জাপানে ভূমিকম্পে মৃত্যু বেড়ে ১৩, ধ্বংসস্তূপে আটকা অনেকে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৯: ২৫
জাপানে ভূমিকম্পের পর বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত ইওন মল। ছবি: সংগৃহিত

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর কুমামোতোর কাছে ৭ দশমিক ১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করছেন বলে বুধবার জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। খবর রয়টার্সের।

ভূমিকম্পের পরদিন টোকিওতে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের তাকাইচি বলেন, "এখনও অনেকে উদ্ধারের অপেক্ষায় রয়েছেন। এটি অনেকটা সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ। সর্বোচ্চসংখ্যক মানুষকে বাঁচাতে এবং তাদের নিরাপদে উদ্ধারে মাঠপর্যায়ে সব ধরনের সক্ষমতা ব্যবহার করা হচ্ছে।"

তাঁর এই বক্তব্যের আগে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা ৩ জন বলে জানানো হয়েছিল।

এদিকে, ভূমিকম্প আঘাত হানা অঞ্চলে হাজার হাজার বাড়ি বিদ্যুৎ-বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। প্রধান সড়কগুলোতে ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে যানজটের পাশাপাশি উদ্ধারকর্মীদের চলাচলেও প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় ক্ষয়ক্ষতি দেখা গেছে জেলার সর্ববৃহৎ মল ‘ইওনে’। ভূমিকম্পের প্রায় ১ ঘণ্টা পর মলটিতে এক বিস্ফোরণে দুই নারী নিহত হন। এ ছাড়া প্রায় ২০০টি দোকান থাকা মলটির এক পাশ উড়ে গিয়ে ইস্পাতের বিম-কাঠামোগুলো বের হয়ে পড়েছে।

ইওনের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, প্রাথমিক ভূকম্পনের পরপরই গ্রাহক ও কর্মীদের নিরাপদে বের করে দেওয়া হয়েছিল এবং পরবর্তীতে বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এখনও স্পষ্ট নয়।

জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, মঙ্গলবার মলটির প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন কর্মী নিখোঁজ ছিলেন। পরে বুধবার ভোরের দিকে সেখান থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া নিপ্পন পেপার ইন্ডাস্ট্রিজের একটি কারখানার চিমনি ভেঙে পড়ার পর আরও ৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন এবং ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিসের জরুরি দল, পুলিশ ও সেনাসদস্যরা যেসব ভবন থেকে সাহায্যের আবেদন পেয়েছেন সেগুলোতে মূল মনোযোগ দিচ্ছেন। তবে এই দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনও স্পষ্ট নয়।

এদিকে, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থলের কাছে উকি সিটির একটি হাসপাতাল জানিয়েছে, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় তারা স্বাভাবিক কাজ চালাতে পারছে না।

হাসপাতালটির প্রশাসনিক প্রধান এনএইচকে বলেন, "এটি এখন অনেকটা ফিল্ড হাসপাতালের মতো হয়ে গেছে।" শহরের আরেকটি হাসপাতাল জানিয়েছে, তারা নতুন রোগী ভর্তি বন্ধ রেখেছে, কারণ ভূমিকম্পের পর ৮৬ জনকে ভর্তির পর তাদের ধারণক্ষমতা শেষ হয়ে গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

গতকাল আঘাত হানা ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল কুমামোতো সিটি থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দক্ষিণে। এক দশক আগে এই কুমামোতোতেই শক্তিশালী ভূমিকম্পে ২৭৫ জন নিহত এবং ২ হাজার ৭৩৯ জন আহত হয়েছিলেন। এবার ভূমিকম্পের পর প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া সবচেয়ে জোরালো কম্পন অনুভূত হওয়া এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের আগামী প্রায় এক সপ্তাহ ধরে আরও শক্তিশালী কম্পন এবং ভূমিধসের ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৩৬ হাজারের বেশি ঘরে বিদ্যুৎ না থাকা এবং বুধবার তাপমাত্রা প্রায় ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠার সম্ভাবনায় হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি নিয়েও আশঙ্কার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Ad 300x250

সম্পর্কিত