leadT1ad

সৌন্দর্যের ব্যবচ্ছেদ: গণিত থেকে মস্তিষ্ক, সমাজ থেকে রাজনীতি

সৌন্দর্য বোঝার ক্ষেত্রে তাই দুটো দিক কাজ করে। একদিকে আছে বস্তুনিষ্ঠ দিক, অর্থাৎ কোনো জিনিসের গঠন, ভারসাম্য বা বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে আছে ব্যক্তিনিষ্ঠ দিক, মানে ব্যক্তির অনুভূতি, রুচি আর অভিজ্ঞতা। এই দুই দিক একসঙ্গে জড়িত বলেই সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া এত কঠিন।

আহমেদ বিন কাদের অনি
আহমেদ বিন কাদের অনি

প্রকাশ : ২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ২৫
সৌন্দর্যের ব্যবচ্ছেদ: গণিত থেকে মস্তিষ্ক, সমাজ থেকে রাজনীতি। এআই নির্মিত ছবি

কবি-সাহিত্যিকরা যুগ যুগ ধরে নানা ঢঙে বিচিত্রসব উপমা দিয়ে সৌন্দর্যের ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সেগুলো বেশিরভাগই তুলনা, যেমন: পদ্মারক্ত-কোমল করপল্লব, কবরীস্পৃষ্ট প্রস্তরশ্বেত গ্রীবা, ভ্রমরকৃষ্ণ চুল ইত্যাদি ইত্যাদি।

সৌন্দর্যের সংজ্ঞা দার্শনিক, শিল্পী, সাহিত্যিকদের দীর্ঘকাল ধরেই ভাবিয়েছে। নানাজন নানা উপায়ে এটিকে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন। কবি জন কিটসের কাছে সৌন্দর্যই সত্য, সত্য সৌন্দর্য। সাধারণত কোনো বিষয় বা বস্তুর বৈশিষ্ট্য উপলব্ধি করে আনন্দদায়ক অনুভূতি হলে আমরা বলে উঠি বিষয়টি সুন্দর।

অর্থাৎ, আমাদের সকল ইন্দ্রিয়কে আনন্দ, অর্থ বা তৃপ্তি দেয় এমন গুণাবলি সাধারণত সুন্দর। তবে কোন কোন জিনিস সুন্দর তা সংজ্ঞায়িত করা বেশ কঠিন। কিন্তু আমরা সকলেই কম বেশি সুন্দর কিছু দেখলে বুঝতে পারি সেটি সুন্দর।

যদিও বেশিরভাগ সময় মূর্ত বিষয়বস্তুর সৌন্দর্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। তবে বিমূর্ত বিষয় যেমন কোনো গল্প কিংবা কোনো গাণিতিক প্রমাণও সুন্দর হতে পারে।

গাণিতিক প্রমাণ যেমন সুন্দর হতে পারে আবার সৌন্দর্যকেও গাণিতিকভাবে ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। বিষয়টি উদাহরণসহ দেখলে পরিষ্কার হবে। যেমন, ১.৬১৮, এটিকে বলা হয় গোল্ডেন রেশিও বা স্বর্গীয় অনুপাত। প্রাচীন গ্রিক গণিতবিদরা জ্যামিতির সূত্রে এই অনুপাত নিয়ে কাজ করেছিলেন; ইউক্লিড এটিকে সংজ্ঞায়িত করেন। অনেকের মতে, যেসব জিনিস আমাদের সুন্দর লাগে, সেগুলোর ভেতরে এই অনুপাতটি প্রায়ই দেখা যায়। প্রকৃতিতে এই অনুপাত গাছপালা, ফুল, প্রাণী, আবহাওয়ার কাঠামো থেকে শুরু করে মহাকাশে পর্যন্ত দেখা যায়। তাই, স্থাপত্যবিদ্যা, ফটোগ্রাফি, চিত্রকলা, ইত্যাদি ক্ষেত্রে এর ব্যাপক ব্যবহার দেখা যায়।

এছাড়া, চেহারার সৌন্দর্যের উপর ভিত্তি করে অন্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের উপর গড়ে উঠেছে লুকিজমের মতো বাজে একটি চর্চা। যা দক্ষিণ কোরিয়ায় বেশ প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং এর উপর ভিত্তি করে সেখানে গড়ে উঠেছে প্লাস্টিক সার্জারির এক বিরাট শিল্প।

অ্যারিস্টটল মেটাফিজিক্সে বর্ণনা করেন যেসব বিষয়ের মধ্যে শৃঙ্খলা, অনুক্রম, প্রতিসাম্য কিংবা ভারসাম্য রয়েছে এবং সর্বোপরি স্পষ্টতা রয়েছে, যেগুলো গাণিতিক বিজ্ঞান একটি বিশেষ মাত্রায় প্রদর্শন করে তাই সুন্দর। ভারসাম্যর ব্যবহার তাই স্থাপত্যশিল্পে প্রচুর দেখা যায়। যেমন আগ্রার তাজমহলের মাঝে থেকে একটি কাল্পনিক লাইন টানেন, তাহলে দুইপাশে আয়নার প্রতিফলনের মতো ভারসাম্য দেখতে পারবেন। মানুষের চোখ, মুখ, নাক, চিবুক যদি একটি নির্দিষ্ট গোল্ডেন রেশিও বজায় রাখে, তাহলে আমরা সাধারণত তাঁদের চেহারা সুন্দর বলে উপলব্ধি করি।

তবে ডি.এইচ. লরেন্স বলেন, ‘সৌন্দর্য একটি অভিজ্ঞতা, অন্য কিছু নয়। এটি কোনো নির্দিষ্ট প্যাটার্ন বা বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস নয়। এটি এমন কিছু যা অনুভূত হয়, একটি আভা বা সূক্ষ্মতার অনুভূতি।’

এই কারণেই সৌন্দর্য অনেকটাই আপেক্ষিক। আপনার কাছে যা সুন্দর, অন্যের কাছে তা নাও হতে পারে। কারণ মানুষের অনুভূতি একেকজনের একেকরকম। তাছাড়া সৌন্দর্যের ধারণা সময়ের সঙ্গে বদলায়। একসময় যেগুলোকে সুন্দর মনে করা হতো, সেগুলো আজ আর তেমন সুন্দর নাও লাগতে পারে। আবার আজ যা সুন্দর বলে ধরা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেটাও বদলে যেতে পারে।

সৌন্দর্য বোঝার ক্ষেত্রে তাই দুটো দিক কাজ করে। একদিকে আছে বস্তুনিষ্ঠ দিক, অর্থাৎ কোনো জিনিসের গঠন, ভারসাম্য বা বৈশিষ্ট্য। অন্যদিকে আছে ব্যক্তিনিষ্ঠ দিক, মানে ব্যক্তির অনুভূতি, রুচি আর অভিজ্ঞতা। এই দুই দিক একসঙ্গে জড়িত বলেই সৌন্দর্যের নির্দিষ্ট সংজ্ঞা দেওয়া এত কঠিন।

অবজেক্টিভিস্ট বা বস্তুবাদীরা মনে করেন যে সৌন্দর্য একটি স্বাধীন বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ, একটি বস্তু নিজেই সুন্দর হতে পারে। সেই বস্তুর গঠন, আকার বা কিছু বিশেষ গুণের কারণেই তার সৌন্দর্য তৈরি হয়। কেউ সেই সৌন্দর্য বুঝতে পারে, কেউ নাও পারে। উদাহরণ হিসেবে তাঁরা বলেন, একটি পাহাড় স্বভাবগতভাবেই সুন্দর। তার সৌন্দর্য মানুষের দৃষ্টিভঙ্গির ওপর নির্ভর করে না। কেউ যদি সেটাকে সুন্দর না মনে করে, বস্তুবাদীদের মতে সমস্যা পাহাড়ে নয়, দেখার চোখে। অনেক সময় একে ‘রুচির অভাব’ বলেও ব্যাখ্যা করা হয়।

অন্যদিকে, সৌন্দর্য সম্পর্কে হেরাক্লিটাস বলেন, ‘ঈশ্বরের কাছে সবকিছুই সুন্দর, ভালো, সঠিক…।’

দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট বিশ্বাস করতেন যে, ‘সুন্দরের সর্বজনীন মাপকাঠি’ হতে পারে না। তাঁর মতে, সৌন্দর্য পুরোপুরি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তার মতো সাবজেক্টিভিস্ট বা বিষয়বাদীরা মনে করেন, সৌন্দর্য ব্যক্তিগত অনুভূতি, স্বাদ বা মতামতের উপর ভিত্তি করে বা প্রভাবিত হয়। তাঁরা মনে করেন সৌন্দর্য একেকজনের কাছে একেকরকম। ‘ইটস ইন দ্য আই অফ দ্য বিহল্ডার’ অর্থাৎ, এটি যিনি দেখছেন বা অনুভব করছেন তার উপরই শুধু নির্ভরশীল। কোনো জিনিস স্বাধীনভাবেই সুন্দর, তাঁরা এই বিষয়টিকে অস্বীকার করেন।

মানুষের সৌন্দর্যবোধ কিন্তু খুব নতুন কিছু নয়। লাখ লাখ বছর আগেও মানুষ সৌন্দর্যের প্রতি আকৃষ্ট ছিল। আদিম মানুষের তৈরি প্রথম দিকের হাতিয়ারগুলোও অনেক সময় প্রতিসম ও সুন্দর করে বানানো হতো। গবেষকেরা খুঁজে দেখেছেন কেন তাঁরা এত সময় দিয়ে হাতিয়ার সুন্দর করত। স্পষ্ট কোনো কারণ পাওয়া যায়নি। তাই ধারণা করা হয়, সেগুলো তাঁদের কাছে সুন্দর লাগত বলেই তাঁরা সেভাবে বানাত।

এই কারণেই সৌন্দর্য অনেকটাই আপেক্ষিক। আপনার কাছে যা সুন্দর, অন্যের কাছে তা নাও হতে পারে। কারণ মানুষের অনুভূতি একেকজনের একেকরকম। তাছাড়া সৌন্দর্যের ধারণা সময়ের সঙ্গে বদলায়। একসময় যেগুলোকে সুন্দর মনে করা হতো, সেগুলো আজ আর তেমন সুন্দর নাও লাগতে পারে। আবার আজ যা সুন্দর বলে ধরা হচ্ছে, ভবিষ্যতে সেটাও বদলে যেতে পারে।

যদিও সৌন্দর্যের সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেকরকম। একেক প্রেক্ষাপটে একেকরকম এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেটি পরিবর্তিতও হয়। তবুও, কিছু জিনিস সেই প্রাচীন কাল থেকে আজ অবধি বেশিরভাগ মানুষের কাছেই সুন্দর ছিল এবং আছে। সেগুলোর মধ্যে গোল্ডেন রেশিও, প্রতিসাম্য বা ফ্র্যাক্টাল প্যাটার্ন প্রাচীন কাল থেকে আজ পর্যন্ত শিল্প, সংস্কৃতি ও স্থাপত্যে পাওয়া যায়।

এক্ষেত্রে, বেশিরভাগ মানুষ কেন এই জাতীয় জিনিসগুলোকে সুন্দর মনে করছে? বলা হয়ে থাকে, এই যে রেশিও, প্রতিসাম্য বা ফ্র্যাক্টাল প্যাটার্ন, এগুলো সবই প্রকৃতির মধ্যে নিহিত। এগুলো আমাদের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে কারণ এগুলো আমাদের পূর্বপুরুষদের বেঁচে থাকতে সাহায্য করেছিল।

ফ্র্যাক্টাল প্যাটার্ন কিংবা গোল্ডেন রেশিও প্রকৃতিতে অহরহ পাওয়া যায়। যেমন: শামুকের খোলস, ফুল, ফল, সমুদ্রের ঢেউ, মেঘ, ইত্যাদি। বেঁচে থাকার জন্যে এই জিনিসগুলো এবং ঘটনাগুলো সঠিকভাবে শনাক্ত এবং মূল্যায়ন করা অত্যাবশ্যক ছিল। এরকম ভিন্ন ভিন্ন প্যাটার্নের দিকে আদিম মানুষদের সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখতে হতো। আরেকটি ব্যাপক বিষয় হলো প্রতিসাম্য। প্রকৃতি প্রতিসমতা পছন্দ করে। বিভিন্ন প্রাণী, ডালপালা, গাছ, পাতা এবং ফুল সবই প্রতিসমভাবে বেড়ে ওঠে।

