স্ট্রিম ডেস্ক

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে কিছু নাম চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তাঁদের ছাড়া আমাদের বিজয়ের গল্প যেন অসম্পূর্ণ। তেমনই এক নাম জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী। পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তিনি এতটাই ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁকে ডাকত ‘পাপা টাইগার’ নামে। রাশভারী ব্যক্তিত্ব, ঠোঁটের ওপর সেই বিখ্যাত গোঁফ আর ইস্পাতকঠিন নেতৃত্বের জন্য তিনি ছিলেন সবার কাছে পরিচিত ও শ্রদ্ধার পাত্র। ১৯৭১ সালে তাঁর রণকৌশল আর দক্ষ নেতৃত্বেই একদল সাধারণ ছাত্র-জনতা পেশাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করতে সক্ষম হয়েছিল।
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এম এ জি ওসমানী। পৈতৃক বাড়ি সিলেটের দয়ামীরে। বাবা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে বড় হন ওসমানী। পড়াশোনা করেন কটন স্কুল ও সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে যোগ দেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে।
মাত্র ২৩ বছর বয়সে ওসমানী ব্রিটিশ আর্মির সবচাইতে কম বয়সী মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজের মেধার প্রমাণ দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কিন্তু শুরু থেকেই বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণ মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে তিনি সবসময় চাইতেন সেনাবাহিনীতে বাঙালির সংখ্যা বাড়ুক।
১৯৫১ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৭ সালে অবসর নেন।

২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকাতেই ছিলেন ওসমানী। পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বছর চারেক আগে অবসর নেওয়া ওসমানীর সামরিক দক্ষতা ও দূরদর্শিতা সম্পর্কে পাকিস্তান অবগত ছিল। তাই সেই রাতেই তাঁকে হত্যার চেষ্টায় হন্যে হয়ে খোঁজে পাকবাহিনীর এক কমান্ডো। কিন্তু একেবারেই ভাগ্যগুণে অনেকটা অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান ওসমানী।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওসমানী সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেন৷ সেই ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে ওসমানীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন৷
উল্লেখ্য ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি ও সরকার গঠন করা হয় এবং পরবর্তীকালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার, ওসমানীকে করা হয় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
ওসমানী পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করেন এবং ‘জেড ফোর্স’, ‘এস ফোর্স’ ও ‘কে ফোর্স’ নামে তিনটি ব্রিগেড গঠন করেন। তাঁর নির্দেশেই গড়ে ওঠে দুর্ধর্ষ গেরিলা বাহিনী। তিনি জানতেন, সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আধুনিক অস্ত্রের সাথে পেরে ওঠা কঠিন হবে। তাই তিনি বেছে নিয়েছিলেন ‘হিট অ্যান্ড রান’ বা গেরিলা পদ্ধতি।
স্বাধীনতার পর ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন। ১৯৭২ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন এই অকুতোভয় বীর। এরপর তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে ‘বাকশাল’ বা একদলীয় সরকার ব্যবস্থার বিরোধিতা করে তিনি যুগপৎ সংসদ সদস্য পদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্য পদ ত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ তাঁকে রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করেন। কিন্তু ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার জাতীয় নেতার হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পদত্যাগ করেন। আজীবন অকৃতদার ওসমানী মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে কিছু নাম চিরকাল উজ্জ্বল হয়ে থাকবে। তাঁদের ছাড়া আমাদের বিজয়ের গল্প যেন অসম্পূর্ণ। তেমনই এক নাম জেনারেল আতাউল গনি ওসমানী। পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে তিনি এতটাই ভয় ধরিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁকে ডাকত ‘পাপা টাইগার’ নামে। রাশভারী ব্যক্তিত্ব, ঠোঁটের ওপর সেই বিখ্যাত গোঁফ আর ইস্পাতকঠিন নেতৃত্বের জন্য তিনি ছিলেন সবার কাছে পরিচিত ও শ্রদ্ধার পাত্র। ১৯৭১ সালে তাঁর রণকৌশল আর দক্ষ নেতৃত্বেই একদল সাধারণ ছাত্র-জনতা পেশাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে নাস্তানাবুদ করতে সক্ষম হয়েছিল।
১৯১৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এম এ জি ওসমানী। পৈতৃক বাড়ি সিলেটের দয়ামীরে। বাবা খান বাহাদুর মফিজুর রহমান ছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা। ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশে বড় হন ওসমানী। পড়াশোনা করেন কটন স্কুল ও সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরে আলীগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক শেষ করে যোগ দেন ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে।
মাত্র ২৩ বছর বয়সে ওসমানী ব্রিটিশ আর্মির সবচাইতে কম বয়সী মেজর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে নিজের মেধার প্রমাণ দিয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের পর তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। কিন্তু শুরু থেকেই বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানি শাসকদের বৈষম্যমূলক আচরণ মেনে নিতে পারেননি। এ কারণে তিনি সবসময় চাইতেন সেনাবাহিনীতে বাঙালির সংখ্যা বাড়ুক।
১৯৫১ সালে ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের প্রথম ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক হিসেবে চট্টগ্রাম সেনানিবাস প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৬৭ সালে অবসর নেন।

২৫ মার্চ কালরাতে ঢাকাতেই ছিলেন ওসমানী। পাকিস্তান সেনাবাহিনী থেকে বছর চারেক আগে অবসর নেওয়া ওসমানীর সামরিক দক্ষতা ও দূরদর্শিতা সম্পর্কে পাকিস্তান অবগত ছিল। তাই সেই রাতেই তাঁকে হত্যার চেষ্টায় হন্যে হয়ে খোঁজে পাকবাহিনীর এক কমান্ডো। কিন্তু একেবারেই ভাগ্যগুণে অনেকটা অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে যান ওসমানী।
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ওসমানী সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। তাজউদ্দিন আহমদ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে ভাষণ দেন৷ সেই ভাষণে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবকাঠামো গঠনের কথা উল্লেখ করে ওসমানীকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান সেনাপতি হিসেবে ঘোষণা দেন৷
উল্লেখ্য ১০ এপ্রিল স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র জারি ও সরকার গঠন করা হয় এবং পরবর্তীকালে ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে সরকার শপথ গ্রহণ করে। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গঠিত হয় মুজিবনগর সরকার, ওসমানীকে করা হয় মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি।
ওসমানী পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করেন এবং ‘জেড ফোর্স’, ‘এস ফোর্স’ ও ‘কে ফোর্স’ নামে তিনটি ব্রিগেড গঠন করেন। তাঁর নির্দেশেই গড়ে ওঠে দুর্ধর্ষ গেরিলা বাহিনী। তিনি জানতেন, সম্মুখযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আধুনিক অস্ত্রের সাথে পেরে ওঠা কঠিন হবে। তাই তিনি বেছে নিয়েছিলেন ‘হিট অ্যান্ড রান’ বা গেরিলা পদ্ধতি।
স্বাধীনতার পর ওসমানী বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জেনারেল পদে উন্নীত হন। ১৯৭২ সালে সামরিক বাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন এই অকুতোভয় বীর। এরপর তিনি শেখ মুজিবুর রহমানের মন্ত্রিসভায় মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালে ‘বাকশাল’ বা একদলীয় সরকার ব্যবস্থার বিরোধিতা করে তিনি যুগপৎ সংসদ সদস্য পদ এবং আওয়ামী লীগের সদস্য পদ ত্যাগ করেন। ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকাণ্ডের পর খন্দকার মোশতাক আহমদ তাঁকে রাষ্ট্রপতির প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করেন। কিন্তু ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে চার জাতীয় নেতার হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পদত্যাগ করেন। আজীবন অকৃতদার ওসমানী মৃত্যুবরণ করেন ১৯৮৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি।
.png)

প্রায় ৪০০ বছরের পুরোনো ঢাকা নগরীও এমন অসংখ্য পরিবর্তনের সাক্ষী। একসময় ভারতের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে নবাব কিংবা সমাজের উচ্চবিত্তরা ঢাকায় আসেন। তাঁদের সঙ্গে আসেন নানা ধরনের কারিগর, শিল্পী ও পেশাজীবীরাও। ফলে কলকাতা ও উত্তর ভারতের অনেক পেশা একসময় ঢাকায় প্রচলিত ছিল। সময়ের আবর্তে সেই পেশাগুলোর অধিকাংশই হারিয়ে
০৯ আগস্ট ২০২৬
‘যুদ্ধ’ শব্দটার সঙ্গে আমাদের পরিচয় অনেক দিনের। টিভি খুললেই যুদ্ধের খবর, ফেসবুকে ঢুকলেই ধ্বংসস্তূপ, আগুন আর মানুষের কান্নার ছবি। এত বেশি দেখতে দেখতে আমরা যেন অভ্যস্ত হয়ে গেছি। নিউজফিড স্ক্রল করতে এখন আর আঙুল থেমে যায় না।
০৬ আগস্ট ২০২৬
চব্বিশের গণ অভ্যুত্থান নিয়ে এরই মধ্যে বেশকিছু গবেষণা হয়েছে। আজকের লেখায় গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী তিনটি গবেষণা নিয়ে আলোচনা করব। গবেষণাগুলোতে এই গণঅভ্যুত্থানকে তিনটি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষকরা বিশ্লেষণ করেছেন।
০৫ আগস্ট ২০২৬
১৯৭৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম প্রকাশিত হয় মঈদুল হাসানের বই ‘মূলধারা ৭১’। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে এর দ্বিতীয় সংস্করণের সপ্তম মুদ্রণ প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও বইটির গুরুত্ব কমেনি। বরং নতুন প্রজন্মের কাছে এটি আরও বেশি প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে।
২৯ জুলাই ২০২৬