যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধে’ স্বাবলম্বিতায় জোর দিচ্ছে ইরান

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

যুদ্ধের কারণে ইরানিরা খাদ্যপণ্য কিনছেন বাড়তি মূল্যে। ছবি: সংগৃহীত।
যুদ্ধের কারণে ইরানিরা খাদ্যপণ্য কিনছেন বাড়তি মূল্যে। ছবি: সংগৃহীত।

দেশের অভ্যন্তরীণ সক্ষমতায় যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা করতে চাইছে ইরান। মার্কিন অর্থনৈতিক যুদ্ধ সামাল দিতে দেশটি নিজেদের স্বাবলম্বিতায় জোর দিচ্ছে। প্রধান কৌশল হিসেবে তেহরান এখন প্রয়োজনীয় নিত্যপণ্য, বৈদেশিক মুদ্রা এবং সোনা মজুত করার ওপর জোর দিচ্ছে। তবে বিশ্বের অন্যতম জ্বালানিসমৃদ্ধ দেশ হওয়া সত্ত্বেও ইরান সরকার শেষ পর্যন্ত দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির রেশনিং চালু করতে বাধ্য হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার পর রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সাক্ষাৎকারে ইরানের অর্থমন্ত্রী আলী মাদানিজাদে ইরান সরকারের দুই বছর মেয়াদী পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন।

দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলার পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে ইরানের অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা খেলাটা জানি, আমাদের নিজস্ব পদ্ধতিও।’ তিনি আশা করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য দেশের সব বাণিজ্য বন্ধ করার যে হুমকি দিয়েছেন, তা অনেক দেশই প্রত্যাখ্যান করবে।

চলতি সপ্তাহেই ইরানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি জানিয়ে দেন, ইরানের তেল রপ্তানি বলতে গেলে বন্ধই করে দেওয়া হয়েছে। তেল রপ্তানি ইরানের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস। তবে হেম্মাতি ইরানিদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছেন, জরুরি পণ্য ক্রয়ে বৈদেশিক মুদ্রার কোনো কমতি হবে না। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের হাতে যথেষ্ট বৈদেশিক মুদ্রা আছে, আর এমন জায়গায় তা রাখা আছে যা যুক্তরাষ্ট্রের নাগালের বাইরে।

অব্যাহত মুদ্রাস্ফীতির কারণে ইরানিদের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে, স্বীকার করে হেম্মাতি বলেছেন, ‘কষ্ট সহ্য করা আর ভেঙে পড়া এক জিনিস নয়। আমরা ভেঙে পড়ি এটাই চায় যুক্তরাষ্ট্র।’

ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমে মোহাজেরানি গত মঙ্গলবার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে সাধারণ ইরানিদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আগামী এক বছরে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি আশা করা উচিত হবে না।’

ইরানের নতুন প্রতিরক্ষাপ্রধান মোহসেন রেজায়েই এক টেলিভিশন সাক্ষাতকারে অর্থনৈতিক যুদ্ধ মোকাবিলার দীর্ঘমেয়াদী কৌশলের জানান দেন। দেশের উৎপাদন শক্তিকে সমৃদ্ধ করতে ইরানি তরুণদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

তাঁর এই চিন্তা আসলে ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটির কয়েক দশকের কৌশলী নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। যেখানে দেশটির উন্নয়ন পরিকল্পনায় বার বার ‘নিজস্ব সক্ষমতা’-কে জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে বেশ কষ্ট করে অর্জন করতে হয় এমন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হচ্ছে।

ইরানকে গম, যব, চাল এবং ভেজিটেবল অয়েলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য আমদানি করতে হয়। ইরানে পরিশোধিত চিনি ও ময়দা মূলত আসে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব থেকে, তবে পরোক্ষভাবে তৃতীয় কোনো রপ্তানিকারকের মাধ্যমে। রাশিয়া এবং মধ্যএশিয়া থেকে কাস্পিয়ান সাগর দিয়েও ইরানের উত্তরাঞ্চলে কিছু শস্য আসে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষিবিষয় সংস্থা ডব্লিউএফও জানিয়েছে- আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, পরিবহন সীমাবদ্ধতা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধিতে নেওয়া কৌশলে চাপ বাড়ছে ইরানিদের ওপর। বিশেষ করে খাদ্যের দাম বেড়েছে এবং পরিবারগুলোর ক্রয়ক্ষমতা কমেছে।

ইরানের পরিসংখ্যান কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এ বছরের জুলাই মাসে দেশটিতে খাদ্যের দাম ১২৮ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে।

সূত্র: আলজাজিরা

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত