সৈকত আমীন

ধরুন, আপনি একটা দলের প্রধান নেতা। কিন্তু লোকে আপনাকে নেতা হিসেবে চেনে না। নেতার আসনে বসেছেন, অথচ ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে স্মৃতিশক্তিবান মানুষটাও আপনার নাম মনে করতে পারছে না। ইশশ, কী বেদনা! কী বেদনা!! কিন্তু দমে যাবেন? না, না। দমে গেলে তো স্কটিশ রাজা রবার্ট ব্রুসের মাকড়সার (রবার্ট ব্রুস এখন থাকলে হয়তো জালের বদলে ওয়েবসাইটই দেখতেন) ওয়েবসাইট বানানোর অধ্যবসায়কে অপমান করা হবে।
তাই আপনি নিলেন নতুন পথ। আগে চাইতেন মানুষ আপনাকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে চিনুক। এখন চান, যেভাবেই হোক মানুষ অন্তত চিনুক। সেটা রাজনৈতিক মহিরুহ না হোক, ইউটিউব শর্টসের কৌতুক চরিত্র হলেও ক্ষতি কী!
এবং অবশেষে আপনি সফল হলেন। মানুষ আপনাকে চিনল ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ভাস্কর্য ভাঙার শিল্পী’ হিসেবে। মাঝেমধ্যে আবার ‘মানবিক বিবাহের প্রবক্তা’—অর্থাৎ ‘রিসোর্ট রাজ’ হিসেবেও চেনে।
কিন্তু মানুষের তো একটাই সমস্যা—ভুলোমনা। আজ ভাস্কর্য ভাঙলেন বলে সবাই বলল ‘সাবাস হুজুর!’ কালকে সবাই ভুলে গিয়ে আবার বিড়ালের ভিডিও দেখা শুরু করল। এভাবে মানুষের ভুলে যাওয়া আপনাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। তখন আপনি ভাবলেন, ‘মানুষ আমাকে ভুলে গেলে চলবে কেন? আমিও তো মানুষকে ভুলতে দিচ্ছি না।’ তাই মানুষ যেই ফেসবুকে ডুবে থাকে, আপনি সেই ফেসবুকের বিরুদ্ধেই থানায় জিডি করে এলেন।
জিডিতে লিখলেন, ‘আমার আইডি বন্ধ করে দিয়েছে, এতে আমি সামাজিক, রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।’ পুলিশ সাহেব অবাক হয়ে ভাবলেন, দেশে এত সন্ত্রাস, খুনোখুনি, চুরি-ডাকাতি বাদ দিয়ে আজকাল রাজনীতিবিদদের মামলা হলো ফেসবুক আনব্লক। একেই বলে ডিজিটাল বিপ্লব!
কিন্তু বুঝতে পারলেন—শুধু চিল্লাচিল্লি করে মার্কেট পাওয়া যায় না। ফেসবুক-জিডি করে ইউটিউব ভিউ পাওয়া যায়, কিন্তু ভোট পাওয়া যায় না। তাই আপনাকে আনতে হলো নতুন বুলডোজার। একেবারে দারুণ একটা ঘোষণা দিলেন:
‘নির্বাচন? ওসব বাদ দিন। দেশে ভোট হবে ভাস্কর্য রাখব না ভাঙব—এই নিয়ে।’
ব্যালটে থাকবে দুটি অপশন:
১. ভাস্কর্য রাখব
২. ভাস্কর্য ভাঙব
যেখানে কেউ যদি ভুল করে ১ নম্বরে টিক মারে, আপনি সোজা গিয়ে ভোটকেন্দ্রটাই ভেঙে দেবেন।
তারপর আবার বললেন, শহিদের নামে ভাস্কর্যও চলবে না। বাহ! এবার আপনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন। নতুন পেশা শুরু হতে পারে, ‘ভাস্কর্য কনসালট্যান্সি সার্ভিস’। কেউ ভাস্কর্য করতে চাইলে আপনি গিয়ে বলবেন, ‘ভাই, প্লিজ এইটা কইরেন না, ভাঙতে অনেক খরচ পড়ে যাবে। আমার ভাঙা লিস্ট এখন ফুল হয়ে গেছে।’
আরেকটা চমৎকার কাজও করলেন। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি একে অপরকে যতটা ঘৃণা করে, আপনি তাঁদের দুজনেরই ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি দিয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরি করলেন। মুজিব আর জিয়া জীবনে অনেক কিছুতে একমত হননি, কিন্তু আপনার ভাস্কর্য ভাঙা তালিকায় গিয়ে অবশেষে এক দলে ঢুকে গেলেন। ইতিহাসে এটাও একধরনের জাতিসংঘ!