আদিম মানুষের কাছে প্রতিসম শিংওয়ালা একটি হরিণ সম্ভবত সুস্থ, পুষ্টিকর মাংসের উৎস ছিল। অপরদিকে, একটি বিকৃত আকৃতির প্রাণী খাওয়া তাঁর জন্যে নিরাপদ নাও হতে পারত। একইভাবে, মানুষের মুখ যদি প্রতিসম হতো, হয়ত তাহলে তাকে স্বাস্থ্যবান ও সন্তান ধারণের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী হিসেবে দেখা হতো। প্রাণী ও উদ্ভিদের জগতে প্রতিসাম্য খুবই সাধারণ বিষয়। এই পরিচিত গড়নগুলো আমাদের মস্তিষ্ক সহজে চিনতে পারে। এতে আমাদের পূর্বপুরুষরা পরিবেশ বুঝতে এবং বিপদের সময় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।

এ কারণে বলা যায়, মানুষের সৌন্দর্যবোধ অনেকটাই লাখ লাখ বছর ধরে প্যাটার্ন চিনতে পারার ক্ষমতা থেকে তৈরি হয়েছে। তবে এখন সৌন্দর্যের অনুভূতি শুধু এটুকুর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের মধ্যে সৌন্দর্যের প্রতি এক ধরনের সহজাত টান গড়ে উঠেছে। মস্তিষ্কের অন্য অনেক ক্ষমতা নষ্ট হয়ে গেলেও এই অনুভূতিটি অনেক সময় থেকে যায়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, আলঝেইমার রোগীদের কয়েকটি ছবিকে সুন্দর থেকে কম সুন্দর, এই ক্রমে সাজাতে বলা হলে, দুই সপ্তাহ পর ছবিগুলো তারা ভুলে গেলেও সৌন্দর্যের একই ক্রম আবার ঠিক করে দিতে পেরেছেন।

তবে মানুষ একঘেয়েমি পছন্দ করে না। আই ট্র্যাকিং সফটওয়্যার এবং স্কিন সেন্সর দিয়ে কিছু পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, বিস্তীর্ণ, নিস্তেজ একঘেয়ে পরিবেশ আমাদের মধ্যে বিরক্তি এবং অস্বস্তি বোধ তৈরি করে। অন্যদিকে, বেশ কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, আশেপাশের সুন্দর পরিবেশ আমাদের স্বাস্থ্য, আচরণ, কগনিটিভ ফাংশন এবং মেজাজ ভালো রাখতে সাহায্য করে। এটা তো সহজেই বোঝা যায় যে, আমাদের জীবনে চারপাশের পরিবেশের সৌন্দর্যের প্রভাব কতটা। তবে সৌন্দর্য কি শুধু ভালো পরিণতিই নিয়ে আসে? সৌন্দর্য নিজে সহজাতভাবে নিরপেক্ষ। তবে যুগ যুগ ধরে একে ঘিরে ব্যাপক অপরাজনীতি এবং শোষণও ঘটেছে।

দার্শনিক ইমানুয়েল কান্ট বিশ্বাস করতেন যে, ‘সুন্দরের সর্বজনীন মাপকাঠি’ হতে পারে না। তাঁর মতে, সৌন্দর্য পুরোপুরি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা। তার মতো সাবজেক্টিভিস্ট বা বিষয়বাদীরা মনে করেন, সৌন্দর্য ব্যক্তিগত অনুভূতি, স্বাদ বা মতামতের উপর ভিত্তি করে বা প্রভাবিত হয়।

