হরমুজ প্রণালি ফের বন্ধ ঘোষণা ইরানের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

হরমুজ প্রণালিতে দাঁড়িয়ে আছে তেলবাহী ট্যাংকার এবং পণ্যবাহী জাহাজ। ছবি: এপি

বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ পথ হরমুজ প্রণালি ফের নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) ঘনিষ্ঠ সংবাদ সংস্থা ফার্স নিউজ এবং রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এই বিষয়ে একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।

আইআরজিসির ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছে যে, প্রণালিটি আবার তার ‘পূর্ববর্তী অবস্থায়’ ফিরে যাবে এবং সশস্ত্র বাহিনী পুরো এলাকাটি নিয়ন্ত্রণ করবে।

সামরিক ওই বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘জলদস্যুতার’ অভিযোগ এনে বলা হয়েছে, তথাকথিত ‘মার্কিন অবরোধ’ সামুদ্রিক ডাকাতির শামিল।

শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার দিনই হরমুজ প্রণালি ‘সম্পূর্ণ উন্মুক্ত’ ঘোষণা করেছিল ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ওই ঘোষণা দেন। এতে ৪৮ দিনের অচলাবস্থা শেষে প্রথমবারের মতো পূর্ণমাত্রায় খোলে বিশ্বের ২০ শতাংশ জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি।

অবশ্য আরাগচি স্পষ্ট করে বলেন, জাহাজগুলোকে ইরানের ঘোষিত ‘সমন্বিত রুট’ বা নির্দিষ্ট পথ অনুসরণ করেই চলাচল করতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখে, তবে এই প্রণালি ফের বন্ধ করে দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা দিয়েছিল দেশটি।

এর পরপরই ট্রুথ সোশ্যালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরান এইমাত্র জানিয়েছে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে এবং সব ধরনের নৌচলাচলের জন্য হরমুজ প্রস্তুত।’

তবে ইরানের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত দেশটির ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ চলবে বলে জানান তিনি। ট্রাম্প লেখেন, ‘ইরানে আমাদের নৌ-অবরোধ পূর্ণ শক্তিতে চলবে। যতক্ষণ না চূড়ান্ত চুক্তি সম্পন্ন হচ্ছে, ততক্ষণ এই অবরোধ বলবৎ থাকবে।’

এরপরই প্রণালিটি কতক্ষণ খোলা থাকবে তা নিয়ে সংশয় দেখা দেয়। যদিও বেশকিছু জাহাজকে জলপথটি দিয়ে যাতায়াত করতে দেখা যায়। তবে কতগুলো সামুদ্রিক যান শেষপর্যন্ত প্রণালিটি পার হতে পেরেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তা কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালির জন্য একটি নতুন সামুদ্রিক নিয়ম মেনে চলার সময় এসেছে। এই ব্যবস্থার অধীনে, কেবল আইআরজিসির নৌবাহিনীর অনুমতি পাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজগুলো নির্ধারিত রুট দিয়ে এবং প্রয়োজনীয় টোল বা শুল্ক দিয়ে যাতায়াত করতে পারবে।’

তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানি জাহাজ চলাচলে কোনো বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তবে এই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে।’

খাতাম আল-আনবিয়ায় সামরিক সদর দপ্তরও জানিয়েছে, যতক্ষণ না যুক্তরাষ্ট্র ইরানি নৌযানের অবাধ চলাচলের ওপর থেকে বিধিনিষেধ তুলে নিচ্ছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি ‘কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত’ ও ‘অপরিবর্তিত’ থাকবে।

সম্পর্কিত