তবুও সমস্যা রয়ে যায়। যেদিন আপনার বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার কথা, সেইদিন অন্য কোনো নেতা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে আক্রান্ত হয়ে বেশি ফুটেজ কুড়িয়ে নেন। আপনি যখন ভাস্কর্য ভাঙার টুর্নামেন্ট করেন, তখন হাইকোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে লেডি জাস্টিসিয়া আপনার আলো কেড়ে নেয়। এ এক দুঃসহ প্রতিযোগিতা—কে কার চেয়ে বেশি ভাঙবে আর কে কার চেয়ে বেশি ফুটেজ পাবে।
কিন্তু আপনি হাল ছাড়েন না। আপনি জানেন, রাজনীতি মানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনসভা নয়—ফেসবুক স্ট্যাটাস, ভাস্কর্য ভাঙা স্লোগান আর রিসোর্ট-এডভেঞ্চারের লাইভ টেলিকাস্ট।
দিন শেষে আপনার অধ্যবসায় দেখে মনে হয়, রবার্ট ব্রুস বেঁচে থাকলে খুশি হয়ে বলতেন, ‘আহা, আমি যদি এক শবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই, তাহলে আবার চেষ্টা করি। কিন্তু ভাই? আপনি তো ব্যর্থ হলেও নতুন ভাস্কর্য খুঁজে নেন!’

ধরুন, আপনি একটা দলের প্রধান নেতা। কিন্তু লোকে আপনাকে নেতা হিসেবে চেনে না। নেতার আসনে বসেছেন, অথচ ভোটকেন্দ্রে দাঁড়িয়ে সবচেয়ে স্মৃতিশক্তিবান মানুষটাও আপনার নাম মনে করতে পারছে না। ইশশ, কী বেদনা! কী বেদনা!! কিন্তু দমে যাবেন? না, না। দমে গেলে তো স্কটিশ রাজা রবার্ট ব্রুসের মাকড়সার (রবার্ট ব্রুস এখন থাকলে হয়তো জালের বদলে ওয়েবসাইটই দেখতেন) ওয়েবসাইট বানানোর অধ্যবসায়কে অপমান করা হবে।
তাই আপনি নিলেন নতুন পথ। আগে চাইতেন মানুষ আপনাকে ‘মহান নেতা’ হিসেবে চিনুক। এখন চান, যেভাবেই হোক মানুষ অন্তত চিনুক। সেটা রাজনৈতিক মহিরুহ না হোক, ইউটিউব শর্টসের কৌতুক চরিত্র হলেও ক্ষতি কী!
এবং অবশেষে আপনি সফল হলেন। মানুষ আপনাকে চিনল ‘চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের ভাস্কর্য ভাঙার শিল্পী’ হিসেবে। মাঝেমধ্যে আবার ‘মানবিক বিবাহের প্রবক্তা’—অর্থাৎ ‘রিসোর্ট রাজ’ হিসেবেও চেনে।
কিন্তু মানুষের তো একটাই সমস্যা—ভুলোমনা। আজ ভাস্কর্য ভাঙলেন বলে সবাই বলল ‘সাবাস হুজুর!’ কালকে সবাই ভুলে গিয়ে আবার বিড়ালের ভিডিও দেখা শুরু করল। এভাবে মানুষের ভুলে যাওয়া আপনাকে ভীষণ কষ্ট দেয়। তখন আপনি ভাবলেন, ‘মানুষ আমাকে ভুলে গেলে চলবে কেন? আমিও তো মানুষকে ভুলতে দিচ্ছি না।’ তাই মানুষ যেই ফেসবুকে ডুবে থাকে, আপনি সেই ফেসবুকের বিরুদ্ধেই থানায় জিডি করে এলেন।
জিডিতে লিখলেন, ‘আমার আইডি বন্ধ করে দিয়েছে, এতে আমি সামাজিক, রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।’ পুলিশ সাহেব অবাক হয়ে ভাবলেন, দেশে এত সন্ত্রাস, খুনোখুনি, চুরি-ডাকাতি বাদ দিয়ে আজকাল রাজনীতিবিদদের মামলা হলো ফেসবুক আনব্লক। একেই বলে ডিজিটাল বিপ্লব!
কিন্তু বুঝতে পারলেন—শুধু চিল্লাচিল্লি করে মার্কেট পাওয়া যায় না। ফেসবুক-জিডি করে ইউটিউব ভিউ পাওয়া যায়, কিন্তু ভোট পাওয়া যায় না। তাই আপনাকে আনতে হলো নতুন বুলডোজার। একেবারে দারুণ একটা ঘোষণা দিলেন:
‘নির্বাচন? ওসব বাদ দিন। দেশে ভোট হবে ভাস্কর্য রাখব না ভাঙব—এই নিয়ে।’
ব্যালটে থাকবে দুটি অপশন:
১. ভাস্কর্য রাখব
২. ভাস্কর্য ভাঙব
যেখানে কেউ যদি ভুল করে ১ নম্বরে টিক মারে, আপনি সোজা গিয়ে ভোটকেন্দ্রটাই ভেঙে দেবেন।
তারপর আবার বললেন, শহিদের নামে ভাস্কর্যও চলবে না। বাহ! এবার আপনি নিজেকে ছাড়িয়ে গেলেন। নতুন পেশা শুরু হতে পারে, ‘ভাস্কর্য কনসালট্যান্সি সার্ভিস’। কেউ ভাস্কর্য করতে চাইলে আপনি গিয়ে বলবেন, ‘ভাই, প্লিজ এইটা কইরেন না, ভাঙতে অনেক খরচ পড়ে যাবে। আমার ভাঙা লিস্ট এখন ফুল হয়ে গেছে।’
আরেকটা চমৎকার কাজও করলেন। আওয়ামী লীগ আর বিএনপি একে অপরকে যতটা ঘৃণা করে, আপনি তাঁদের দুজনেরই ভাস্কর্য ভাঙার হুমকি দিয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরি করলেন। মুজিব আর জিয়া জীবনে অনেক কিছুতে একমত হননি, কিন্তু আপনার ভাস্কর্য ভাঙা তালিকায় গিয়ে অবশেষে এক দলে ঢুকে গেলেন। ইতিহাসে এটাও একধরনের জাতিসংঘ!
তবুও সমস্যা রয়ে যায়। যেদিন আপনার বক্তব্য ভাইরাল হওয়ার কথা, সেইদিন অন্য কোনো নেতা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসে আক্রান্ত হয়ে বেশি ফুটেজ কুড়িয়ে নেন। আপনি যখন ভাস্কর্য ভাঙার টুর্নামেন্ট করেন, তখন হাইকোর্টের সামনে দাঁড়িয়ে লেডি জাস্টিসিয়া আপনার আলো কেড়ে নেয়। এ এক দুঃসহ প্রতিযোগিতা—কে কার চেয়ে বেশি ভাঙবে আর কে কার চেয়ে বেশি ফুটেজ পাবে।
কিন্তু আপনি হাল ছাড়েন না। আপনি জানেন, রাজনীতি মানে মঞ্চে দাঁড়িয়ে জনসভা নয়—ফেসবুক স্ট্যাটাস, ভাস্কর্য ভাঙা স্লোগান আর রিসোর্ট-এডভেঞ্চারের লাইভ টেলিকাস্ট।
দিন শেষে আপনার অধ্যবসায় দেখে মনে হয়, রবার্ট ব্রুস বেঁচে থাকলে খুশি হয়ে বলতেন, ‘আহা, আমি যদি এক শবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হই, তাহলে আবার চেষ্টা করি। কিন্তু ভাই? আপনি তো ব্যর্থ হলেও নতুন ভাস্কর্য খুঁজে নেন!’
.png)

ইন্টারনেটের হাজারো নেতিবাচকতার ভিড়ে প্রাণীদের ‘কিউট’ ভিডিও ছিল এক চিলতে স্বস্তি। কিন্তু এআই-এর যুগে সেই নির্ভেজাল বিশ্বাসে এখন ফাটল ধরেছে। কোনো ভিডিও দেখে হাসার বদলে আমাদের মনে আগে প্রশ্ন জাগছে, এটি কি আসল নাকি এআই দিয়ে তৈরি? অবিশ্বাসের এই ডিজিটাল চোরাবালিতে দাঁড়িয়ে প্রশ্ন উঠছে, আমাদের ছোট ছোট আনন্দ
১০ ঘণ্টা আগে
সমকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক জগতে এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ। জনপ্রিয়তা ও মননশীলতার মেলবন্ধনের দুর্লভ উদাহরণ তিনি। সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের পাশাপাশি তিনি একজন কর্মবীর। আজ তিনি সাতাশি বছর পূর্ণ করলেন।
১১ ঘণ্টা আগে
এইতো কিছুদিন আগে কথা। অফিস থেকে বেরিয়ে বিশেষ একটি কাজে শাহবাগের উদ্দেশ্যে রিকশায় উঠেছিলাম। বিকেলের ব্যস্ত ঢাকার চিরচেনা যানজটে রিকশাটি একসময় থেমে গেল। চারপাশে শুধু হর্নের শব্দ, মানুষের কোলাহল আর অসংখ্য গাড়ির সারি। ঠিক সেই মুহূর্তেই কানে ভেসে এলো এক পরিচিত সুর ‘আলো আমার আলো ওগো, আলো ভুবনভরা’…!
১৩ ঘণ্টা আগে
প্রাক-আধুনিক যুগের আদর্শবাদী তারুণ্য থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের টেক-স্যাভি ‘জেন জি’ প্রজন্ম—প্রতিটি যুগের তারুণ্যের রক্তস্রোত প্রমাণ করেছে যে বন্দুকের নল বা রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন দিয়ে মানুষের মুক্তির স্পৃহাকে চিরতরে বন্দি করা যায় না। আর এই প্রতিটি রক্তঝরা লড়াইয়ে নারীর সক্রিয়, সমান্তরাল, আপসহীন ও বীরত্বপূ
১৩ ঘণ্টা আগে