মৃত্যুবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা
মাহজাবিন নাফিসা

জীবনে তিনি রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী—এমন অনেক কিছুই হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার পর শেষমেশ লেখক হওয়াকেই বেছে নেন আহমদ ছফা। নিজের লেখা একটি প্রবন্ধে তিনি নিজেই এ কথা স্বীকার করেছেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই লেখকের সমাজ ও দেশকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। অথচ তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি কখনো লেখক হতে চাননি।
ছফার জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে বোঝা যায়, তাঁর কাছে লেখালেখি কখনো খ্যাতি, পেশা বা নিজেকে প্রকাশের মাধ্যম ছিল না। তিনি লেখাকে দেখতেন এমন এক দায়িত্ব হিসেবে, যা থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। তাই তিনি কেন লিখতেন, তা বুঝতে হলে তাঁর লেখার কাছেই ফিরে যেতে হবে।
‘কেন লিখি’ প্রবন্ধের শুরুতেই ছফা ছোটবেলার একটি স্মৃতির কথা বলেছেন। তাঁর বাবা ছোটবেলায় বলতেন, ‘আমার এই ছেলেটি আগের যুগে জন্মালে নিশ্চয়ই পয়গম্বর বা নবী হতো।’ বাবার এই কথায় তিনি গর্ব বোধ করার বদলে অস্বস্তিতে পড়তেন। কারণ তাঁর মনে হতো, পয়গম্বর মানেই অত্যন্ত গম্ভীর এবং বড় দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া একজন মানুষ। তাই ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাবতেন, কীভাবে এই ভারী দায়িত্ব থেকে দূরে থাকা যায়।
লেখালেখির মতো গুরুগম্ভীর দায়িত্ব যেন নিতে না হয়, তাই তিনি জীবনে অন্য অনেক কিছু হতে চেয়েছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি কৃষকদের নিয়ে রাজনীতির মাঠে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, রাজনীতির মাধ্যমেই দেশের মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করা যায়। কিন্তু সেই মাঠে তিনি বেশি দিন টিকতে পারেননি।
এরপর তিনি সরকারি কর্মকর্তা (আমলা) হওয়ার চেষ্টা করেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করার পরও শেষ পর্যন্ত সেখানে তাঁর মন টেকেনি। এরপর তিনি ঠিক করলেন, বড় একজন ‘পণ্ডিত’ হবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমিতে তিনি গবেষণার কাজও করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত পণ্ডিতদের জ্ঞান ও চিন্তার সীমাবদ্ধতা দেখে হতাশ হয়ে তাঁর সেই স্বপ্নও ভেঙে যায়। তাঁর বিভিন্ন লেখাতেও এই হতাশার ছাপ পাওয়া যায়।
এরপর তিনি ব্যবসায় নামেন। ‘উত্থান পর্ব’ নামে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর একটি প্রকাশনার কার্যালয় ছিল। তাঁর মতে, শুরুতে এটি বেশ সাড়া ফেললেও পরে আর তিনি এটি ধরে রাখতে পারেননি। এমনকি নিজের সম্পাদনায় একটি পত্রিকা বের করারও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে সে পথেও তিনি আর বেশি দূর এগোতে পারেননি।
আহমদ ছফা কর্মজীবনে যে পথই বেছে নিয়েছেন, প্রতিটিতেই কিছুটা এগিয়ে আবার ফিরে এসেছেন। কোনো কিছুতেই তিনি নিজের মতো করে মন বসাতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে এসেছেন সেই লেখার কাছেই।

ছফা নিজেই বলেছেন, সবাই যখন তাঁকে ছেড়ে চলে যায়, সব রাস্তা যখন বন্ধ হয়ে যায়, ঠিক তখনই তিনি লেখার কাছে ফিরে আসেন। নিজের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আমি তো বারবার পালিয়ে এসে লেখার মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করি।’ অর্থাৎ তিনি যতবার অন্য কিছু হতে চেয়েছেন, ততবারই লেখালেখি তাঁকে নিজের কাছে টেনে নিয়েছে। তাই তাঁর কাছে লেখালেখি কোনো ব্যক্তিগত অর্জন ছিল না। এটিকে তিনি ‘নিয়তি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
‘কেন লিখি’ প্রবন্ধে তিনি হজরত মুসা (আ.)-এর প্রসঙ্গ এনেছেন। ছফা লিখেছেন, ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়ার সময় তিনি দেখেন, ঈশ্বর যখন মুসা নবীকে নবুয়তের দায়িত্ব দেন, তখন তিনি বারবার সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে সেই দায়িত্ব কাঁধে নিতেই হয়েছিল।
এই গল্পের সঙ্গে ছফা নিজের জীবনের অদ্ভুত মিল খুঁজে পান। একজন নবীকে যেমন তাঁর ওপর দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেই হয়, তেমনি ছফাও তাঁর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে লেখালেখিকে এড়িয়ে যেতে পারেননি। কারণ তিনি লেখাকে কখনো পেশা হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে।
আহমদ ছফার মতে, সমাজে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, বিজ্ঞানী বা সাংবাদিক—সবারই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু একজন লেখকের গুরুত্ব সবার চেয়ে বেশি। কারণ লেখক শুধু গল্পই লেখেন না; তিনি মানুষের চেতনা, অনুভূতি আর সভ্যতার সবচেয়ে দামি অংশটুকু ধারণ করেন।
বিষয়টি বোঝাতে তিনি মহাকবি কালিদাসের উদাহরণ দিয়েছেন। রাজা বিক্রমাদিত্যের আমলে অনেক দক্ষ কারিগর, বিজ্ঞানী ও জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। কিন্তু কালের নিয়মে তাঁদের নাম ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে। শুধু কালিদাস রয়ে গেছেন। কারণ তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে সেই সময়ের সমাজ, সভ্যতা ও জ্ঞান ধরে রেখেছিলেন। কালিদাসকে তাঁর লেখাই আজ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছে। এই বিশ্বাস থেকেই ছফা লেখকের দায়িত্বকে পৃথিবীর অন্য সব পেশার চেয়ে বড় মনে করতেন।
রাজনীতি, সরকারি চাকরি, গবেষণা, ব্যবসা কিংবা সাংবাদিকতা—সবকিছুই তিনি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনোটিই তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। তিনি বারবার ফিরে এসেছেন লেখার কাছে। তিনি লিখেছেন কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, জীবন কিছু মানুষকে এমন দায়িত্ব দেয়, যা থেকে কোনোভাবেই পালিয়ে থাকা যায় না। তাই নিজের বিষয়ে তিনি বলতেন, ‘ক্ষুদ্র সাফল্যের চাইতে মহৎ ব্যর্থতা অনেক বেশি কাঙ্ক্ষিত।’ সারা জীবন তিনি এই আদর্শ বুকে ধারণ করেছেন। বেছে নিয়েছেন লেখালেখি, যা তাঁকে স্বাধীনতা দিয়েছে এবং নিজের মতো বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে। মানুষের প্রতি তাঁর যে দায়বদ্ধতা ছিল, তা মেটাতেই তিনি বারবার লেখার কাছে ফিরেছেন। হয়তো এ কারণেই তাঁর লেখায় কোনো আপস নেই, বরং প্রশ্নের ধার অনেক বেশি।
যখন বন্ধুরা পাশ থেকে সরে গেছে, চারপাশের সবাই যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সেই কঠিন একাকীত্বের সময়েও ছফা নিজের লেখার মধ্যেই আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি খুব ভালো লিখতে পারেন, এমন কোনো অহংকার তাঁর ছিল না। তিনি লিখতেন শুধু নিজের দায়িত্বটুকু পালনের জন্য।
ছফা তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘লেখাটা আমার কাছে আনন্দের নয়, অত্যন্ত গুরুভার বেদনাময় কর্তব্য।’ হয়তো এই কারণেই তাঁর লেখা এত তীব্র, এত অস্বস্তিকর ও আপসহীন। মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য বা পাঠককে খুশি করার জন্য তিনি কখনো কলম ধরেননি। এমনকি লেখালেখি থেকে আনন্দ পাওয়ার ইচ্ছাও তাঁর ছিল না। কেউ তাঁর লেখা না পড়লেও তিনি লিখে যেতেন, কারণ এটাই ছিল তাঁর দায়িত্ব। তা না হলে হয়তো তিনি লিখতেনই না।
আহমদ ছফা নিজেকে কখনো বাণিজ্যিক লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাননি। তিনি মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের পুরো জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন লেখালেখির পেছনে।

জীবনে তিনি রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী—এমন অনেক কিছুই হতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার পর শেষমেশ লেখক হওয়াকেই বেছে নেন আহমদ ছফা। নিজের লেখা একটি প্রবন্ধে তিনি নিজেই এ কথা স্বীকার করেছেন। বাংলা সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই লেখকের সমাজ ও দেশকে দেখার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ছিল। অথচ তিনি নিজেই বলেছেন, তিনি কখনো লেখক হতে চাননি।
ছফার জীবন ও সাহিত্যকর্ম থেকে বোঝা যায়, তাঁর কাছে লেখালেখি কখনো খ্যাতি, পেশা বা নিজেকে প্রকাশের মাধ্যম ছিল না। তিনি লেখাকে দেখতেন এমন এক দায়িত্ব হিসেবে, যা থেকে পালিয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। তাই তিনি কেন লিখতেন, তা বুঝতে হলে তাঁর লেখার কাছেই ফিরে যেতে হবে।
‘কেন লিখি’ প্রবন্ধের শুরুতেই ছফা ছোটবেলার একটি স্মৃতির কথা বলেছেন। তাঁর বাবা ছোটবেলায় বলতেন, ‘আমার এই ছেলেটি আগের যুগে জন্মালে নিশ্চয়ই পয়গম্বর বা নবী হতো।’ বাবার এই কথায় তিনি গর্ব বোধ করার বদলে অস্বস্তিতে পড়তেন। কারণ তাঁর মনে হতো, পয়গম্বর মানেই অত্যন্ত গম্ভীর এবং বড় দায়িত্ব কাঁধে নেওয়া একজন মানুষ। তাই ছোটবেলা থেকেই তিনি ভাবতেন, কীভাবে এই ভারী দায়িত্ব থেকে দূরে থাকা যায়।
লেখালেখির মতো গুরুগম্ভীর দায়িত্ব যেন নিতে না হয়, তাই তিনি জীবনে অন্য অনেক কিছু হতে চেয়েছিলেন। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি কৃষকদের নিয়ে রাজনীতির মাঠে বেশ সক্রিয় ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, রাজনীতির মাধ্যমেই দেশের মানুষের সবচেয়ে বেশি উপকার করা যায়। কিন্তু সেই মাঠে তিনি বেশি দিন টিকতে পারেননি।
এরপর তিনি সরকারি কর্মকর্তা (আমলা) হওয়ার চেষ্টা করেন। লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করার পরও শেষ পর্যন্ত সেখানে তাঁর মন টেকেনি। এরপর তিনি ঠিক করলেন, বড় একজন ‘পণ্ডিত’ হবেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলা একাডেমিতে তিনি গবেষণার কাজও করেন। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের তথাকথিত পণ্ডিতদের জ্ঞান ও চিন্তার সীমাবদ্ধতা দেখে হতাশ হয়ে তাঁর সেই স্বপ্নও ভেঙে যায়। তাঁর বিভিন্ন লেখাতেও এই হতাশার ছাপ পাওয়া যায়।
এরপর তিনি ব্যবসায় নামেন। ‘উত্থান পর্ব’ নামে শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে তাঁর একটি প্রকাশনার কার্যালয় ছিল। তাঁর মতে, শুরুতে এটি বেশ সাড়া ফেললেও পরে আর তিনি এটি ধরে রাখতে পারেননি। এমনকি নিজের সম্পাদনায় একটি পত্রিকা বের করারও চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু নানা তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে সে পথেও তিনি আর বেশি দূর এগোতে পারেননি।
আহমদ ছফা কর্মজীবনে যে পথই বেছে নিয়েছেন, প্রতিটিতেই কিছুটা এগিয়ে আবার ফিরে এসেছেন। কোনো কিছুতেই তিনি নিজের মতো করে মন বসাতে পারছিলেন না। শেষ পর্যন্ত তিনি ফিরে এসেছেন সেই লেখার কাছেই।

ছফা নিজেই বলেছেন, সবাই যখন তাঁকে ছেড়ে চলে যায়, সব রাস্তা যখন বন্ধ হয়ে যায়, ঠিক তখনই তিনি লেখার কাছে ফিরে আসেন। নিজের সম্পর্কে তিনি বলেছেন, ‘আমি তো বারবার পালিয়ে এসে লেখার মধ্যে আশ্রয় গ্রহণ করি।’ অর্থাৎ তিনি যতবার অন্য কিছু হতে চেয়েছেন, ততবারই লেখালেখি তাঁকে নিজের কাছে টেনে নিয়েছে। তাই তাঁর কাছে লেখালেখি কোনো ব্যক্তিগত অর্জন ছিল না। এটিকে তিনি ‘নিয়তি’ বলে উল্লেখ করেছেন।
‘কেন লিখি’ প্রবন্ধে তিনি হজরত মুসা (আ.)-এর প্রসঙ্গ এনেছেন। ছফা লিখেছেন, ওল্ড টেস্টামেন্ট পড়ার সময় তিনি দেখেন, ঈশ্বর যখন মুসা নবীকে নবুয়তের দায়িত্ব দেন, তখন তিনি বারবার সেই দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে সেই দায়িত্ব কাঁধে নিতেই হয়েছিল।
এই গল্পের সঙ্গে ছফা নিজের জীবনের অদ্ভুত মিল খুঁজে পান। একজন নবীকে যেমন তাঁর ওপর দেওয়া দায়িত্ব পালন করতেই হয়, তেমনি ছফাও তাঁর দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে লেখালেখিকে এড়িয়ে যেতে পারেননি। কারণ তিনি লেখাকে কখনো পেশা হিসেবে দেখেননি, দেখেছেন একটি নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে।
আহমদ ছফার মতে, সমাজে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, বিজ্ঞানী বা সাংবাদিক—সবারই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে, কিন্তু একজন লেখকের গুরুত্ব সবার চেয়ে বেশি। কারণ লেখক শুধু গল্পই লেখেন না; তিনি মানুষের চেতনা, অনুভূতি আর সভ্যতার সবচেয়ে দামি অংশটুকু ধারণ করেন।
বিষয়টি বোঝাতে তিনি মহাকবি কালিদাসের উদাহরণ দিয়েছেন। রাজা বিক্রমাদিত্যের আমলে অনেক দক্ষ কারিগর, বিজ্ঞানী ও জ্ঞানী মানুষ ছিলেন। কিন্তু কালের নিয়মে তাঁদের নাম ইতিহাস থেকে হারিয়ে গেছে। শুধু কালিদাস রয়ে গেছেন। কারণ তিনি তাঁর লেখার মাধ্যমে সেই সময়ের সমাজ, সভ্যতা ও জ্ঞান ধরে রেখেছিলেন। কালিদাসকে তাঁর লেখাই আজ পর্যন্ত বাঁচিয়ে রেখেছে। এই বিশ্বাস থেকেই ছফা লেখকের দায়িত্বকে পৃথিবীর অন্য সব পেশার চেয়ে বড় মনে করতেন।
রাজনীতি, সরকারি চাকরি, গবেষণা, ব্যবসা কিংবা সাংবাদিকতা—সবকিছুই তিনি চেষ্টা করেছেন। কিন্তু কোনোটিই তাঁকে আটকে রাখতে পারেনি। তিনি বারবার ফিরে এসেছেন লেখার কাছে। তিনি লিখেছেন কারণ তাঁর বিশ্বাস ছিল, জীবন কিছু মানুষকে এমন দায়িত্ব দেয়, যা থেকে কোনোভাবেই পালিয়ে থাকা যায় না। তাই নিজের বিষয়ে তিনি বলতেন, ‘ক্ষুদ্র সাফল্যের চাইতে মহৎ ব্যর্থতা অনেক বেশি কাঙ্ক্ষিত।’ সারা জীবন তিনি এই আদর্শ বুকে ধারণ করেছেন। বেছে নিয়েছেন লেখালেখি, যা তাঁকে স্বাধীনতা দিয়েছে এবং নিজের মতো বাঁচার সুযোগ করে দিয়েছে। মানুষের প্রতি তাঁর যে দায়বদ্ধতা ছিল, তা মেটাতেই তিনি বারবার লেখার কাছে ফিরেছেন। হয়তো এ কারণেই তাঁর লেখায় কোনো আপস নেই, বরং প্রশ্নের ধার অনেক বেশি।
যখন বন্ধুরা পাশ থেকে সরে গেছে, চারপাশের সবাই যখন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, সেই কঠিন একাকীত্বের সময়েও ছফা নিজের লেখার মধ্যেই আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি খুব ভালো লিখতে পারেন, এমন কোনো অহংকার তাঁর ছিল না। তিনি লিখতেন শুধু নিজের দায়িত্বটুকু পালনের জন্য।
ছফা তাঁর প্রবন্ধে লিখেছেন, ‘লেখাটা আমার কাছে আনন্দের নয়, অত্যন্ত গুরুভার বেদনাময় কর্তব্য।’ হয়তো এই কারণেই তাঁর লেখা এত তীব্র, এত অস্বস্তিকর ও আপসহীন। মানুষের প্রশংসা কুড়ানোর জন্য বা পাঠককে খুশি করার জন্য তিনি কখনো কলম ধরেননি। এমনকি লেখালেখি থেকে আনন্দ পাওয়ার ইচ্ছাও তাঁর ছিল না। কেউ তাঁর লেখা না পড়লেও তিনি লিখে যেতেন, কারণ এটাই ছিল তাঁর দায়িত্ব। তা না হলে হয়তো তিনি লিখতেনই না।
আহমদ ছফা নিজেকে কখনো বাণিজ্যিক লেখক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাননি। তিনি মানুষকে সচেতন করার দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের পুরো জীবন বিলিয়ে দিয়েছেন লেখালেখির পেছনে।
.png)

রাস্তার ধারে একটি ওয়ালেট পড়ে আছে। আশপাশে কেউ নেই। সুযোগ বুঝে আপনি সেটি তুলে নিলেন। খুলে দেখলেন, ভেতরে কিছু টাকা, ব্যাংক কার্ড আর মালিকের পরিচয়পত্র। এবার কী করবেন? মালিককে খুঁজে ওয়ালেট ফিরিয়ে দেবেন, নাকি চুপচাপ নিজের পকেটে পুরবেন?
২ ঘণ্টা আগে
টেলিভিশন চালু করলেই টুথপেস্টের নানা রকম বিজ্ঞাপন চোখে পড়ে। কোনো বিজ্ঞাপনে জানতে চাওয়া হয় টুথপেস্টে নুন (লবণ) আছে কি না, কোনোটি দাঁতের শিরশির ভাব দূর করার কথা বলে, আবার কোনোটি দেয় নিঃশ্বাসের সতেজতা। সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, আমাদের ব্যবহৃত বেশিরভাগ টুথপেস্টেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি আছে। আর তা নিয়ে
১ দিন আগে
বিশ্ব চলচ্চিত্রে যে কজন পরিচালক ‘সিনেমার ভাষা’ বদলে দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে মার্কিন পরিচালক স্ট্যানলি কুবরিক একজন। তাঁর সিনেমা মানুষকে ভাবায়। ১৯২৮ সালের ২৬ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে তাঁর জন্ম। জীবদ্দশায় মাত্র ১৩টি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন। সংখ্যায় কম হলেও প্রতিটি ছবিই সিনেমার ইতিহাসে বিশেষ জায়গা করে
২৭ জুলাই ২০২৬
কোনো খাবার শরীরের জন্য কতটা ভালো বা খারাপ হবে, তা নির্ভর করে কী পরিমাণে খাচ্ছেন, কীভাবে রান্না করছেন এবং আপনার সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস কেমন, তার ওপর। তবে এর অর্থ এই নয় যে সব খাবার সবার জন্য সমানভাবে উপযোগী। নিজের শারীরিক অবস্থা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সুষম খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
২৬ জুলাই ২০২৬