leadT1ad

ইরানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষ, একাধিক নিহত

প্রকাশ : ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ১২: ০৯
আন্দোলনের একটি চিত্র। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন। মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে এই আন্দোলন শুরু হয়। প্রথমে ব্যবসায়ীরা আন্দোলন শুরু করলেও, পরে এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকরা যোগ দেন।

যদিও শুরুতে ইরান কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সমঝোতার পাশাপাশি কঠোর হওয়ার দ্বৈতনীতি নিয়ে ছিল। আন্দোলনের প্রথম চারদিন দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া মোটামুটি শান্তিপূর্ণই ছিল। কিন্তু পঞ্চমদিন বৃহস্পতিবার দুই পক্ষের সংঘর্ষে সহিংসতায় রূপ নেয়।

আজ শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি অনলাইনের এক খবরে বলা হয়, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকটি শহরে আন্দোলনের পঞ্চম দিন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন নিহত ও আহত হয়েছেন। এই পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে।

আধা সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ এজেন্সি ও মানবাধিকার সংস্থা হেনগোর বরাতে বিবিসি বলছে, ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর লর্ডেগানে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তারক্ষীদের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দেশের পশ্চিমাঞ্চলের শহর আজনায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে আন্দোলনকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়িতে আগুন দিচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের অনেকে দেশের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির শাসনের অবসান চাচ্ছেন। দিন যত গড়াচ্ছে আন্দোলনের তীব্রতা তত বাড়ছে।

বিবিসি পার্সিয়ানের যাছাইকৃত ভিডিওগুলোতে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার দেশটির লর্ডেগানের কেন্দ্রীয় শহর, রাজধানী তেহরান এবং দক্ষিণ ফার্স প্রদেশের মারভদাশতে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে।

তথ্য কর্মকর্তার বরাতে ফার্স নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লর্ডেগানে দুইজন নিহত হয়েছেন। তবে নিহতরা আন্দোলনকারী না নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। এছাড়া লরেস্তান প্রদেশের পার্শ্ববর্তী আজনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। তাদের পরিচয়ও নিশ্চিত করা হয়নি।

তবে মানবাধিকার সংস্থা হেনগো বলেছে, লর্ডেগানে নিহত দুইজন হলেন আন্দোলনকারী। তাঁদের মধ্যে একজনের নাম আহমাদ জলিল এবং অন্যজন হলেন সাজ্জাদ ভালামানেশ। বিবিসি পার্সিয়ান স্বতন্ত্রভাবে এই তথ্য যাছেই করতে পারেনি।

এদিকে, রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমাঞ্চলীয় লরেস্তান প্রদেশের কৌহদাশত শহরে বুধবারের আন্দোলনে দেশটির অভিজাত রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) সংশ্লিষ্ট এক সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে বিবিসি এই তথ্য যাছাই করতে পারেনি। যদিও আন্দোলনকারীরা বলছেন, নিহত ওই ব্যক্তি আন্দোলনকারী এবং তাঁকে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি করে হত্যা করেছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, একজন নিহত ছাড়াও পুলিশের ও আইআরজিসির আধা সামরিক মিলিশিয়া গ্রুপ বাসিজের অন্তত ১৩ সদস্য আন্দোলনকার‌ীদেতর ছোঁড়া পাথরে আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে, আন্দোলন দমাতে বুধবার ব্যাংক ছুটি ঘোষণার পর দেশব্যাপী স্কুল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি অফিসও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার বলছে, অতিরিক্ত ঠান্ডা আবহাওয়ায় জ্বালানি সঞ্চয়ের জন্য এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক ইরানি মনে করেন, আন্দোলন দমাতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

উল্লেখ্য, রোববার বিক্ষোভের সূচনা হয়। ওই দিন খোলা বাজারে এক ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের দাম প্রায় ১৪ লাখ ২০ হাজারে নেমে আসে। এটিই ছিল ইতিহাসের সর্বনিম্ন হার। ক্ষুব্ধ দোকানিরা দোকান বন্ধ করে রাস্তায় নামেন। তাঁরা সরকারবিরোধী স্লোগান দেন। বিভিন্ন সড়কে পথচারীরাও বিক্ষোভে যোগ দেন। মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) টানা পঞ্চম দিনের মতো বিক্ষোভ ও ধর্মঘট চলে। রাজধানী তেহরান ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শহরে এই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে গত তিন বছরে ইরান সবচেয়ে বড় গণবিক্ষোভের মুখে পড়েছে।

প্রথমে এই বিক্ষোভ সীমিত ছিল তেহরানের ব্যবসায়ী ও দোকানিদের মধ্যে। এখন এটি সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ক্ষোভের প্রকাশে রূপ নিয়েছে। কোথাও কোথাও এটি সরাসরি সরকারবিরোধী আন্দোলনের চেহারা নিয়েছে।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত