leadT1ad

অ্যাডভেঞ্চার বই পড়েননি কখনো, নিজেই এখন জীবন্ত অ্যাডভেঞ্চার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ২০: ৩০
বাংলা চ্যানেল সফলভাবে পাড়ি দিয়েছেন জাহিদুল ইসলাম জাহিদ।

জীবনে একটিও অ্যাডভেঞ্চার বই পড়েননি জাহিদুল ইসলাম জাহিদ। কখনো ছুঁয়ে দেখেননি মাসুদ রানা, তিন গোয়েন্দা কিংবা বর্ন টু রান, ফাইন্ড আ ওয়ের মতো বই। তবু কীভাবে কীভাবে যেন সাঁতার ও দীর্ঘ দৌড় তাঁর জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছে ওতপ্রোতভাবে।

বগুড়ার তরুণ জাহিদ বলছিলেন, ‘যে কাজগুলো একদিন একান্ত অনিচ্ছায়, কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই শুরু করেছিলাম, সেই কাজগুলোই আমাকে সম্মান এনে দিয়েছে। সেই কাজগুলোই আমার জীবনের সেরা অর্জন।’

সেটা কেমন? জিজ্ঞেস করতেই জাহিদ জানান, গতকাল (১৭ জানুয়ারি) তিনি ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার সাঁতার কেটে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন আরও ৩৪ জন। ছিলেন ২জন নারীও। আর এটি ছিল ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের ১৯তম আয়োজন।

‘কোনো পরিকল্পনা ছাড়াই সাঁতার ও ম্যারাথন শুরুর কথা বলছিলেন আপনি। সেটা কত বছর আগে?’

জাহিদ স্বপ্নালু দৃষ্টি মেলে অতীতে তাকান। বলেন, সে প্রায় ছয়-সাত বছর আগের কথা। ২০০০ সালের একদিন হঠাৎ মনে হলো, জীবনে সুস্থ থাকাটা জরুরি। যে কয়দিন সৃষ্টিকর্তা আয়ু রেখেছেন, সে কয়দিন সুস্থভাবে বেঁচে থাকতে পারি। অসুস্থ হয়ে, কারও ওপর নির্ভরশীল হয়ে যেন জীবনের শেষদিনগুলো কাটাতে না হয় সেই উদ্দেশ্যেই ব্যায়াম, দৌড় ও সাঁতার শুরু করি।

‘তার মানে একেবারে ব্যক্তিগত উদ্যোগ ও অনুপ্রেরণায়…?’

জাহিদ লাজুক হেসে বললেন, হ্যাঁ, ব্যক্তিগত উদ্যোগেই শুরু করেছিলাম। আমার বাবা মারা গেছেন ডায়াবেটিসে। ভেবে দেখলাম, দৌড়ালে হাইপার টেনশন, ব্লাড সুগার, রক্তচাপ সব নিয়ন্ত্রণে থাকে। তারপর বিভিন্ন জায়গায় দৌড়াতে দৌড়াতে, সাঁতরাতে সাঁতরাতে মনে হলো, পরিবেশ, প্রকৃতি ও প্রাণ সম্পর্কেও মানুষকে সচেতন করা উচিত। এভাবেই সারা দেশে ম্যারাথন আর সাঁতার শুরু করলাম।

গল্পে গল্পে জাহিদের কাছ থেকে জানা গেল, এর আগে তিনি শুভলং চ্যানেলে (কাপ্তাই লেকে) সাঁতার কেটে ১৪ কিলোমিটার পথ সফলভাবে পাড়ি দিয়েছেন। কুতুবদিয়া চ্যানেল (৭ কিলোমিটার) পাড়ি দিয়েছেন এবং পদ্মা নদীতে ৭ কিলোমিটার সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ নিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন।

এ ছাড়া এই তরুণ ১০০ কিলোমিটার আলট্রা রান, চারটি ফুল ম্যারাথন, ৩০টির বেশি হাফ ম্যারাথন এবং ৫০টিরও বেশি সাধারণ ম্যারাথন সম্পন্ন করেছেন।

জাহিদের কাছে জানতে চাই, এই শীতের মধ্যে সাঁতার, অভিজ্ঞতা কেমন ছিল? তিনি মৃদু হেসে বলেন, ‘টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ থেকে সাঁতার শুরু করেছিলাম, শেষ করেছি সেন্টমার্টিনে গিয়ে। বাংলা চ্যানেল সাঁতারকে বলা হয় বাংলাদেশের সর্বোচ্চ অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টস। এটি শুধু সাধারণ সাঁতার প্রতিযোগিতা নয়, এটি মানসিক শক্তিরও বিষয়। এই মানসিক শক্তিই মানুষের জীবনে যেকোনো অর্জনের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখে।

ভবিষ্যতের স্বপ্নের কথা জানতে চাইতেই জাহিদ আবার তাঁর স্বপ্নের দৃষ্টি মেলে দেন। তারপর মৃদু কণ্ঠে বলেন, ‘আমি কোনো পেশাদার স্পোর্টসম্যান নই। পেশাগত জীবনে আমি একজন কেমিস্ট। ভালোবেসেই সাঁতার কাটি এবং দৌড়াই। এর মাধ্যমে আমি মানুষকে সচেতন করতে চাই। মানুষ যেন নদী, সমুদ্র, গাছ ও প্রকৃতি রক্ষায় সচেতন হয়। মানুষ যেন সচেতন হয় নিজের স্বাস্থ্য রক্ষার প্রতিও।

সামনে আয়রনম্যান চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিতে চান জাহিদ। তিনি বলেন, আয়রনম্যান প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে হলে একটা নির্দিষ্ট পর্যায়ের সুইমিং, রানিং ও সাইকেলিং সম্পন্ন করতে হয়। এখন সেই প্রস্তুতিই নিচ্ছি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত