জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬

ও গণভোট

ক্লিক করুন

আপসে নারাজ তেহরান-ওয়াশিংটন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার স্পষ্ট ইঙ্গিত

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১৪: ২৭
এআই জেনারেটেড ছবি

যুদ্ধবিরতির প্রশ্নে কোনো পক্ষই নরম হওয়ার লক্ষণ দেখাচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে পাঠানো উত্তেজনা প্রশমন ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করেছেন এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা। একই সময়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও প্রকাশ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি এখনই এমন কোনো সমঝোতায় যেতে প্রস্তুত নন, কারণ তার ভাষায় প্রস্তাবিত শর্ত ‘যথেষ্ট ভালো’ নয়। ফলে কূটনৈতিক পথের বদলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কাই আরও জোরালো হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলা ওই ইরানি কর্মকর্তা দাবি করেন, দুটি মধ্যস্থতাকারী দেশের মাধ্যমে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছানো প্রস্তাব খামেনি নাকচ করে দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বোচ্চ নেতা মনে করেন এখনো ‘শান্তির সঠিক সময়’ আসেনি; যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে আগে পরাজয় মেনে নিতে হবে এবং ক্ষতিপূরণের প্রশ্নও সামনে আসতে হবে। কর্মকর্তা আরও বলেন, সর্বোচ্চ নেতা দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল তাঁর প্রথম বৈদেশিক নীতিবিষয়ক বৈঠক, যদিও তিনি সেখানে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন কি না, তা স্পষ্ট করা হয়নি।

তেহরানের প্রকাশ্য সরকারি অবস্থানও এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিবিএস-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ইরান ‘কখনোই যুদ্ধবিরতি চায়নি’ এবং ‘আলোচনাও চায়নি’। তাঁর বক্তব্য, ‘যত দিন প্রয়োজন, আমরা নিজেদের রক্ষা করতে প্রস্তুত।’

একই সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ফেরার কোনো কারণ তেহরান দেখছে না, কারণ আক্রমণের আগেও আলোচনা চলছিল। এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, ইরান এখন আলোচনার চেয়ে প্রতিরোধের বার্তাকেই সামনে রাখতে চাইছে।

ওয়াশিংটনের অবস্থানও কম অনমনীয় নয়। ট্রাম্প সাম্প্রতিক মন্তব্যে বলেছেন, ইরান সমঝোতা চাইতে পারে, কিন্তু তিনি এখনই চুক্তিতে যেতে আগ্রহী নন, কারণ শর্ত তার কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি সরাসরি বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র এখন যুদ্ধ বন্ধের জন্য কোনো সমঝোতা খুঁজছে না।

অন্যদিকে রয়টার্সের আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি মিত্র দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরুর চেষ্টা ট্রাম্প প্রশাসন নাকচ করেছে। এ বাস্তবতায় দুই পক্ষই আপসের বদলে চাপ বাড়িয়ে সুবিধাজনক অবস্থান তৈরির কৌশল নিচ্ছে বলেই ধারণা জোরাল হচ্ছে।

মুজতবা খামেনির অবস্থান তাঁর প্রথম প্রকাশ্য যুদ্ধবার্তাতেও স্পষ্ট হয়েছিল। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে দেখা যায়, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তাঁর নামে প্রচারিত প্রথম বক্তব্যে তিনি নিজে ক্যামেরার সামনে আসেননি; বার্তাটি পড়ে শোনানো হয়। সেখানে হরমুজ প্রণালিকে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত ছিল, একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি তোলার কথাও উঠে আসে। অর্থাৎ, তার নেতৃত্বে তেহরানের কৌশল আপাতত সামরিক চাপ, অর্থনৈতিক চাপ এবং রাজনৈতিক অনমনীয়তার সমন্বয়েই এগোচ্ছে।

সংঘাতের এই অনড় অবস্থান এখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও স্পষ্ট প্রভাব ফেলছে। যুদ্ধ এখন তৃতীয় সপ্তাহে এবং এর অভিঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবাহিত হয়; কিন্তু যুদ্ধের কারণে ওই নৌপথ ঘিরে তীব্র অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সম্পর্কিত