স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকায় মানচিত্র ছিল, এখন নেই কেন

স্ট্রিম ডেস্ক
স্ট্রিম ডেস্ক

প্রকাশ : ০২ মার্চ ২০২৬, ১৪: ৪৫
মানচিত্রখচিত স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকা তৈরি করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

১৯৭১ সালের ২ মার্চ। বাঙালির দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। এদিনই প্রথম তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের আকাশে উড়েছিল স্বাধীন বাংলার জাতীয় পতাকা, যা ছিল পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার এক বলিষ্ঠ ঘোষণা।

এদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় আয়োজিত এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে প্রথমবার এই পতাকা ওড়ানো হয়। তৎকালীন গাঢ় সবুজ পটভূমির ওপর লাল বৃত্তের মাঝে সোনালি রঙে খচিত ছিল বাংলাদেশের মানচিত্র। কলা ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণের ছাদে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষের গগনবিদারী স্লোগানের মধ্যে এই পতাকাটি উত্তোলন করেন ডাকসুর তৎকালীন ভিপি আ স ম আবদুর রব। সমাবেশস্থলে তখন উপস্থিত ছিলেন শাহজাহান সিরাজ, আবদুল কুদ্দুস মাখন ও নূরে আলম সিদ্দিকীর মতো তেজস্বী ছাত্রনেতারা।

পতাকা উত্তোলনের পর একটি বিশাল মিছিল বায়তুল মোকাররম অভিমুখে রওনা হয়। অবস্থা বেগতিক দেখে পাকিস্তানি শাসকরা সন্ধ্যায় সান্ধ্য আইন বা কারফিউ জারি করে। কিন্তু বিদ্রোহী জনতা তা উপেক্ষা করে রাজপথে নেমে আসে এবং ‘জয় বাংলা’, ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধরো, বাংলাদেশ স্বাধীন করো’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে। ওই দিন রাতে ডিআইটি মোড় ও গভর্নর হাউসের সামনে মিছিলে সেনাবাহিনী গুলি চালালে বেশ কয়েকজন হতাহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ৩ মার্চ থেকে টানা চার দিন হরতালের ডাক দেওয়া হয়।

স্বাধীন বাংলার প্রথম পতাকার নকশা করেছিলেন তৎকালীন ছাত্রলীগ নেতা শিব নারায়ণ দাস। ২ মার্চের পর ২৩ মার্চ পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবসে ছাত্ররা সেই পতাকাটি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে নিয়ে যান। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমান নিজ হাতে স্বাধীন বাংলার এই মানচিত্র খচিত পতাকাটি উত্তোলন করেন।

কেন বাদ পড়ল মানচিত্র?
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি শেখ মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেই বৈঠকেই পতাকার নকশা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। মূলত দুটি প্রধান কারণে মানচিত্রটি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল:

সহজবোধ্যতা ও সমরূপতা: পতাকার মাঝখানে মানচিত্র থাকলে তা তৈরি করা বেশ জটিল এবং ব্যয়বহুল ছিল। এছাড়া পতাকার উভয় দিক থেকে মানচিত্রটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়ত।
মানচিত্রের স্পষ্টতা: পতাকাকে দূর থেকে দেখলে যাতে এর মূল সৌন্দর্য ও প্রতীক (সবুজ জমিনে লাল সূর্য) স্পষ্টভাবে বোঝা যায়, সেজন্যই নকশাটি সহজ করার সিদ্ধান্ত হয়।

পরে পটুয়া কামরুল হাসান পতাকার নকশাকে পরিমার্জিত করে বর্তমান রূপ দেন। একই বৈঠকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’কে জাতীয় সংগীত এবং কাজী নজরুল ইসলামের ‘চল চল চল’ গানটিকে রণসংগীত হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গ্রহণের সময় এই লাল-সবুজ পতাকাটিকেই দাপ্তরিকভাবে জাতীয় পতাকার স্থায়ী স্বীকৃতি দেওয়া হয়।

Ad 300x250
সর্বাধিক পঠিত

সম্পর্কিত