ভেনেজুয়েলায় আকস্মিক হামলা চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে সস্ত্রীক গ্রেপ্তার করার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের জনমত বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও ইপসোসের যৌথ জরিপে দেখা গেছে, মাত্র এক-তৃতীয়াংশ আমেরিকান এই সামরিক অভিযানকে সমর্থন করেছেন। তবে ৭২ শতাংশ উত্তরদাতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই আক্রমণের ফলে ভেনেজুয়েলায় ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে’ জড়িয়ে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র।
এছাড়া গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইউগভের জরিপেও একই ধরনের বিভাজন দেখা গেছে। সেখানে ৩৬ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এই অভিযানকে সমর্থন দিলেও ৩৯ শতাংশ এর বিরোধিতা করেছেন। বাকি ২৫ শতাংশ কোনো মন্তব্য করেননি।
ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতির উন্নতি হবে কি না, এমন প্রশ্নেও মার্কিন নাগরিকেরা বিভক্ত। ৩৪ শতাংশ মনে করেন উন্নতি হবে, আর ৩৫ শতাংশের মতে রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে।
তবে এই মতামতে দলভিত্তিক বিভাজন স্পষ্ট। প্রায় ৬৫ থেকে ৭৪ শতাংশ রিপাবলিকান অভিযানের পক্ষে থাকলেও ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে মাত্র ১১ থেকে ১৪ শতাংশ এবং স্বতন্ত্রদের মধ্যে ২৩ থেকে ৩৪ শতাংশ একে সমর্থন দিয়েছেন।
অভিযান পরবর্তী সময়ে ট্রাম্পের একটি মন্তব্য নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ভেনেজুয়েলায় ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রই দেশটি ‘পরিচালনা করবে’। এছাড়া তিনি ভেনেজুয়েলার বিরোধীদলীয় নেত্রী মারিয়া করিনা মাচাদোকে গুরুত্ব না দিয়ে মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নাম প্রস্তাব করেন, যা নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। গত সোমবার রদ্রিগেজ শপথ গ্রহণ করেছেন।
এদিকে ওয়াশিংটন পোস্টের জরিপ বলছে, ৬৩ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন এই অভিযানের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। ৯৪ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এই মত দিলেও মাত্র ২৪ শতাংশ রিপাবলিকান মনে করেন কংগ্রেসের অনুমোদনের দরকার ছিল।
মাদুরো এখন নিউইয়র্কের একটি আদালতে মাদক-সন্ত্রাসবাদ এবং কোকেন আমদানির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বন্দি রয়েছেন। সোমবার আদালতে নিজেকে ‘নিরপরাধ’ দাবি করে তিনি নিজেকে একজন ‘মার্জিত মানুষ’ এবং ‘যুদ্ধবন্দি’ হিসেবে অভিহিত করেন। আগামী ১৭ মার্চ তাঁকে আবারও আদালতে হাজির করা হবে।