leadT1ad

মার্কিন হামলার মুখে ইরান, শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ার অঙ্গীকার

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১৯: ৪৮
শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে লড়ার অঙ্গীকার ইরানের। ছবি: সংগৃহীত

বিক্ষোভে ইরান সরকার ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে এই অভিযোগে দেশটিতে হস্তক্ষেপ চালানোর কথা বলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কোন ধরনের হস্তক্ষেপ চালানো হবে এই ব্যাপারে তিনি স্পষ্ট কোনো বার্তা দেননি। যদিও এরই মধ্যেই ইরানে সামরিক হামলার শঙ্কায় দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা চলছি। অজ্ঞাতনামা এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে এই খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্য ভিত্তিক বার্তাসংস্থা রয়টার্স।

এদিকে, ইরান বলছে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে হামলা চালালে তারাও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাবে। এরমধ্যেই প্রতিবেশী দেশগুলোকে এই ব্যাপারে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান। এছাড়া দেশটির ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের (আইআরজিএস) বিমান বাহিনীর কমান্ডার সরদার মুসাভি বলেছেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ‘প্রতিরক্ষা প্রস্তুতির সর্বোচ্চ পর্যায়ে’ আছে এবং যেকোনো ধরনের ‘আগ্রাসন মোকাবিলায় প্রস্তুত’ আছে।

তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ের তুলনায় ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে এবং ওই সময় যে ক্ষতি হয়েছিল তা সংস্কার করে বাহিনীকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের প্রতিরক্ষা প্রধান যেকোনো ধরনের আক্রমণে শেষবিন্দু লড়ার অঙ্গীকার করেছেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাছিরজাদেহ বলেছেন, কোনো শত্রু যদি আক্রমণ করে তবে তার জন্য ইরানের ‘অনেক বিস্ময়কর’ বিষয় সংরক্ষিত আছে।

ইরানে ট্রাম্পের হামলার হুমকি প্রসঙ্গে এ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল বলেন, যদি এ হুমকি কাজে পরিণত হয়, তবে আমরা পুরো বাহিনী নিয়ে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে দেশকে রক্ষা করব। আমাদের প্রতিক্ষা তাদের জন্য বিষাদময় হয়ে উঠবে।

এছাড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যেসব দেশ ইরানের হামলা চালানোয় সাহায্য করবে তারাও হামলার ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ হিসেবে বিবেচিত হবে।

হামলার শঙ্কার কারণ

মধ্যপ্রাচ্যের যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় ঘাঁটি কাতারের আল উদেদ থেকে কিছু সেনাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর আগে গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলার সময় ঘাঁটিটি থেকে সেনাদের সরিয়ে নিয়েছিল। তাই এবার সরিয়ে নেওয়ার ঘটনাকেও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপের শঙ্কার দিকটি সামনে নিয়ে এসেছে।

নাম প্রকাশ না করে তিনজন কূটনীতিক রয়টার্সকে বলেছেন, কাতারের আল উদেদ বিমান ঘাঁটি থেকে কিছু সেনাকে সরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় এই ঘাঁটিতে প্রায় ১০ আমেরিকান সেনা মোতায়েন আছে।

একজন কূটনীতিক অবশ্য একে কোনো ‘নির্দেশে সরিয়ে’ নেওয়া নয়, বরং ‘অবস্থান পরিবর্তন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে তিনি এও উল্লেখ করেছে, এই সরিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট কারন তিনি জানেন না।

এদিকে, দোহায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস এই বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। এছাড়া কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এ সংক্রান্ত অনুরোধে সাড়া দেয়নি।

Ad 300x250

সম্পর্কিত