মামলা প্রত্যাহার না হলে ফের আন্দোলনের হুঁশিয়ারি ককরোচদের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ২৩: ৩৭
ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের ঘোষণার পর দিল্লির যন্তর-মন্তরে উল্লাসে ফেটে পড়েন আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও সিজেপি সমর্থকেরা। ছবি : সংগৃহীত

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহার করা না হলে দেশব্যাপী পুনরায় বিক্ষোভের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ নির্দেশ দেন, আগের কোনো অপরাধের রেকর্ড না থাকলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে আদালতের আদেশের চার নম্বর নির্দেশনায় তদন্ত চালিয়ে যেতে বলা হয়। এই নির্দেশনাকে অস্ত্র বানিয়ে সরকার শিক্ষার্থীদের হয়রানি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিজেপি।

মঙ্গলবার রাতে সিজেপির মুখপাত্র সৌরভ দাস এক্সে লেখেন, আসাম ও বিহারের মতো অন্যান্য রাজ্য সরকারগুলো যদি শিক্ষার্থীদের মামলা প্রত্যাহার না করে, তবে তরুণদের সুরক্ষায় ফের আন্দোলনে নামা ছাড়া কোনো পথ খোলা থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, গত ২৫ জুলাই কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে পি নাড্ডা ও ড. জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে সব মামলা তোলা হবে এবং কোনো নির্যাতন করা হবে না। সেই বিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করেই আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়েছিল, যার সময়সীমা আজ শেষ হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার জানিয়েছে, ২৬ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত যেসব মামলা হয়েছে তাতে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার বা আটক করা হবে না। তবে এই ছাড় যাদের আগে থেকে অপরাধের রেকর্ড রয়েছে তাদের জন্য নয়।

অন্যদিকে আন্দোলন স্থগিতের পর উত্তরপ্রদেশে ১০জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়া দিল্লিতে আটক শিক্ষার্থীদের আইনি সহায়তা দিতে যাওয়া এক আইনজীবীর ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।

ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) অভিযোগ করেছে, পুরোনো এফআইআরের অজুহাতে দিল্লি পুলিশ তাদের সদর দপ্তরে দলটির ছাত্রসংগঠনের নেত্রী ঐশী ঘোষকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল।

সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অভিজিৎ দীপক এবং মুখপাত্র সৌরভ দাস জানান, হাজার হাজার তরুণের সঙ্গে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সুপ্রিম কোর্টের আদেশের আড়ালে নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।

মোদি সরকারকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁরা বলেন, ‘যে সরকার নিজের কথা রাখে না, সেই সরকারের বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ চুপ থাকবে না। প্রতিশ্রুতি ভাঙা হলে ভারতের রাজপথ আবারও যুবসমাজের প্রতিবাদী কণ্ঠে মুখরিত হবে।’

নিট প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ভারতজুড়ে আন্দোলন চলছিল। ব্যঙ্গধর্মী রাজনৈতিক সংগঠন সিজেপির উদ্যোগে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে পরে শিক্ষার্থী, তরুণ, অভিভাবক এবং বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোও যুক্ত হয়।

গত ২০ জুলাই দিল্লির যন্তর-মন্তরে শান্তিপূর্ণ শিক্ষার্থী বিক্ষোভে পুলিশ ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্সের (আরএএফ) হামলার পর আন্দোলন আরও বেগ পায়। এরপর সরকারের সঙ্গে সিজেপির কয়েক দফা বৈঠক হলেও দলটি শুরু থেকেই ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগকে ‘আপসহীন’ দাবি হিসেবে তুলে ধরে।

শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলন, দেশজুড়ে জনমত ও রাজনৈতিক চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত গত ২৫ জুলাই পদত্যাগ করেন ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান।

তাঁর পদত্যাগের পর আন্দোলন প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয় সিজেপি। ওই দিন সন্ধ্যায় সংবাদ সম্মেলনে সৌরভ দাস বলেন, সরকার তাঁদের আরও কয়েকটি দাবি মেনে নিয়েছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার হবে। ভবিষ্যতেও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে নিয়ম অনুযায়ী সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে।

তথ্যসূত্র: দ্য প্রিন্ট

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত