কুষ্টিয়ায় পদ্মার পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, সাপ আতঙ্ক

স্ট্রিম সংবাদদাতা
স্ট্রিম সংবাদদাতা
কুষ্টিয়া

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত নিম্নাঞ্চল । ছবি: সংগৃহীত
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পানি বাড়তে থাকায় প্লাবিত নিম্নাঞ্চল । ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে টানা বৃষ্টি ও ভারতের উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মা নদীর পানি বেড়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন প্রায় অর্ধলাখ মানুষ। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে বিষধর সাপের উপদ্রব।

শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানির উচ্চতা ছিল ১৩ দশমিক ০২ মিটার। সেখানে বিপৎসীমা ১৩ দশমিক ৮০ মিটার। অর্থাৎ বিপৎসীমার শুণ্য দশমিক ৭৮ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পদ্মার পানি।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় গত এক সপ্তাহে পদ্মা নদীতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০ সেন্টিমিটার পানি বাড়ছে। এতে সড়ক ও আবাদি জমি তলিয়ে গেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় বন্ধ রয়েছে পাঠদান। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের মানুষ।

চিলমারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল মান্নান বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে গত দুই-তিন দিনে তাঁর ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ১৯টি গ্রামের মধ্যে ১৭টির নিম্নাঞ্চলের ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে। এতে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। ফলে বিষধর সাপের উপদ্রবও বেড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করা হয়। ছবি: সংগৃহীত

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজ মণ্ডল বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের প্রতিটি গ্রামের চারপাশে এখন পানি। সড়কগুলো ডুবে যাওয়ায় স্বাভাবিক চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক বাড়ির ভিটা পর্যন্ত পানি উঠে এসেছে। পানির দুর্ভোগের পাশাপাশি সাপের আতঙ্কেও রয়েছে মানুষ।’

পানি বাড়ায় ফিলিপনগর ও মরিচা ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ আবাদি জমিও তলিয়ে গেছে। সড়ক পানিতে ডুবে যাওয়ায় নৌকা, ডিঙি নৌকা ও ভেলা হয়ে উঠেছে অনেক এলাকার মানুষের চলাচলের প্রধান মাধ্যম। দেখা দিয়েছে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট। গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন কৃষক ও খামারিরা।

পাবনা ওয়াটার হাইড্রোলজি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইলিয়াস হোসেন বলেন, উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও টানা বৃষ্টির কারণেই পদ্মার পানি দ্রুত বাড়ছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা গত বুধবার দুপুরে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এ সময় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০টি পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ হিসেবে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শুভাগত বিশ্বাস বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যে প্লাবিত এলাকা পরিদর্শন করেছি। বানভাসি মানুষের তালিকা তৈরি করে তাঁদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হলে দুর্গতদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’

Ad 300x250
লেটেস্ট
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত