বেড়েছে ইরান-মার্কিন যুদ্ধের তীব্রতা, বড় অভিযানের শঙ্কা

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২: ৫৯
বিয়ের অনুষ্ঠানের কাছে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ। ছবি: রয়টার্স
বিয়ের অনুষ্ঠানের কাছে হামলার পর ক্ষতিগ্রস্ত একটি বাড়ির চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ। ছবি: রয়টার্স

ইরান যুদ্ধে নতুন করে তীব্রতা বেড়েছে। এতে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ মার্কিন হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। তাঁদের মধ্যে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নিহত হয়েছেন চারজন। খবর রয়টার্স

ইরানের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে দেশটিতে ১৮ জন নিহত ও ১০৮ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালির কাছে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নিহত হয়েছেন ৮ জন এবং আহত হয়েছেন ৬৭ জন।

ফের সামরিক অভিযান শুরু হওয়ায় ওই অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে। বাহরাইন, জর্ডান, কুয়েত ও ইরাকে মার্কিন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। কুয়েতের সেনাবাহিনী বৃহস্পতিবার ভোরেও দেশটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কথা জানিয়েছে। তারা বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা হয়েছে।

জুলাইয়ে দুই পক্ষের সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত ছিল। তবে এ সময়ে শান্তি আলোচনা এগোয়নি। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও সামরিক শক্তি ব্যবহারের হুমকি দিয়েছেন। যদিও রয়টার্স ও ইপসনের এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিক এখন আর এই যুদ্ধকে সমর্থন করছেন না।

নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে যুদ্ধের তীব্রতা যাতে আর না বাড়ে, সে চেষ্টা করছেন ট্রাম্পের শীর্ষ সহযোগীরা। এ বিষয়ে আলোচনার সঙ্গে পরিচিত চারজন ব্যক্তি রয়টার্সের বরাতে জানান, আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সামরিক অভিযান আরও বাড়ানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে হোয়াইট হাউস।

অন্যদিকে বড় ধরনের সামরিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখেও ইরান নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলাসহ বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, গুতেরেস সামরিক অভিযান অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।

দুজারিক জানান, মহাসচিব বেসামরিক মানুষের ওপর সব ধরনের হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী সব পক্ষকে তাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। এর মধ্যে হামলার লক্ষ্য নির্ধারণ, আনুপাতিকতা ও সতর্কতার নীতিও রয়েছে।

বিয়ের অনুষ্ঠানের হামলায় আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ছবি: রয়টার্স
বিয়ের অনুষ্ঠানের হামলায় আহত এক ব্যক্তি হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ছবি: রয়টার্স

হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস নিউজ এজেন্সি (এইচআরএএনএ) নামের ইরানি মানবাধিকার সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী, ৭ এপ্রিল পর্যন্ত ইরানে ৩ হাজার ৬৩৬ জন নিহত হওয়ার তথ্য নথিভুক্ত করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১ হাজার ৭০১ জন বেসামরিক নাগরিক।

যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, দেশটির ১৮ জন সামরিক সদস্য নিহত এবং ৭৫০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র মার্কিন নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স এক ই-মেইলে জানিয়েছেন, ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত এসব প্রতিবেদন সম্পর্কে তারা অবগত। তবে বেসামরিক নাগরিকদের হামলার লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন।

সাম্প্রতিক বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার ঘটনা যুদ্ধের প্রথম দিন মিনাবের একটি স্কুলে বিস্ফোরণের কথা মনে করিয়ে দিয়েছে। ওই হামলায় একটি মেয়েদের স্কুলে ১৬০ জন নিহত হন। মিনাবের ওই হামলার বিষয়ে পেন্টাগন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফল প্রকাশ করেনি। কয়েক দশকের মধ্যে এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সবচেয়ে বড় বেসামরিক প্রাণহানির ঘটনাগুলোর একটি।

এ বিষয়ে অবগত দুটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো লক্ষ্যবস্তুর তথ্য ব্যবহারের কারণে ওই হামলা হয়ে থাকতে পারে।

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত