leadT1ad

ভবঘুরে পরিচয়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকা সিরিয়াল কিলাররা

শুধু সম্রাটই নয়, ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, পৃথিবীর অনেক নৃশংস সিরিয়াল কিলার ‘ভবঘুরে’ কৌশল ব্যবহার একের পর এক খুন করেছেন।

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১: ১৩
স্ট্রিম গ্রাফিক

ঢাকার সাভারে পরিত্যক্ত পৌরসভা কমিউনিটি সেন্টারে জোড়া মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মশিউর রহমান খান সম্রাট (৪০) নামে ‘ভবঘুরে’ এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাভার মডেল থানার আশপাশে প্রায় সময় ঘুরে বেড়ানো সম্রাট নিজেকে ‘কিং সম্রাট এবং মশিউর রহমান খান সম্রাট‘ বলে দাবি করছে পুলিশের কাছে।

পুলিশের দাবি, সম্রাট প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই দুই হত্যাকাণ্ডসহ মোট ছয়টি হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। শুধু সম্রাটই নয়, ইতিহাসের পাতা ওল্টালে দেখা যায়, পৃথিবীর অনেক নৃশংস সিরিয়াল কিলার ‘ভবঘুরে’ কৌশল ব্যবহার একের পর এক খুন করেছেন।

অ্যাঞ্জেল মাতুরিনো রেসেন্ডিজ

নব্বইয়ের দশকে আমেরিকার এক রেললাইন সংলগ্ন বাসিন্দাদের কাছে আতঙ্কের নাম ছিল ‘রেলরোড কিলার’। মেক্সিকান বংশোদ্ভূত এই খুনির আসল নাম ছিল অ্যাঞ্জেল মাতুরিনো রেসেন্ডিজ। তাঁর অপরাধের ধরণ ছিল অত্যন্ত ধূর্ত প্রকৃতির। রেসেন্ডিজ অবৈধভাবে মালবাহী ট্রেনের বগিতে চড়ে আমেরিকার এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করত। এফবিআই-এর জন্য তাঁকে ধরা ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ।

কারণ পুলিশ যখন টেক্সাসে কোনো লাশের তদন্ত শুরু করত, রেসেন্ডিজ তখন হয়ত কেন্টাকিতে। এই ভয়ংকর অপরাধী মূলত রেললাইনের খুব কাছের বাড়িগুলোকে টার্গেট করতো। খুন করে আবার চলন্ত মালবাহী ট্রেনে চেপে অন্ধকারে মিলিয়ে যাওয়াই ছিল তাঁর কৌশল। তার এই ‘ট্রান্সিয়েন্ট’ বা ভাসমান গতির কারণেই আমেরিকার পুলিশ দীর্ঘদিন বুঝতেই পারেনি যে এই খুনগুলো একজন ব্যক্তিই করছে।

জানা যায়, রেসেন্ডিজ অন্তত ১৫ থেকে ২৩ জন মানুষকে হত্যা করেছে বলে ধারণা করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ১৯৯৯ সালে এই সিরিয়াল কিলার আত্মসমর্পণ করে। ২০০৬ সালের ২৭ জুন তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

টমি লিন সেলস

টমি লিন সেলস ছিলেন আমেরিকার অপরাধ জগতের এক নৃশংস ‘জিপসি’, যাকে বলা হতো ‘কোস্ট টু কোস্ট কিলার’। আক্ষরিক অর্থেই সে ছিল গৃহহীন। তাঁর জীবন ছিল একটি ব্যাকপ্যাকের ভেতর বন্দী। এই ভবঘুরে জীবনের কারণে তিনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল অনেকদিন।

টমি লিন সেলসের পরবর্তী শিকার কে হবে তা অনুমান করাও ছিল কঠিন। কখনো শিশু, কখনো বৃদ্ধ, আবার কখনো পুরো পরিবারকে হত্যা করার অভিযোগ আছে তাঁর নামে। জীর্ণ পোশাক আর অসহায়ভাব দেখে মানুষ তাঁকে সন্দেহ করত না, আর এই সুযোগটাই কাজে লাগিয়েছিল এই সিরিয়াল কিলার।

তবে এই ভয়ংকর খুনির ধরা পড়েছিল ১০ বছরের এক সাহসী শিশুর বুদ্ধিমত্তার কাছে। ১৯৯৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর টেক্সাসের ডেল রিও শহরে সেলস একটি ট্রেলার হাউসে হানা দিয়ে ১৩ বছরের কাইলিন হ্যারিস এবং তাঁর বান্ধবী ১০ বছরের ক্রিস্টাল সার্লসের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। কাইলিন ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং সেলস ক্রিস্টালকেও গলা কেটে মৃত ভেবে ফেলে রেখে যায়। কিন্তু ছোট্ট ক্রিস্টাল তখনো বেঁচে ছিল। সে বুঝতে পেরেছিল, নড়াচড়া করলেই মৃত্যু নিশ্চিত, তাই সে নিঃশ্বাস বন্ধ করে মৃতের মতো পড়ে থাকে।

খুনি চলে যাওয়ার পর, রক্তাক্ত অবস্থায় সে প্রায় ৩০০ গজ হেঁটে প্রতিবেশীর কাছে সাহায্য চায়। পরবর্তীতে হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়া অবস্থায় সে পুলিশকে খুনির এতটাই নিখুঁত বর্ণনা দেয় যে, পুলিশ দ্রুততম সময়ে সেলসকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। এই শিশুটির সাক্ষ্যেই শেষ পর্যন্ত ২০১৪ সালে এই ভয়ংকর খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

হেনরি লি লুকাস

ওটিস টুল নামের আরেক অপরাধীর সঙ্গে ভাঙাচোরা গাড়িতে করে আমেরিকার হাইওয়েগুলোতে ঘুরে বেড়ানোই ছিল তাঁর কাজ। তাঁদের কোনো গন্তব্য ছিল না, যেন অনন্ত রাস্তাই ছিল ঘর। সত্তর ও আশির দশকে আমেরিকার এক রাজ্যের পুলিশের সঙ্গে অন্য রাজ্যের পুলিশের তথ্যের আদান-প্রদান আজকের মতো এত সহজ ছিল না। লুকাস এই সুযোগটিই পুরোপুরি কাজে লাগায়। ভবঘুরে স্বভাবের হেনরি লি এক রাজ্যে খুন করে সহজেই হাজার মাইল দূরে অন্য রাজ্যে পালিয়ে যেতে পারত।

তবে লুকাসকে নিয়ে বিভ্রান্তির শেষ নেই। ধরা পড়ার পর শত শত খুনের কথা স্বীকার করলেও তদন্তে প্রমাণ হয় যে, জেলের সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেক মিথ্যা স্বীকারোক্তি দিয়েছিল সে। তবে এই সাইকো কিলার যে অন্তত ১১টি খুনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত, তা আদালতে প্রমাণিত। তাঁর জরাজীর্ণ চেহারা এবং ঠিকানাবিহীন জীবনের কারণে সে ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকত। এভাবে সে দীর্ঘদিন আইনের ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিল।

Ad 300x250

সম্পর্কিত