সঞ্চয় শুরু করতে চান? তাহলে শুরু করুন মাত্র ১ টাকা দিয়ে। প্রতিদিন ১ টাকা করে বাড়িয়ে সঞ্চয় করলে বছর শেষে আপনার জমানো টাকা দাঁড়াবে ৬৬ হাজার ৭৯৫ টাকা। অবিশ্বাস্য মনে হলেও হিসাবটা একেবারেই সহজ। কীভাবে করবেন এই ৩৬৫ দিনের সেভিংস চ্যালেঞ্জ?
-23faa3-480x270.webp)
সঞ্চয় করতে চাই, কিন্তু মাসের শেষে হাতে টাকা থাকে না; আমার মতো আরও অনেকেই এই সমস্যায় ভোগেন। মাসের শুরুতে বেতন বা অন্য কোনো উৎস থেকে টাকা হাতে আসার পর মনে হয়, এবার কিছু টাকা জমাব। কিন্তু বাসাভাড়া, বাজার, যাতায়াত, বিল, কেনাকাটা কিংবা হঠাৎ কোনো প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে মেটাতে মাসের শেষ দিকে এসে দেখা যায়, সঞ্চয়ের জন্য আর তেমন কিছুই অবশিষ্ট নেই।
একসঙ্গে বড় অঙ্কের টাকা জমানো কঠিন হলে তাই প্রতিদিন অল্প অল্প করে সঞ্চয়ের অভ্যাস করা যেতে পারে। ছোট ছোট এই সঞ্চয়ই বছর শেষে হয়ে উঠতে পারে বড় অঙ্কের টাকা। এমনই একটি সহজ পদ্ধতি হলো ৩৬৫ দিনের সেভিংস চ্যালেঞ্জ।
নিয়মটা একেবারেই সহজ। প্রথম দিন জমাতে হবে ১ টাকা। এরপর প্রতিদিন আগের দিনের চেয়ে ১ টাকা বেশি।
অর্থাৎ—
এভাবে প্রতিদিন ১ টাকা করে বাড়তে থাকবে সঞ্চয়ের পরিমাণ। শুরুতে অঙ্কটা এতই ছোট যে মনে হতে পারে, এভাবে টাকা জমিয়ে আর কতই বা হবে! কিন্তু হিসাবটা একটু দেখুন। ধরা যাক, আপনি জানুয়ারি মাস থেকে শুরু করেছেন। সেক্ষেত্রে সঞ্চয় শুরুর প্রথম মাস জানুয়ারিতে এভাবে টাকা জমালে মোট সঞ্চয় হবে ৪৯৬ টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিনের সামান্য সঞ্চয় মিলিয়েই এক মাসে প্রায় ৫০০ টাকা।
এই পদ্ধতির বড় সুবিধা হলো, শুরুতে সঞ্চয়ের চাপ খুব কম থাকে। প্রথম কয়েক দিনে এমন অঙ্ক জমাতে হয়, যা দৈনন্দিন খরচের তুলনায় খুবই সামান্য। ফলে সঞ্চয় শুরু করার মানসিক বাধাটাও কম থাকে।
চ্যালেঞ্জের শুরুটা সহজ হলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রতিদিনের সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়তে থাকবে। বছরের মাঝামাঝি এসে প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২০০ টাকার কাছাকাছি জমাতে হতে পারে। ফলে শুরুতে যে পরিমাণ টাকা আলাদা করে রাখলেই চলত, তখন তার চেয়ে বেশি টাকা রাখতে হবে।
উদাহরণ হিসেবে জুন মাসের কথা বলা যায়। এ মাসে প্রতিদিন জমাতে হবে প্রায় ১৫২ থেকে ১৮১ টাকা। পুরো জুনে জমবে প্রায় ৪,৯৯৫ টাকা। অর্থাৎ প্রথম মাসে যেখানে জমেছিল প্রায় ৫০০ টাকা, বছরের ষষ্ঠ মাসে এসে এক মাসেই জমাতে হচ্ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা।
তাই এই সময়টায় একটু পরিকল্পনা করে এগোনো জরুরি। বাংলাদেশের বাস্তবতায় অনেকের মাসে একবার বেতন আসে। তাই মাসের শুরুতেই ওই মাসে কত টাকা জমাতে হবে, তা হিসাব করে রাখা ভালো। যেমন, মাসে প্রায় ৫ হাজার টাকা সঞ্চয় করতে হলে বেতন পাওয়ার পরই সেই টাকা আলাদা করে রাখার পরিকল্পনা করা যেতে পারে।
মাঝপথে এসে যদি মনে হয় প্রতিদিনের বাড়তি টাকা জমানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে, তাহলে নিজের আয়-ব্যয়ের হিসাবটা নতুন করে দেখা দরকার। কারণ সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য হলো আর্থিক শৃঙ্খলা তৈরি করা, প্রয়োজনীয় খরচ বন্ধ করে দেওয়া নয়।
এই চ্যালেঞ্জের শেষের দিকে এসে সঞ্চয়ের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি হয়। জানুয়ারিতে শুরু করলে ডিসেম্বর মাসে প্রতিদিন জমাতে হবে ৩৩৫ থেকে ৩৬৫ টাকা পর্যন্ত। অর্থাৎ বছরের শেষ দিন একদিনেই জমাতে হবে ৩৬৫ টাকা। এভাবে পুরো ডিসেম্বর মাসে জমবে প্রায় ১০,৮৫০ টাকা। তাই এই চ্যালেঞ্জ শুরু করার আগে শেষের দিকের বিষয়টি মাথায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
তবে আপনি যদি আপনার চ্যালেঞ্জে অটল থাকেন, তবে বছরশেষে একটা বড় অঙ্কের টাকা আপনার একাউন্টে জমা হবে। বছরের শুরুতে ১ টাকা দিয়ে শুরু করে প্রতিদিন ১ টাকা করে বাড়াতে থাকলে ৩৬৫তম দিনে জমাতে হবে ৩৬৫ টাকা। এইভাবে পুরো ৩৬৫ দিন চালিয়ে যেতে পারলে মোট সঞ্চয় হবে ৬৬,৭৯৫ টাকা।
তবে ৩৬৫ দিনের সেভিংস চ্যালেঞ্জ নেওয়ার আগে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি আর তা হলো—সবার আয় ও খরচ এক রকম নয়। তাই এই চ্যালেঞ্জকে কোনো কঠোর নিয়ম হিসেবে না দেখে সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরির উপায় হিসেবে দেখা ভালো। কারও পক্ষে প্রতিদিনের নির্দিষ্ট টাকা জমানো কঠিন হলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী নিয়মটি কিছুটা পরিবর্তন করা যেতে পারে।
আবার, কোনো কারণে যদি কয়েকদিন টাকা জমাতে ভুলে যান বা ব্যস্ততার কারণে জমাতে না পারেন, তাহলে চিন্তার কিছু নেই। যেসব দিনের টাকা জমা হয়নি, সেগুলো একসঙ্গে হিসাব করে পরে জমিয়ে দিতে পারেন। যেমন ৩১ থেকে ৩৫তম দিনের টাকা জমাতে না পারলে ৩১, ৩২, ৩৩, ৩৪ ও ৩৫—এই পাঁচ দিনের টাকা যোগ করতে হবে। মোট হবে ১৬৫ টাকা। পরে একসঙ্গে ১৬৫ টাকা জমা করলেই ওই পাঁচ দিনের সঞ্চয় পূরণ হয়ে যাবে।
৩৬৫ দিনের সেভিংস চ্যালেঞ্জের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আসলে বছর শেষে ৬৬ হাজার ৭৯৫ টাকা জমা হওয়া নয়। এর বড় শিক্ষা হলো নিয়মিত সঞ্চয়ের অভ্যাস তৈরি করা।
অনেকেই মনে করেন, সঞ্চয় করতে হলে মাসের শুরুতেই বড় অঙ্কের টাকা আলাদা করে রাখতে হবে। কিন্তু বাস্তবে ছোট অঙ্ক দিয়েও সেই অভ্যাস তৈরি করা সম্ভব। প্রথম দিন ১ টাকা হয়তো আপনার আর্থিক অবস্থায় কোনো বড় পরিবর্তন আনবে না। দ্বিতীয় দিন ২ টাকাও নয়। কিন্তু প্রতিদিন টাকা আলাদা করে রাখার অভ্যাসটি ধীরে ধীরে আপনার অর্থ ব্যবহারের ধরন বদলে দিতে পারে।
একসময় হয়তো আপনি খেয়াল করবেন, অপ্রয়োজনীয় খরচ করার আগে দুবার ভাবছেন। কোনো কিছু কেনার আগে দেখছেন, সেটি সত্যিই দরকার কি না। আর মাসের শুরুতেই সঞ্চয়ের জন্য কিছু টাকা আলাদা করে রাখার অভ্যাসও তৈরি হয়ে যাচ্ছে
.png)

গিনি-বিসাউয়ের পশ্চিমাঞ্চলীয় কিছু শিম্পাঞ্জি নির্দিষ্ট গাছে পাথর ছোড়ে। শুধু একবার নয়, বারবার একই গাছের কাছে ফিরে আসে তারা। ফলে সময়ের সঙ্গে গাছের গোড়ায় পাথর জমতে থাকে, গাছের গায়েও তৈরি হয় দাগ।
০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘পিতার কাছে টাকা চাহিয়া পত্র লেখার সময় হইয়াছে’—মাঝেমধ্যে মাসের শুরুর দিকে পোস্টটা আমাদের নিউজফিডে ঘুরতে থাকে। দেখে হাসি পায়। মনে হয়, পরীক্ষার খাতার সেই বিখ্যাত চিঠি আবার ফিরে এসেছে! শুধু পার্থক্য হলো, তখন বাবার কাছে টাকা চাইতাম পরীক্ষার খাতায় নম্বর পাওয়ার জন্য, আর এখন মাসের শেষে পকেট ফাঁকা হলে সত্
০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শরতের স্নিগ্ধ রোদ। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা। বাতাসে দুলছে শুভ্র কাশফুল। ভিন্ন আবেদন তৈরি করেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল শহরের অদূরে বেলতলীর ভুড়ভুড়িয়া ছড়ার দুই পারের কাশবন। সবুজ চা-বাগানের মাঝে বিস্তীর্ণ কাশফুলের বাগান দেখতে ভিড় করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা।
২৯ আগস্ট ২০২৬-a0c892-256x144.webp)
২০০৯ সালে রোলান্ড এমিরিখের ‘২০১২’ সিনেমা যখন মুক্তি পেয়েছিল, তখন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাওয়ার দৃশ্যগুলো আমাদের কাছে নিছক কল্পনাই মনে হয়েছিল। মাটি ফেটে যাচ্ছে, শহর ধসে পড়ছে, সমুদ্র ছুটে আসছে মানুষের বসতির দিকে। কোথাও মানুষ প্রাণ বাঁচাতে দৌড়াচ্ছে, কোথাও কেউ প্রিয়জনকে খুঁজছে, আবার কেউ শেষবারের মতো সন্তানক
২৭ আগস্ট ২০২৬