সৌন্দর্যের ক্ষেত্রে হেজেমনিক বা আধিপত্যবাদী কিছু ধারণা বরাবরই যারা এগুলোর বাইরে তাদের পীড়িত করেছে। আবার, ইউরোকেন্দ্রিক আধিপত্যের ফল হচ্ছে, ‘সাদা চামড়া মানেই সুন্দর’-এর ধারণা। যার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে বিলিয়ন ডলারের ত্বক ফর্সাকরণের শিল্প। এছাড়া, এটি বর্ণবাদের মতো নিকৃষ্ট বিষয়েরও জন্ম দিয়েছে। গণমাধ্যম, বিজ্ঞাপন, চকচকে সব ফ্যাশন ম্যাগাজিনে মানুষের বাহ্য রূপই সবকিছু, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এরকম ধারণার প্রচার করা হচ্ছে। মানুষের মধ্যে এমন ভয় ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে যে, রূপ বা চামড়ার রঙ নষ্ট হলে সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে।

চলচ্চিত্র, বিজ্ঞাপন কিংবা সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম মানুষের মধ্যে নিজের শরীর নিয়ে অসন্তুষ্টি, কম আত্মসম্মান এবং অবাস্তব শারীরিক সৌন্দর্যের ধারণা তৈরিতে রেখেছে বিশেষ ভূমিকা। দেখা গেছে মহিলা দর্শকদের মধ্যে খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তনের সাথেও এগুলো সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। অন্যদিকে, মিডিয়া পুরুষদের জন্যেও অবাস্তব সৌন্দর্যের কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে যেমন, লম্বা, চর্বিহীনতা, পেশীবহুলতা, ধারালো চোয়াল, ইত্যাদি। নারী-পুরুষ উভয়ই এই আধিপত্যবাদী সৌন্দর্যের মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হওয়ার জন্যে যেসব শরীর পরিমার্জনের ভেতর দিয়ে যাচ্ছেন, তা সবসময়ই যে ভালো ফলাফল আনছে তা বলা যাবে না, অনেক ক্ষেত্রে এগুলো বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি করছে।

অন্যদিকে, সৌন্দর্য ভিত্তিহীন পক্ষপাতের মতো কিছু ফলাফল তৈরি করছে। কিছু গবেষণা বলছে, সুন্দর হিসেবে বিবেচিত ব্যক্তিদের মানুষ সাধারণত বেশি বুদ্ধিমান এবং আরও বিশ্বস্ত মনে করে। এছাড়া, এটি চাকরি পাওয়ার এবং ভালো বেতন পাওয়ার সম্ভাবনাকেও বাড়িয়ে তুলে।

কিছু মক-জুরি স্টাডিতে দেখা যায়,, শারীরিকভাবে আকর্ষণীয় আসামিদের দোষী সাব্যস্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিছু ক্ষেত্রে কম। আর দোষী সাব্যস্ত হলেও কম আকর্ষণীয় ব্যক্তিদের তুলনায় তাদের হালকা সাজা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তবে এর বিপরীত প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়েছিল, যখন অভিযুক্ত অপরাধটি ছিল প্রতারণা বিষয়ক। ধারণা করা হয় বিচারকরা এক্ষেত্রে মনে করেন, আসামি আকর্ষণীয়তাকে তার অপরাধের সুবিধার জন্যে ব্যবহার করে।

এছাড়া, চেহারার সৌন্দর্যের উপর ভিত্তি করে অন্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণের উপর গড়ে উঠেছে লুকিজমের মতো বাজে একটি চর্চা। যা দক্ষিণ কোরিয়ায় বেশ প্রকট আকার ধারণ করেছে এবং এর উপর ভিত্তি করে সেখানে গড়ে উঠেছে প্লাস্টিক সার্জারির এক বিরাট শিল্প।

সৌন্দর্য কী বা এটি কীসের উপর ভিত্তি করে তৈরি তা নিয়ে বিতর্ক ছিল এবং সামনেও থাকবে। তবে, মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট্য হচ্ছে সৌন্দর্যের দিকে ধাবিত হওয়া। পিথাগোরাস মনে করতেন, আত্মার নৈতিক শিক্ষার জন্য সৌন্দর্য দরকারি। সৌন্দর্যের মানুষের প্রয়োজন না থাকলেও, মানুষের সৌন্দর্য প্রয়োজন। তাই সৌন্দর্য নিয়ে ভাবুন, অন্যকেও ভাবান।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত