leadT1ad

ভারতে রমরমা সন্তান কেনাবেচা, ছেলে মেলে ৮ লাখে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ১৮: ৩৩
পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার নবজাতক পাচার চক্রের সদস্যরা। ছবি: এনডিটিভি

রাজস্থানে জন্মানো নবজাতককে কয়েক দিনের মধ্যে দিল্লিতে পাচার করা হয়। সেখান থেকে হরিয়ানার এক দম্পতির কাছে কয়েক লাখ টাকায় বিক্রি করা হয়। মা-বাবার দরিদ্রতা এবং অপরাধীর লোভের বলি হয়ে এভাবেই একটি শিশুর ভাগ্য নির্ধারিত হচ্ছিল।

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে এমন আন্তঃরাজ্য নবজাতক পাচার চক্রকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই চক্র চার থেকে পাঁচ দিন বয়সী নবজাতকদের দরিদ্র দম্পতিদের কাছ থেকে কিনে নিঃসন্তান দম্পতিদের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে আসছিল। এই ব্যবসার কেন্দ্রবিন্দু ছিল দিল্লির এক মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতাল।

নবজাতকের মূল্যতালিকা

পুলিশের তদন্তে জানা যায়, এই চক্র নবজাতকের লিঙ্গের ওপর ভিত্তি করে দাম ঠিক করত। মেয়ে শিশুকে কিনত এক লাখ টাকায় এবং পরে বিক্রি করত তিন থেকে চার লাখ টাকায় । অন্যদিকে, ছেলে শিশুকে প্রায় দুই লাখ টাকায় কিনে ছয় থেকে আট লাখ টাকায় বিক্রি করত। ক্রেতাদের আর্থিক অবস্থা এবং সন্তান পাওয়ার আকুলতাকে পুঁজি করে কিছু ক্ষেত্রে দাম আরও বাড়ত।

যেভাবে ধরা পড়ল এই চক্র

দিল্লির পাহাড়গঞ্জ এলাকার এক বাসিন্দা প্রথম এই চক্রের সন্দেহজনক আচরণের কথা পুলিশকে জানান। তিনি অভিযোগ করেন, ওই এলাকায় এক নারীকে প্রায়ই ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায় এবং প্রতিবারই তাঁর কোলে নতুন নবজাতক থাকে বলে।

এই তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ওই এলাকার গত কয়েক সপ্তাহের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এবং গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায়।

অনুসন্ধানে পুলিশ জ্যোতি ওরফে কমলেশ নামের ওই নারীকে চিহ্নিত করে এবং তাঁর ওপর নজর রাখতে শুরু করে। পুলিশ জানতে পারে, কমলেশ মূলত শিশু পাচার চক্রের মাঠপর্যায়ের কর্মী।

ছদ্মবেশী ক্রেতার ফাঁদ

হাতেনাতে ধরার জন্য দিল্লি পুলিশের একজন নারী কর্মকর্তা নিজেকে নিঃসন্তান ও ক্রেতা হিসেবে উপস্থাপন করে কমলেশের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা শেষে নবজাতক বিক্রির চুক্তি হয় এবং অগ্রিম হিসেবে ২০ হাজার টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

গত ৫ জুন কমলেশ যখন ছদ্মবেশী সেই নারী কর্মকর্তার কাছে নবজাতক হস্তান্তর করতে আসলে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে এই চক্রের নেটওয়ার্কের সন্ধান পায় পুলিশ।

কমলেশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ তাঁর সহযোগী শালু ও ললিতকে গ্রেপ্তার করে এবং পরে প্রতিভা ও বিপিন নামে আরও দুই এজেন্টকে আটক করা হয়।

পাচারের কেন্দ্র হাসপাতাল

গ্রেপ্তারদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ এই চক্রের মূল কেন্দ্র রোহিণীর বেগমপুর এলাকার ‘হীরা মাল্টিস্পেশালিটি হাসপাতালের’ খবর পায়। হাসপাতালের মালিক ডা. বিবেকীকে এই চক্রের মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ।

সেন্ট্রাল ডিস্ট্রিক্টের ডিসিপি রোহিত রাজবীর সিং জানান, নবজাতক সংগ্রহ থেকে হস্তান্তর পর্যন্ত এই হীরা হাসপাতালেই লুকিয়ে রাখা হত। ডা. বিবেকী নিজেই এই কাজের নেতৃত্ব দিতেন। তিনি নথিপত্র জালিয়াতি করে ওই শিশুদের এই হাসপাতালেই জন্ম হয়েছে বলে ভুয়া জন্ম সনদ, ডেলিভারি পেপার এবং ইনভয়েস দিতেন।

চক্রের নেটওয়ার্ক

জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ এই চক্রের অন্যতম প্রধান সরবরাহকারী সাবাভাই ঘামার ওরফে কালিয়াকে গুজরাটের সবরকান্থা থেকে গ্রেপ্তার করে। রাজস্থানের উদয়পুরের বাসিন্দা ঘামার রাজস্থানের পালি এবং গুজরাটের সবরকান্থার দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত দম্পতিদের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে নবজাতক শিশুদের কিনে এবং অন্যান্য উপায়ে সংগ্রহ করে হীরা হাসপাতালের মাধ্যমে দিল্লিতে পাচার করত।

পুলিশ ভুক্তভোগী শিশুদের আসল মা-বাবার সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করছে, যাতে জানা যায় তারা স্বেচ্ছায় নাকি জোরপূর্বক বা চুরির শিকার হয়ে সন্তান হারিয়েছেন।

ডিসিপি সিং বলেছেন, যদি বায়োলজিক্যাল মা-বাবা স্বেচ্ছায় সন্তান বিক্রি করে থাকেন, তবে তাঁদেরও মামলায় আসামি করা হবে।

তদন্তে জানা গেছে, ঘামার এবং তার গ্যাং গত এক বছরে অন্তত ৩০ নবজাতক শিশুকে মধ্যপ্রদেশ ও হরিয়ানার বিভিন্ন দম্পতির কাছে বিক্রি করেছে।

পুলিশ ইতিমধ্যে হরিয়ানার পানিপথ থেকে সানি আরোরা ও ঋতু আরোরা নামের এক ক্রেতা দম্পতিকে এবং মধ্যপ্রদেশের গোয়ালিয়র থেকে আরেক দম্পতিকে আটক করেছে।

তথ্যসূত্র: এনডিটিভি

Ad 300x250

সম্পর্কিত