স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে মুখ খুললেন ট্রাম্প

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি: আল-জাজিরা

যুক্তরাজ্যের সদ্য পদত্যাগ করা প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে নিয়ে মুখ খুলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে না দাঁড়ানোয় ব্রিটিশ জনগণ স্টারমারকে পছন্দ করেনি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ‘স্টারমার উইনস্টন চার্চিল নন’ বলেও কটাক্ষ করেছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ‘স্টারমার না বলেছেন, এমনকি না-এর চেয়েও খারাপ কিছু বলেছেন। তিনি বলেছেন, তোমরা জিতে গেলে আমরা থাকব। আমি বললাম, জিতে যাওয়ার পর তোমাদের দরকার নেই।’

ইরানের বিরুদ্ধে বোমা হামলার জন্য ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি না দেওয়ায় স্টারমারের প্রতি ক্ষুব্ধ হন ট্রাম্প। যদিও পরে সীমিত পরিসরে প্রতিরক্ষামূলক হামলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এরপর হরমুজ প্রণালি সচল করতে সহায়তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে দূরত্ব আরও গভীর হয়।

এদিন ন্যাটো প্রসঙ্গে ফের ক্ষোভ দেখান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইউরোপকে রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র বছরের পর বছর ধরে লক্ষ কোটি ডলার ব্যয় করেছে। অথচ ছোট্ট একটা বিষয়ে সাহায্য চাইলে তারা মুখ ফিরিয়ে নেয়। ভবিষ্যতে প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রও একইভাবে সাড়া নাও দিতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

স্টারমারের অভিবাসন ও জ্বালানি নীতিরও কড়া সমালোচনা করেছেন ট্রাম্প। উত্তর সাগরে বিপুল তেলের মজুত থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের নরওয়ে থেকে জ্বালানি কেনার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, পরিবেশের দোহাই দিয়ে এই সুযোগ নষ্ট করা হচ্ছে। তবে ব্যক্তি হিসেবে স্টারমারকে 'ভদ্র মানুষ' ও 'এক অর্থে বন্ধু' বলে উল্লেখ করেন তিনি।

মূলত যুক্তরাজ্যের মেকারফিল্ড উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্টারমারের পদত্যাগের পথ তৈরি হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে নামতে চাইলেও সংসদে আসন না থাকায় পারছিলেন না গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম। পরে তাকে সুযোগ দিতে নিজের আসন ছেড়ে দেন এমপি জশ সাইমনস। গত ১৮ জুন অনুষ্ঠিত সেই উপনির্বাচনে জয় পান বার্নহাম।

এর পরপরই সোমবার সকালে পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। ডাউনিং স্ট্রিটের বাইরে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দলের সংসদীয় সদস্যদের মতামত শুনেছেন এবং তা মেনে নিয়েছেন।

একই দিন নতুন এমপি হিসেবে শপথ নিয়েই দলের নেতৃত্বের দৌড়ে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেন বার্নহাম। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংসহ একাধিক প্রভাবশালী লেবার নেতা তাঁর প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী সেপ্টেম্বরে সংসদ অধিবেশন শুরুর আগেই যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন বার্নহাম।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত