স্টারমার গেলেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী পদে এবার কে

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ জুন ২০২৬, ১৮: ৫৩
গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামই হতে পারেন ইংল্যান্ডের নতুন প্রধানমন্ত্রী। ছবি সংগৃহীত

ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী ও লেবার পার্টির নেতা কিয়ার স্টারমার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। সোমবার (২২ জুন) ১০ ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ কথা জানান তিনি।

স্টারমার বলেন, ‘পার্লামেন্টে নিজের দল লেবার পার্টির আইনপ্রণেতাদের সমর্থন হারিয়েছি। দলের পরবর্তী নেতা নির্বাচিত হওয়া মাত্রই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াব।’

আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই ক্ষমতা হস্তান্তর সম্পন্ন হতে পারে।

স্টারমার জানান, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে লেবার পার্টিকে নেতৃত্ব দেওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তি নন তিনি। তবে নতুন উত্তরসূরি দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যাবেন স্টারমার।

গত সপ্তাহে যুক্তরাজ্যের একটি বিশেষ নির্বাচনে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের সাবেক মেয়র অ্যান্ডি বার্নহামের বিজয়ই স্টারমারের পদত্যাগের পথ তৈরি করে। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের মেকারফিল্ড আসনে প্রায় ৫৫ শতাংশ ভোট পেয়ে বড় জয় পান বার্নহাম।

মে মাসে স্থানীয় নির্বাচনে লেবার পার্টির ভরাডুবি এবং জনমত জরিপে পিছিয়ে থাকার পরও বার্নহাম কট্টর ডানপন্থী ও অভিবাসনবিরোধী দল রিফর্ম ইউকের প্রার্থীকে পরাজিত করেন।

স্টারমারের ঘোষণার পরপরই বার্নহাম নিজের প্রার্থিতা ঘোষণা করে বলেন, ‘স্টারমারের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত ক্ষমতা রূপান্তর প্রক্রিয়ার সূচনা। দেশ এখন স্থিতিশীলতা এবং জরুরি বিষয়গুলোর ওপর অব্যাহত মনোযোগ প্রত্যাশা করছে এবং জনগণ সেটাই পাবে।’

লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটি আগামী ৯ জুলাই থেকে নতুন নেতা নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র গ্রহণ শুরু করবে। বার্নহাম যদি একমাত্র প্রার্থী হন, তবে সপ্তাহখানেকের মধ্যেই তিনি দলের নেতা নির্বাচিত হবেন। তবে একাধিক প্রার্থী থাকলে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গড়াতে পারে।

বার্নহামের পক্ষে ইতিমধ্যে শক্তিশালী সমর্থন প্রকাশ করেছেন সাবেক স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং, যিনি নিজেও এই পদের অন্যতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। স্ট্রিটিং বার্নহামকে সমর্থন দিয়ে বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী শক্তির বিরুদ্ধে এই লড়াইয়ে অ্যান্ডি বার্নহামই আমাদের জয়ী করতে পারেন।’ এই লড়াই মূলত ২০২৪ সালের নির্বাচনের পর থেকে জনমত জরিপে এগিয়ে থাকা নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকে দলকে ইঙ্গিত করে বলা হয়েছে।

তবে সম্ভাব্য অন্যান্য প্রার্থীদের মধ্যে এখনো কেউ মুখ খোলেননি। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার (যিনি গত সেপ্টেম্বরে কর ফাঁকির অভিযোগে পদত্যাগ করেছিলেন) এবং সাবেক সশস্ত্র বাহিনী মন্ত্রী আল কার্নস (যিনি গত সপ্তাহে জাতীয় প্রতিরক্ষায় স্টারমারের বাজেট পরিকল্পনার প্রতিবাদে পদত্যাগ করেছিলেন)।

লেবার পার্টির অনেকেই মনে করছেন কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বার্নহামের সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর পদে বসা উচিত। দলের নিয়ম অনুযায়ী, নেতা নির্বাচনের লড়াইয়ে অংশ নিতে একজন প্রার্থীকে অন্তত এক-পঞ্চমাংশ অর্থাৎ ৮১ জন লেবার এমপির সমর্থন লাগবে। এরপর নিবন্ধিত ভোটার ও প্রতিনিধিদের সমর্থন নিয়ে চূড়ান্ত জয়ী নির্ধারিত হবে এবং চ্যান্সেলরের অনুমতি সাপেক্ষে তিনি সরকার গঠন করবেন।

তথ্যসূত্র: বিবিসি

Ad 300x250

সম্পর্কিত