যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনার মধ্যেই ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২৮ জুলাই ২০২৬, ০৯: ৩১
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসের ওয়েস্ট উইংয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ওয়াশিংটন সফরের সময়ে। ছবি : এপি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এমন সময়ই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করতে ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। যুদ্ধের সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধানের এই পর্যায়ে নেতানিয়াহুর সফর নতুন করে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।

কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আলজাজিরা ও বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠকে প্রধানত ইরান ইস্যু নিয়েই আলোচনা হবে। ওয়াশিংটন এখন আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের দিকে ঝুঁকলেও ইসরায়েল এখনো ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতার বিরোধী।

আলজাজিরার ওয়াশিংটন প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানে হামলায় অংশ নিলেও তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় ইসরায়েলকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। নেতানিয়াহুসহ ইসরায়েলি বেশির ভাগ নেতা মনে করেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তি হওয়া উচিত নয়; বরং মার্কিন প্রশাসনের আবারও ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করা উচিত। ওয়াশিংটনের অভ্যন্তরেও ইসরায়েলের সমর্থকগোষ্ঠী রয়েছে, যে কারণে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর শান্তি আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকেই।

এই প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর বৈঠককে ইরান যুদ্ধের পরবর্তী ধাপে প্রবেশের গুরুত্বপূর্ণ দ্বার হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর সম্পর্কে টানাপোড়েনের ইঙ্গিত মিলেছে। ট্রাম্প একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, নেতানিয়াহু ‘বড় চিত্রটি’ দেখছেন না। এমনকি কখনো কখনো দুই নেতা একই অবস্থানে আছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র সফর শুরুর আগে নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘আমরা সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করব। সবার আগে থাকবে ইরান। আমাদের লক্ষ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শান্তির পরিধি বাড়ানো।’

ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর দুই নেতার এটি অষ্টম বৈঠক হতে যাচ্ছে। ইরান যুদ্ধ শুরুর পর এটিই তাদের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ। কূটনৈতিক সূত্রগুলোর ধারণা, বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবানন শান্তি কাঠামোর বাস্তবায়ন, গাজা পরিস্থিতি এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও আলোচনা হবে।

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বৈঠকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হবে ইরান নীতি। ওয়াশিংটন যেখানে আলোচনার পথ খোলা রাখতে চাইছে, সেখানে নেতানিয়াহু ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার পক্ষে অবস্থান নিতে পারেন।

জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ইয়োনাতান ফ্রিম্যান বলেন, ‘নেতানিয়াহুর এই সফরের প্রধান উদ্দেশ্য হলো বিশ্বকে দেখানো যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে কোনো বড় ধরনের বিভক্তি নেই।’ তাঁর মতে, দুই নেতার মতপার্থক্য থাকলেও তা মূলত কৌশল ও সময় নিয়ে, চূড়ান্ত লক্ষ্য নিয়ে নয়।

তবে যুক্তরাষ্ট্রে খুব একটা স্বস্তিতে নেই নেতানিয়াহু। তার ওয়াশিংটন সফরকে কেন্দ্র করে হোয়াইট হাউসের বাইরে বিক্ষোভ হয়েছে। গাজা যুদ্ধ ও ইরানে চলমান সংঘাতের প্রতিবাদে বিক্ষোভকারীরা তাঁকে যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দিয়ে তাঁর ওয়াশিংটন সফরের বিরোধিতা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার সম্ভাবনা যখন যুদ্ধ বন্ধের একটি সুযোগ তৈরি করেছে, তখন ট্রাম্প-নেতানিয়াহু বৈঠক সেটি এগিয়ে নেবে নাকি পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে করবে, সেদিকেই এখন নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত