প্রবাসীদের ‘কাঁচা টাকায়’ চোখ। চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে অনুমোদন ছাড়াই প্লট বিক্রি। ক্রেতাকে দেখাচ্ছেন যে প্লট, সেটি দিচ্ছে না।

জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই। ছাড়পত্র দেয়নি পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন। কিন্তু দেদার প্লট বিক্রি করছে ‘নিমতলা হাউজিং লিমিটেড’। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ক সংলগ্ন মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানের নিমতলায় ফসলি জমিতে চড়া দামের এসব প্লটের অধিকাংশ ক্রেতা প্রবাসী।
কেনা জমির চেয়ে প্রকল্পের নকশায় (লে-আউট) ২০ গুণ বেশি দেখিয়ে প্লট বিক্রির অভিযোগ উঠেছে নিমতলা হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে। যৌথ মালিকানায় আবাসন প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান নাসির উদ্দীন খান বাবুল। পরিচালক মজিবুর রহমান, রবিউল আলম ও ইউসুফ আহম্মেদ সুমন। ক্রেতা থেকে অংশীজন হয়েছেন নাজমা আক্তার।
চেয়ারম্যানসহ একাধিক পরিচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তাঁরা কেউই বক্তব্য দিতে রাজি হননি। পরে চেয়ারম্যানের পক্ষে প্রতিষ্ঠানের হেড অব মার্কেটিং ইউসুফ সুমন স্ট্রিম কার্যালয়ে এসে প্রতিবেদনটি না করার অনুরোধ জানান।
প্রকল্প এলাকায় সরকার নির্ধারিত ব্যক্তি মালিকানার কৃষি জমির দাম ৬৬ হাজার ৬৩৩ টাকা শতাংশ পেয়েছে স্ট্রিম। তবে প্লট হিসেবে তা নিমতলা হাউজিং বিক্রি করছে ৯ লাখ টাকার বেশি। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে তাঁরা তিন শতাধিক প্লট বিক্রি করেছেন। আরও তিন শতাধিক প্রক্রিয়াধীন।
আবাসন প্রকল্পটির নকশায় প্লট দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ৯৫টি। এর মধ্যে ৫ কাঠার ১ হাজার ১৪০ এবং ৩ কাঠার প্লট ১ হাজার ৯৫৫টি। এই হিসাবে, নিমতলা হাউজিংয়ের জমির পরিমাণ ১১ হাজার ৫৬৫ কাঠা। কিন্তু দলিলে তাদের নামে জমি পাওয়া গেছে মাত্র ৫৭০ কাঠা। আবার পৃথক দাগের জমি কিনলেও, কাগজে দেখানো হয়েছে একসঙ্গে। নকশায় বিশাল খেলার মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতালের জায়গা দেখানো হলেও, সেই জমির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
আবাসন ব্যবসার জন্য জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধন এবং প্রকল্প অনুমোদন লাগে। নিমতলা হাউজিং নিবন্ধন করলেও, প্রকল্পের অনুমোদন নেয়নি। তবে বিজ্ঞাপন প্রচার থেকে প্লট বিক্রি– সবই করছে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ডেভলপার এনলিস্টমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী স্ট্রিমকে বলেন, নিমতলা হাউজিং লিমিটেড নামে কাউকে কোনো প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকল্প অনুমোদন ছাড়া প্লট বিক্রি কিংবা বিজ্ঞাপন বেআইনি ও অপরাধ। এই ধরনের কিছু পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠান– এমন প্রচারের বিষয়ে তিনি বলেন, নিবন্ধন নেওয়া মানে প্লট বিক্রির অনুমোদন বোঝায় না। নিবন্ধন মানে প্রকল্প উপস্থাপনের জন্য প্রতিষ্ঠানটি প্রাথমিক সদস্য পদ পেয়েছে। তবে প্রকল্প অনুমোদনের আগে প্লট বিক্রি, চুক্তি বা প্রচার– কোনো কিছু করার সুযোগ নেই।
নাম প্রকাশ না করে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন এক কমকর্তা স্ট্রিমকে বলেন, নিবন্ধনে ৫০ হাজার টাকা লাগে। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে নিমতলা হাউজিংয়ের মতো গজিয়ে ওঠা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্লট বিক্রি করে মানুষকে বিপদে ফেলছে।
শুধু জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ নয়, প্রকল্প অনুমোদনের আগে ছাড়পত্র নিতে হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের। নিমতলা হাউজিং এই ছাড়পত্র নেয়নি। পরিবেশ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, নিমতলা হাউজিং লিমিটেড নামে তারা কাউকে ছাড়পত্র দেননি। পরিবেশগত ছাড়পত্র ছাড়া প্রতিষ্ঠান চললে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিমতলা হাউজিং স্থানীয় প্রশাসন কিংবা জেলা প্রশাসনের অনাপত্তি সনদও (এনওসি) নেয়নি। মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রশাসনের রাজস্ব বিভাগে তাদের নামে কোনো নথি পাওয়া যায়নি।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওমর ফারুক স্ট্রিমকে বলেন, ‘নিমতলা হাউজিং লিমিটেড নামে কোনো কোম্পানি এনওসির জন্য কখনো আবেদন করেনি।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রূম্পা ঘোষ বলেন, ‘নথি যাচাই করা হবে। অবৈধভাবে আবাসন ব্যবসা চালালে নিমতলা হাউজিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তবে স্থানীয় সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে ঝুলছে নিমতলা হাউজিংয়ের সৌজন্য ব্যানার, যেখানে সৌন্দর্যবর্ধনের স্পন্সর হিসেবে নাম প্রতিষ্ঠানটির।
নিমতলা হাউজিং যেসব বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, তাতে মিথ্যার ফুলঝুরি। ক্রেতা ধরতে বিজ্ঞাপনে বলা হয়েছে– প্রকল্পে মালয়েশিয়ার মন্টকিয়ারা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং সিঙ্গাপুরের মাউন্ট আলভারনিয়া হাসপাতালের শাখা থাকবে। তবে খোঁজ নিয়ে এর কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
নিমতলা হাউজিংয়ের হেড অফ মার্কেটিং ইউসুফ সুমন বলেন, ‘বিজ্ঞাপনের তথ্য সত্য নয়। অফিসের এক্সিকিউটিভরা এটি করেছেন। এই ধরনের স্টাফ আর রাখব না।’
চুক্তির সময়ে লিখিত থাকে– চাইলে যে কাউকে যেকোনো জায়গায় প্লট দিতে পারবে কোম্পানি। আমাদের প্লট বিক্রি করতে সহায়তা করলে, তাঁকে কমিশন দেওয়া হয়। ইউসুফ সুমন, হেড অফ মার্কেটিং, নিমতলা হাউজিং লিমিটেড
নকশায় নিমতলা রেলস্টেশন থেকে সোজা পথে দেখানো হয়েছে প্রকল্পের স্থান। তবে বাস্তবে এমন সড়কের অস্তিত্ব নেই। নিকটবর্তী নিমতলা বাজার থেকে প্রকল্পটির দূরত্ব সরু পথে প্রায় ২.৪ কিলোমিটার।
নিমতলা খ্রিষ্টান অধ্যুষিত, অধিকাংশ সম্পত্তির মালিক তারাই। স্থানীয় চার্চের মালিকানায় বেশ কিছু সম্পদ রয়েছে। সম্প্রতি উন্নয়ন প্রকল্পে চার্চের সম্পত্তির বড় অংশ অধিগ্রহণ শুরু করেছে সরকার। নিমতলা হাউজিংসহ এই এলাকার একাধিক আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রভাব খাটিয়ে নামমাত্র মূল্যে জমি কেনার অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় এক বাসিন্দা স্ট্রিমকে বলেন, আবাসন প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি জমি দখল করে না। তবে এমন পরিস্থিতি তারা তৈরি করে, মালিকেরা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। এসব প্রতিষ্ঠানের লোকেরা অনেক প্রভাবশালী। চারপাশ থেকে জমি কিনে পেটের মধ্যে রেখে আপনারটি কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য করে।
নিমতলা হাউজিংয়ের নকশায় দেখানো বড় অংশের জমির মালিকানা স্থানীয় শুলপুর চার্চের। না কিনেই তারা আবাসনের অংশ উল্লেখ করে বিক্রির জন্য প্রচার চালাচ্ছে।
শুলপুর চার্চের প্রধান ফাদার কমল কোড়াইয়া স্ট্রিমকে বলেন, নিমতলার নকশায় যা আছে, অধিকাংশ আমাদের জায়গা। তৃতীয়পক্ষের মাধ্যমে তারা এসব জমি নিতে চেয়েছে। আমরা এখনো বিক্রির সিদ্ধান্ত নিইনি।
নিমতলা হাউজিংয়ের ইউসুফ সুমন জানান, তাদের প্রকল্পের প্রধান ক্রেতা প্রবাসীরা। এখন পর্যন্ত বিক্রি প্লটের অর্ধেকের বেশি তারাই কিনেছেন। এজন্য প্রবাসীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা আবাসনে নিশ্চিত করছেন বলে জানান তিনি।
প্রবাসী ক্রেতা ধরতে নানা অফারসহ প্রতিষ্ঠানটি চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে। ফেসবুকের এসব বিজ্ঞাপন দেখানো হয় মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে। তবে নিমতলা হাউজিংয়ের এই বিজ্ঞাপনে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। নকশার প্লট গড়বড়ে সুবিধা করতেই প্রবাসীদের কাছে বিক্রি করছে তারা। এক প্লট দেখিয়ে আরেক স্থানে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। আর এই কাজে কমিশন নিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে সহায়তা করে প্রবাসীদের ‘পাওয়ার অব অ্যাটর্নি’ পাওয়া প্রতিনিধিরা।
নিমতলা হাউজিং লিমিটেড নামে কাউকে কোনো প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। প্রকল্প অনুমোদন ছাড়া প্লট বিক্রি কিংবা বিজ্ঞাপন বেআইনি ও অপরাধ। এই ধরনের কিছু পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের ডেভলপার এনলিস্টমেন্ট কমিটির সদস্যসচিব ও তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী
নিমতলা হাউজিংয়ের এমন এক প্রতিনিধি ইসমাইল জাকারিয়ার সন্ধান পায় স্ট্রিম। তিনি প্রবাসী দুই ভাই মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও মোশারফের সম্পদ দেখভাল করছেন।
নিমতলা হাউজিংয়ের হয়ে কাজ করলেও জাকারিয়া কমিশন নেওয়ার তথ্য অস্বীকার করেছেন। তবে প্রতিষ্ঠানটির এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে স্ট্রিমকে বলেন, জাকারিয়া আপন দুই ভাইয়ের নামে জমি কিনতেও দেড় লাখ টাকা কমিশন খেয়েছেন।
প্রবাসী জহিরুল ইসলাম বিজ্ঞাপন দেখে নিমতলা হাউজিং থেকে প্লট কিনেছেন। রেডি প্লট বলে তাঁকে এ-১ ব্লকের ৩ নম্বর রোডের ৩১ ও ৩২ প্লট দিয়েছে নিমতলা হাউজিং কর্তৃপক্ষ। তবে দলিল বিশ্লেষণে স্ট্রিম পেয়েছে, জহিরুলকে দেখানো প্লট এবং দলিলের জমির মিল নেই। দলিল অনুযায়ী, জমিটি সিরাজদিখান মৌজার ৬৩২ নম্বর দাগে, যা এখনো ফসলি জমি। অথচ নকশায় এ-১ ব্লকে রেডি প্লট দেখিয়ে কৃষি জমিটি ৪৮ লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
জহিরুলকে প্লট কিনতে সহায়তা করেন স্থানীয় প্রতিনিধি জামাল উদ্দীন। তিনিও প্লট কিনে দেওয়ার জন্য কমিশন নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন। স্ট্রিমকে জামাল বলেন, ‘আমার সার্কেলে অনেকগুলো প্লট বিক্রি করেছি। কারও কাছ থেকে কমিশন নিইনি। নিমতলা কর্তৃপক্ষ দিতে চাইলেও নিইনি।’
অবশ্য ক্রেতার সঙ্গে এটিকে প্রতারণা মানতে নারাজ হেড অফ মার্কেটিং ইউসুফ সুমন। তিনি বলেন, ‘চুক্তির সময়ে লিখিত থাকে– চাইলে যে কাউকে যেকোনো জায়গায় প্লট দিতে পারবে কোম্পানি।’ তবে প্রতিনিধিদের কমিশন দেওয়ার কথা সুমনও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের প্লট বিক্রি করতে সহায়তা করলে, তাঁকে কমিশন দেওয়া হয়।’
.png)

মেঘনা গ্রুপের একটা কোম্পানি আছে সিঙ্গাপুরে। সেই কোম্পানির মালিকানায় একটি জাহাজ আছে। সেই জাহাজ আবার নিজেরাই আমদানি করার জন্য গ্রুপটি ব্যাংক থেকে ৪১০ কোটি টাকার এলসি খোলে। বিএফআইইউয়ের সন্দেহ এই টাকাটা বিদেশে পাচারের উদ্দেশেই এমন চক্র গড়ে তোলা হয়েছে। পড়ুন বিস্তারিত...
২৮ জুলাই ২০২৬
শাহ আমানত সাবির (২৩) খুলনাভিত্তিক ফাতাহ কমব্যাট সিস্টেমের (এফসিএস) প্রশিক্ষণ প্রধান। গত ৫ জুলাই রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর কোনাপাড়া বালুর মাঠে প্রশিক্ষণের সময় তিনিসহ ছয়জন আটক হন। পরে পুলিশ জানায়, মার্শাল আর্টের আড়ালে উগ্রবাদী কার্যক্রম পরিচালনার প্রশিক্ষণ নেওয়ার সময় তাঁরা ধরা পড়েন।
০৯ জুলাই ২০২৬
সন্তান হারানো মায়েরা জানিয়েছেন, ঠান্ডা লাগায় তাদের অনুরোধে এসি বন্ধ করা হয়। সন্তানেরা কান্না শুরুর পর নার্স ডেকে পাননি। বমি শুরুর পর কান্নাকাটি করলেও চিকিৎসক-নার্সের দেখা মেলেনি। তবে এই ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলকে এসব মায়েরা সমর্থন করেন না বলে জানিয়েছেন।
২৮ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপ উন্মাদনার মধ্যে মুফতি হারুন ইজহারের আহ্বানের পর কাকতালীয় হলেও, সারা দেশে উড়ছে সাদা এবং কালো পতাকা। ছবি দেওয়ার পর নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা এগুলোর সঙ্গে আল কায়েদা, আইএসআইএস, তালেবান, হিজবুত তাহরীরের মতো সংগঠনের পতাকার নকশার মিলের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২৩ জুন ২০২৬