শজিমেকের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিচার চান ‘ভুল চিকিৎসায়’ মৃতের স্বজনেরা

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
বগুড়া

শজিমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত
শজিমেক ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিচারের দাবিতে মানববন্ধন। ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে মানববন্ধন হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শহরের বিসিক জেলা কার্যালয়-সংলগ্ন সড়কে ১৮ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডবাসীর ব্যানারে এই কর্মসূচি হয়।

মানববন্ধনে ওই মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিচার দাবি করা হয়। পাশাপাশি হাসপাতালে ভাঙচুরের মামলায় গ্রেপ্তার ছয়জনের মুক্তির দাবিও তোলেন তারা।

মানববন্ধনে বক্তার বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও বিশ্লেষণ করলে ঘটনার প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।

এ সময় মৃত আব্দুল মালেকের মেয়ে মনিকা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর বাবাকে ইনজেকশন দেওয়ার পরপরই তিনি অস্থির হয়ে পড়েন। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়। পরে তারা চিকিৎসার নথি পরীক্ষা করে জানতে পারেন, আব্দুল মালেকের পরিবর্তে ‘ইখলাস’ নামে অন্য এক রোগীর প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

মনিকা আরও বলেন, ভুল দেখিয়ে দেওয়ার পরও ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা স্বীকার না করে তাঁদের সঙ্গে তর্কে জড়ান। একপর্যায়ে মারধর করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে ভাঙচুর ও ছিনতাইয়ের মামলা দেওয়া হয়।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মামলায় গ্রেপ্তার প্রান্তের মা নাজনীন আক্তার ও নাফিউলের স্ত্রী মিতু খাতুন অভিযোগ করেন, চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে ১৫ থেকে ১৬ জন আহত হওয়ার কথা বলা হলেও তাঁদের কাউকে গণমাধ্যমের সামনে আনা হয়নি।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করে আব্দুল মালেকের স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতি হয়। এতে উভয় পক্ষের কয়েকজন আহত হন। পরে চিকিৎসকদের ওপর হামলার অভিযোগে কর্মবিরতি শুরু করেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা।

পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মামলায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। তাঁদের মধ্যে শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতা রয়েছেন। তাঁদের বহিষ্কার করেছে বগুড়া শহর ছাত্রদল। এ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে এক আনসার সদস্যকে বরখাস্ত এবং আনসার কমান্ডারসহ ২০ জনকে বদলি করা হয়।

প্রশাসনের এসব পদক্ষেপের পর গত শুক্রবার দুপুর থেকে কাজে ফেরেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মনজুর-ই-মোর্শেদ জানিয়েছেন, বর্তমানে চিকিৎসাসেবা স্বাভাবিক রয়েছে।

এদিকে গত শুক্রবার বগুড়া প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে মৃত আব্দুল মালেকের পরিবার। এ ছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টারসহ ৩০ থেকে ৪০ ইন্টার্ন চিকিৎসককে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত