ইরানের দাবি ‘জব্দ হওয়া সম্পদ ছাড়তে রাজি যুক্তরাষ্ট্র’, অস্বীকার ওয়াশিংটনের

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১৯: ০২
ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ও পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘাইর গালিবাফকে ইসলামাবাদে স্বাগত জানান পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তি আলোচনার শুরুর আগে কাতার ও অন্যান্য বিদেশি ব্যাংকে থাকা ইরানের জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র। তবে হোয়াইট হাউজের একজন মার্কিন কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে এই দাবি অস্বীকার করেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।

শান্তি আলোচনায় ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে এ পদক্ষেপকে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি বলে স্বাগত জানায় ওই ইরানি সূত্র। তিনি বলেন, ‘এটি ছিল ইরানের অন্যতম দাবি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঠানো বার্তাগুলোতে জব্দকৃত সম্পদ ছাড়ের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে।’

বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্র রয়টার্সকে জানান, সম্পদ অবমুক্ত করা হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এটি আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু।

তবে ওই জ্যেষ্ঠ সূত্র সম্পদের মোট পরিমাণ উল্লেখ করেননি। আরেক ইরানি সূত্র দাবি করেছে, কাতারে রাখা ইরানের ৬ বিলিয়ন জব্দকৃত ডলার ছাড়তে যুক্তরাষ্ট্র সম্মত হয়েছে।

এ বিষয়ে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

অর্থ জব্দ হয়েছিল আট বছর আগে

২০১৮ সালে জব্দ করা ৬ বিলিয়ন ডলার ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির অংশ হিসেবে ছাড় দেওয়ার কথা ছিল। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর ইরানের মিত্র ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের হামলার পর প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন ওই অর্থ আর ফেরত দেয়নি।

সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছিলেন, নিকট ভবিষ্যতে ইরান এই অর্থ ব্যবহার করতে পারবে না এবং প্রয়োজনে পুরো হিসাবই সম্পূর্ণভাবে জব্দ রাখার অধিকার ওয়াশিংটনের রয়েছে।

এই অর্থ ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ইরানের তেল বিক্রির। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে ইরানের ওপর পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে এবং তেহরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাতিল করলে দক্ষিণ কোরিয়ার ব্যাংকগুলোতে এই অর্থ আটকে যায়।

২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে দোহার মধ্যস্থতায় হওয়া যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় এই অর্থ কাতারের ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানে আটক পাঁচজন মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয় এবং বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আটক পাঁচজন ইরানিকেও মুক্তি দেয়।

সে সময় মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিল, এই অর্থ খাদ্য, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও কৃষিপণ্যসহ শুধু মানবিক কাজে ব্যবহার করা যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের তত্ত্বাবধানে অনুমোদিত সরবরাহকারীদের মাধ্যমে এই অর্থ ব্যয় করতে হবে।

সম্পর্কিত