স্ট্রিম ডেস্ক

রাস্তার ধারে একটি ওয়ালেট পড়ে আছে। আশপাশে কেউ নেই। সুযোগ বুঝে আপনি সেটি তুলে নিলেন। খুলে দেখলেন, ভেতরে কিছু টাকা, ব্যাংক কার্ড আর মালিকের পরিচয়পত্র। এবার কী করবেন? মালিককে খুঁজে ওয়ালেট ফিরিয়ে দেবেন, নাকি চুপচাপ নিজের পকেটে পুরবেন?
কয়েক সেকেন্ডের এই সিদ্ধান্ত মানুষের সততা নিয়ে কিছু প্রশ্ন সামনে আনে। মানুষ আসলে কতটা সৎ? আমরা কি সুযোগ পেলে অসৎ হয়ে যাই? নাকি সুযোগের অভাবে সৎ থাকি? নাকি অধিকাংশ মানুষই সঠিক কাজটি করার চেষ্টা করেন?
বহু বছর ধরেই মনোবিজ্ঞানীরা মানুষের নৈতিক আচরণ বোঝার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সততা পরিমাপ করা সহজ নয়। কারণ সবাই নিজেকে সৎ মানুষ হিসেবেই দেখতে চান।
এই সমস্যার সমাধানে কয়েকজন গবেষক বেছে নিলেন ভিন্ন পন্থা। কোনো প্রশ্নোত্তর বা জরিপের মাধ্যমে নয়। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যক্তির কিছু সিদ্ধান্ত তার স্বভাব বুঝতে সাহায্য করবে। গবেষণাটি পরিচালিত হয় বিশ্বের ৪০টি দেশের ৩৫৫টি শহরে। সেখানে ১৭ হাজার ৩টি ওয়ালেট বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হোটেল, ডাকঘর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রতিটি ওয়ালেটের ভেতরে ছিল মালিকের পরিচয়পত্র, একটি চাবি, ভিজিটিং কার্ড এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। এরপর গবেষকেরা অপেক্ষা করেন। কতজন মানুষ কুড়িয়ে পাওয়া ওয়ালেটের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সেটিই ছিল গবেষণার মূল বিষয়।
সবচেয়ে বেশি ওয়ালেট ফিরিয়ে দিয়েছেন সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে এবং নেদারল্যান্ডসের মানুষ। এরপর রয়েছে ডেনমার্ক, সুইডেন, পোল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্স। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ওয়ালেট ফেরত এসেছে পেরু, মরক্কো, চীন, তুরস্ক, কাজাখস্তান, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও ঘানা থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ছিল তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে।
তবে ওয়ালেট ফিরিয়ে দিলেই যে সেই দেশের মানুষরা বেশি সৎ, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফলকে কোনো দেশের মানুষের ‘সামগ্রিক স্বভাব’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ওয়ালেট ফেরত দেওয়া বা না দেওয়া, অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নৈতিকতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সামাজিক নিয়ম-কানুন, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, আইনের ভয় কিংবা ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
গবেষকরা ধারণা করেছিলেন, ওয়ালেটে বেশি টাকা থাকলে তা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার লোভও তত বেশি। কিন্তু গবেষণার ফল ছিল উল্টো। যেসব ওয়ালেটে প্রায় ১৩ ডলার ছিল, সেগুলোর মাত্র ৫১ শতাংশ ফেরত এসেছে। অন্যদিকে, প্রায় ৯৪ ডলার থাকা ওয়ালেটের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭২ শতাংশ।
কেন এমন হলো! অর্থাৎ, যেসব ওয়ালেটে বেশি টাকা ছিল, সেগুলোই মানুষ বেশি ফিরিয়ে দিয়েছেন। উত্তর গবেষকদের কাছেও নেই। তবে গবেষণায় কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে।
প্রথমত, বেশি টাকা হারানো মানে মালিকের বেশি ক্ষতি। সেই ক্ষতির কথা ভেবে অনেকের মধ্যে হয়তো সহানুভূতি কাজ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, মানুষ অল্প টাকা সরিয়ে ফেলাকে যতটা সহজভাবে নেয়, বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়াকে ততটা সহজভাবে না-ও নিতে পারে। আবার কেউ কেউ হয়তো মনে করেছেন, বড় অঙ্কের টাকা নিজের কাছে রাখলে ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বেশি।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের নৈতিক সিদ্ধান্ত কেবল লাভ-লোকসানের অঙ্কে নির্ভর করে না। নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ধরে রাখার ইচ্ছাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অধিকাংশ মানুষ নিজেকে সৎ ব্যক্তি হিসেবেই দেখতে চান। তাই সামান্য অর্থের লোভে মানুষ নিজের নৈতিক পরিচয় নষ্ট করতে চান না।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরীক্ষার পদ্ধতি। গবেষকেরা রাস্তায় ওয়ালেট ফেলে রেখে মানুষের আচরণ পরীক্ষা করে দেখেননি। বরং তারা বিভিন্ন ব্যাংক, হোটেল, ডাকঘর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে ওয়ালেট জমা দিয়ে বলেন, এটি বাইরে পাওয়া গেছে। এরপর দেখা হয়, অফিসের সেই কর্মী ওয়ালেটটি মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন কি না। এখানে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি, কর্মচারীটি তখন নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। চাইলে তিনি ওয়ালেটটি গোপন করতে পারতেন। আবার নিয়ম মেনে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারতেন। এ ছাড়া কর্মস্থলে সহকর্মীদের উপস্থিতি থাকায় ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল। তাই গবেষকদের ধারণা, ব্যক্তিগত সততার পাশাপাশি এসব পরিস্থিতিও ওয়ালেট ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
মনোবিজ্ঞানী নাইজেল হোল্টও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, কর্মস্থলে অসৎ সিদ্ধান্ত নিলে ধরা পড়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু বাসে বা রাস্তায় একা একটি ওয়ালেট কুড়িয়ে পেলে মানুষকে মূলত নিজের বিবেকের সঙ্গেই লড়াই করতে হয়। তাই যেকোনো দুটি পরিস্থিতির ফল একই না-ও হতে পারে।
সততা নিয়ে এর আগেও গবেষণা হয়েছে। ২০০৯ সালে ব্রিটিশ গবেষক রিচার্ড ওয়াইজম্যান স্কটল্যান্ডের এডিনবরা শহরে ইচ্ছাকৃতভাবে কয়েকটি ওয়ালেট ফেলে রাখেন। পরে তিনি দেখেন, যেসব ওয়ালেটের ভেতরে একটি শিশুর ছবি, একটি কুকুরছানার ছবি কিংবা বৃদ্ধ দম্পতির ছবি ছিল, সেগুলো ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এই ফলাফল মানুষের আরেকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। আমরা শুধু যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিই না। আবেগও আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। শিশুর মুখ কিংবা পরিবারের ছবি অচেনা মানুষের প্রতিও সহানুভূতি তৈরি করতে পারে।
আরেকটি গবেষণা আরও আশাব্যঞ্জক তথ্য দিয়েছে।
নরওয়েজিয়ান স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষক ড. জারিফ মার্তুজার গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত অন্যদের যতটা অসৎ মনে করে, বাস্তবে তারা ততটা অসৎ নয়। প্রায় আট হাজার মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত পরীক্ষায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী ধারণা করেছিলেন, অন্যরা অসৎ আচরণ করবেন। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সৎ আচরণ করেছেন।
অর্থাৎ, আমরা অনেক সময় মানুষকে অকারণে অবিশ্বাস করি। সাধারণত মিডিয়াগুলোতে প্রতারণা, দুর্নীতি কিংবা অপরাধের খবর বেশি আসে। ফলে আমাদের মনে হয়, অসৎ হওয়াই যেন সমাজের নিয়ম। সাম্প্রতিক আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যখন নিজের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত লাভের প্রশ্ন আসে, তখন মানুষ সত্য গোপন করতে বা মিথ্যা বলতে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। অর্থাৎ, নিজের স্বার্থ সামনে এলে নৈতিক সিদ্ধান্তও বদলে যেতে পারে।
এই বাস্তবতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। মানুষ সম্পূর্ণ সৎ কিংবা সম্পূর্ণ অসৎ—এভাবে ভাগ করা কঠিন। একই মানুষ একরকম পরিস্থিতিতে সততার পরিচয় দিতে পারেন। আবার একই মানুষ অন্য পরিস্থিতিতে অসৎ আচরণও করতে পারেন।
আমরা প্রায়ই শুনি, মানুষ আর আগের মতো নেই। সমাজে বিশ্বাস কমে গেছে। সবাই শুধু নিজের কথাই ভাবে। কিন্তু এই গবেষণাগুলো আমাদের কিছুটা হলেও ভিন্ন বার্তা দেয়। আমাদের সমাজে এমন অনেকেই আছেন যারা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সঠিক কাজটিই করেন, অনেকেই অচেনা একজন মানুষের ক্ষতির কথা ভাবেন কিংবা নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতে চান।

রাস্তার ধারে একটি ওয়ালেট পড়ে আছে। আশপাশে কেউ নেই। সুযোগ বুঝে আপনি সেটি তুলে নিলেন। খুলে দেখলেন, ভেতরে কিছু টাকা, ব্যাংক কার্ড আর মালিকের পরিচয়পত্র। এবার কী করবেন? মালিককে খুঁজে ওয়ালেট ফিরিয়ে দেবেন, নাকি চুপচাপ নিজের পকেটে পুরবেন?
কয়েক সেকেন্ডের এই সিদ্ধান্ত মানুষের সততা নিয়ে কিছু প্রশ্ন সামনে আনে। মানুষ আসলে কতটা সৎ? আমরা কি সুযোগ পেলে অসৎ হয়ে যাই? নাকি সুযোগের অভাবে সৎ থাকি? নাকি অধিকাংশ মানুষই সঠিক কাজটি করার চেষ্টা করেন?
বহু বছর ধরেই মনোবিজ্ঞানীরা মানুষের নৈতিক আচরণ বোঝার চেষ্টা করছেন। কিন্তু সততা পরিমাপ করা সহজ নয়। কারণ সবাই নিজেকে সৎ মানুষ হিসেবেই দেখতে চান।
এই সমস্যার সমাধানে কয়েকজন গবেষক বেছে নিলেন ভিন্ন পন্থা। কোনো প্রশ্নোত্তর বা জরিপের মাধ্যমে নয়। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ব্যক্তির কিছু সিদ্ধান্ত তার স্বভাব বুঝতে সাহায্য করবে। গবেষণাটি পরিচালিত হয় বিশ্বের ৪০টি দেশের ৩৫৫টি শহরে। সেখানে ১৭ হাজার ৩টি ওয়ালেট বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, হোটেল, ডাকঘর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কাছে জমা দেওয়া হয়। প্রতিটি ওয়ালেটের ভেতরে ছিল মালিকের পরিচয়পত্র, একটি চাবি, ভিজিটিং কার্ড এবং নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা। এরপর গবেষকেরা অপেক্ষা করেন। কতজন মানুষ কুড়িয়ে পাওয়া ওয়ালেটের মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন, সেটিই ছিল গবেষণার মূল বিষয়।
সবচেয়ে বেশি ওয়ালেট ফিরিয়ে দিয়েছেন সুইজারল্যান্ড, নরওয়ে এবং নেদারল্যান্ডসের মানুষ। এরপর রয়েছে ডেনমার্ক, সুইডেন, পোল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, জার্মানি ও ফ্রান্স। অন্যদিকে সবচেয়ে কম ওয়ালেট ফেরত এসেছে পেরু, মরক্কো, চীন, তুরস্ক, কাজাখস্তান, কেনিয়া, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ইন্দোনেশিয়া ও ঘানা থেকে। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য ছিল তালিকার মাঝামাঝি অবস্থানে।
তবে ওয়ালেট ফিরিয়ে দিলেই যে সেই দেশের মানুষরা বেশি সৎ, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। গবেষকরা বলছেন, এই ফলাফলকে কোনো দেশের মানুষের ‘সামগ্রিক স্বভাব’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ওয়ালেট ফেরত দেওয়া বা না দেওয়া, অনেক বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। এ ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত নৈতিকতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি সামাজিক নিয়ম-কানুন, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ, আইনের ভয় কিংবা ধরা পড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে।
গবেষকরা ধারণা করেছিলেন, ওয়ালেটে বেশি টাকা থাকলে তা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার লোভও তত বেশি। কিন্তু গবেষণার ফল ছিল উল্টো। যেসব ওয়ালেটে প্রায় ১৩ ডলার ছিল, সেগুলোর মাত্র ৫১ শতাংশ ফেরত এসেছে। অন্যদিকে, প্রায় ৯৪ ডলার থাকা ওয়ালেটের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ৭২ শতাংশ।
কেন এমন হলো! অর্থাৎ, যেসব ওয়ালেটে বেশি টাকা ছিল, সেগুলোই মানুষ বেশি ফিরিয়ে দিয়েছেন। উত্তর গবেষকদের কাছেও নেই। তবে গবেষণায় কয়েকটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যাও উঠে এসেছে।
প্রথমত, বেশি টাকা হারানো মানে মালিকের বেশি ক্ষতি। সেই ক্ষতির কথা ভেবে অনেকের মধ্যে হয়তো সহানুভূতি কাজ করতে পারে। দ্বিতীয়ত, মানুষ অল্প টাকা সরিয়ে ফেলাকে যতটা সহজভাবে নেয়, বড় অঙ্কের অর্থ নেওয়াকে ততটা সহজভাবে না-ও নিতে পারে। আবার কেউ কেউ হয়তো মনে করেছেন, বড় অঙ্কের টাকা নিজের কাছে রাখলে ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও বেশি।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, মানুষের নৈতিক সিদ্ধান্ত কেবল লাভ-লোকসানের অঙ্কে নির্ভর করে না। নিজের সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা ধরে রাখার ইচ্ছাও এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অধিকাংশ মানুষ নিজেকে সৎ ব্যক্তি হিসেবেই দেখতে চান। তাই সামান্য অর্থের লোভে মানুষ নিজের নৈতিক পরিচয় নষ্ট করতে চান না।
গবেষণার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ছিল পরীক্ষার পদ্ধতি। গবেষকেরা রাস্তায় ওয়ালেট ফেলে রেখে মানুষের আচরণ পরীক্ষা করে দেখেননি। বরং তারা বিভিন্ন ব্যাংক, হোটেল, ডাকঘর ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের কাছে ওয়ালেট জমা দিয়ে বলেন, এটি বাইরে পাওয়া গেছে। এরপর দেখা হয়, অফিসের সেই কর্মী ওয়ালেটটি মালিকের কাছে ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করেন কি না। এখানে একটা বিষয় মনে রাখা জরুরি, কর্মচারীটি তখন নিজের কর্মস্থলে ছিলেন। চাইলে তিনি ওয়ালেটটি গোপন করতে পারতেন। আবার নিয়ম মেনে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগও করতে পারতেন। এ ছাড়া কর্মস্থলে সহকর্মীদের উপস্থিতি থাকায় ধরা পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও ছিল। তাই গবেষকদের ধারণা, ব্যক্তিগত সততার পাশাপাশি এসব পরিস্থিতিও ওয়ালেট ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে।
মনোবিজ্ঞানী নাইজেল হোল্টও একই ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তাঁর মতে, কর্মস্থলে অসৎ সিদ্ধান্ত নিলে ধরা পড়ার ঝুঁকি থাকে। কিন্তু বাসে বা রাস্তায় একা একটি ওয়ালেট কুড়িয়ে পেলে মানুষকে মূলত নিজের বিবেকের সঙ্গেই লড়াই করতে হয়। তাই যেকোনো দুটি পরিস্থিতির ফল একই না-ও হতে পারে।
সততা নিয়ে এর আগেও গবেষণা হয়েছে। ২০০৯ সালে ব্রিটিশ গবেষক রিচার্ড ওয়াইজম্যান স্কটল্যান্ডের এডিনবরা শহরে ইচ্ছাকৃতভাবে কয়েকটি ওয়ালেট ফেলে রাখেন। পরে তিনি দেখেন, যেসব ওয়ালেটের ভেতরে একটি শিশুর ছবি, একটি কুকুরছানার ছবি কিংবা বৃদ্ধ দম্পতির ছবি ছিল, সেগুলো ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।
এই ফলাফল মানুষের আরেকটি বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে। আমরা শুধু যুক্তি দিয়ে সিদ্ধান্ত নিই না। আবেগও আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করতে পারে। শিশুর মুখ কিংবা পরিবারের ছবি অচেনা মানুষের প্রতিও সহানুভূতি তৈরি করতে পারে।
আরেকটি গবেষণা আরও আশাব্যঞ্জক তথ্য দিয়েছে।
নরওয়েজিয়ান স্কুল অব ইকোনমিকসের গবেষক ড. জারিফ মার্তুজার গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ সাধারণত অন্যদের যতটা অসৎ মনে করে, বাস্তবে তারা ততটা অসৎ নয়। প্রায় আট হাজার মানুষের অংশগ্রহণে পরিচালিত পরীক্ষায় দুই-তৃতীয়াংশ অংশগ্রহণকারী ধারণা করেছিলেন, অন্যরা অসৎ আচরণ করবেন। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ মানুষ প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সৎ আচরণ করেছেন।
অর্থাৎ, আমরা অনেক সময় মানুষকে অকারণে অবিশ্বাস করি। সাধারণত মিডিয়াগুলোতে প্রতারণা, দুর্নীতি কিংবা অপরাধের খবর বেশি আসে। ফলে আমাদের মনে হয়, অসৎ হওয়াই যেন সমাজের নিয়ম। সাম্প্রতিক আরেকটি গবেষণায় দেখা গেছে, যখন নিজের রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত লাভের প্রশ্ন আসে, তখন মানুষ সত্য গোপন করতে বা মিথ্যা বলতে বেশি আগ্রহী হয়ে ওঠেন। অর্থাৎ, নিজের স্বার্থ সামনে এলে নৈতিক সিদ্ধান্তও বদলে যেতে পারে।
এই বাস্তবতা আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। মানুষ সম্পূর্ণ সৎ কিংবা সম্পূর্ণ অসৎ—এভাবে ভাগ করা কঠিন। একই মানুষ একরকম পরিস্থিতিতে সততার পরিচয় দিতে পারেন। আবার একই মানুষ অন্য পরিস্থিতিতে অসৎ আচরণও করতে পারেন।
আমরা প্রায়ই শুনি, মানুষ আর আগের মতো নেই। সমাজে বিশ্বাস কমে গেছে। সবাই শুধু নিজের কথাই ভাবে। কিন্তু এই গবেষণাগুলো আমাদের কিছুটা হলেও ভিন্ন বার্তা দেয়। আমাদের সমাজে এমন অনেকেই আছেন যারা সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সঠিক কাজটিই করেন, অনেকেই অচেনা একজন মানুষের ক্ষতির কথা ভাবেন কিংবা নিজের বিবেকের কাছে পরিষ্কার থাকতে চান।
.png)

টেলিভিশন চালু করলেই টুথপেস্টের নানা রকম বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। কোনো বিজ্ঞাপনে জানতে চাওয়া হয় টুথপেস্টে নুন (লবণ) আছে কি না, কোনোটি দাঁতের শিরশির ভাব দূর করার কথা বলে, আবার কোনোটি দেয় নিঃশ্বাসের সতেজতা। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আমাদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আছে। আর তা নিয়ে
২১ ঘণ্টা আগে
বিশ্ব চলচ্চিত্রে যে কজন পরিচালক ‘সিনেমার ভাষা’ বদলে দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে মার্কিন পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক একজন। তাঁর সিনেমা মানুষকে ভাবায়। ১৯২৮ সালের ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে তাঁর জন্ম। জীবদ্দশায় মাত্র ১৩টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। সংখ্যায় কম হলেও প্রতিটি ছবিই সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে
২৭ জুলাই ২০২৬
কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২৬ জুলাই ২০২৬চিত্রশিল্পী তৌহিন হাসান ঘুরে দেখেছেন দেশ-বিদেশের বিখ্যাত সব আর্ট মিউজিয়াম ও আর্ট গ্যালারি। প্রতিটি সংগ্রহশালায় ক্যানভাস থেকে ক্যানভাসে তিনি খুঁজেছেন শিল্পের ভাষা; রঙ, আলো আর তুলির আঁচড়ে অনুভব করেছেন শিল্পীদের জীবন, সময় ও সৃষ্টির গল্প। সেই শিল্পভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে শুরু হলো নতুন ধারাবাহিক
২৬ জুলাই ২০২৬