ের। পাকিস্তানি পরিচয় সরিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের নিজস্ব টেলিভিশন পরিচয় তৈরি করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সময়েই বিটিভির পরিচিত লোগোর মূল নকশা তৈরির কাজ শুরু হয়।
বিটিভির সাবেক উপমহাপরিচালক ও টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব খ ম হারূন গণমাধ্যমে বলেন, লোগো চূড়ান্ত করার জন্য শিল্পী জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান এবং তৎকালীন শিল্প নির্দেশনা বিভাগের দায়িত্বে থাকা ইমদাদ হোসেনকে নিয়ে একটি কমিটি করা হয়েছিল। তাঁদের সম্মিলিত কাজের মধ্য দিয়ে লোগোটি চূড়ান্ত হয়।
শিল্পী ইমদাদ হোসেনের নাম মূল নকশাকার হিসেবে সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়। তবে বিটিভির লোগো নিয়ে প্রচলিত তথ্য একেবারে একরকম নয়। দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিল্প নির্দেশক মহিউদ্দিন ফারুক বিটিভির নকশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। আবার বাংলাপিডিয়ায় বলা হয়েছে, স্বাধীনতার পর লোগো তৈরির প্রক্রিয়ায় জয়নুল আবেদিন, কামরুল হাসান, মুস্তাফা মনোয়ার ও ইমদাদ হোসেন—সবাই কোনো না কোনোভাবে যুক্ত ছিলেন।
খ ম হারূন গণমাধ্যমে বলেন, লোগোর ভেতরে ‘বাংলাদেশ টেলিভিশন’ যে বিশেষ ধরনের ক্যালিগ্রাফিক লেখা দেখা যায়, সেটি মুস্তাফা মনোয়ারের নিজের হাতের লেখা। পরে সেটিকে টেলিভিশনে ব্যবহারের উপযোগী করে সংশোধনের কাজেও ইমদাদ হোসেনসহ অন্যরা ভূমিকা রাখেন।
লোগোটির নকশা খুব জটিল নয়। একটি সবুজ ফ্রেমের ভেতরে টেলিভিশনের পর্দা, আর সেই পর্দায় উদীয়মান লাল সূর্য। কিন্তু এই সরলতার মধ্যেই ছিল স্বাধীন বাংলাদেশের পরিচয়ের ইঙ্গিত।
লাল ও সবুজ—দুটি রং বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত। ফলে টেলিভিশনের প্রতীকটির মধ্যেই দেশের নতুন জাতীয় পরিচয়কে তুলে ধরা হয়েছিল। সবুজের ভেতর লাল সূর্য—একটি নতুন দেশের নতুন দিনের প্রতীক হিসেবেও এটি সহজেই দর্শকের কাছে অর্থবহ হয়ে ওঠে।
সেই লোগো অবশ্য পরে কিছুটা পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে তৈরি হওয়া মূল লোগো ছিল সাদাকালো সম্প্রচারের সময়কার পরিচয়। পরে বিটিভি যখন রঙিন সম্প্রচারে যায়, তখন পুরোনো লোগোটিই নতুনভাবে আঁকা ও রঙিন রূপে ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ১৯৮০ সালের ১ ডিসেম্বর রঙিন সম্প্রচারে যায়। সেই সময় শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার পুরোনো লোগোটিকে নতুনভাবে আঁকেন। সেদিন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রঙিন সম্প্রচারের উদ্বোধন করেন এবং রঙিন লোগোটিও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিল। মূলত, ১৯৮০ সালে লোগোটি ১৯৭১ সালের মূল লোগোর রঙিন ও পরিমার্জিত রূপ।
টেলিভিশনের পর্দায়, অনুষ্ঠান শুরুর আগে-পরে, বিভিন্ন সরকারি সম্প্রচারে একই প্রতীক বছরের পর বছর দেখা গেছে। ফলে এটি একটি প্রতিষ্ঠানের চিহ্নের চেয়েও বেশি কিছু হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে বিটিভির স্বর্ণালি সময়ের সঙ্গে বড় হওয়া দর্শকদের কাছে লোগোটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে নাটক, গান, সংবাদ, ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান, শিশুদের অনুষ্ঠান এবং জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্প্রচারের স্মৃতি।
এই কারণেই ২০২৬ সালে বিটিভি নতুন লোগোর ধারণা চাওয়ার পর বিষয়টি শুধু নকশা বদলের আলোচনায় আটকে থাকেনি। শিল্পী, সংস্কৃতিকর্মী ও বিটিভির সাবেক কর্মকর্তাদের অনেকে পুরোনো লোগোটির ঐতিহাসিক মূল্য তুলে ধরে পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। বিটিভির মহাপরিচালক কাজী জেসিন অবশ্য বলেছেন, আধুনিকায়নের অংশ হিসেবেই নতুন লোগোর চিন্তা করা হচ্ছে এবং ইতিহাস-ঐতিহ্য সংরক্ষণ করেই পরিবর্তন আনা হবে।
তাই সবুজ ফ্রেমের মধ্যে লাল সূর্যটি শুধু একটি টেলিভিশন চ্যানেলের চিহ্ন নয়। এটি বাংলাদেশের টেলিভিশন ইতিহাসের এমন একটি দৃশ্যমান অংশ, যার সঙ্গে স্বাধীনতার পরের নতুন রাষ্ট্র, শিল্পীদের সৃজনশীলতা এবং কয়েক প্রজন্মের দর্শকের স্মৃতি একসঙ্গে মিশে আছে।
.png)

জেলায় কোনো ভিআইপি আসলে সাধারণত ওঠেন সার্কিট হাউসে। তেমনি কুমিল্লা সার্কিট হাউসের ‘রাধাচূড়া-২০২’ নম্বর কক্ষে উঠেছিলেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও কুমিল্লা-১১ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। কিন্তু প্রায় মাঝরাতেই কক্ষ ত্যাগ করতে বাধ্য হন তিনি।
১ ঘণ্টা আগে-23faa3-256x144.webp)
সঞ্চয় শুরু করতে চান? তাহলে শুরু করুন মাত্র ১ টাকা দিয়ে। প্রতিদিন ১ টাকা করে বাড়িয়ে সঞ্চয় করলে বছর শেষে আপনার জমানো টাকা দাঁড়াবে ৬৬ হাজার ৭৯৫ টাকা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও হিসাবটা একেবারেই সহজ। কীভাবে করবেন এই ৩৬৫ দিনের সেভিংস চ্যালেঞ্জ?
০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গিনি-বিসাউয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় কিছু শিম্পাঞ্জি নির্দিষ্ট গাছে পাথর ছোড়ে। শুধু একবার নয়, বারবার একই গাছের কাছে ফিরে আসে তারা। ফলে সময়ের সঙ্গে গাছের গোড়ায় পাথর জমতে থাকে, গাছের গায়েও তৈরি হয় দাগ।
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘পিতার কাছে টাকা চাহিয়া পত্র লেখার সময় হইয়াছে’—মাঝেমধ্যে মাসের শুরুর দিকে পোস্টটা আমাদের নিউজফিডে ঘুরতে থাকে। দেখে হাসি পায়। মনে হয়, পরীক্ষার খাতার সেই বিখ্যাত চিঠি আবার ফিরে এসেছে! শুধু পার্থক্য হলো, তখন বাবার কাছে টাকা চাইতাম পরীক্ষার খাতায় নম্বর পাওয়ার জন্য, আর এখন মাসের শেষে পকেট ফাঁকা হলে সত্
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